BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

ক্ষমতায় ফিরলেই দিলীপ পালকে জেরা : আমিনুল

Bartalipi, বার্তালিপি, ক্ষমতায় ফিরলেই দিলীপ পালকে জেরা : আমিনুল


বাৰ্তালিপি:  এবার যে আপনি ভোট চাইতে মানুষের কাছে যাচ্ছেন, মূল এজেন্ডা টা কি? সোনাইয়ের মানুষ কেন ভোট দেবে আপনাকে?

আমিনুল : আমরা ২০১৬-তে বলেছিলাম পরিবৰ্তনের জন্য ভোট দিতে৷ সোনাইয়ের জনগণ পরিবৰ্তনের পক্ষে আশীৰ্বাদ দিয়েছিলেন৷ আমি বিজেপি দলের বিধায়ক নিৰ্বাচিত হয়েছি৷ এই পাঁচ বছরের পরিবৰ্তন ও উন্নয়ন দুটোকে সামনে রেখেই প্ৰচারে বেরিয়েছি৷ ভোট চাইছি৷ হলফ করে বলতে পারি ৭০ বছরে যা সম্ভব হয়নি, গত পাঁচবছরে সেই বিকাশের ছোঁয়া পেয়েছেন সোনাইবাসী৷ ফলে মোদ্দা সেই উন্নয়নই৷

বাৰ্তালিপি :  সত্তর বছরে যা হয়নি, তা পাঁচবছরে করে দেখিয়েছেন৷ পুরো ম্যাজিকবলছেন?

আমিনুল : হ্যাঁ, ম্যাজিকই তো৷ আমি বিধায়ক হয়েছি ২০১৬-তে৷ এর আগে অবধি সোনাইর কোনও একটা রাস্তা চলার উপযোগী ছিল না৷ এই পাঁচ বছরে সোনাইর সড়ক সংস্কারের জন্য সরকারি তহবিল থেকে ২৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করাতে পেরেছি আমি৷ বৰ্তমানে এই কেন্দ্ৰের একটি সড়কও খারাপ পাবেন না৷ তাছাড়া, শিক্ষাখাতেও উন্নয়ন হয়েছে প্ৰচুর৷ মেয়েদের ক্ষেত্ৰেও শিক্ষার যথেষ্ট সুযোগ বেড়েছে৷ যেমন বরাকের মধ্যে একমাত্ৰ সোনাইয়ে অসম সরকারের নবোদয় প্যাটাৰ্ন গাৰ্লস আবাসিক স্কুল হচ্ছে৷ যেখানে, বিপিএল পরিবারের দশম শ্ৰেণি উত্তীৰ্ণ যে কোনও মেয়ে বিনামূল্যে পড়াশোনা করতে পারবে৷ কোনও খরচ লাগবে না৷ তাছাড়া,  মডেল উইম্যানস আবাসিক কলেজও হচ্ছে সোনাইয়ে৷

বাৰ্তালিপি:  আমাদের দেশে মুসলিম সমাজে শিক্ষার হারটা কম, মহিলাদের কথা আরও বিশেষ করে বলতে হয়৷ আর সোনাই মূলত একটা মুসলিম অধ্যুষিত কেন্দ্ৰ৷ আপনিও মুসলিম সম্প্ৰদায়েরই প্ৰতিনিধি৷ এই জায়গায় দাঁড়িয়ে মহিলাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিতে গিয়ে সামাজিকভাবে কি আপনাকে কোনও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে?

আমিনুল : না, এমন কিছু  হয়নি৷ তবে, গরিব সংখ্যালঘু পরিবারের অভিভাবকরা টাকার অভাবে পড়াশোনা করাতে চান না মেয়েদের৷ এই জায়গায় যখন বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ থাকবে, তাঁরা নিশ্চয় এগিয়ে আসবেন, আসছেনও৷

বাৰ্তালিপি: আপনি বলছেন ৭০ বছরে যা হয়নি, তা করে দেখিয়েছন৷ তার মানে দুটো দাঁড়ায়৷ প্ৰথম, আগে যাঁরা বিধায়ক ছিলেন তাঁরা কাজ করতে পারেননি৷ দ্বিতীয়, সরকার কোনওরকম সাহায্য করেনি৷ আপনি তো এখানকার মানুষ৷ বিষয়টাকে কীভাবে দেখবেন৷ আগের সরকারের ব্যৰ্থতা, না কি বিধায়কদের৷

