BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Tuesday, 11 May 2021  মঙ্গলবার, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

ক্যালাইডোস্কোপ

Bartalipi, বার্তালিপি, ক্যালাইডোস্কোপ

                 ॥২৫॥

              রাতের কথা


…কাকা যখন সপরিবারে কাকিমা ও মিসমিকে নিয়ে আমেরিকা চলে গেলেন, তখন মিসমি চার-পাঁচ বছরের। মিসমির সেই স্মৃতি আমার খুব অস্পষ্ট মনে পড়ে। মিসমি ফের যখন আসে, তখন সে সিক্সথ গ্রেডে পড়ে। রীতিমত কিশোরী ।বেশ ফর্সা আর গোলগাল চেহারা। আমার সাথে সে খুব একটা মিশত না। সারক্ষণ সে গান শুনে আর বই পড়ে কাটিয়ে দিত। ওর একটা বইয়ে হাত দিয়েছিলাম। ভীষণ রেগে গেল। আমি নাকি ওর বুকমার্ক সরিয়ে দিয়েছি। বুকমার্ক বস্তুটা আমি দেখিইনি কোনোদিন। আমরা তো আধ-পড়া বইয়ের পাতা মুড়ে রাখতাম। পরে জানলাম, একে বলে ডগ ইয়ারিং, যা সভ্য পাঠক সমাজে গর্হিত কাজ। সেবার মিসমি আসলে, পরে বুঝেছি,ওর আমেরিকান বন্ধুদের সাথে আমাকে মেলাতে পারেনি একেবারেই । যাকে বলে কালচারাল গ্যাপ। মিসমির স্কুলের ছুটি আর কাকার ছুটির সময় মেলে না, কাকা একাই আসতেন প্রতিবছর। টুয়েলফথ গ্রেডের পরীক্ষা দেবার পর মিসমিকে নিয়ে এসেছিলেন। কাকীমাও এলেন। এবারের মিসমিকে দেখে আমরা চিনতেই পারিনি। সেই গোলগাল, মোটাসোটা মিসমি আর নেই। হালকা-পাতলা, ছিপছিপে তরুণী সে। ভাত সে খায়ই না। কীসব নিয়ে এসেছে সঙ্গে করে। সকালে দুধ দিয়ে সেটাই খায়। এর নাম কর্নফ্লেক্স। ফল তো তেমন পাওয়া যায় না। কলা খায়। কাকীমা ওর জন্য আলাদা করে রান্না করেন। তেলও নিয়ে এসেছেন। ও যে কী করে খায় এসব! প্রায় সেদ্ধ, মশলা তো নেইই। কাকা সকালে উঠে বাজার থেকে ওর জন্য মাগুর মাছ, ট্যাংরা মাছ নিয়ে আসেন। দু'দিন মুরগী আনেন। আমরা খাই পাঁঠার মাংস। ও খায় সেদ্ধ মাগুর। সবাই হাসে ওর খাওয়া দেখে। ও কিন্তু দিব্যি তৃপ্তির সাথে খায়। চেহারার সাথে মিসমির চরিত্রেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। সে তখন অনেক পরিণত মনস্ক। আমার সাথেই তার গল্প হত বেশি। আমি সবে ক্লাস টেন-এ উঠেছি। আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি আর ওদের  শিক্ষা পদ্ধতির ফারাকটা কোথায়, বুঝতে চাইল। খুব মনযোগ দিয়ে শুনল। ওদের  শিক্ষা পদ্ধতি আমার কাছে একেবারেই অভাবিত লাগল। আমরা মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় লিখি। ক্লাস চলাকালীন ও আমাদের স্কুল দেখতে চেয়েছিল । সেটা সম্ভব নয় । বন্ধ স্কুলই দেখালাম। অবাক হয়ে গিয়েছিল স্কুল দেখে। ওর চোখে শ্রীহীন ঠেকেছিল স্কুলটা। তবে একটা জিনিস ওর ভালো লাগে; বরাক নদী বয়ে যাচ্ছে স্কুল ঘেঁষে , একটি বিশাল  বট গাছ। স্কুলের সামনেও বড় বড় গাছ। সেবার ওরা অল্প দিনের জন্যই এসেছিল। 

