BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

ভিক্ষা নয়, অধিকার চাই! জনজোয়ারের ব্রিগেডে আব্বাসের খোঁচা কংগ্রেসকে

Bartalipi, বার্তালিপি, ভিক্ষা নয়, অধিকার চাই! জনজোয়ারের ব্রিগেডে আব্বাসের খোঁচা কংগ্রেসকে

নবান্ন দখলের জন্য ঘাসফুল ও পদ্মের দ্বৈরথের মধ্যেই ‌বাম-কংগ্রেসের ডাকে রবিবারের ব্রিগেড সমাবেশে উপচে পড়ল ভিড়। ভিড় না বলে জনসমুদ্র বলাই শ্রেয়। শনিবার রাত থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ভিড় জমাতে শুরু করেন বাম সমর্থকরা। এ দিন বেলা গড়াতেই তা ফুলেফেঁপে উত্তাল জনসমুদ্র, যা দেখে বোঝার উপায় ছিল না কংগ্রেস ও বামেরা এবার বাংলার মসনদের দৌড়ে পর্যবেক্ষকদের চোখে 'ব্যাক বেঞ্চার'। এই মঞ্চ থেকে মোদি ও মমতা সরকারকে নিশানা করে নেন সংযুক্ত মোর্চার নেতৃবৃন্দ। তবে জনজোয়ারের এই ব্রিগেডেও ছন্দপতন এড়ানো যায়নি। কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের জট নিয়ে ক্ষোভের স্পষ্ট আঁচ মিলল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) নেতা আব্বাস সিদ্দিকির গলায়।


আগের রাতেও বাম ও কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে এক প্রস্থ বৈঠকে বসেছিলেন আব্বাসরা। সিপিএম আব্বাসকে ৩০টি আসন ছাড়তে রাজি হলেও বেঁকে বসেছে কংগ্রেস। সেই মতানৈক্যের ছায়া পড়ল এ দিনের ব্রিগেডে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী তখন সবেমাত্র তাঁর বক্তৃতা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, 'আমার জীবনে এত বড় সভায় বক্তব্য রাখার সুযোগ এই প্রথম।' বলেন, 'আসন্ন ভোটের লড়াই শুধু টিএমসি ও বিজেপির মধ্যে বলে বোঝানোর চেষ্টা চলছে। এই সমাবেশ প্রমাণ করে দিল, সেটা ঠিক নয়।'


অধীরের বক্তব্যের মধ্যেই মঞ্চে উঠে আসেন অব্বাস সিদ্দিকি। তাঁকে দেখে উল্লসিত হয়ে ওঠেন আইএসএফ কর্মীরা। 'ভাইজান, আব্বাস' গর্জন ওঠে ভিড়ের মধ্যে থেকে। বক্তৃতা থামিয়ে দিতে হয় অধীরকে। কিছুটা বিরক্ত হয়ে গলার মাস্ক মুখে তুলে ডায়াস থেকে সরে যেতে উদ্যত হন তিনি। ততক্ষণে আব্বাসকে মঞ্চে স্বাগত জানাতে এগিয়ে গেছেন বিমান বসু, মহম্মদ সেলিম, সূর্যকান্ত মিশ্ররা। পরে তাঁরাই অধীরকে অনুরোধ করেন বক্তৃতা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। তাঁদের অনুরোধ মানলেও অধীরকে মঞ্চে আব্বাসের কাছাকাছি দেখা যায়নি। নতুন করে ভাষণ শুরু করে অধীর বলেন, 'মোদি-মমতায় কোনও ফারাক নেই। তাঁরা উভয়েই বিরোধীশূন্য সরকার চালাতে চান।' বলেন, 'মানুষের রুটি-রুজি বিপন্ন, আর দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানো হচ্ছে। সাবধান!' 


