BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

বরাকে ইস্যু নয় মোগল আক্রমণ

Bartalipi, বার্তালিপি, বরাকে ইস্যু নয় মোগল আক্রমণ

মোগল আক্রমণ থেকে গৌতম রায়ের বিজেপিতে যোগদান।সর্বানন্দ সোনোয়ালের সাফল্য থেকে ডি ভোটার ইস্যুতে বিজেপির বাঙালি বিধায়ক-সাংসদের ভূমিকা। সব কিছু নিয়েই বার্তালিপির সঙ্গে বার্তালাপে অকপট শিলচরের সাংসদ ডা: রাজদীপ রায়।


বাৰ্তালিপি : ভোট তো এসে গেল৷ গত পাঁচ বছরে আপনাদের দলের সরকারের কোন কাজগুলোকে সামনে রেখে এবার মানুষের কাছে ভোট চাইতে যাবেন আপনি?

রাজদীপ : প্ৰথমত, এই সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য মুখ্যমন্ত্ৰী স্বয়ং৷ সৰ্বানন্দ সোনোয়ালের ‘বরাক ব্ৰহ্মপুত্ৰ পাহাড় ভৈয়াম’ শ্লোগান আসলেই সরকারের দৰ্শন৷ দেখুন ব্ৰহ্মপুত্ৰ অনেক বেশি শক্তিশালী, অনেক বেশি সংখ্যক জেলাকে ছুঁয়ে গেছে৷ কিন্তু তারপরও লক্ষ কন, এই শ্লোগানে বরাককে ব্ৰহ্মপুত্ৰের আগে রেখেছেন সোনোয়াল৷ কেন রেখেছেন? রেখেছেন এই কারণেই যে একটি পরিবারে বড় ভাই হিসেবে ছোট ভাইয়ের প্ৰতি যে কতৰ্ব্য, সেটাতেই বিশ্বাস করে এই সরকার৷ সোনোয়াল রাজনীতি শু করেছেন আসুর নেতা হিসাবে৷ তাঁর ভাবমূৰ্তিতে আসু নেতার ছাপটা ছিল৷ কিন্তু বিজেপির মুখ্যমন্ত্ৰীর দায়িত্ব নেওয়ার পর সোনোয়াল আসু সভাপতির ওই তকমার ছায়াকে সযত্নে কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন৷ তিনি এখন জননেতা৷   দুই নম্বর যে সাফল্য নিয়ে আমি মানুষকে বলব, তা হল, উন্নয়ন৷ মুখ্যমন্ত্ৰী গত পাঁচ বছরে মানুষের মনে এই বাৰ্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন যে তাঁর সরকার উন্নয়নে বিশ্বাস করে৷ তিন নম্বর হল, এই সরকারের দুৰ্নীতির বিদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি৷ এপিএসপি থেকে শু করে এসআই পরীক্ষার প্ৰ ফাঁস, প্ৰতিটি ক্ষেত্ৰে সরকার দোষীদের গ্ৰেফতার করেছে৷ ফলে মানুষের মনে এই বিশ্বাস জন্মেছে যে এই সরকার দুৰ্নীতিবাজদের ছেড়ে দেয় না৷ এ ক্ষেত্ৰে সরকার কোনও  প্ৰতিহিংসার রাজনীতি করেনি৷ চার নম্বর, ঘুষ না দিয়ে চাকরি৷ এই যে শিক্ষা বিভাগে সত্তর হাজার চাকরি হল, কেউ বলতে পারবে যে সত্তর পয়সাও ঘুষ দিতে হয়েছে? আমার এখনও মনে আছে কংগ্ৰেস আমলে বাড়ির ছেলে বা মেয়ে গ্ৰ্যাজুয়েট হলে বাবা-মায়েরা জমি বিক্রি বা বন্ধক দিয়ে টাকা জোগাড় করতেন, কেন, না চাকরির জন্য ঘুষ দিতে হবে৷ কংগ্ৰেস ঘরানা থেকে মানুষকে বের করে আনার ক্ষেত্ৰে সৰ্বানন্দ সোনোয়ালের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব৷ অসমে এখন মেধার ভিত্তিতে চাকরি হয়৷ মেরোটোক্রেসি, সরকার এটা মানুষের মনে ঢুকিয়ে দিতে সফল হয়েছে৷  আর হ্যাঁ, আরও একটা কথা, সরকারের কয়েকজন মন্ত্ৰীর কথা আমাকে বলতেই হবে৷ বিশেষ করে হিমন্তবিশ্ব শৰ্মার মতো একজন মেধাবী মানুষ যদি সরকারের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হন, তাহলে মুখ্যমন্ত্ৰীর পক্ষেও অনেক কাজ সহজ হয়ে যায়৷ তাঁরা সত্যিই রাম-লক্ষণ জুটি৷

