BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

আব্বাসকে মাঝখানে রেখে কংগ্রেস বনাম কংগ্রেস দ্বন্দ্বে সরগরম রাজনীতি

Bartalipi, বার্তালিপি, আব্বাসকে মাঝখানে রেখে কংগ্রেস বনাম কংগ্রেস দ্বন্দ্বে সরগরম রাজনীতি

রবিবারের বাম-কংগ্রেসের ব্রিগেড সমাবেশ থেকে গর্জন উঠেছিল 'আব্বাস ভাইজানের' নামে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে সেই আব্বাস সিদ্দিকির দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত ঘিরে আরও চওড়া হল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ফাটল। কংগ্রেস বনাম কংগ্রেস। কংগ্রেস সাংসদ আনন্দ শর্মা ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বাগযুদ্ধে মঙ্গলবার ‌সরগরম হয়ে উঠল জাতীয় রাজনীতি।‌ 


বাম-কংগ্রেসের ব্রিগেড সমাবেশে আব্বাসের উপস্থিতির পর টুইটারে 'মৌলবাদী শক্তির' সঙ্গে কংগ্রেসের হাত মেলানোর কড়া সমালোচনা করেন অনন্দ শর্মা। তিনি লেখেন, আইএসএফের মতো শক্তির সঙ্গে কংগ্রেসের সমঝোতা নেহরু-গান্ধীর ধর্মনিরপেক্ষতার ভাবনার পরিপন্থী। মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কংগ্রেসের অবস্থান অভিন্ন হওয়াই উচিত। এ ব্যাপারে বাছবিচার না করে আমাদের উচিত সব ধরনের সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করা।' আব্বাসের সঙ্গে একই মঞ্চে অধীরের উপস্থিতি 'বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক' বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আনন্দ শর্মা এমন কথাও বলেন যে এই বিষয়টি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটিতে আলোচনা হওয়া দরকার ছিল।


সোমবার প্রদেশ কংগ্রেস কার্যালয় বিধান ভবনে জোটের আসন রফা নিয়ে আলোচনার ফাঁকে আনন্দ শর্মার সমালোচনার জবাবে মুখ খোলেন অধীর। শুধু তাই নয়, একের পর এক টুইট করে কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী জি ২৩-এর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণে নেমে পড়েন তিনি। আর কয়েক মাস পরই রাজ্যসভার সাংসদ পদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আনন্দ শর্মার। সে কথা উল্লেখ করে অধীরের খোঁচা, 'হয়তো অন্য কোনও দল থেকে উনি রাজ্যসভার টিকিট পেতে পারেন। সেই কারণেই এমন কথা বলছেন।' তিনি টুইটারে লেখেন, 'বিশিষ্ট কংগ্রেসিদের বিশেষ একটি গোষ্ঠীর কাছে আমার আর্জি, দয়া করে সর্বদা ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের ঊর্ধ্বে উঠে এবং প্রধানমন্ত্রীর ভজনায় অযথা সময় নষ্ট না করে দলকে শক্তিশালী করুন। এটাই আপনাদের কর্তব্য।' 


 উল্লেখ্য, গতবছর দলীয় নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গুলাম নবি আজাদ ও আনন্দ শর্মা-সহ  কংগ্রেসের ২৩ জন বরিষ্ঠ নেতা খোলা চিঠি দিয়েছিলেন সোনিয়া গান্ধীকে। তার পর থেকেই দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিকবার সরব হয়েছেন তাঁরা। দিন দুয়েক আগে জম্মুতে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অনুষ্ঠান মঞ্চে ফের সক্রিয় হতে দেখা যায় কংগ্রেসের এই 'বিদ্রোহী' নেতাদের, জাতীয় রাজনীতিতে যাঁরা জি ২৩ নামে পরিচিতি লাভ করেছেন।‌ এরই মধ্যে নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে গুলাম নবি আজাদের এক মন্তব্য ঘিরে কংগ্রেসের একটা অংশ ক্ষুদ্ধ। সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এ দিন অধীরের মুখে। পাঁচ রাজ্যে ভোটের আগে কংগ্রেসের মধ্যে ফের মাথাচাড়া দেওয়ায় উদ্বেগের ছায়া দলে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বরিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গে দলীয় পর্যবেক্ষক জিতিন প্রসাদ। এ দিন তিনি টুইট করে বলেন, 'দল ও দলীয় কর্মীদের স্বার্থেই এই জোট। এখন সবার উচিত সব ভুলে নির্বাচনমুখী রাজ্যগুলিতে দলের সাফল্যের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা।' ব্রিগেড সমাবেশে হাজির ছিলেন জিতিন প্রসাদও।


অধীর এ দিন বলেন, 'দল কীভাবে চলবে তা বিশেষ কোনও ব্যক্তির চর্চার বিষয় নয়। এআইসিসি-র সঙ্গে কথা বলেই প্রদেশ কংগ্রেস পথ ঠিক করে দেয়। আমরা সেটাই করেছি।' তিনি বলেন, 'ব্রিগেডের মঞ্চে সীতারাম ইয়েচুরি, ডি রাজা, বিমান বসুরা সবাই ছিলেন। তাঁরা সবাই মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, এমন অদ্ভুত ধারণা কী করে হল, ভাবতে অবাক লাগছে।' ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকিকে নিয়ে কংগ্রেসের মধ্যে এই টানাপোড়েন নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তবে বামেদের মধ্যস্থতায় আব্বাসদের সঙ্গে কংগ্রেসের আসন রফা নিয়ে জট কাটছে বলেই দাবি সংযুক্ত মোর্চার। আইএসএফ-কে আসন ছাড়তে রাজি হয়েছে কংগ্রেস। আব্বাসদের মালদা ও মুর্শিদাবাদের দু'টি আসনের দাবি নিয়ে জোট সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।