BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

ইতিহাসে প্রথমবার বদরপুরে নেই কংগ্রেস প্রার্থী

Bartalipi, বার্তালিপি, ইতিহাসে প্রথমবার বদরপুরে নেই কংগ্রেস প্রার্থী

১৯৫১ সালে অসম বিধানসভার ৭ নম্বর কেন্দ্র ছিল বদরপুর। ১৬ হাজার ৭২৪ জন সেবার ভোট প্রয়োগ করেছিলেন। ৪১.৮৩ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৯৯৬ টি ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো বিধায়ক হয়েছিলেন ম‌ওলানা আব্দুল জলিল চৌধুরী। বিপিএল (আরজি) দলের প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ সেনকে তিনি ৩৭৭৩ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। এরপর থেকেপ্রত্যেকটি বিধানসভা নির্বাচনে বদরপুর থেকে কংগ্রেস প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। দুবার উপনির্বাচন‌ও হয়েছে রেলশহর কেন্দ্রিক এই বিধানসভা এলাকায়। কিন্তু জোড়া বলদ‌ই হোক বা গাই-বাছুর, কিংবা হাত। ব্যালট পেপারে কংগ্রেস প্রার্থী এবং প্রতীক চিহ্ন ছিল। এইবার প্রথমবারের মতো দেখা যাবে না কংগ্রেসের প্রতীক।


জোটধর্মে আস্থা রেখে এআইইউডিএফ প্রার্থী আব্দুল আজিজকে আসনটি ছেড়ে দিয়েছে কংগ্রেস। বিনিময়ে তারা দক্ষিণ করিমগঞ্জ আসনটিতে নিজেদের প্রার্থী সিদ্দেক আহমদকে দাঁড় করিয়েছে। 


বদরপুরের বিধানসভা নির্বাচনে অধিকাংশ সময়েই কংগ্রেস প্রার্থী বিজয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন। ১৯৫৭ সালে দ্বিতীয়বার বিধায়ক হয় মাওলানা আব্দুল জলিল চৌধুরী। তবে তিনি পরে ইস্তফা দেন। ১৯৫৮ সালের ৩ মার্চ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অসমের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী বিমলা প্রসাদ চালিহা ৬৫৮৪ ভোটে রথীন্দ্রনাথ সেনকে পরাজিত করেন। ১৯৬২, ১৯৬৭ এবং ১৯৭২ সালে পরপর তিনবার বিধানসভায় গিয়ে হ্যাটট্রিক করেন জলিল সাহেব। সব মিলিয়ে তিনি পাঁচবার বদরপুরের বিধায়ক নির্বাচিত হন।

১৯৭৮ সালে প্রথমবার বদরপুর আসনটি হাতছাড়া করে কংগ্রেস। সিপিএম প্রার্থী রামেন্দ্র দে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দিতায় বিজয়ী হন। তিনি পান ১১৯২১ ভোট। কংগ্রেসের ম‌ওলানা আব্দুল জলিল চৌধুরী ১১৩৫৫, নির্দল প্রার্থী গোলাম ছুবহানী চৌধুরী ১০৪২০ এবং জেপিএন প্রার্থী অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমদ ৪৯৪৯ টি ভোট লাভ করেন। 

১৯৮৫ সালে গোলাম ছুবহানী চৌধুরীকে বদরপুরে কংগ্রেসের টিকিট দেওয়া হয়। তিনি সহজেই পরাজিত করেন সিপিএমের বিধায়ক রামেন্দ্র দে-কে। তবে ১৯৮৫ সালে টিকিট বঞ্চিত হয়ে নির্দল হিসেবে লড়েন গোলাম ছুবহানী চৌধুরী। সংযুক্ত সংখ্যালঘু মোর্চা (ইউএম‌এফ) তখন সদ্য জন্ম নিয়েছে। ফলে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দিতার জমি তৈরি হয়। এতে রামেন্দ্র দে জিতলেন। ইউ‌এম‌এফের কামাল উদ্দিন আহমদ দ্বিতীয় স্থানে থাকেন। কংগ্রেসের ম‌ওলানা আব্দুল জলিল চৌধুরী এবার তৃতীয় হলেন। 


১৯৯১ সালে বদরপুরে নির্বাচন হয়নি। ভোটের দিন হারিসুল ইসলাম নামে নতুন অসম গণ পরিষদ দলের প্রার্থীর মৃত্যু হয়। ফলে সেদিন ভোট স্থগিত রেখে পরে উপনির্বাচন করানো হয়। এতে কংগ্রেসের প্রার্থী আবু সালেহ নজমুদ্দিন সহজে বিজয়ী হন। বিজেপির দীপক দেবকে পরাজিত করেন তিনি। সেই সময় বদরপুর তো মিনি দিশপুরে পরিণত হয়েছিল।

      ১৯৯৬ সালে ফের দীপক বাবুকে হারিয়ে নিজের আসন ধরে রাখতে সক্ষম হন আবুসালেহ নজমুদ্দিন। তবে ২০০১ সালে তাঁর চ্যালেঞ্জার হয়ে উঠে আসেন জামাল উদ্দিন আহমদ। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে তিনি জয়লাভ করেন। আবু সালেহ সেবার দীপক দেবের পরে অর্থাৎ তিন নম্বরে থাকেন। জামাল উদ্দিন পরে কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০০৬ সালে এআইইউডিএফ দলের প্রবল উত্থানের মুখে জামাল উদ্দিন আহমদ‌ও পরাজিত হন। কংগ্রেসের টিকিটে লড়ে তিনি হেরে যান আনোয়ারুল হকের কাছে। ২০১১ এ আই ইউ ডি এফ প্রার্থী হিলাল উদ্দিন চৌধুরীকে এবং ২০১৬ সালে আই ইউ ডি এফ প্রার্থী আব্দুল আজিজকে পরাস্ত করেন জনপ্রিয় বিধায়ক জামাল। ফলে টানা দুবার আসন দখলে রাখতে সক্ষম হন কংগ্রেসের বিধায়ক। গত ২৭ জানুয়ারি জামাল উদ্দিন আহমদ পরলোকগমন করেন। তবে হাতে সময় কম থাকায় উপনির্বাচন হয়নি। আর, নির্বাচনের ক্ষেত্রে কংগ্রেস উধাও হয়ে গেল জোটের যোগ-বিয়োগে।ফলে স্বাধীনতার পর এই প্রথম বদরপুর কংগ্রেস শূন্য হল।