BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

হিমন্তের রাতের বৈঠকেই পাল্টে যায় চিত্ৰ, দাবি বিজেপির

Bartalipi, বার্তালিপি, হিমন্তের রাতের বৈঠকেই পাল্টে যায় চিত্ৰ, দাবি বিজেপির

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শিলচরে সায়লেন্ট ভোটিং হয়েছে বলে দিলীপ কুমার পাল বা কংগ্ৰেস প্ৰাৰ্থী তমাল বণিকের শিবির যে দাবি করছে তা কাৰ্যত খারিজ করে দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব৷ তাঁদের একটাই কথা, ফল বেরোক তা হলেই বোঝা যাবে বিজেপি প্ৰাৰ্থী দীপায়ন চক্রবৰ্তী বিশাল ব্যবধানে জয়ী হবেন৷ বরাক উপত্যকার নিৰ্বাচন পরিচালনা কমিটির প্ৰধান নিত্যভূষণ দে শুক্রবার এই দাবি করে বলেন, নিৰ্দল দাঁড়িয়ে দিলীপবাবু ৯৪ হাজার ভোট পাওয়ার যে আশা করছেন সেটা গুঁড়ে বালি ছাড়া আর কিছু নয়৷ কেন না আগে তাঁর নামের পাশে পদ্মফুল প্ৰতীক চিহ্ন ছিল, কিন্তু এখন সেটা নেই৷ আর হেলিকপ্টার প্ৰতীক নিয়ে বিজেপি-র মতো সংগঠিত দলকে কখনই হারানো যায় না৷
বিজেপি নেতাদের দাবি, বহু জিপি এলাকায় অরুণোদয় প্ৰকপ্ল দিলীপবাবু দিয়েছেন বলে তাঁর সমৰ্থকরা যে প্ৰচার চালিয়েছেন সেটাও আসলে বুমেরাং হয়েছে৷ কারণ এই প্ৰকল্পটি আসলে মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সোনোয়ালের মস্তিষ্ক প্ৰসূত৷ বিধায়ক হিসেবে দিলীপবাবু শুধু তালিকাই তৈরি করেছেন৷ এই প্রকল্পের আওতায় হিতাধিকারী মাসিক ৮৩০ টাকা পেয়ে থাকেন৷ প্ৰদেশ বিজেপি সভাপতি রঞ্জিত দাস এতদিন ধরে বার বার বলে আসছেন, সরকার রাজ্যে ৯২ লক্ষ হিতাধিকারী তৈরি করেছে৷ ফলে ওই পরিবারগুলি থেকে যদি দু’টি করে ভোট তাঁরা পান তা হলেও রাজ্যের অৰ্ধেক আসনে তাঁদের জেতা সুনিশ্চিত হয়ে যায়৷ শিলচরের বিজেপি নেতারা সেই হিতাধিকারী সূত্ৰকেই দীপায়নের জেতানোর পথ প্ৰশস্ত করবে বলে মনে করছেন৷ কিন্তু রাজনীতি এমন একটি বিষয় যে একজন প্ৰভাবশালী মন্ত্ৰী এসে অনুরোধ করলেন বলে সব ব্যবসায়ীরা লাইন ধরে দীপায়নবাবুকেই ভোট দেবেন, তার নিশ্চয়তাই বা কোথায়? এই প্রশ্ন তুলেছেন দীপায়ন-বিরোধী শিবিরের নেতারা৷
দ্বিতীয় যে কারণটি দীপায়নের অনুকূলে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে সেটা হল ফাটকবাজার সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংস্থার সদস্যদের ভোটও পদ্মফুলেই গিয়েছে৷ বিশ্বস্ত সূত্ৰ জানিয়েছে, হিমন্তবিশ্ব শিলচরে যেদিন রোড শো করেন সেদিন রাতেই শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্ৰতিনিধিদের ডেকে তিনি পই-পই করে বলে দেন, যে কোনওভাবেই বিজেপি প্ৰাৰ্থী দীপায়নকে শিলচর থেকে জেতাতেই হবে৷ এরই পাশাপাশি দিলীপ-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বেশ কিছু বিজেপি নেতার সঙ্গেও এ দিন বৈঠক করেন হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা৷ তাঁদেরও একই বাৰ্তা দিয়ে বলা হয়, বরাক উপত্যকার সদর শহর শিলচর থেকে যে কোনওভাবে বিজেপি প্ৰাৰ্থীকে জেতাতে হবে৷ কারণ এই শহর থেকেই অসমে বিজেপি সংগঠনের উত্থান পৰ্বের সূচনা৷ এখানে উল্লেখ্য, ফাটকবাজারে দিলীপবাবুদের বড় দোকান রয়েছে৷ তাঁর বাবা অত্যন্ত সজ্জন মানুষ ছিলেন৷ সেখানে বামপন্থী নেতা নুরুল হুদা থেকে শুরু করে সব দলের নেতারাই যাতায়াত করতেন৷ সেই সূত্ৰেই দিলীপবাবু নাকি বাম মতাদৰ্শে কিছুটা অনুপ্ৰাণিত হয়েছেন বলে দাবি করেন বিজেপি নেতা নিত্যবাবু৷