আমিনুল :  আমাদের সোনাই কেন্দ্ৰের প্ৰথম বিধায়ক মওলানা মইনুল হক চৌধুরী সাহেব৷ তাঁর পর থেকে যত বিধায়ক ছিলেন, তাঁরা কোনও উল্লেখযোগ্য কাজ করতে পারেননি৷ আমি দশ নম্বর বিধায়ক৷ মইনুল হক চৌধুরীকে বাদ দিলে আটজন বিধায়কই কোনও কিছু করতে পারেননি৷

বাৰ্তালিপি:  আচ্ছা, আপনি তো ডেপুটি স্পিকার৷ শিলচরের দু’বারের বিধায়ক দিলীপকুমার পাল, যিনি বৰ্তমানে নিৰ্দল প্ৰাৰ্থী হিসেবে ভোটে লড়ছেন তিনিও ডেপুটি স্পিকার ছিলেন৷ কিন্তু ‘আমি মুক্ত বিহঙ্গ হতে চাই’,  এই কথা বলে পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন৷ তাঁর বক্তব্য ছিল ডেপুটি স্পিকারের প্ৰটোকলের ভেতরে থেকে কাজ করতে পারছেন না৷ আপনি কি কাজ করতে কোনও অসুবিধার সুখীন হয়েছেন?

আমিনুল.  না-না, কোনও সমস্যা হয়নি৷ প্ৰটোকলে থেকেও কাজ করা যায়৷ জানি না, উনি কেন ডেপুটি স্পিকারের পদে থেকে কাজ করতে পারেননি, আমার তো কোনও অসুবিধা হয়নি৷

বাৰ্তালিপি:  আপনার রাজনৈতিক কেরিয়ারটি কিন্তু আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং মনে হয়৷ আপনি শু করেছিলেন অগপ থেকে৷ সাধারণত আমরা কী দেখি, মুসলিমরা রাজনীতিতে আসতে চাইলে হয় কংগ্ৰেসে যান, নাহলে ইউডিএফে৷ কিন্তু আপনি এমন একটি দল বেছে নিলেন, যে-দলটির পিঠে মুসলিম-বিরোধী তকমা সেঁটে দেওয়া হয়েছে৷ আমার প্ৰ, আপনি বিজেপিকে বেছে নিলেন কেন?

আমিনুল : আমি বিপরীত-মুখি রাজনীতি পছন্দ করি, স্ৰোতের পক্ষে যে রাজনীতি সেটা আমার নাপসন্দ৷ এই উপত্যকার ছাত্ৰরা যখন এনএসইউআই করতেন আমি তখন আসু করেছি, এই উপত্যকার মুসলিমরা যখন কংগ্ৰেস করতেন, আমি তখন অগপ করতাম, এই উপত্যকার মুসলিমরা যখন ইউডিএফ করতে শু করল আমি তখন বিজেপিতে যোগ দিই৷ কারণ আমি দেখেছি যদি উন্নয়ন করতে হয় তাহলে বিজেপি ছাড়া বিকপ্ল নেই৷ কংগ্ৰেস বা ইউডিএফ-এ থেকে রাজনীতি করা যাবে না, কারণ এই দুটো দলে সাম্প্ৰদায়িকতা ও ৰ্দুনীতি  প্ৰবলভাবে রয়েছে৷  বিজেপির মধ্যে আমি কোনও ধ্বনের সাম্প্ৰদায়িকতা দেখিনি৷

বাৰ্তালিপি : আপনি একজন মুসলিম, বিজেপিতে আপনার কোনও অস্বস্তি হয় না?

আমিনুল : আমার সোনাই কেন্দ্ৰে সবচেয়ে বেশি মুসলিম মানুষ৷ জ্জ্ব শতাংশ৷ এবং সোনাইয়ে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে, কাজ হয়েছে৷ তাহলে কীসের অস্বস্তি?

বাৰ্তালিপি : কিন্তু এই বিজেপির কিছু নেতা যখন বলেন, মিঞা আগ্ৰাসন, মোগল আগ্ৰাসন, দুটো সভ্যতার সংঘাত৷ তখন আপনার কী রকম লাগে?

