BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

বদরপুরে খতমে বোখারির ইতিকথা

Bartalipi, বার্তালিপি, বদরপুরে খতমে বোখারির ইতিকথা

উপমহাদেশের যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা মশাহিদ সাহেব বায়মপুরি (রহঃ) ১৯৪৭ সালে বদরপুর টাইটাল মাদ্রাসার 'দরছে হাদিস' বিভাগের দায়িত্ব হযরত শ্বায়খ আব্দুল জলিল চৌধুরীর কাছে সমঝে দেন। যোগ্য উত্তরসূরির হাতে দায়িত্ব সঁপে দিয়ে তিনি বায়মপুর চলে যান। তখন থেকে হাদিস শাস্ত্র অধ্যাপনার দায়িত্ব সুন্দরভাবে চালিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন মৌলানা আব্দুল জলিল। জীবিতকালেই তিনি নিজে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে গিয়েছিলেন। মহানবী হজরত মহম্মদের বাণী ও নির্দেশনা নিয়েই বিশাল হাদিস শাস্ত্র। আর, এই কোর্স সম্পূর্ণ করে ছাত্রদের নিয়ে আখেরি মোনাজাতে মিলিত হতেন, তখন পড়ুয়ারা‌ও অত্যন্ত আবেগিক হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তেন। 



বুখারির পাঠ শেষে যখন পরম করুণাময়ের সামনে দুহাত তুলে মোনাজাত করতেন, তখন ক্রন্দনের রোল শুনে আশপাশের অনেকেই এই প্রার্থনায় শামিল হতেন। অনেকেই খবর নিতেন, বোখারি শরিফ পাঠ কখন খতম (সম্পূর্ণ) হবে। এদিন অনেকে শিরনির ব্যবস্থাও করতেন। এই 'খতম' শেষে জল পড়া সংগ্রহ করতে অনেকে আসতেন। বদরপুরের কিছু ধর্মপ্রাণ মুসলমান ধীরে ধীরে এই খতমে বোখারির দিন বড় আকারের অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা নেন।ম‌ওলানা আব্দুল জলিল চৌধুরী এতে সম্মতি দেন। এরপর প্রতিবছর কমিটি গঠন করে খতমে বোখারির দিন ইসলামি জলসা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্বীন দরদী মুসলমানরা প্রতিবছর এই দিনটিতে বদরপুরে উপস্থিত থাকার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন।


প্রথম প্রথম বদরপুরের নিকটবর্তী গ্রামগুলি সহ আশেপাশের কাটিগড়া, পাঁচগ্রাম, ভাঙ্গা থেকে মানুষজন টাকা-পয়সা, ডিম, মুরগি, চাউল, বাঁশ ইত্যাদি দিয়ে সহায়তা করতেন। এভাবে ধর্মীয় আয়োজনে অংশগ্রহণ করে সবাই স‌ওয়াবের (পুণ্য) প্রত্যাশা করতেন। অনেকেই এই আয়োজনকে নিয়ে উপহাস করতে থাকেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, অসমের সমস্ত মাদ্রাসায় খতমে বোখারির জলসা আয়োজিত হচ্ছে। পুণ্য অর্জনের আশায় সবাই বোখারির প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করেন।


বদরপুরে খতমে বোখারির দিন উপস্থিতির সংখ্যা গণনা করা সম্ভব হয় না। কারণ, মজলিশে যত লোক বসে থাকেন, এর চেয়েও বেশি সংখ্যায় লোক থাকেন রাস্তায়। কিছু সময় বসে আবার অনেকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠানের বক্তব্য শোনেন, প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করেন। আল জামিয়াতুল আরবিয়াতুল ইসলামিয়া অর্থাৎ দেওরাইল টাইটেল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রতিবছর বোখারি অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। সেই সময় প্রচুর মহিলা আশেপাশের বাড়িগুলোতে জমা হয়ে ইসলামি সারগর্ভ বক্তৃতাগুলি শুনে সঠিকভাবে জীবন গড়ার সংকল্প নিয়ে থাকেন। 


উত্তর-পূর্ব ভারত এমারতে শর‌ইয়াহ ও নদ‌ওয়াতুত তামিরের প্রথম আমিরে শরিয়ত হজরত শায়খ আব্দুল জলিল চৌধুরী সাহেবের সময় থেকে বিশ্ব বিখ্যাত ইসলামী পণ্ডিতরা এই বোখারির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আসছেন। এছাড়া বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা দোওয়া নেওয়ার জন্য এই মাহফিলে উপস্থিত হয়ে থাকেন।

এই অনুষ্ঠান বদরপুরের মান-মর্যাদাকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে। করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসন এই অনুষ্ঠানকে যথেষ্ট সহযোগিতা করে আসছেন। দ্বিতীয় আমিরে শরিয়ত আল্লামা তৈয়ীবুর রহমান বড়ভুঁইয়া তাঁর জীবদ্দশায় এই খতমে বোখারির অনুষ্ঠান সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এর মধ্যে ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক ফেক্বাহ সেমিনার এই বোখারি খতমের সময় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।


বর্তমানে সেই একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ঐতিহ্যবাহী খতমে বোখারির অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজিত হচ্ছে। উত্তর-পূর্ব ভারত এমারতে শরয়ীয়াহ ও নদ‌ওয়াতুত তামিরের শাখা অসমের সমস্ত জেলায় এবং এই অঞ্চলের সাতটি রাজ্যে রয়েছে। সেখান থেকে প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দেন। আর, বদরপুরের জনগণের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়। বদরপুরের সকল শ্রেণির মানুষ যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তার জন্য কোন‌ও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।

(লেখক : ম‌ওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী)