BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

সোনাইয়ে পরিবৰ্তন চাইছেন ভোটাররা! ৫০-৫০, দুৰ্বলতার জানান দিলেন আমিনুল

Bartalipi, বার্তালিপি, সোনাইয়ে পরিবৰ্তন চাইছেন ভোটাররা! ৫০-৫০, দুৰ্বলতার জানান দিলেন আমিনুল

সোনাইয়ে এ বার পরিবৰ্তনের লক্ষ্যে ভোট হয়েছে৷ ফলাফল কী হতে পারে তা নিয়ে প্ৰাৰ্থীদের মধ্যে দোলাচলতা থাকলেও সাধারণ মানুষ কিন্তু নিশ্চিত, পরিবৰ্তন মানেই বৰ্তমান বিধায়ক আমিনুল হক লস্করের পরাজয়৷ কিন্তু প্রশ্ন হল, আমিনুল তো সোনাইর উন্নয়নে যথেষ্টই কাজ করেছেন, এটা কি ভোটাররা অস্বীকার করতে পারবেন?
সম্ভবত না, কিন্তু তা সত্ত্বেও কেন আমিনুলের এই দুরবস্থা হল, তার কাৰ্যকারণ সম্পৰ্কে রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা যে বিষয়টির দৃষ্টি আকৰ্ষণ করেছেন তা হল, মুসলিমদের যখন নানাভাবে বঞ্চনা করা হচ্ছিল, এমনকী, মাদ্ৰাসা বন্ধ, ‘ডি’ ভোটার, ডিটেনশন ক্যাম্প সহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার যখন ধৰ্মীয় ভাষিক সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলছিল তখন রাজ্যের একমাত্ৰ ধৰ্মীয় সংখ্যালঘু প্ৰতিনিধি হিসেবে তিনি সব ব্যাপারেই সরকারের কথায় সায় দিয়ে এলাকার জনতার চক্ষুশূলের কারণ হয়েছে৷ উল্লেখ্য, সোনাইয়ে মোট ভোটার হচ্ছেন ১ লক্ষ ৯৮ হাজার৷ তারমধ্যে মুসলিম ভোটার ১ লক্ষ ৯ হাজার এবং হিন্দু ভোটার হলেন ৮৯ হাজার৷ তারমধ্যে নিৰ্দল প্ৰাৰ্থী আশিস হালদার ঠিক কত ভোট পাবেন তার ওপরই নিৰ্ভর করবে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান৷
উপাধ্যক্ষ আমিনুল হক লস্কর এ দিন টেলিফোনে জানান, আসলে উন্নয়ন নয়, সাম্প্ৰদায়িক শক্তিকে উস্কে দিয়েই আমাকে হারানোর চেষ্টা হয়েছে৷ তবু আমি আশাবাদী, জনতার সমৰ্থনে নিৰ্বাচন জয়ের আশা আমি এখনও ছাড়িনি৷ একটু আত্মরক্ষামূলকভাবেই বলেন, ‘আমার সম্ভাবনা ৫০-৫০৷’ অৰ্থাৎ জিততেও পারি আবার হারতেও পারি৷
কিন্তু উন্নয়ন যে সবসময় ভোটের ফলে প্ৰতিফলিত হয় না সেটা আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন রাজ্যের প্ৰভাবশালী মন্ত্ৰী হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা৷ সে জন্য ব্ৰহ্মপুত্ৰে তিনি দুই সভ্যতার লড়াই বলে মে বিভাজনের যে প্ৰয়াস করেছিলেন তা বিষময় ফল প্ৰসব করেছে বরাকে৷
এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্ৰ ওঠে, বিজেপি দলের টিকিট পাওয়ার পর তিনি কি করে হিন্দুত্ব সহ তাদের মৌলিক নীতি এবং আদৰ্শের বিরোধী কোনও অবস্থান নিতে পারেন? এ কথা জেনেই তো ২০১৬ সালে বিপুল ভোটে সেই আমিনুলকে জয়ী করেছিলেন ওই কেন্দ্ৰের আমজনতা৷ তারপরও আমিনুলকে বিভিন্নভাবে বিজেপি-র পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন৷ যেমন তিনতালাক যখন বাতিল করা হয় তখন মুসলিম মহিলাদের মধ্যে তীব্ৰ প্ৰতিক্রিয়া হলেও উদারপন্থী বা শিক্ষিত মুসলিমরা কিন্তু মোদি সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগতই জানিয়েছিলেন৷
