BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

পদ্মফুলকে ক্র্যাশ করবে হেলিকাপ্টারই, দাবি দিলীপ শিবিরের

Bartalipi, বার্তালিপি, পদ্মফুলকে ক্র্যাশ করবে হেলিকাপ্টারই, দাবি দিলীপ শিবিরের

বরাকের সদর শহর শিলচরে এ বার ভোটের ফলাফল কী হবে তা নিয়ে তিন শিবিরের নেতারা ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন৷ এমনিতে ভোটের দিন যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে তাতে একটা বিষয় পরিস্কার যে, শহরাঞ্চলে গেয়া দলের ভোট যথেষ্টই কমেছে৷ যদিও সেটা মানতে রাজি হননি বিজেপি নেতৃত্ব৷ দলের জেলা নিৰ্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্ৰধান নিত্যভূষণ দে সাংবাদিক সলেনে ঘটা করে বলেছেন, যত হিসেবই হোক শেষ অংকে আমরাই বিজয় হাসিল করব৷ এখানে অংকটা কি, তারও একটা ব্যাখ্যা আছে বিজেপি নেতাদের কাছে৷ তাঁরা যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, শহরের মানুষ যেহেতু সচেতন তাই প্ৰধানমন্ত্ৰী মোদির জনপ্ৰিয়তার দিকে চেয়েই বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন দীপায়ন চক্রবৰ্তী৷
কিন্তু আমজনতা যে পাা প্ৰ করছেন, কেন আন্তৰ্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ব্যারল প্ৰতি ৩০ ডলার হলে মোদির দেশে প্ৰতি লিটার পেট্ৰোলের দাম হয় ৯১ টাকা? অথচ প্ৰাক্তন প্ৰধানমন্ত্ৰী মনমোহন সিংয়ের আমলে আন্তৰ্জাতিক বাজারে তেলের দাম যখন ব্যারল প্ৰতি ১৩০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল তখনও পেট্ৰোলের দাম ছিল ৮০ টাকা৷ এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্ৰ উঠবে বিজেপি নেতারা কি এ সব তথ্যকে ভ্ৰান্ত বলে মনে করেন৷ কারণ মানুষকে যদি রাজনৈতিক দলগুলো এতই বোকা ভাবেন তা হলে বোধহয় ভোটের অংকে গোড়ায় গলদ থেকে যায়৷ বিজেপি নেতারা কি বলবেন, সেটা অবশ্য জানা যায়নি৷
কিন্তু শহরের মানুষ এ ব্যাপারে মোটামুটি একমত যে, মোদির অৰ্থনীতি আর যাই হোক, ভারতের মতো জনবহুল দেশে মানানসই নয়৷ কারণ যে প্ৰধানমন্ত্ৰী অবলীলায় বলতে পারেন, ব্যবসা পরিচালনা সরকারের দায়িত্ব নয় তাই সব রাষ্ট্ৰায়ত্ত কোম্পানি আমরা বিক্রি করে দেব৷ এগুলো কে কিনবে? আম্বানি-আদানিরা কি? তারও উত্তর জানা নেই৷ ভোটের গোলকধাঁধায় কিন্তু সাধারণ মানুষ বা শহরের মানুষ এ সবেরই জবাব খুঁজবেন৷ তারপর যে জবাব তাদের মনঃপুত হবে সেই অংকেই ভোটের ফলাফল নিৰ্ধারিত হবে৷
দ্বিতীয় যে প্ৰটি বিজেপি শিবিরকে ভাবাচ্ছে তা হল, শিলচর কেন্দ্ৰে এগারোটি গাঁওপঞ্চাতে (জিপি) রয়েছে৷ তারমধ্যে অন্তত পাঁচ-ছয়টি জিপি হিন্দু গরিষ্ঠ৷ সুতরাং ওইসব জিপিতে দীপায়ন চক্রবৰ্তী কত ভোট পেতে পারেন? এটা ঠিক যে, দীপায়নবাবু বিভিন্ন সমাজসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে দীৰ্ঘদিন ধরে জড়িত৷ শুধু তা-ই নয়, রেডক্রসের মতো একটি বড় প্ৰতিষ্ঠানেরও সাধারণ সম্পাদক তিনি৷ সেই সুবাদে কোভিডের সময় সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুৰ্দশা মোচনের তিনি অগ্ৰণী ভূমিকা নিয়েছিলেন৷ এ সব সত্ত্বে বিজেপি দাবি করলেও তাদের জেতা যে নিশ্চিত তেমন কথা হলফ করে বলা যায় না এই কারণেই, দিলীপবাবু শিলচরের ফ্যাক্টর বলায় অনেক গালিগালাজ খেতে হয়েছিল শিলাদিত্য দেবকে৷ অথচ তার কয়েকদিন পর যখন হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা শিলচরে এসে ওই একই কথা বললেন, তখন কিন্তু বিজেপি নেতারা নিশ্চুপ৷ কেন? তার জবাবও মিলবে ফলে৷