আমিনুল : দুটো সভ্যতা বলতে আমরা বুঝি একটা কংগ্ৰেসের সভ্যতা, একটা বিজেপির সভ্যতা৷ মোগল বলতে আমরা কী বুঝি? মোগলের একটা চরিত্ৰ ইউডিএফের মধ্যে আছে, একটা মোগলের চরিত্ৰ কংগ্ৰেসের মধ্যে রয়েছে৷

বাৰ্তালিপি : যেমন?

আমিনুল : মোগলরা যেভাবে আগ্ৰাসনের রাজনীতি করেছে, এটা ইউডিএফের মধ্যে আছে, কংগ্ৰেসের মধ্যে আছে৷ কোনও সময় তো বলা হয়নি যে সব মুসলমানই মোগল৷ আমাদের একজন নেতা বলেছেন মোগলের কথা, তিনি আসলে আজমলকে বুঝিয়েছেন, সব মুসলমানকে নয়৷ আর সভ্যতার লড়াই? হ্যাঁ, একটা কংগ্ৰেসের সভ্যতা, যেটা দুৰ্নীতি আর সাম্প্ৰদায়িকতার সভ্যতা৷ অন্যদিকে বিজেপির সভ্যতা হচ্ছে সৎ ও স্বচ্ছ রাজনীতির সভ্যতার৷ এ কথা বলতে অস্বস্তি হবে কেন?

বাৰ্তালিপি : কিন্তু তারপরও বারবার বলা হচ্ছে মিঞা আগ্ৰাসন মিঞা আগ্ৰাসন, মিঞা আগ্ৰাসন৷ আপনার ৬৮ শতাংশ ভোটারের কাছে এর জন্য আপনাকে কোনও জবাবদিহি করতে হয় না?

আমিনুল : আমার সোনাই কেন্দ্ৰে একজনও মিঞা নেই৷ এঁরা সবাই এখানকার ভূমিপুত্ৰ মুসলমান৷ মিঞা হচ্ছে ধুবড়ি, বরপেটার মুসলমানরা৷ ময়মনসিঙ্গি মুসলিমরাই নিজেদের নিজেরাই মিঞা বলে৷

বাৰ্তালিপি : আপনি তো দেখছি মুসলিমদের মধ্যে আরেকটা বিভাজন আনছেন৷ একদিকে ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার ময়মনসিঙ্গি মুসলমান, অন্যদিকে শ্ৰীহট্টীয় মুসলমান৷ এটা কি বিভাজন নয়?

আমিনুল : মুসলমানের মধ্যে এই বিভাজন নতুন নয়৷ এক মুসলিম এখানকার ভূমিপুত্ৰ, আরেক মুসলিম হচ্ছে যারা বাংলাদেশ থেকে এখানে এসেছে৷ সাদুল্লার সময় থেকে এটা চলে আসছে, নতুন তো নয়৷

বাৰ্তালিপি : তার মানে ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকার মুসলিমরা বাংলাদেশি?

আমিনুল : না, সব মুসলিম বাংলাদেশি নয়৷ ধুবড়ি, বরপেটা, গোয়ালপাড়া, মরিগাঁও-এৰ কিছু মুসলিম বাংলাদেশ থেকে এখানে এসেছে, এটা তো ঘটনা৷ স্যর সাদুল্লার সময় থেকে এটা চলছে৷ ওই সময় থেকে এদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশি বলা হত৷ আমাদের আজকের কোনও নেতা তো তা নতুন বলছেন না৷

বাৰ্তালিপি : আপনার চোখে বদদ্দিন আজমল তাহলে কী? ভূমিপুত্ৰ মুসলমান? না, বহিরাগত মুসলমান?

আমিনুল : আজমল সাহেব তো সিলেটের মুসলমান৷ কিন্তু তাঁক আমি বাংলাদেশি মুসলমান বলব না৷ ওঁর বাবা করিমগঞ্জের৷

বাৰ্তালিপি : এ বার ধ্বা যাক মাদ্ৰাসা বন্ধের কথাটি৷ এর জন্য আপনার ভোটারের কাছে জবাবদিহি করতে হয় না?