      টুয়েলফথ গ্রেডের মিসমি আর এবারের মিসমির মধ্যে রাতদিনের ফারাক। ওর সমস্ত চেহারায় কী একটা আকর্ষণ চোখে পড়ল, যা ও নিজেও বোধহয় জানেনা। আমার কল্পনায়, বই পড়ে, সিনেমা দেখে নারীরূপের যে ছবিটা এতদিন আঁকা হয়েছিল, সেটা ওর মধ্যে দেখলাম। যেন আমার কল্পনার নারী আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। একটা হালকা গোলাপী রঙের  স্ট্রাইপ দেওয়া শার্ট আর জিন্সের প্যান্ট পরা একটি নারীকে আমি দেখছিলাম, মুগ্ধ বিস্ময়ে। ঘাড় অবধি ছাটা চুল, চোখে বুদ্ধির ঝিলিক, টিকলো নাক, পাতলা ঠোঁট,-- এই তবে মিসমি! কী করে যে লহমায় ভুলে গেলাম, সম্পর্কে ও আমার দিদি হয়, যদিও দিদি বলে ডাকিনি কখনো। একই বংশধারার রক্ত বইছে আমাদের দু’জনের ধমনিতে। প্রাথমিক মুগ্ধতা অল্প দিনের মধ্যেই গভীর সখ্যে পরিণত হল। কী করে হল সেটা আমরা বুঝিনি। প্রাথমিক জড়তা কেটে যাবার পর, মিসমি সারাদিন আমার ঘরেই থাকত। আমরা কত কি যে গল্প করতাম। প্রগলভতায় পেয়ে বসেছিল আমাদের। আমি বিছানায় শুয়ে, আর মিসমি আমার উল্টো দিকে শুয়ে, যাতে মুখোমুখি কথা বলা যায়। কখনো ওর টি শার্ট সামান্য উঠে যেত, চোখে পড়ত ওর নাভি। এসব নিয়ে ওর কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই। কিন্তু আমি তো এত কাছে থেকে, এত ঘনিষ্ঠতায় কাউকে দেখিনি আগে। বাথরুমে দেখেছি ও নানারকম সুগন্ধি মাখত চানের পর। সুগন্ধির স্নিগ্ধ সৌরভে একরকমের মাদকতা ছিল, যা আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলত। আমার মন, আমার শরীর আবেশে ভেসে যেত। আমি অন্য একটা অলৌকিক জগতে বিচরণ করতাম। মিসমি সেটা টের পেতো কিনা জানিনা। কিন্তু আমার সঙ্গ সে উপভোগ করত। কোনো রসিকতা  করলে, হেসে লুটিয়ে পড়ত। কখনো ওর পায়ে পা লাগত। আমি পা সরাতাম না। সেও সরাত না। যখন আমার অস্বস্তি হত, সরিয়ে নিতাম। তাও কয়েক মুহূর্ত মাত্র। তবু মনে হত ওর কোমল পায়ে লেগে থাক আমার পা। কি মসৃণ, কোমল ওর পা। বাংলা কবিতা পড়া, বিশেষ করে নীরা বিষয়ক কবিতা পড়া আমার কাল হল। ইচ্ছে হত ওর পা ছুঁয়ে দেখি। হাত বুলোই পায়ের পাতায়। গন্ধ শুঁকে দেখি এই নারীর পদতল, ঠোঁট  ছোঁয়াই। এদিকে আমার মনে চলছে এমন সব তোলপাড়। রাতে খাবার পর ওকে নিয়ে  হাঁটতে যেতে হত। তখন ও আমার হাত ধরত। রাতে একটি ছেলে আর একটি মেয়ে হাত ধরাধরি হাঁটছে, এমন দৃশ্যে অভ্যস্ত নয়, এ পাড়ার মানুষ। তবে ওরা জানত, মেয়েটি আমেরিকা থাকে। আর আমরা ভাইবোন। কিন্তু ও আমার হাত ধরলেই আমার শিহরণ হত। এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়নি কখনো।  রাতে ও চলে যেত ঘুমোতে। দোতলায়। আমি অনেক রাত অবধি জেগে  থাকতাম মাদক-আবেশে। আর অপেক্ষা করতাম কখন সকাল হবে, কখন দেখব ওকে আবার। 