বাৰ্তালিপি : কিন্তু শোনা তো যায়, মুখ্যমন্ত্ৰীর চেয়ার নিয়ে দু’জনের মধ্যে রেষারেষি চলছে৷

রাজদীপ : শুনুন, কোনও মুখ্যমন্ত্ৰী যদি মনে করেন যে অমুক আমার জন্য থ্ৰেট, তাহলে কি সেই মানুষটাকে নয়-নয়টি মন্ত্ৰকের দায়িত্ব দেবেন? আর কোন কোন মন্ত্ৰক? অৰ্থ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পূৰ্ত, সব প্ৰধান মন্ত্ৰক৷ দিয়েছেন তো মুখ্যমন্ত্ৰী? মোদ্দা কথাটা হল, সোনোয়াল হিমন্তবিশ্বকে কাজ করার ফ্ৰি হ্যান্ড দিয়েছেন বলেই তিনি এত কাজ করতে পেরেছেন৷

বাৰ্তালিপি : আপনি মেরিটোক্রেসির কথা বলেছেন৷ কিন্তু বরাকে এমন অভিযোগ শোনা যায় যে এখানকার ছেলেমেয়েদের চাকরি দেওয়া হয় না৷

রাজদীপ : শোনা যায়! মুশলিকটা ওই শোনা যায় নিয়ে৷ বন বিভাগে কিছুদিন আগে চাকরি হল, বরাক থেকে নয়জন হিন্দু বাঙালি ছেলে চাকরি পেয়েছে৷ এপিএসসি-তে লালার মতো একটি পিছিয়ে-পড়া এলাকার একটি মুসলিম সংরক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে ফাৰ্স্ট হয়েছে৷ উধারবন্দের চা বাগান সম্প্ৰদায়ের একটি ছেলে তো মুখ্যমন্ত্ৰীর জেলাতেই ডেপুটি কমিশনার৷ তো বৈষম্যটা হল কই? হ্যাঁ, এমন হতে পারে কোনও একটি চাকরিতে বরাক থেকে আবেদনই কম করা হয়েছিল৷ কিন্তু সোনোয়ালের বিদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ কোনওভাবেই আর আনা যায় না৷

বাৰ্তালিপি : মুখ্যমন্ত্ৰীর সাফল্যের কথা আচ্ছা আমরা মেনেই নিলাম, কিন্তু অভিযোগ ওঠে যে, বরাকের বিধায়কদের যে পারফরম্যান্স দেখানোর কথা ছিল, তাঁরা তা দেখাতে পারেননি৷ তো, বিধায়কদের পারফরম্যান্স নিয়ে আপনার কী ধারণা?