আমিনুল : মাদ্ৰাসা বন্ধ নিয়ে অপপ্ৰচার হচ্ছে৷ মাদ্ৰাসা বলতে আমরা বাঁশকান্দি মাদ্ৰাসা, আলিয়া মাদ্ৰাসা এগুলোকেই বুঝি এবং এগুলো আদৌ বন্ধ হয়নি৷ শুধু সেবা-র অধীনে আনা হয়েছে৷ আমাদের সরকার চায় একহাতে কোরান থাকবে, একহাতে কম্পিউটার থাকবে৷ আরবি ভাষার উপরে সরকার কোনও পদক্ষেপ নেয়নি৷ কংগ্ৰেস-ইউডিএফ মিথ্যে কথা বলছে যে মাদ্ৰাসা বন্ধ করা হয়েছে৷

বাৰ্তালিপি : মঙ্গলবার যোগী আদিত্যনাথ কাছাড়ে আসছেন৷ তিনি যেখানেই যান সেখানেই লাভ জেহাদের কথা বলেন৷ আপনার কি একটু টেনশন হচ্ছে না যে আদিত্যনাথ লাভ জেহাদের কথা বললে আপনার ৬৮ শতাংশ ভোটে বিরূপ প্ৰভাব পড়তে পারে?

আমিনুল : উত্তরপ্ৰদেশে এখন মুসলিমরা যতটুকু সুরক্ষিত আগে মায়াবতী বা মুলায়মের সময় ততটা ছিল না৷ আর লাভ জেহাদের কথা বলছেন? এটা কোনও সংস্কৃতি মানে না৷ মুসলমান ছেলে হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করবে আর হিন্দু মেয়ে মুসলমান ছেলেকে লাভ করে বিয়ে করবে এটা কোনও সংস্কৃতিতেই মানা হয় না৷ আমি তো কখনও আমার ছেলেকে বলব না যে কোনও হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে এসো৷ ওই মেয়েটির সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের সংস্কৃতি মিলবে না৷

বাৰ্তালিপি : তার মানে ইন্টার রিলিজিওন বা দুটো ধৰ্মের ছেলে-মেয়ের মধ্যে বিয়ের মাধ্যমে যে সম্প্ৰীতি হতে পারে আপনি সেটা মানেন না?

আমিনুল : কীভাবে মানব? কীভাবে মানব?

বাৰ্তালিপি : একটি হিন্দু ছেলে ও মুসলিম মেয়ের মধ্যে যদি প্ৰেম করে বিয়ে হয় এবং তারা সুখে থাকে তাতে আপত্তি কোথায়?

আমিনুল : এটা যদি প্ৰথা হয়ে যায় তা হলে সমস্যার সৃষ্টি হবে৷ কোনও হিন্দু ধৰ্ম থাকবে না কোনও ইসলাম ধৰ্ম থাকবে না৷ এটা সমাজের জন্য ঠিক নয়৷ সব মুসলিম যদি মন্দিরে যায় বা সব হিন্দু যদি মসজিদে যায় তা হলে অযথা ভিড় হবে৷ মন্দির-মসজিদ-গীৰ্জা বা হিন্দু-মুসলিম-খ্ৰিস্টান মিলে যে সম্প্ৰীতির ভারতবৰ্ষ আমরা সেটাই চাই৷ আমি চাই না কোনও হিন্দু মেয়েকে মুসলমান ছেলে বিয়ে কক বা কোনও মুসলমান মেয়েকে হিন্দু ছেলে বিয়ে কক৷ পবিত্ৰ প্ৰেম অনেক হয়, আমি দেখেছি৷ কিন্তু অনেক ক্ষেত্ৰে হিন্দু মেয়েটি মুসলিম ছেলের পরিবারে গিয়ে নিৰ্যাতিত হয়, এই খবর কেউ রাখে না বা মুসলিম মেয়েটি হিন্দু ছেলের পরিবারে গিয়ে সাংস্কৃতিকভাবে মিশতে পারে না, এটাও তো হয়৷

বাৰ্তালিপি : আপনার যে দল অৰ্থাৎ বিজেপি তারা বিশ্বাস করে সব ভারতীয়ই মূলত হিন্দু৷ তো এই প্ৰেক্ষাপটে আপনি এই বিষয়টিকে কীভাবে দেখবেন?

