BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

ধলাইয়ে এ বার কাঁটে কি টক্কর, জয় নিয়ে নিশ্চিত পরিমল শিবির

Bartalipi, বার্তালিপি, ধলাইয়ে এ বার কাঁটে কি টক্কর, জয় নিয়ে নিশ্চিত পরিমল শিবির

এ বার ধলাই বিধানসভা কেন্দ্ৰে কাঁটে কি টক্কর বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ ভোটের পর গ্ৰাউন্ড জিরো রিপোৰ্ট থেকে যে সব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তা থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার এই কেন্দ্ৰে হার-জিত হবে সামান্য ভোটের ব্যবধানে৷ যদিও পরিমল শিবির মনে করছেন, তাদের ব্যবধানটা এ বার আগের বারের চেয়ে কিছুটা বেশি হবে৷ কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এই দাবির সঙ্গে যথেষ্ট মানানসই নয়৷ কারণ ’১৬-র ভোটে কংগ্ৰেস প্ৰাৰ্থী গিরিন্দ্ৰ মল্লিকের সঙ্গে পরিমলের জেতার ব্যবধান ছিল প্ৰায় ২৭ হাজার৷ এ বার সেটা হবার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না৷
একটি ঘটনা থেকে সেটা পরিষ্কার তা হল, তিন দফতরের মন্ত্ৰী হয়েও এ বারের ভোটে অন্য কোনও জায়গায় প্ৰচারে তেমনভাবে দেখা যায়নি পরিমলবাবুকে৷ কারণ নিজের কেন্দ্ৰ নিয়ে তিনি এতটাই ব্যতিব্যস্ত ছিলেন যে অন্য প্ৰাৰ্থীর হয়ে প্ৰচারে যাওয়ার সময়টুকুও তাঁর হয়নি৷ ফলে তিনি বিশাল ব্যবধানে জিতবেন, তাঁর অনুগামী মহল এমন দাবি করলেও বাস্তবে সেটা কাৰ্যকর হচ্ছে না এই কারণেই, ধলাই কেন্দ্ৰে মোট ভোটার হচ্ছে ১ লক্ষ ৯০ হাজার৷ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৭৮ শতাংশ ভোট অৰ্থাৎ প্ৰায় ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ভোট পড়েছে এই কেন্দ্ৰে৷
কোন সম্প্ৰদায়ের কত ভোট পড়েছে এ বারের নিৰ্বাচনে সেটা অবশ্য এখনও পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না এ কারণেই, এজেন্টদের বুথ শিট এখনও জমা পড়েনি দলের কাছে৷ তবে মোটামুটি যে হিসেব পাওয়া যাচ্ছে তা থেকে এটা বোঝা যায়, ধৰ্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় প্ৰায় ৯০ শতাংশ ভোট পড়েছে৷ এই কেন্দ্ৰে সেই হিসেবে ৪৫ হাজার ভোট পড়েছে ওই সম্প্ৰদায়ের৷ তারমধ্যে মোটামুটি ১০ হাজার ভোট পরিমলবাবুর বাক্সে যেতে পারে বলে তাঁর অনুগামীরাই মনে করছেন৷
প্ৰতিদ্বন্দ্বী চা-বাগিচা সম্প্ৰদায়ের কংগ্ৰেসের কামাখ্যা মালা হলেও স্থায়ী চা-শ্ৰমিকদের ভোটও বেশ বড় সংখ্যায়ই পেয়েছেন পরিমল৷ এই অবস্থায় কামাখ্যার লড়াই বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে৷ অথচ প্ৰথম দিকে মনে হয়েছিল, এ বার বোধহয় ধলাইয়ে পরিমলের তরী ডুবতে বসেছে৷ কিন্তু ভোটের দিন দেখা গেল ধীরে ধীরে হলেও পরিস্থিতি তাঁর অনুকূলে যাচ্ছে৷ অৰ্থাৎ চা-বাগিচা সম্প্ৰদায়কে বিচক্ষণতার সঙ্গে ভোট দেওয়ার জন্য বরাক চা-শ্ৰমিক ইউনিয়নের সভাপতি রাধেশ্যাম উপাধ্যায় যে প্ৰচারপত্ৰ প্ৰকাশ করেছেন তা খুব কাজে আসেনি৷ কারণ সৰ্বানন্দ সোনোয়াল সরকার চা-শ্ৰমিকদের মধ্যে থেকে যাদের তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন সেটাই পরিমলের ভোটবাক্স স্ফীত করেছে৷ সেই সূত্ৰেই হিতাধিকারীর বিষয়টি আবারও ধলাইতে নতুন ধাঁধার সৃষ্টি করেছে৷ অৰ্থাৎ ঠিক কতটা চা-সম্প্ৰদায়ের মানুষ পরিমলকে সমৰ্থন করেছেন তা স্পষ্ট নয় এ কারণেই যে, চা বাগানে যারা কাজ করেন বা থাকেন তারা সবাই কিন্তু স্থায়ী শ্ৰমিক নন৷ তাই স্থায়ী শ্ৰমিক নন এমন মানুষদের ভোট কিন্তু কামাখ্যা মালার অনুকূলেই গেছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ কারণ তারা সৰ্বানন্দ সরকারের হিতাধিকারীর তালিকায় পড়েন না৷