রাজদীপ : দেখুন এ ব্যাপারে আমি কোনও রাজনৈতিক উত্তর দেব না৷ আমি শুধু এটাই বলব, তাঁদের পারফরম্যান্স আমি আমার ব্যক্তিগত একাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই করব৷  আমি ডাক্তার হতে চেয়েছি, লন্ডন থেকে বড় ডিগ্ৰিও নিয়েছি৷ সাংসদ হিসাবেও আমার একটা একটা স্ট্যান্ডাৰ্ড রয়েছে৷ এখন সবার কাছে তো আমি সেই স্ট্যান্ডাৰ্ড আশা করতে পারি না৷ ফলে বিধায়ক হিসাবে কে পাশ করবেন কে ফেল করবেন, সেটা পাঁচ বছর পর ঠিক করবেন মানুষ৷ আমার মাপকাঠিতে আমি তাঁদের মাপব না, এটুকুই বলব৷
বাৰ্তালিপি : এটা তো খুবই পলিটিক্যালি কারেকট থাকার মতো সাবধানী স্টেটমেন্ট হয়ে গেল৷
রাজদীপ : গেল তো? কী আর করা৷ তবে হ্যাঁ, এ কথাটা আমি বলব, সব দলের বিধায়কদের নিয়েই বলব, যে, হ্যাঁ, আমি বিধানসভায় থাকলে হয়তো আরও একটু বেশি সোচ্চার হতাম৷ বরাকের সমস্যাগুলো আরও বেশি করে তুলতাম৷ এর কারণ কী জানেন, আমি আসলে বিমলাংশু রায়কে বিধানসভায় বিতৰ্কে অংশ নিতে দেখেছি৷ প্ৰথম দিনই তিনি মুখ্যমন্ত্ৰী প্ৰফুল্ল মহন্তকে মুখের ওপর বলে দিয়েছিলেন আগের মতো বৈষম্য যদি সরকারের নীতি হয় তাহলে বরাক কিন্তু পৃথক হয়ে যেতে বাধ্য হবে৷ আমি বিধানসভায় নেই, কিন্তু সোনোয়াল বা হিমন্তবিশ্বকে প্ৰয়োজন পড়লেই আমি বরাকের বিষয় নিয়ে বলি৷ বিধানসভায় থাকলে সেখানে দাঁড়িয়েও বলতাম৷ শাসক দলের বিধায়ক হলেও বলতাম৷
বাৰ্তালিপি : সরকারের যে কয়টি সাফল্যের কথা আপনি বললেন, সেগুলো তো আরও একবার ভোট চাইবার জন্য যথেষ্ট৷ কিন্তু তারপরও কেন আপনারা অন্য দল ভাঙিয়ে নেতাদের নিয়ে আসছেন? কোথাও কোনও ভয় কাজ করছে কি আপনাদের?
রাজদীপ : ভয়-টয় নয়৷ আসলে অনেক সময় জাতিগত সমীকরণ ঠিক রাখার জন্য অন্য দল থেকে কাউকে কাউকে আনতে হয়৷ আমরা যে হেতু রাজনীতি করি ফলে আমরা সব ধ্বনের ভোটারের কাছে পৌছুতে চাই৷ আসলে কী হয়, অনেক সময় কোনও একটি গোষ্ঠী বা উপ-গোষ্ঠীর মধ্যে এরকম একটা ধারণা জন্মে যায় যে বিজেপিতে আমাদের সমাজের প্ৰতিনিধি নেই, ফলে আমাদের কথা কীভাবে পৌছুবে? তো, ওইসব সমীকরণ থেকেই অনেক সময় অন্য দল থেকে নেতাদের আনা হয়৷ তবে হ্যাঁ, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বিজেপি এখন যে অবস্থানে আছে তাতে অন্য দল থেকে নেতাদের না আনলেও চলতো৷ ধ্বা যাক অজন্তা নেওগ বা গৌতম রায়ের কথা৷ দুজনেই কংগ্ৰেস আমলে দীৰ্ঘদিন মন্ত্ৰী ছিলেন৷ এখন তাঁরা যদি বিজেপিতে আসেন, তাহলে আমাদের ক্ষতি কী? আমাদের যদি কোনও লাভ না-ও হয়, তাঁরা তো বিজেপির কোনও ক্ষতি করতে পারবেন না৷
বাৰ্তালিপি : আচ্ছা এই যে দুজনের নাম আপনি নিলেন, এর মধ্যে গৌতম রায়ের বিদ্ধে একসময় আপনারাই দুৰ্নীতিবাজ অভিযোগ এনেছিলেন৷ রইল অজন্তা নেওগ, যিনি এই কিছুদিন আগেও সিএএ-র তুমুল বিরোধী ছিলেন৷ তো, এঁরা দলে এলে দলের পুরনো কৰ্মী বা নেতাদের মনোবল কোথায় নেমে আসতে পারে তা একবার বিজেপি নেতৃত্ব ভাববেন না?
রাজদীপ : হ্যাঁ, কিছু কিছু ক্ষেত্ৰে ক্ষোভ দেখা দেয়৷ মানছি৷ কিন্তু এমনও হয়, অন্য দল থেকে অনেক নেতা কৰ্মী আসেন যাঁদের আমাদের দলে মেনে নিতে কারোর কোনও আপত্তি হয় না৷ আসলে ওই নেতারা আগের দলে বেমানান ছিলেন৷ রাইট ম্যান ইন অ্যা রং পাৰ্টি৷ যেমন একসময় কংগ্ৰেসিরা অটলবিহারী বাজপেয়ীর কথা বলতেন৷ আসলে বাজপেয়ী নেহর অৰ্থনীতির সমৰ্থক ছিলেন৷ ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গেও তাঁর ভালো সম্পৰ্ক ছিল৷ আসলে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে আরএসএস-এর খুব কাছের সম্পৰ্ক ছিল৷ ইন্দিরা গান্ধীর ওই সময় হিন্দুত্ববাদী অবস্থান ছিল৷ যাক সে অন্য কথা৷ আমরা অজন্তা নেওগ ও গৌতম রায়ের কথায় ফিরে আসি৷ সিএএ নিয়ে যাঁরা বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁদের অনেকেরই মোহভঙ্গ হয়েছে, তাঁরা বিজেপিতে আসছেন৷  আর গৌতম রায় দলের কারোর কোনও আপত্তি রয়েছে বলে মনে হয় না৷ গৌতম রায় আসার ফলে একটা অংশের ভোট আমরা পাব৷ তাছাড়া একটা কথা তো মানতে হবে, তিনি ত্ৰিশ বছর ধরে বিধায়ক, কুড়ি বছরের মন্ত্ৰী, অনেক অনেক মানুষকে সাহায্য করেছেন৷ বিশেষ করে চিকিৎসার ক্ষেত্ৰে৷ মানুষকে সাহায্যের ক্ষেত্ৰে দল-মত দেখেননি৷ দেখুন আমি কিন্তু গৌতম রায়ের পক্ষে ওকালতি করছি না, কিন্তু যেটা বাস্তব সেটাই তুলে ধ্বছি৷ তিনি দুই কেন্দ্ৰে কাজ করছেন, কোথায় টিকিট পান, বা আদৌ পান কি না, সেটা সময়ে দেখা যাবে৷ তবে, তাঁকে নিয়ে দলের মধ্যে ক্ষোভ থাকলে জানতে পারতাম৷
