BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

প্রতিশ্রুতি ও প্রশ্ন

Bartalipi, বার্তালিপি, প্রতিশ্রুতি ও প্রশ্ন

রাহুল রায়



নির্বাচনীয় প্রতিশ্রুতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই আগ্রহ থাকে । সেই প্রতিশ্রুতি যদি কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা  দলের প্রার্থীর পক্ষ থেকে হয় তাহলে সেই আগ্রহ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায় । তার কারণ অসমের মতো অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা রাজ্যে প্রতিশ্রুতি পালনে কেন্দ্র সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে । শিলচরেও ব্যতিক্রম নয় । গত পাঁচ বছর শিলচরবাসী কেন্দ্রে, রাজ্যে, পুরসভায় একই দলের শাসন দেখেছে । আগামী ১লা এপ্রিল শিলচরের আসনে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে । প্রথা মেনেই শিলচরবাসীর জন্য শাসক দলের প্রার্থী নিজের চিন্তা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রতিশ্রুতি পত্রের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন । প্রার্থী যুবক সম্প্রদায়ের , স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর প্রতিশ্রুতিতেও নতুন দিনের স্বপ্নের কথা থাকাটাই বাঞ্চনীয় ।

শিলচর শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যার মধ্যে একটি হল মৃতপ্রায় চিকিৎসা ব্যবস্থা । সেই চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের রোগ নিরাময় করার কথা। আজ সেই ব্যবস্থাই মারাত্মক ভাবে আক্রান্ত । ব্যক্তিগত মালিকানাধীন চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোকে সুযোগ করে দেওয়ার আত্মঘাতি মানসিকতা থেকে সরকারী স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিচালনা দিনের পর দিন দুর্বল হতে হতে এমন এক জায়গায় বর্তমানে গিয়ে পৌঁছেছে যে মানুষ এখন আর তাকে বিশ্বাস করতে পারছে না ।  ঘুণ ধরা এই ব্যবস্থার জন্য প্রতিদিন বলি হতে হচ্ছে শিলচরবাসীকে । সামান্য পথ দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে হৃদরোগে আক্রান্ত , শিলচর মেডিক্যাল কলেজে কারোর জন্যই যেন নিশ্চয়তা নেই । গুয়াহাটির পথে কত রোগী যে লাশ হয়ে যান সেটার কোনো হিসাব কারো কাছেই নেই । গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে তুলনা করলে শিলচর মেডিক্যাল কলেজের শৈশব চলছে বলতে হয় । এই সমস্যা নতুন নয়, বিদায়ী সরকারের দাপুটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিলচরে এসে মেডিক্যাল কলেজে ৯৫ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও বাস্তবে সেই টাকা কোথায় গেছে তিনিই বলতে পারেন । পর্যাপ্ত কর্মীর অভাব থেকে শুরু করে চিকিৎসকের সংখ্যা, পরিকাঠামো দুর্বলতা, অমানবিক দুর্নীতি কোনো কিছুতেই শিলচর মেডিক্যাল কলেজ পিছিয়ে নেই । গত পাঁচ বছরে এই জায়াগায় অন্ততঃ শিলচরবাসী পরিবর্তনের কোনও  আভাস পায়নি । করোনা পর্বে ভারতের প্রথম করোনা হাসপাতাল শিলচরে হবে বলে শিলান্যাস করা হলেও তারপর আর একটা ইটও বসেনি । প্রকল্পটাই পরবর্তীতে বাতিল হয়ে যায় । শিলচরের অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা বিরাট সংখ্যক মানুষের কাছে সিভিল হাসপাতাল একটি বিশ্বস্থ প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে পারতো । কিন্তু সরকারি সদিচ্ছার অভাবে সেই হাসপাতাল জনমনে বিশ্বাস আনতে ব্যর্থ হয়েছে । উল্লেখযোগ্য যে সিভিল হাসপাতালের উন্নতিকরণে শিলচরের বিদায়ী বিধায়ক ভূমিকা নিলেও রাজ্য সরকারের সমর্থন সেভাবে যে পাওয়া যায়নি তা সিভিল হাসপাতাল চত্ত্বরে একবার ঘুরে আসলেই বুঝতে পারা যায় । এবার সেই বিধায়কও নেই । এদিকে নতুন প্রার্থী সিভিল হাসপাতালের ব্যাপারে তাঁর প্রতিশ্রুতিপত্রে কোনও  উল্লেখই করেননি, সংস্কার কি করবেন, উন্নতিসাধনে কি ভূমিকা নেবেন সেই প্রশ্নের উত্তর তাঁর কাছেই আছে ।