    ও যেদিন আমেরিকা চলে গেল,তার আগের রাতে, আকাশ ভেসে যাচ্ছিল পূর্ণিমার আলোয়। হাত ধরাধরি করে হাঁটছিলাম আমরা। বরাক নদী থেকে হালকা হিম হিম হাওয়া আসছিল। মিসমি বলল, এমন হাওয়া ওদের দেশে নেই। হাঁটার সময় আমরা এত কাছে চলে আসছিলাম যে শরীরে লাগছিল শরীরে ছোঁয়া এতদিনেওর সাথে অনেক কথাই হয়েছে। এমন কি ওর যে কোনো বয় ফ্রেন্ড নেই, যা ওদের বন্ধুদের আছে। ওরা ডেটিংও করে। যৌন সম্পর্কও হয়েছে অনেকের। মিসমির বয় ফ্রেন্ড নেই। সাহেব ছেলেদের ওর পছন্দ নয়। ওরা এশিয়ান হলে স্থায়ী সম্পর্কে যেতে চায় না। মনের মত ভারতীয় কাউকে সে পায়নি। সেই রাতে টের পাই আমরা দু’জনই কেমন যেন চঞ্চল হয়ে উঠছিলাম ধীরে ধীরে। আমরা বি সি গুপ্ত লেন ধরে নেমে যাই বরাকের তীরে। আমরা নীরবে দেখছিলাম, নদী, নৌকা, যাতে লন্ঠনের আলো জ্বলছে। মিসমি আমার কাঁধে হাত রেখে  দাঁড়ায়। আমি পিঠে ওর স্তনের ছোঁয়া পাচ্ছিলাম। চাঁদের মায়াবী আলো আমাকে উন্মাদ করে দিল। আমি আচমকা জড়িয়ে ধরি মিসমিকে। ও বাধা দিল না। আমি ওকে চুমু খাই। জিভ দিয়ে ও সাড়া দিচ্ছিল। সম্বিত ফিরতে বেশীক্ষণ লাগল না। সারাটা পথ আমরা কোনো কথা বলিনি। হেঁটেছি ঘোর-লাগা মানুষের মত, মাতাল তরণী যেন আমরা। রোজকার মত আমার ঘরেই ঢুকল মিসমি। বাকিদের খাওয়া হয়নি। বসার ঘরে গল্প চলছে। হলুদ বাল্বের আলোয় স্তব্ধ, নির্বাক বসে আছি আমরা। একটু পরে সবাই চলে গেল খাবার ঘরের দিকে। আমি মিসমির পাশে গিয়ে বসি। জড়িয়ে ধরতেই ও উঠে দাঁড়ায়। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আমাকে টেনে দরজার আড়ালে নিয়ে গেল ও। আমাদের পারস্পরিক উন্মাদনায় দুজনেই আত্মবিস্মৃত। মিসমির অনাবৃত ঊর্ধ্বাঙ্গে আশ্রয় নিয়েছে আমার মুখ। কতক্ষণ কেটেছে আমরা জানিনা। নিজের ভেতরে একটা দানো গুমরে গুমরে উঠছে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায়। বাইরে কাকার গার্গল করার শব্দে , ফিরে আসে সম্বিত। মিসমি দ্রুত হাতে টি শার্ট গলিয়ে নেয় গায়ে। যাবার সময় বলে যায়, ইউ আর এ টিমিড ফুল। রাতে দানোকে মুক্তি দিয়েছি। বুদ্ধদেব বসুর লেখাটা মনে পড়ে গেল।