বাৰ্তালিপি : আপনি জাতিগত সমীকরণের কথা বলেছেন৷ রাজদীপ গোয়ালাকে দলে নেওয়ার কারণ কী? বাগানে তো বিজেপির প্ৰভাব বাড়ছে৷ এর মানে কি এই নয় যে রাজদীপ যেহেতু দীনেশপ্ৰসাদ গোয়ালার ছেলে, ফলে তাঁর বাগান ভোটে একটা প্ৰভাব রয়েছে৷ সেই ঘুরেফিরে পরিবারতন্ত্ৰ৷ এবং পরিবারতন্ত্ৰের অভিযোগ আপনার এবং সুস্মিতা দেব, দুজনের ক্ষেত্ৰেই ওঠে৷
রাজদীপ : আমার ক্ষেত্ৰে উঠলে ভুল ওঠে৷ সুস্মিতা দেবের সঙ্গে আমার এ ক্ষেত্ৰে পাথৰ্ক্য রয়েছে৷ সুস্মিতা তাঁর বাবা সক্রিয় রাজনীতিতে থাকা অবস্থায় রাজনীতিতে এসেছেন৷ আমি রাজনীতিতে এসেছি আমার বাবার মৃত্যুর পরে৷ রাজদীপ গোয়ালার ক্ষেত্ৰেও ছিক একই ছবি৷ এখন বাবার পরিচয় তো আমি বা রাজদীপ গোয়ালা মুছে ফেলতে পারব না৷ অনেক মানুষ এখনও আমাকে বিমলাংশু রায়ের ছেলে বলেই ডাকেন৷
বাৰ্তালিপি : সব মানলাম৷ কিন্তু তারপরও, বাগানে প্ৰভাব দিনদিন বাড়ার পরও আপনারা এমন একজনকে দলে নিতে বাধ্য হলেন যাঁর পরিবারের বাগান ভোটের ওপর প্ৰভাব রয়েছে৷ মেরিটোক্রেসি তাহলে কই গেল?
রাজদীপ: কে বলল রাজদীপ গোয়ালার মেরিট নেই৷ রাজদীপ অত্যন্ত মেধাবী৷ প্ৰশাসন বা রাজনীতি সম্পৰ্কে স্পষ্ট ধারণা আছে৷ ভীষণ বাস্তববাদী মানুষ৷ কোনও ধ্বনের ঔদ্ধত্য নেই৷ কী হয়, বাবা মন্ত্ৰী-টন্ত্ৰি থাকলে ছেলে-মেয়েরা অনেক সময় উদ্ধত হয়ে ওঠে৷ কিন্তু রাজদীপ খুব ভদ্ৰ৷ শিক্ষিত৷ আমার ব্যক্তিগত ধারণা, রাজদীপ দলে আসায় আমাদের লাভ হয়েছে৷ তবে কোনও পক্ষেরই বেশি আশা রাখা ঠিক নয়৷ রাজদীপেরও বিজেপির কাছে খুব বেশি প্ৰত্যাশা থাকা ঠিক নয়, বিজেপিরও তাঁর কাছে খুব বেশি প্ৰত্যাশা ঠিক৷ আফটার অল তিনি তো দলে নতুন৷
বাৰ্তালিপি: আপনাদের আরও একটি দাবি, সরকারের প্ৰচুর জনকল্যাণমূলক প্ৰকপ্লের অংশিদার হয়েছেন সব সম্প্ৰদায়ের মানুষ৷ কিন্তু তারপর ভোটের মুখে আপনারা মোগল, মিঞা সংস্কৃতি এসব শ্লোগান তুলছেন৷ পুরোপুরি সাম্প্ৰদায়িক মেকরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে৷ আমার প্ৰ, এতো উন্নয়নের পরও কি কোথাও বিজেপির ভেতরে আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়ে গেছে?
রাজদীপ : যেটা বলা হচ্ছে সেটি কিন্তু আংশিকভাবে ঠিক৷ আসলে কিছু ভয়ের বিষয় আমাদের মধ্যে উঠে আসছে৷ যেমন কেরালায় একটি জেলায় মুসলিমের সংখ্যা ৩৮ শতাংশ৷ সেখানে মুসলিমরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে এই জেলায় হিন্দুদের পুজো করা য়াবে না৷ লেবানন একসময় খ্ৰিস্টান দেশ ছিল, এখন মুসলিম রাষ্ট্ৰ৷ সারা পৃথিবীতেই দেখা গেছে মুসলিমরা সংখ্যগরিষ্ঠ হয়ে গেলেই তারা সেখানে নিজেদের আইন নিজেদের সংস্কৃতি চাপিয়ে দিতে চায়৷ আসলে আমাদের দেশে প্ৰথম থেকেই এসবে প্ৰশ্ৰয় দেওয়া হয়েছিল৷ পাকিস্তানের মতো দেশে তিন তালাক নিষিদ্ধ৷ কিন্তু আমাদের দেশে নিষিদ্ধ করতে গেলে বলা হচ্ছে এটা শরিয়ত বিরোধী৷ আরে ভাই, শরিয়ত যদি এতোই মানতে হয় তাহলে কেউ চুরি করলে তার হাত কেটে ফেলে দেওয়া উচিত৷ অসমে হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা যে কথাটা বলছেন, সেটা কেন বলছেন? কখন বলছেন? বলছেন তখনই যখন মিঞা সংস্কৃতি মিঞা কবিতা এসব নিয়ে আওয়াজ তোলা হচ্ছে৷ এটা শংকরদেবের ভূমি, সেখানে তাঁরা যেভাবে নিজেদের সংস্কৃতি রক্ষা করতে চাইবেন, সেভাবেই তো করবেন৷ এতে ভুল কী আছে৷ ফলে আমার মনে হয় না, তাঁদের চিন্তাধারায় কোনও ভুল আছে৷ আরও একটা বিষয়ও আছে৷ ইতিহাস বলছে, মোগলরা অসমে আক্রমণ করেছিল৷ ব্ৰহ্মপুত্ৰ পারে মোঘলরা বাধা পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিল, না হলে তো আমাদের এদিকেও এসে যেত৷