বিজেপি নেতারা আশাবাদী, মন্ত্ৰী হিমন্তবিশ্ব শৰ্মার এই টোটকা শিলচর থেকে দীপায়নকে জেতানোর পথই প্ৰশস্ত করবে৷ তবে যে বিষয়টি বিজেপি নেতাদের ভাবাচ্ছে তা হল, শিলচরের ওয়াৰ্ডগুলোর ভোট৷ শিলচরে মোট ২৮টি ওয়াৰ্ড রয়েছে৷ সেই হিসেবে প্ৰায় দেড় লক্ষ ভোটার এই শহর শিলচরেই আছেন৷ কিন্তু তার মধ্যে কিছু কিছু ওয়াৰ্ডে কিন্তু বিজেপি যে আগের তুলনায় কম ভোট পাবে সেটা স্পষ্ট হয়ে গেছে৷ যেমন উদাহরণ হিসেবে ৪, ১৩ এবং ২১ নম্বর ওয়াৰ্ডে বিজেপি প্ৰাৰ্থীর অনুকূলে বিশেষ ভোট পড়েনি৷ একইভাবে ১৪ নম্বর ওয়াৰ্ডের প্ৰাক্তন কমিশনার রাজেশ সিনহা, যিনি আগে টিম সুস্মিতার সদস্য ছিলেন সেই ওয়াৰ্ডেও তুলনামূলকভাবে দীপায়ন চক্রবৰ্তী যথেষ্ট ভোট পেয়েছেন৷ অথচ এই ওয়াৰ্ডটি একসময় দিলীপবাবুর শক্তিশালী ঘাঁটি বলে চিহ্নিত করা হত৷ কিন্তু আগের পুর বোৰ্ডের ভাইস চেয়ারম্যান চামেলি পাল অক্লান্ত পরিশ্ৰম করে এখানে দীপায়নকে বড় লিড পাইয়ে দিয়েছেন বলে ধারণা করছেন বিজেপি নেতারা৷
এই যুক্তি অবশ্য মানতে রাজি হননি তমাল বণিক এবং দিলীপ পালের অনুগামীরা৷ কংগ্ৰেস মহলের দাবি, শহরের অন্তত দশটি ওয়াৰ্ডে তাঁরা বড় ব্যবধানে লিড পাবেন৷ বাকি পনেরোটি ওয়াৰ্ডে দিলীপ পালের অনুগামীরা তুলনামূলকভাবে বড় অংকের ভোট পাচ্ছেন৷ তা হলে দীপায়ন কীভাবে বড় ব্যবধানে জিতবেন! এ ব্যাপারেও বিজেপি নেতাদের ব্যাখ্যা আছে৷ তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক দলের এ সব দাবিদাওয়াকে তাঁরা আদৌ গুরুত্ব দিচ্ছেন না৷ কারণ এমন নজিরও আছে, গাঁওপঞ্চায়েত এলাকায় বুথ থেকে বেরিয়ে অনেক ভোটারই বলেছেন, দিলীপবাবুকে ভোট দিয়ে এসেছি৷ কিন্তু যখন তাঁদের জিগ্যেস করা হয়, কোন প্ৰতীকে ভোট দিয়েছেন? জবাবে তাঁরা বলেন পদ্মফুলে! এখনও বহু মানুষ জানেনই না দিলীপবাবুর প্ৰতীক চিহ্ন হেলিকপ্টার৷
বিজেপি নেতাদের ধারণা, দিলীপবাবু পাঁচ থেকে সাত হাজারের বেশি ভোট পাবেন না৷ ফলে দীপায়নের জয় নিশ্চিত৷ গত লোকসভা ভোটে শিলচর থেকে বিজেপি এক লক্ষ পাঁচ হাজার ভোট পেয়েছে৷ সেই হিসেবে দশ হাজার ভোটও পান তা হলেও ৯৫ হাজার ভোট যায় দীপায়নের বাক্সে৷ আর তমাল বণিককে খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি নয় বিজেপি শিবির৷ তাঁরা মনে করছেন, কংগ্ৰেসেরই বহু কৰ্মী বিশেষত সুস্মিতা অনুগামীরা এ বারের ভোটে তমালবাবুর হয়ে কোনও কাজ করেননি৷ এই ফাটল থেকেই লাভ হবে আখেরে দীপায়নেরই৷ দ্বিতীয়ত, জিপি স্তরে কংগ্ৰেসের কোনও সাংগঠনিক কাঠামো নেই৷ ফলে শুধু ধৰ্মীয় সংখ্যালঘু ভোট এবং সাংস্কৃতিক মহলের সমৰ্থন নিয়ে তমালবাবু আর যাই কন, শিলচরের মতো জায়গা থেকে কখনই জয়ী হতে পারবেন না৷ জেলা কংগ্ৰেস অবশ্য বিজেপি-র এই যুক্তিকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে৷ তাঁদের বক্তব্য, যে দল ভোটে জেতার জন্য শেষপৰ্যন্ত আজমল-ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করে ভোটে জিততে চায় তাঁরা আর যাই হোক শিলচরের মতো জায়গার সচেতন ভোটারকে কখনই বিভ্ৰান্ত করতে পারবে না৷ কাজেই গণদেবতা যে রায় দিয়েছেন সেটা তমাল বণিকের পক্ষেই যাবে৷