কিন্তু তার অৰ্থ এই নয়, ধৰ্মীয় মেকরণের রাজনীতি সবসময়ই বিপজ্জনক৷ কারণ এটা পরিস্থিতিকে যেমন বিষিয়ে তোলে ঠিক একইভাবে উন্নয়নের পথেও প্ৰতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে৷ ফলে দ্বিমুখী চাপেই আমিনুল এখন সোনাইয়ের রাজনীতিতে প্ৰায় ব্ৰাত্য বললেই চলে৷ রাজনৈতিক মহল বলছেন, একসময় আমিনুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন যে, তিনি কংগ্ৰেসেই যাবেন৷ কিন্তু আক্ষেপের কথা, কংগ্ৰেস কোনও আগ্ৰহ না দেখানোয় শেষপৰ্যন্ত আমিনুল আবার বিজেপি থেকেই প্ৰতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নেন৷
যদিও আমিনুল-ঘনিষ্ঠ মহল এমন তথ্য খারিজ করে দিয়ে বলেছে, এ সব আসলে সাংবাদিকদের উৰ্বর মস্তিষ্কের ফসল৷ কেনই বা তিনি কংগ্ৰেসে যাবেন? কারণ বিজেপি আমলে সোনাইর উন্নয়ন তো কম হয়নি? কিন্তু আমিনুল-ঘনিষ্ঠরা দাবি করছেন, উন্নয়ন হয়েছে যথেষ্টই৷ কিন্তু আশিস হালদারের মতো মানুষ বা লোক জাগরণ মঞ্চের মতো সংগঠনগুলো হিন্দু এলাকায় বৈষম্য করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ তুলেছেন তা আদৌ সত্য নয়৷
নিৰ্দল প্ৰাৰ্থী আশিস হালদার অবশ্য এ সব বিতৰ্কে যেতে রাজি হননি৷ তাঁর সাফ বক্তব্য, সোনাইয়ের হিন্দু-মুসলিম এ বার পরিবৰ্তনে লক্ষ্যেই মরিয়া ছিলেন৷ ভোটের ফলে তারই প্ৰতিফলন হবে৷ এ ক্ষেত্ৰে তিনি কত ভোট পেয়েছেন সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়৷ কারণ মানুষ যখন পরিবৰ্তনকেই উন্নয়নের হাতিয়ার করে নেন তখন আর কিছু বলার থাকে না৷ আর আমিনুলবাবুর উন্নয়নের দাবি, সেটা তো ভোটের ফলেই দেখা যাবে৷ তবে কিছু কিছু আমিনুল-ঘনিষ্ঠ তাঁর বিদ্ধে ইউডিএফ প্ৰাৰ্থী সাজুর সঙ্গে আঁতাঁত করার যে প্ৰসঙ্গটি তুলেছেন তা নস্যাৎ করে দিয়েছেন আশিস হালদার৷
তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ভোটের কিছুদিন আগে আমিনুল আমাকে ছোটভাই বলে সম্বোধন করেছিলেন৷ এই প্ৰেক্ষাপটেই আমার প্ৰত্যাশা ছিল, এ বার গেয়া টিকিটটা আমিই পাব৷ কারণ দীৰ্ঘদিন ধরেই আমি এই সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত৷ একইসঙ্গে বিজেপি-র যে সব শাখা-সংগঠন আছে সেগুলোর সঙ্গেও আমার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে৷ এই অবস্থায় আমি যদি টিকিট পেয়ে থাকি তা হলে তার মধ্যে অন্যায় কোথায় ছিল৷ এটা জেলার বিজেপি নেতাদেরও জবাবদিহি করতে হবে৷