আমিনুল : হিন্দু ধৰ্ম সনাতন ধৰ্ম৷ ইসলাম ধৰ্ম, খ্ৰিস্টান ধৰ্ম পরে এসেছে৷ আপনার আমার ডিএনএ যদি টেস্ট করা হয় তা হলে দেখবেন তা মিলে যাবে৷ অতীতের কোনও একসময় আমরা ইসলাম ধৰ্মে পরিবৰ্তিত হয়েছিলাম৷ ভারতবৰ্ষ যে শব্দটি বা ভারত যে শব্দটি সেটি তো ইসলামিক শব্দ নয়৷

বাৰ্তালিপি : দিলীপ পাল অভিযোগ করেছেন সিন্ডিকেটের৷ তিনি বলেছেন, সিন্ডিকেট যারা চালায় তারা ওঁর টিকিট কেটেছে৷ এই সিন্ডিকেটের মধ্যে উনি আপনার নামও নিয়েছেন৷

আমিনুল : এটা ওঁর ব্যক্তিগত কথা৷ আমাদের সরকারের দুৰ্নীতির বিদ্ধে জিরো টলারেন্স৷ দিলীপদা বিজেপি-র প্ৰবীণ নেতা ছিলেন৷ যখন উনি টিকিট পেলেন তখন বিজেপি খুব ভাল ছিল, এখন যখন টিকিট পেলেন না তখনই বিজেপি সিন্ডিকেটের বিজেপি হয়ে গেল৷ দিলীপ পাল কখনই অরিজিনাল বিজেপি নন, তিনি বামপন্থী৷ অরিজিনাল বিজেপি কখনও টিকিটের জন্য দল ছেড়ে যায় না৷

বাৰ্তালিপি : দিলীপ পাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলেছেন কিন্তু কোনও প্ৰমাণ দেননি৷ আপনি কি দিলীপ পালকে এই চ্যালেঞ্জ দেবেন যে হয় প্ৰমাণ কন না হলে অভিযোগ তুলে নিন?

আমিনুল : আমরা একসময় দিলীপ পালকে আদৰ্শবান বলে মনে করতাম৷ এখন দেখছি দিলীপ পালের কোনও আদৰ্শ নেই৷ প্ৰমাণ দিলে শিলচরের মানুষ বুঝবেন তিনি ঠিক ছিলেন, প্ৰমাণ দিতে না পারলেও মানুষ বুঝবেন যে দিলীপ পাল মিথ্যে কথা বলছেন৷ সিন্ডিকেটের সঙ্গে উনি আমার নাম জড়িয়েছেন৷ কিন্তু গত পাঁচ বছর আমি বিধায়ক থাকাকালীন আমার বিদ্ধে কেউ কোনও অভিযোগ আনতে পারেননি, উনি তা হলে কোত্থেকে পেলেন?

বাৰ্তালিপি : দিলীপ পাল একটি মারাত্মক অভিযোগ করেছেন৷ তিনি বলেছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এখন ড্ৰাগস ও অস্ত্ৰপাচার হচ্ছে৷ ইটস্‌ অ্যা সিরিয়াস অ্যালিগেশন৷

আমিনুল : আমি বলছি উনি ভারতবৰ্ষের প্ৰধান শত্ৰু৷ যদি ড্ৰাগস ও অস্ত্ৰের খবর তাঁর কাছে ছিল তা হলে পুলিশকে উনি কেন বললেন না? মুখ্যমন্ত্ৰীকে কেন বললেন না? এই গ্যাংকে ধরিয়ে দিয়ে দিলীপ পালের রাষ্ট্ৰপতি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল৷ এখন দেখছি দিলীপ পালকেই জেরা করা উচিত৷ তিনি যখন জানেন কারা ড্ৰাগস পাচার করছে তা হলে তাঁকে জেরা করে পুরো তথ্য বের করে আনা উচিত৷

বাৰ্তালিপি : আপনারা ক্ষমতায় এলে কি দিলীপ পালকে জেরা করবেন?

আমিনুল : নিশ্চয়ই জেরা করা হবে৷ তাঁর কাছ থেকে আসল তথ্য জানতে হবে৷ ভয়ঙ্কর অভিযোগ৷ এটা কোনওভাবেই ছেড়ে দেওয়া যায় না৷ কারণ দেশের ওপর একটা বিপদের কথা উনি উস্কে দিয়েছেন৷

বাৰ্তালিপি : শেষ প্ৰ, এইবার আপনার প্ৰতিদ্বন্দ্বী কে? সংঘের মদতপুষ্ট আশিস হালদার নিৰ্দল দাঁড়ানোয় গতবার আপনি যে হিন্দুভোট পেয়েছিলেন সেটা এ বার ভাগ হয়ে যাবে৷ আপনি বিষয়টা কীভাবে দেখছেন?