বাৰ্তালিপি : কথাটা ঠিক এখানেই৷ আপনারা মোগলের কথা বলছেন ঠিকই, আবার মুসলিমদের মধ্যে আরেকটা ভাগ করে নিচ্ছেন৷ অসমিয়া মুসলিম, মানে গড়িয়া-মরিয়া৷ অন্যদিকে সিলেটি ও ময়মনসিঙের মুসলিম৷ মানে বাঙালি মুসলিম৷ এবং মোগল বলতে আপনারা বাঙালি মুসলিমদেরই ধরে নিচ্ছেন৷ আবার আপনি বলছেন, অসমিয়ারা খে দাঁড়িয়েছিল বলে মোগলরা এদিকে আসতে পারেনি৷ মানে মোগলের বংশধ্ব বরাকে নেই৷ আমার প্ৰ হল, বরাকে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে মাঝেমধ্যে খুচখাচ রেষারেষি হয়, কিন্তু মোটামুটি একটা সম্প্ৰীতির পরিবেশ আছে৷ এখন আপনাদের এই মোগল ফৰ্মুলা বরাকের হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে সাম্প্ৰদায়িক মেকরণ কি আরও বাড়িয়ে দেবে না?

রাজদীপ : দেখুন আমি নিজে কোনওদিন মোগল শব্দটি উচ্চারণ করিনি৷ আরেকটা ব্যাপার কী, এই বিষয়টি অনেকটাই স্থান-কালের ওপর নিৰ্ভর করে৷ হ্যাঁ, বরাকে মোগল কোনও ইস্যু নয়৷ কিন্তু ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকায় মোগলরা আক্রমণ করেছিল৷ মোগল মানে বাইরের মুসলিম৷ এখন সে আরবের না সিলেট-ময়মনসিঙের, সেটা তাঁদের কাছে অৰ্থহীন৷ মোগল মানেই বহিরাগত মুসলিম৷ অ্যাট লি তাঁদের কাছে৷

