BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

কালাইন বিজেপির সভায় অনুপস্থিত অমরচাঁন্দ, সুব্রতকে সংবর্ধনা গৌতমের

Bartalipi, বার্তালিপি, কালাইন বিজেপির সভায় অনুপস্থিত অমরচাঁন্দ, সুব্রতকে সংবর্ধনা গৌতমের

দুজনই ছিলেন দাবিদার। কিন্তু মনোনয়ন পান নি। তবু দলের অনুশাসন মেনে মনোনীত প্রার্থী গৌতম রায়ের সভায় উপস্থিত হলেন তারা। রাখলেন বক্তব্যও। কালাইন ব্লকের দু বারের বিজেপি মন্ডল সভাপতি বিপ্লব কান্তি পাল ও প্রাক্তন জেলাপরিষদ সদস্য সুব্রত চক্রবর্তী। এই দুজনও কাটিগড়ায় বিজেপি দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। সুব্রত তো পুরোপুরি শক্তি লাগিয়ে দিয়েছিলেন মনোনয়ন পাবার জন্য। কিন্তু পান নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আবেগে হোক বা দুঃখেও হোক, সংবাদ মাধ্যমে মুখও খুলেছেন সুব্রত। কিন্তু আজ মঙ্গলবার সব মান অভিমান ভুলে হাজির হলেন কালাইনের মঞ্চে। শুধু এলেন যে তা নয়, রীতিমত বিজেপি দলের নিয়ম কানুন সম্পর্কে গৌতমের সামনে সারগর্ভ বক্তব্যও দিলেন সুব্রত। মন্ডল সভাপতি নিত্যগোপাল দাসের পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত কর্মী পরিচয় সভায় সুব্রত বললেন, বিজেপি কর্মীদের কাছে প্রার্থী বা ব্যাক্তি বড় নয়। প্রথমে দেশ তার পর দল ও শেষে কর্মীরা ব্যাক্তির কথা চিন্তা করেন। এই নিয়মে চলেই বিজেপি আজ দেশের মসনদে বসেছে বলে মন্তব্য করেন সুব্রতবাবু। তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, এদিন সুব্রত নিজের বক্তব্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একবারের জন্যও সরাসরি গৌতম রায়ের নাম উল্লেখ করেন নি।  সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সুব্রত আগাগোড়া বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি সংগঠন ব্যাক্তি বিশেষকে প্রাধান্য দেয় না। অপর প্রার্থী প্রত্যাশী বিপ্লব কান্তি পালও নিজের বক্তব্যে দলকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। বলেন, দল যাকে প্রার্থীত্ব দিয়েছে তার জন্য নয় দলের প্রতিক চিহ্ন পদ্মফুলকে বিজয়ী করাই হলো বিজেপি কর্মীদের মূল লক্ষ্য। সাংগঠনিক দিক নিয়ে আলোচনা করেন ভূপেন্দ্র বৈষ্ণব, পঙ্কজ দেব, কালাচান্দ বৈষ্ণব, জহরজ্যোতি চক্রবর্তী প্রমুখ। এদিনের সভায় কয়েকজন বক্তা গৌতম রায় বিধায়ক হলে কাটিগড়ায় স্থায়ী ভাবে থাকবেন কি না এ নিয়ে মৃদু প্রশ্ন করেছিলেন। এরই জবাবে প্রার্থী গৌতম নিজের ভাষণের মধ্যে আচমকাই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করে বলেন ‘প্রাক্তন বিধায়ক কালীরঞ্জন দেবের কোনও ঘর কাটিগড়ায় আছে কিনা’। কর্মকর্তারা জবাবে না বললে গৌতম এ নিয়ে আর কথা বলেন নি। স্বাভাবিক ভাবে বুঝিয়ে দিলেন তিনবারের বিধায়ক হবার পরও কালিরঞ্জন যদি শিলচর থেকে কাটিগড়ার কাজকর্ম পরিচালনা করতে পারেন তবে তিনিই বা পারবেন না কেন। আজ গৌতমকে নিয়ে কালাইন যুব মোর্চার সদস্যরা দেড়শটি বাইক ও একাশিটি গাড়ি সযোগে কাটিগড়ার ছয় নম্বর জাতীয় সড়কে বিশাল রেলি করে কালাইনের মঞ্চে নিয়ে আসার বেশ কিছু সময়  পর আসেন অপর দাবিদার সুব্রত চক্রবর্তী। তবে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে মঞ্চে স্থান দেওয়া হয় একেবারে গৌতমের পাশের চেয়ারে। দলীয় কর্মীরা উত্তরীয় দিয়ে সুব্রতকে সংবর্দ্ধনা জানানোর পর গৌতম রায় নিজে উঠে ব্যাক্তিগত ভাবে সুব্রতর গলায় আরেকটি নতুন উত্তরীয় দিয়ে সন্মান জানান। এ সময় গৌতমকে সুব্রতর মাথায় হাতও রাখতে দেখা গেছে। গৌতম অবশ্য ব্যাক্তিগত ভাবে আরেক দাবিদার বিপ্লব কান্তি পালকেও উত্তরীয় পরিয়ে দিয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে এদিন মঞ্চে দেখা যায় নি বিদায়ী বিধায়ক অমরচাঁন্দ জৈনকে। এদিন কালাইনের মঞ্চে গৌতম কর্মীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে ‘দিন গুলি মোর সোনার খাচায় রইল না, সে যে আমার নানা রঙের দিনগুলি’ রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন। কিন্তু আজকের সভায় রবীন্দ্রনাথের বিরহ পর্যায়ের গান কেন গাইলেন এ নিয়ে উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে একটা প্রশ্ন চিহ্ন থেকেই গেল।