অন্যদিকে নিৰ্দল প্ৰাৰ্থী দিলীপবাবুর শিবির কিন্তু নিশ্চিত যে তাঁরা বৃহস্পতিবার যে হারে ভোট তাঁরা পেয়েছেন তাতে প্ৰাথমিক হিসেব অনুযায়ী হেলিকার এ বার পদ্মফুলের ভাগ্য বিপৰ্যয়ে এক বিরাট ভূমিকা পালন করব৷ যুক্তি হিসেবে তাঁরা বলেছেন, এখন পৰ্যন্ত যে হিসেব তাঁদের কাছে এসেছে তা থেকে স্পষ্ট, হেলিকাপ্টার শিবির অন্ততপক্ষে ৬৯ হাজার ভোট পাবে৷ কংগ্ৰেস পাবে ৫৯ হাজার এবং দীপায়ন চক্রবৰ্তী পাবেন ৪২ হাজার ভোট৷ এ সব নিতান্তই ভোটের অংক৷ কাৰ্যক্ষেত্ৰে বাস্তবে কী হবে সেটা জানা যাবে ২ মে৷ দিলীপ পাল শিবিরের দাবি, অম্বিকাপুর জিপিতে তাঁর ভোট পেয়েছেন ৬০ শতাংশ৷ ভজন্তিপুরে তাঁরা পেয়েছেন ৪০ শতাংশ৷ এখানে ভোট তিন ভাগে ভাগ হয়েছে৷ এখানে কংগ্ৰেসিরা যেমন রয়েছেন, তেমনি সিপিএম অনুগামীরাও আছেন৷ ফলে এখানে লাভ হবে মহাজোট প্ৰাৰ্থীর৷
তা হলে কি দীপায়ন চক্রবৰ্তীর কোনও ভোট নেই এই জিপিতে? বিশ্বের বৃহত্তম দল এখন বিজেপি৷ একটি জিপিতে তাদের ভোট থাকবে না, এই যুক্তিও মেনে নেওয়া যায় না৷ দিলীপ শিবিরের আশা, একইভাবে তারাপুর, রামনগর, কনকপুর ও ঘুংঘুর জিপিতেও তারা ভোট পেয়েছেন যথাক্রমে ৫৫, ৪০ এবং ৬০ শতাংশ৷ ফলে তাঁর এক নম্বরে থাকা নিশ্চিত৷ তাঁদের আরও দাবি, এগুলো আসলে বাজারি হিসেব নয় বা চায়ের কাপে তুফান তোলার যে প্ৰবণতা ভোটের পরে থাকে, এটা তারও অঙ্গ নয়৷ এটা বুথওয়াড়ি পরীক্ষা করে তার নিটফল৷
শিলচরের অভিজ্ঞ ভোট ভাষ্যকাররা এই হিসেবকে আদৌ মান্যতা দেবেন কি না, সেটা একান্তভাবেই তাদের নিজের বিষয়৷ শুধু তা-ই নয়, বিজেপি ও কংগ্ৰেস শিবির এই হিসেবে শুনে ভ্ৰূকূটি করেছে৷ তাদের বক্তব্য হল, দিলীপবাবু অবশ্যই কিছু ভোট পেয়েছেন৷ তবে সেটা কোনওভাবেই ২৫ হাজারের বেশি নয়৷ যেমন কংগ্ৰেস প্ৰাৰ্থী তমাল বণিক অবশ্য স্বীকার করেন, তাঁর কাছে বুথওয়াড়ি কোনও প্ৰতিবেদন এখনও জমা পড়েনি৷ তবে তাঁরা নিশ্চিত, শহর এবং জিপি এলাকায় তাদের ভোট বিপুলভাবে বাড়বে৷ এটা শুধু নিৰ্দল প্ৰাৰ্থী দিলীপ পাল দাঁড়ানোর জন্য নয়, এর আসল কারণ হল মহাজোটই এ বার অসমে সরকার গড়ছে৷ এই ইঙ্গিতটা শিলচরের মানুষও পেয়ে গেছেন৷ তারচেয়ে বড় কথা, দিলীপবাবু যে সিন্ডিকেট প্ৰসঙ্গ উত্থাপন করেছেন তাতে তাঁর কতটা লাভ হয়েছে সেটা প্ৰরে বিষয় হলেও কংগ্ৰেস সরাসরি কোনও অভিযোগ না করেও হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে, তাদের হাতে রাজ্যের জনগণ ক্ষমতা তুলে দিয়েছেন৷
তমালবাবু নিজে মনে করেন, তিনি ৭৫ হাজার ভোট পেতে পারেন৷ অন্তত যে সব রিপোৰ্ট গত দু-তিন দিনে তাঁর হাতে এসেছে তার ভিত্তিতেই তিনি এই দাবি করছেন৷ তমালবাবু এ-ও জানিয়ে দেন, একাংশ কংগ্ৰেস কৰ্মী তাঁর বিদ্ধে প্ৰচারে নেমেছিলেন, এ সব কথা সৰ্বৈব মিথ্যা৷ এমনকী, শিলচরের নেত্ৰী সুস্মিতা দেবও তাঁর হয়ে বিভিন্ন জায়গায় সওয়াল করে প্ৰমাণ করে দিয়েছেন যে কংগ্ৰেস শিবির ঐক্যবদ্ধ৷ এ সব দাবি-পাা দাবির একমাত্ৰ সুরাহা হতে পারে ২ মে ভোটের ফল বেরোনোর পর৷
বিজেপি প্ৰাৰ্থী দীপায়ন চক্রবৰ্তী অবশ্য এত হিসেবনিকেশের মধ্যে যেতে রাজি নন৷ তাঁর সাফ বক্তব্য, আগামী দু-তিন দিনের আগে আমার কাছে সম্পূৰ্ণ রিপোৰ্ট আসার সম্ভাবনা নেই৷ কাজেই দিলীপবাবু কি হিসেব দিলেন বা না দিলেন তাতে আমার বিশেষ কিছু যায়-আসে না৷ তিনি তাঁর হিসেব করেছেন, কংগ্ৰেস প্ৰাৰ্থীও তাঁর নিজস্ব হিসেব করবেন, এতে আপত্তির কিছু আমি দেখি না৷ তবে আমি দৃঢ় প্ৰত্যয়ী, ২১-এর বিধানসভা ভোটে শিলচর কেন্দ্ৰ থেকে ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্ৰতিদ্বন্দ্বীকে পরাস্ত করব৷