আমিনুল : সোনাই কেন্দ্ৰের হিন্দুরা গত পাঁচ বছর এই প্ৰথমবারের মতো স্বাধীনতা পেয়েছেন৷ হিন্দু এলাকায় আগে কোনও কাজ হয়নি৷

বাৰ্তালিপি : কেন, বদ্ৰীনারায়ণ সিং যখন বিজেপি-র বিধায়ক ছিলেন তখনও কাজ হয়নি?

আমিনুল : সরকার তো তখন বদ্ৰীনারায়ণের দলের ছিল না৷ সরকার ছিল কংগ্ৰেসের৷ ফলে উনি সুযোগ পাননি৷ আমি বিজেপি-র বিধায়ক, সরকারও বিজেপি-র৷ ফলে হিন্দু এলাকায় কাজ হয়েছে৷ বদ্ৰীনারায়ণ চাইলেও নিরাপত্তা দিতে পারেননি কারণ সরকারে কংগ্ৰেস ছিল৷

বাৰ্তালিপি : কার কাছ থেকে কাকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলছেন আপনি?

আমিনুল : সোনাই কেন্দ্ৰে ১৭-১৮ হাজার ভোটার রয়েছে যারা আগে ভোটই দিতে পারেনি৷ এদের ভোট ছিনতাই হয়ে গেল৷ আমি বিধায়ক হওয়ার পর তারা ভোট দিতে পেরেছে৷

বাৰ্তালিপি : তার মানে ’১৬ সালে আপনি যখন জিতলেন তখন কি ওই ১৭-১৮ হাজার ভোটার আপনাকে ভোট দিতে পারেননি?

আমিনুল : ২০১৪ সাল থেকে আমি সোনাইয়ে বিজেপি-র প্ৰভারী৷ এর আগে ২০১১ সালে বিজেপি প্ৰাৰ্থী অবধেশ সিং মাত্ৰ ২১ হাজার ভোট পেয়েছিলেন৷ আমি প্ৰভারী হওয়ার পর ২০১৪-র লোকসভা নিৰ্বাচনে বিজেপি-র ভোট বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬,৮০০৷ আমি ৪৪ হাজার ভোট পেয়েছি৷ ২০১৯ সালের লোকসভা নিৰ্বাচনে রাজদীপ রায় সোনাই বিধানসভা কেন্দ্ৰে ৫৬ হাজার ভোট পেয়েছেন৷ এর একটাই মানে হিন্দু ভোটাররা সাবলীলভাবে ভোট দিতে পারছেন বলেই বিজেপি-র ভোট বাড়ছে৷ সোনাইর হিন্দু ভোটাররা ব্যক্তি দেখে ভোট দেন না, পদ্মফুল দেখে ভোট দেন৷ সোনাইয়ে কোনওদিন নিৰ্দল প্ৰাৰ্থী জেতেনি৷ হিন্দু ভোটাররা খুব ভাল জানেন তাদের সব ভোট কোনও হিন্দু নিৰ্দল প্ৰাৰ্থীর বাক্সে গেলেও তার জেতা সম্ভব নয়৷ ফলে হিন্দুরা পদ্মফুলকেই ভোট দেবেন৷ হিন্দু ভোটাররা নিৰ্দলকে ভোট দিয়ে কোনও অবস্থাতেই ইউডিএফকে পাস দেবেন না৷ গতবার আমি ৮৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলাম, এ বার ৯৫ শতাংশ ভোট পাব৷ ফলে আশিস হালদার কোনও ফ্যাক্টর নয়৷ পাঁচ হাজারের বেশি ভোট উনি পাবেন না৷

বাৰ্তালিপি : আর সাজু!

আমিনুল : সাজু তো কোনও ফ্যাক্টরই নন৷ তাঁকে তো কংগ্ৰেসের মানুষই মেনে নিতে পারছেন না৷ কংগ্ৰেসের অনেক সদস্য আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন৷ তবে হ্যাঁ, কংগ্ৰেসের প্ৰাৰ্থী হলে আমার সঙ্গে কিছুটা লড়াই হত৷

(পুরো সাক্ষাৎকারটির ভিডিও বাৰ্তালিপির ফেসবুক পেজে দেখুন)৷