এ নিয়ে শুধু ধলাই নয়, কাছাড়ের অন্য বাগানেও প্ৰচণ্ড ক্ষোভ আছে চা-বাগিচা সম্প্ৰদায়ের মধ্যে৷ এই বিষয়টি যদি মহাজোট প্ৰাৰ্থীরা সব জায়গায় কাজে লাগাতে পারেন তা হলে ভোটের ফলাফলে অনেক ওলটপালট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ চা-শ্ৰমিকদের ধলাইয়ে মোট ভোট রয়েছে ৪০ হাজার৷ তাছাড়াও বৰ্মন ও জনজাতি সম্প্ৰদায়ের ভোট রয়েছে নয় হাজার, মণিপুরি ভোট আছে চার হাজার৷ বাকি ৮৩ হাজার রয়েছে বাঙালি হিন্দু ভোট৷ নরসিংপুর, পালংঘাটে বিজেপি সংগঠন যথেষ্ট শক্তিশালী, এ নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই৷ কিন্তু বড়জালেঙ্গায় মন্ত্ৰী পরিমলের বিদ্ধে একটা ক্ষোভ রয়েছে৷ কংগ্ৰেস যদি সেই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ভোটের বাক্স পৰ্যন্ত নিয়ে যেতে পারে সে ক্ষেত্ৰে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে মন্ত্ৰী পরিমলকে৷
ধলাইয়ের হিন্দু ভোটের মধ্যে একটা সূক্ষ্ম বিভাজন রেখাও আছে৷ যেমন বৰ্ণ হিন্দু সম্প্ৰদায়ের যে সমস্ত মানুষ ধলাইয়ে রয়েছেন তাঁরা কিন্তু বিজেপি দল নয়, মন্ত্ৰী পরিমলের কাজে বেশ অসন্তুষ্ট৷ তার কারণ হচ্ছে, বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্ৰে বৰ্ণ হিন্দুরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন বলে একটা উষ্মা আছে, পরিমল অনুগামীরা অবশ্য এই তত্ত্বকে মানতে রাজি হননি৷ তবুও মন্ত্ৰীর জয়ের ক্ষেত্ৰে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেবে এই বাঙালি ভোটাররাই৷ ফলে এই সম্প্ৰদায়ের ঠিক কতটা ভোট বাক্সে পড়েছে তার হিসেব এখনও বেরোয়নি৷ এতে যদি পরিমলের পাল্লা ভারি না থাকে তা হলে কিন্তু কামাখ্যার সঙ্গে তাঁকে কাঁটে কা টক্কর দিতে হবে ধলাইয়ে৷
এখানে আরও একটি কথা বলে নেওয়া প্ৰয়োজন, ২০১১ সালে পরিমল হেরেছিলেন কংগ্ৰেস প্ৰাৰ্থী গিরিন্দ্ৰ মল্লিকের কাছে৷ তার ব্যবধান ছিল প্ৰায় ১৫ হাজারের মতো৷ কিন্তু তার পাঁচ বছর পর অৰ্থাৎ ১৬ সালে বিরাট ভোটের ব্যবধান নিয়ে বিধানসভায় নিৰ্বাচিত হন পরিমলবাবু৷ মন্ত্ৰীও হন৷ সেই সূত্ৰেই তাঁকে ঘিরে একটি চক্রও গড়ে ওঠে৷ যে চক্রের কাজে ধলাইর বহু লোক অসন্তুষ্ট৷ কিন্তু মুশকিল হল, মন্ত্ৰী হয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে ঘিরে একটি চক্র গড়ে ওঠে৷ এটা যে শুধু পরিমলবাবুর ক্ষেত্ৰেই প্ৰযোজ্য তা নয়, এটা সব ক্ষেত্ৰেই লক্ষ করা যায়৷ এরাই কিন্তু আবার ভোটের সময় মন্ত্ৰীর হয়ে জান বাজি রেখে তাঁকে জেতাতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন৷ কাজেই তাদের গুত্ব নেই, এমন বলা যায় না৷ কিন্তু স্বাভাবিক নিয়মেই মানুষ আবার এদের প্ৰতি ষ্ট থাকেন৷
এখন বুঝতে হবে, এই চক্রের কলাকুশলীদের দলের লোকরাও ঠিক ভালভাবে মেনে নেন না৷ এই ক্ষোভ যদি ভোটের বাক্সে প্ৰতিফলিত হয় তা হলে নিৰ্বাচনের ফল কামাখ্যা মালার অনুকূলে যেতেও পারে৷ কিন্তু এই কথাটা মানতে রাজি নন পরিমল অনুগামীরা৷ তাদের পাা যুক্তি হচ্ছে, ক্ষমতায় থাকলে কিছু লোক অসন্তুষ্ট থাকেন, এটাই স্বাভাবিক৷ সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলা খুব কঠিন বিষয়৷ অন্তত রাজনীতিতে এ ধ্বনের সমীকরণ অনেক সময় ভোটের ফলে বিরূপ প্ৰভাব ফেলে৷
এতসব প্ৰতিবন্ধকতার পরও পরিমলবাবুর অনুগামীরা মনে করছেন, গত পাঁচ বছরে ধলাইয়ে যে উন্নয়নমূলক কাজকৰ্ম হয়েছে তা কখনই কংগ্ৰেস আমলে দেখা যায়নি৷ শুধু তা-ই নয়, সৰ্বানন্দ সরকারের আমলে এত হিতাধিকারী সৃষ্টি করা হয়েছে বা সরকারি প্ৰকপ্লে এত লোক উপকৃত হয়েছেন তারা কি মন্ত্ৰী পরিমলকে ভোট না দিয়ে পারবেন? এটাই মূলত মন্ত্ৰীর জেতার পথ প্ৰশস্ত করবে৷