বাৰ্তালিপি : এই ‘তাঁরা’টা কারা?
রাজদীপ : তাঁরা মানে অসমিয়ারা৷

বাৰ্তালিপি : ও অসমিয়ারা৷ যাক গে, একটু শিলচরে আসি৷ একসময় আপনার বাবা ছিলেন বিধায়ক, সংসদে কবীন্দ্ৰ পুরকায়স্থ, পুরসভাও বিজেপির৷ এবারও তাই৷ কিন্তু এরপরের বার বিজেপি হেরে যায়৷ এর একটা বড় কারণ হচ্ছে শহরে পুর পরিষেবা বলতে কিছু ছিল না৷ এখনও তো একই ছবি৷

রাজদীপ : একটা কথা আমি অকপটে স্বীকার করে নিতে চাই যে, আমাদের মধ্যে যে সময় থাকার কথা ছিল, সেটা হয়ে ওঠেনি৷ এর জন্য কে দায়ী, কার ভুল, সেটা অন্য প্ৰ৷ কিন্তু ঘটনা হচ্ছে আমাদের মধ্যে সময় থাকা উচিত ছিল৷ এরপরও আমাকে বলতে হচ্ছে, মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাবও অনেক দায়ী৷

বাৰ্তালিপি :  আর একটা বিষয় হল ডি ভোটার৷ আপনি কি জানেন, অসমে এখন ডিটেনশন ক্যাম্পে যতজন বন্দি আছেন তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই হিন্দু বাঙালি৷ শিলচর জেলে যে চারজন বন্দি আছেন, চারজনের চারজনই হিন্দু৷ আপনি কী বলবেন?

রাজদীপ : কিন্তু অনেক ডি ভোটারই তো জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন৷

বাৰ্তালিপি : সে তো আদালতের নিৰ্দেশে৷ আদালত বলেছে, দু’বছরের বেশি কেউ ডিটেনশন ক্যাম্প থাকলে তাঁকে শৰ্তসাপেক্ষে জামিনে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে৷ এখনও যাঁরা ক্যাম্পে রয়েছেন, তাঁরা, বোঝাই যাচ্ছে, দু’বছর আগে তাঁদের সেখানে ঢোকানো হয়েছে৷ আমাদের প্ৰ হল, কেন্দ্ৰ সরকার তো সেই ২০১৫ সালে নোটিফিকেশন এনেছিল, তাহলে এরপরও কেন হিন্দু বাঙালিদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হল?

রাজদীপ : আদালতের এমন নিৰ্দেশ আছে কি? আমার ঠিক জানা নেই৷ খবর নিতে হবে৷

বাৰ্তালিপি : কেন্দ্ৰ ও রাজ্যে বিজেপির সরকার৷ এরপরও বাঙালি হিন্দুদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে৷ আপনার কি মনে হয় না, আপনারা, বিজেপির বাঙালি হিন্দু সাংসদ বা বিধায়ক, এতে কোথাও এটা প্ৰমাণ হয় না যে, এ ক্ষেত্ৰে দায়িত্ব পালনে আপনারা সফল হননি৷

রাজদীপ : হ্যাঁ, আমরা দায় এড়াতে পারি না৷ আমি স্বীকার করছি৷