আব্বাস বলতে ওঠেন অধীরের পরেই। বলেন, 'বামেরা বন্ধু। যেখানে যেখানে বামফ্রন্ট শরিকরা প্রার্থী দেবে সেখানেই রক্ত দিয়ে তাঁদের সমর্থনে এগিয়ে যাবে আইএসএফ। এই রাজ্য থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার ও বিজেপিকে উৎখাত করব।' তিনি বলেন, 'মমতার দল বিজেপির বি টিম।' তাঁর বক্তব্য, 'বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা এক সপ্তাহ আগে হলে এই ব্রিগেডেই দ্বিগুণ লোক জড়ো করতাম।' এরপরই বলেন, 'ভাগীদারি করতে এসেছি, কারও তোষণ করতে নয়। পিছিয়ে পড়া সংখ্যালঘু, দলিতদের জন্য লড়াই করতে নেমেছি।' সমর্থনের প্রশ্নে কংগ্রেসের নাম কেন বললেন না, আব্বাস নিজেই তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এ কথা বলেন। বলেন, 'বন্ধুত্ব করতে চাইলে আমাদের দরজা খোলা।' বস্তুত, কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর দলের দড়ি টানাটানি মালদা ও মুর্শিদাবাদের কিছু আসন নিয়ে। তাঁর আইএসএফ-কে ৩০ আসন ছাড়ার জন্য মঞ্চে উপবিষ্ট বিমান বসুকে ধন্যবাদ জানান আব্বাস। বলেন, 'আমরা গর্বিত ভারতবাসী। ভিক্ষা নয়, অধিকার চাই।'


 বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, 'অভূতপূর্ব এই সমাবেশ।এমন ব্রিগেড আগে কখনও হয়নি।' দাবি তাঁর। বিমানবাবু বলেন, 'এ দিনের পর থেকে একদিকে তৃণমূল-বিজেপি, অন্যদিকে আমরা সবাই।' মঞ্চে ছিলেন সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআই নেতা ডি রাজা, আইএসএফ নেতা আব্বাস সিদ্দিকি, ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল থেকে শুরু করে অভিনেতা বাদশা মৈত্র, ঐশী ঘোষের মতো তরুণ প্রজন্মের নেতৃবৃন্দ। ছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।


সীতারাম ইয়েচুরি তাঁর বক্তব্যে, ভোটের আগে সরকারের 'সংখ্যালঘু তোষণের' কথা তুলে ধরেন। কৃষক আন্দোলনের ওপর দমননীতির কথা, মূল্যবৃদ্ধির ইস্যু উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেন মোদি সরকারের। তিনি বলেন, 'কেন্দ্র ও রাজ্যে চলছে লুটপাট, জাতপাতের সরকার। হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে বিভাজন টানা হচ্ছে।' ডি রাজা বলেন, 'দেশের সংবিধানের সর্বনাশ করছেন মোদি-শাহ। বাংলার মঙ্গলের জন্য বিজেপি ও টিএমসি দুই দলকেই ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।' ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন বাঘেল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মোদিকে নিশানা করে নেন। বলেন, 'কিছুদিন আগে এখানে একজন দাড়ি নিয়ে এসে পরাক্রম দিবস পালন করে গেছেন। মোদিজিকে আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আপনি ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখুন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু যখন ইংরেজের বিরুদ্ধে লড়ছেন তখন আপনার পূর্বসূরি সাভারকর, শ্যামাপ্রসাদ ব্রিটিশ সেনায় লোক নিয়োগে ব্যস্ত। আপনি কখনোই নেতাজির উত্তরাধিকারী হতে পারেন না।'


মহম্মদ সেলিম বলেন, 'কেউ কেউ বলেছিলেন, খেলা হবে। আর মোদি পুরো (মোতেরা) স্টেডিয়ামটাই দখল করে নিলেন।' সেলিম বলেন, 'ব্রিগেড দেখে বোঝা যাচ্ছে, বসন্ত এসে গেছে। পলাশ-সিমুলের রাঙা রঙের সমাবেশ।' তিক্ষ্ণ কটাক্ষ ছিল সেলিমের বক্তব্যে। বলেন, 'যে বলেছিল লাল ঝাণ্ডা থাকবে না, তারা আজ তৃণমূলের ঝাণ্ডা নিয়ে অমিত শাহর জুতো পালিশ করছে।' ব্রিগেডের লড়াই বুথে নিয়ে যাবার ডাক দেন সেলিম। বলেন, 'বুথ থেকে ভূত তাড়াতে হবে।'

সবার শেষে বক্তব্য রাখেন বাম নেত্রী দেবলীনা হেমব্রম। গত ব্রিগেডে যাঁর আগুনঝরা বক্তব্য মুখে মুখে ফিরত বাম কর্মীদের।‌