প্রার্থী তাঁর আগামী দিনের পরিকল্পনায় শহরের যানজট কমাতে উড়ালপুলকে স্থান দিয়েছেন । এই শহরে যানজট এবং যানজট কমাতে উড়ালপুরের চিন্তা নতুন নয় । ২০০১ সালে প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষমোহন দেবের কাছে শহরবাসী এই মর্মে প্রথম প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলেন । তারপর সেটা কর্পূরের মতো উবে যাওয়ার পর আবার ২০১৮ সনে বর্তমান সরকারের পূর্তমন্ত্রীর নিকট একই প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল । এরপর গুয়াহাটিতে ৩টি সহ রাজ্যে ৬ টি উড়ালপুলের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়ে গেলেও শিলচরে উড়ালপুলের কথা কখনও গুয়াহাটিতে শোনা যায় নি । অসমের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহরকে এভাবে বঞ্চিত করে রাখার কারণ অজানা এবং সেই অজানা কারণ যে আগামী দিনে থাকবে না সেটার নিশ্চয়তা কি শাসক দলের বর্তমান প্রার্থী দেবেন সেটা আজ বড় প্রশ্ন । প্রার্থী গাড়ি রাখার জন্য বহুতল বিশিষ্ট অট্টালিকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন । আজকের দিনে যা শহরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় । শহরের কেন্দ্রভূমিতে থাকা আসাম রাজ্য পরিবহনের জায়গার ওপর কিন্তু গুয়াহাটি নগরের ধাঁচে সেরকম ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় । এই মর্মে গত পাঁচ বছরে বা তাঁর আগে কিন্তু কিছুই হয়নি । মধ্যে এই জায়গাটি শপিং মল তৈরির কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা পুরসভার পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে বলে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয় । পরবর্তী সময়ে  সচেতন মানুষের এবং বিদায়ী বিধায়কের বিরোধীতায় সেটা নিয়ে বেশি এগোনো না হলেও আগামীতে কি করা হবে সেটা আজকে দাঁড়িয়ে বলা মুশকিল । 

শাসক দলের যুব প্রার্থী নিজের প্রতিশ্রুতি পত্রে শিলচর শহরকে আবর্জনা মুক্ত করতে বিশেষ পরিকল্পনার উল্লেখ করেছেন । বলতে বাধা নেই আগামী দিনে শিলচর একটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি শহরে পরিণত হতে চলেছে । এই অবস্থায় শহরের মধ্যে বাড়তে থাকা আবর্জনা নাগরিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে । ২০১৯ সনের ফেব্রুয়ারি মাসে শহরের আবর্জনা থেকে অর্থনৈতিক মুনাফা কামানোর হেতু পুরসভার পক্ষ থেকে ‘বর্জ্য থেকে সোনা’ প্রকল্প শুরু করা হয় । প্রথম চারটি ওয়ার্ডে প্রকল্পটি শুরু করে পরবর্তীতে শহরজুড়ে সেটা ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলা হলেও আজ অবধি সেটা করা সম্ভব হয়নি । ভুলে গেলে চলবে না সেই সময় শিলচর পুরসভা এবং রাজ্যে কিন্তু একই দল শাসনে ছিল তবু কেন এই প্রকল্প আটকে গেল সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও শহরবাসীর অজানা ।