    সারথি একটানা কথা বলে যেন স্বস্তি পেয়েছে। দিপু কী বলবে , ভেবে পাচ্ছে না। সারথি আরেকটা চারমিনার ধরিয়ে, খুব মৃদু কণ্ঠে বলে, পাপ হয়ে গেল। শরীরের উন্মাদনা কেটে যাবার পর, মিসমি  চলে যাবার পর, শুধু এই একটা কথাই আমাকে কুঁড়ে খাচ্ছে। দিপু সারথির পিঠে হাত রেখে বলে, এরকম ঘটাটা স্বাভাবিক নয় কি? আমাদের এই বয়সে এরকম ঘটতেই পারে। আমি ক্লাস নাইনে পড়ার সময় , আমার প্রায় সমবয়সী এক মাসীকে , জীবনে প্রথম বার দেখে, আমি তো প্রেমেই পড়ে গিয়েছিলাম। কলকাতা থেকে এসেছিল আমার দাদুর বাড়ীতে বেড়াতে। রাত্রে প্যান্ট ভিজে গিয়েছিল। বলে দিপু হাসতে থাকে। 

    এবার ওদের কথা অন্য খাতে বইতে থাকে। নাইট ফল শব্দটা প্রথম শুনেছিল মিঠুনের মুখে। কার কবে প্রথম হল, কে কী ভাবে সেই লজ্জা গোপন করত, এই নিয়ে চলতে লাগল কথা। দিপু স্কুল জীবনে মায়ের কড়া শাসনে প্রায় একা কেটেছে কৈশোর। আর যাদের সাথে বন্ধুত্ব ছিল, তারা কেউ এসব নিয়ে আলাপ করত না। দিপু বহুদিন অবধি জানত, এটা নির্ঘাত একটা অসুখ, যাতে পৃথিবীতে একমাত্র সে-ই আক্রান্ত। শুনে, সারথি বহুদিন পর হেসে ওঠে। দিপুও হাসে। সারথির দিকে হাত বাড়িয়ে বলে, দে একটা। আজ খেয়েই ফেলি। চারমিনার ধরাতে গিয়ে টের পায়, বুক দুরুদুরু করছে। একটা নিষেধের দেওয়াল ভাঙছে সে এই প্রথম। আর প্রথম টানটা দিয়েই খকখক করে কাশতে থাকে। সারথি বলে, অল্প করে টান। অল্প করে টান। দেখিয়ে দেয় কি করে টান দিতে হবে। ধোঁয়া গিলিস না একসাথে। নাক দিয়ে যখন ধোঁয়া বেরোচ্ছে, ব্রহ্মতালু অবধি গরম হয়ে যাচ্ছে। 

    সারথিকে বাড়ী পৌঁছে দিয়ে যখন দাদুর বাড়ীতে ঢুকছে, দেখে, দাদু পোর্টিকোর দরজায় দাঁড়ানো। চোখে-মুখে প্রচণ্ড উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। সে ভুলেই গেছে, সিগারেটের  গন্ধ তার গায়ে মুখে লেগে আছে। গন্ধটা দাদুর নাকে গেছে। শুধু বললেন, লায়েক হয়ে গেছ। আর ঠিক তখনই ছোট মামাকে দরজা দিয়ে ঢুকতে দেখে। ছোট মামার যা নাক, নির্ঘাত গন্ধ পাবেন। আর অচিরেই মা’কে খবরটা দেবেন। সে আর ভাবতে পারছে না। ( ক্রমশ)