শুধু তা-ই নয়, জেলার বিজেপি নেতারা আমার সম্পৰ্কে যে সব বক্তব্য রেখেছেন তা-ও সোনাইয়ের হিন্দু জনগোষ্ঠীকে আহত করেছে৷ ভোটের ফলেই তার প্ৰমাণ পাওয়া যাবে৷ এখানে বলে রাখা ভাল, রাজ্যের প্ৰভাবশালী মন্ত্ৰী হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা সহ শিলচরের সাংসদ রাজদীপ রায় এবং আমিনুল নিজে ভোটের দিনকয়েক আগে আশিস হালদারের সোনাইর বাড়িতে গিয়েছিলেন৷ কিন্তু খবরটি আগে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আশিসবাবু বাড়ি থেকে বের হয়ে যান৷
আশিসবাবুকে বসানোর চেষ্টা যখন বসে যায় তখনই নতুন করে অংক কষতে বসেন ইউডিএফ প্ৰাৰ্থী করিমউদ্দিন বড়ভূঁইয়া৷ মামা এনামুল হক লস্কর নিৰ্দল হিসেবে ভোটে দাঁড়ালেও করিম উদ্দিন শিবির নিশ্চিত ছিল কংগ্ৰেসের সমৰ্থন তিনি পাবেনই৷ সেটা শু এ কারণেই নয় যে, রাজ্যজুড়ে কংগ্ৰেস-এআইইউডিএফ আঁতাঁত হয়েছে৷
গত পাঁচ বছরে আমিনুল যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বাৰ্থ-বিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপে সায় দিয়েছেন তাতে ক্ষোভে ফুঁসছিল সোনাইর সাধারণ আম জনতা৷ ফলে করিম উদ্দিন বড়ভূঁইয়া আর বিশেষ মাথা ঘামাতে হয়নি৷ কারণ বরাক উপত্যকার রাজনীতিটা ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার চেয়ে সামান্য ভিন্ন৷ এই বিষয়টি আমিনুল যেমন বুঝতে পারেননি, ঠিক একইভাবে বরাকের বিজেপি নেতারাও টিকিট বণ্টন থেকে শুরু করে সমস্ত ব্যাপারেই একদেশদৰ্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ যার ফলে শুধু আমিনুলই নয়, গোটা বরাক উপত্যকার ভোটের ফলাফলে তার বিরূপ প্ৰভাব পড়বেই৷
তা হলে কি বাস্তব রাজনীতি সম্পৰ্কে আমিনুলের কোনও ধ্যানধারণা ছিল না? নিজের কেন্দ্ৰের সাধারণ ভোটারদের স্বাৰ্থকে বিঘ্নিত করে সরকারকে সঙ্গ দেওয়া ছাড়া তাঁর সামনে আর কোনও বিকপ্ল পথ ছিল না৷ তবুও যদি সরকারি বিভিন্ন সিদ্ধান্তে সামান্য প্ৰতিবাদও করতেন তা হলে হয়তো ভোটের সময় অন্তত কিছু মানুষকে তিনি কাছে পেতে পারতেন৷ কিন্তু এই পথ তিনি মাড়াননি৷ বরাক উপত্যকায় রাজনীতি করে তিনি ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার সঙ্গেও একাত্ম হতে পারেননি, ঠিক একইভাবে নিজের অঞ্চলের মানুষের স্বাৰ্থকে অগ্ৰাধিকার দিয়ে কখনই মুখ্যমন্ত্ৰী-সরকার বা দলের দ্বারস্থ হতে তাঁকে দেখা যায়নি৷ বরাক উপত্যকার কিছু বিজেপি নেতাও তাঁকে নানাভাবে ব্যবহার করেছেন ঠিকই কিন্তু আসল যুদ্ধের সময় তাঁর পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি৷ রাজনীতিতে পরাজিত-ব্যৰ্থ নায়ক তা হলে কি আমিনুল ইসলাম লস্কর-ই? এর উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ৷