এই শহরের বর্জ্যবাহী নালাগুলোর অধিকাংশই বন্ধ হয়ে থাকে । যার ফলে আবর্জনা জমে জমে এগুলো জল ধারণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে । বর্ষাকালে যেখানে সামান্য বৃষ্টি হলেই নালার পাঁক শহরের রাস্তায় উঠে আসে । এই অবস্থা পরিবর্তনে সর্বাগ্রে নর্দমা ব্যবস্থার আমুল সংস্কার ঘটাতে হবে । ‘মাস্টার ড্রেনেজ ব্যবস্থার’ কথা প্রার্থী তাঁর প্রতিশ্রুতিপত্রে উল্লেখ করেছেন । পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারের আমল থেকেই শিলচরবাসীকে মাস্টার ড্রেনেজের স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে । কংগ্রেস ২০১১ থেকে সরকার গঠন করল, তারপর বর্তমান সরকার ২০১৬ তে আসে, এখন ২০২১, সরকার বদলেছে, সমস্যা দিনের পর দিন মারাত্মক হয়ে উঠেছে কিন্তু তথাকথিত স্বপ্ন আর বাস্তবায়ন হয়নি । এখানে উল্লেখযোগ্য যে এই দুই সরকারই কেন্দ্রে নিজের দলের সরকার পেয়েছে কিন্তু শিলচরের ড্রেনেজ প্রকল্প সেই তিমিরেই রয়ে গেছে । 

শিলচর শহরে জনবসতি অত্যন্ত ঘন । সবুজের অস্তিত্ব শুধু যে শহরে কমছে তা নয়, শহরতলীতেও একই অবস্থা । ইট, বালি, পাথরের জঙ্গলে পরিণত হওয়া এই শহরের পরিবেশ দিনের পর দিন খারাপ হচ্ছে । এই অবস্থায় শহরের মধ্যে থাকা গান্ধীবাগ উদ্যানের গুরুত্ব অপরিসীম । প্রশ্ন হচ্ছে এই শহরের ফুসফুস বলে পরিচিত এই উদ্যাণটি আগামী দিনে কি থাকবে ? নাকি সেখানেও ইট, বালি, পাথরের সমারোহে টাকা কামানোর ব্যবস্থা করা হবে । বিদায়ী পুরসভা কিন্তু এই মর্মে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল । পরিবেশ সচেতন মানুষের চাপে, উল্লেখযোগ্য ভাবে বিদায়ী বিধায়কের সক্রিয় ভূমিকায় সেবার উদ্যাণটি রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল । এই উদ্যাণ সংস্কারের ব্যাপারে শাসক দলের এই যুব নেতার প্রতিশ্রুতি পত্রে কোনো বার্তা না থাকলেও ইতিহাস সেখানে তাঁর ভূমিকা নিয়ে শহরবাসীকে ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে । আশ্চর্যজনক ভাবে প্রার্থী শহরের সবুজায়নের ব্যাপারে শহরবাসীর মধ্যে কোনো স্বপ্ন ফেরি করার পথে যাননি। অথচ শহর সৌন্দর্যায়নে তথা সুস্থ পরিবেশ রক্ষায় যা কিনা একান্ত কাম্য । শহরের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা সরকারী জায়গায় সবুজায়ন করা যায় কিনা এটা নিয়ে কিন্তু আগামী দিনের সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতেই হবে । শুধু গান্ধীবাগ নয়, নরসিংটোলা, সদরঘাট, নিউ শিলচর, তারাপুরের মতো ব্যস্ত জায়গাগুলোতে সবুজের প্রয়োজন দিন দিন বাড়ছে । আগামী দিনে প্রার্থী কি সবুজায়নে, উদ্যাণের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনে উদ্যোগী হয়ে শহরকে সুস্থ রাখতে উদ্যোগী হবেন , যুবনেতার প্রতিশ্রুতিপত্র কিন্তু এই ব্যাপারে প্রশ্ন সৃষ্টি করছে ।