BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সত্যিই বাঙালি হিন্দুর রক্ষাকবচ?

Bartalipi, বার্তালিপি, নাগরিকত্ব সংশোধনী  আইন সত্যিই বাঙালি হিন্দুর রক্ষাকবচ?

২০১৫ সালের ১৫ সেম্বেরের জারি করা কেন্দ্ৰীয় সরকারের সাৰ্কুলার পরবৰ্তীকালে ২০১৯-এর ডিসেম্বর দেশের সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ হওয়ার পরও ঢেকিয়াজুলির আলিসিঙ্গার বাসিন্দা বেলুরানি পালের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দিল রাজ্যের নিৰ্বাচনী দফতর৷ তাঁর নামে ওপরে ‘ডিলিট’ (কৰ্তন) লিখে বিধানসভা ভোটে মতদানের অধিকারও কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন তাঁর পুত্ৰ অশোক পাল৷ অথচ বিজেপি নেতারা বিভিন্ন সভা-সমিতিতে বলে বেড়াচ্ছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ হওয়ার পর বাঙালি হিন্দুদের নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও সমস্যা নেই৷
বিশেষত বরাক উপত্যকার বিজেপি নেতারা বিভিন্ন সভায় বার বার এই সংশোধনী আইনকে বাঙালি হিন্দুদের রক্ষাকবচ বলে সাৰ্টিফিকেট দেন৷ অথচ এই রাজ্যেরই ঢেকিয়াজুলির বাসিন্দা বেলুরানি পালের নামের ওপর যখন ‘ডিলিট’ লেখা হয় তখন বিজেপি নেতারা মুখে রা’টি কাড়েন না৷ তা হলে কি দুৰ্ভাগা বেলুরানি পালের মতো বরাক উপত্যকার বাঙালিদেরও আগামী দিনে একই সমস্যায় পড়তে হবে৷ রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্ৰী প্ৰভাবশালী নেতা হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা অশোকবাবুকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘তোমাদের কোনও ভয় নেই’৷ কিন্তু কাৰ্যক্ষেত্ৰে উোটাই হচ্ছে৷
অশোক পাল এ দিন স্পষ্ট টেলিফোনে জানিয়েছেন, যদি আমার মা এ বারের বিধানসভা ভোটে ভোটাধিকার প্ৰয়োগ করতে না পারেন তা হলে তিনি রাস্তায় নামতেও দ্বিধা করবেন না৷ উল্লেখ্য, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে এই বেলুরানি পালই ভোটাধিকার প্ৰয়োগ করে লোকসভায় নিৰ্বাচিত করেছিলেন তাঁর পছন্দমতো প্ৰাৰ্থীকে৷ আইনের যুক্তিতে বেলুরানির নাম যদি ভোটার তালিকা থেকে কৰ্তন করা হয় তা হলে ওই কেন্দ্ৰের নিৰ্বাচিত সাংসদের ভোট প্ৰক্রিয়া কি অবৈধ হয়ে যায় না? কারণ এক বছর আগে যিনি ভোটাধিকার প্ৰয়োগ করলেন সেই বেলুরানির নামই দেড় বছর পর ভোটার তালিকা থেকে কৰ্তন করা হল!


ট্ৰাইব্যুনালের রায়ে বেলুরানির বাবা ভারতীয়, মেয়ের নাম কী করে কাটা হল ভোটার তালিকা থেকে?


উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৪ সেম্বের শোনিতপুর বিদেশি ট্ৰাইব্যুনাল এক রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যেহেতু বেলুরানি পালের বাবা সতীশ চন্দ্ৰ পাল ভারতীয় নাগরিক তাই নথিপত্ৰ থেকে এটা বিশ্বাসযোগ্য বলেই মনে হচ্ছে যে, যেহেতু তাঁর পিতা সতীশ পাল ভারতীয় নাগরিক তাই তাঁর কন্যা হিসেবে বেলুরানিও অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক৷ বিদেশি ট্ৰাইব্যুনালের সদস্য তাঁর রায়ে আরও জানান, শোনিতপুর জেলার ঢেকিয়াজুলি থানার অন্তৰ্গত আলিসিঙ্গা গ্ৰামের সতীশ চন্দ্ৰ পাল যেহেতু ভারতীয় নাগরিক তাই তাঁর কন্যা হিসেবে বেলুরানি পালকেও ভারতীয় নাগরিক হিসেবেই নথিভুক্ত করা হল৷

কে এই দুৰ্ভাগা বেলুরানি?
কিছুদিন আগে এই বেলুরানিরই স্বামী দুলাল পাল ডিটেনশন ক্যাম্পে অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছিলেন৷ এই ঘটনায় সে সময়ের রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হলেও কিছুদিন পরই তা মানুষের স্মৃতিতে বিবৰ্ণ হয়ে যায়৷ সে সমস্ত সংগঠন সে সময় দুলালবাবুর পক্ষে ওকালতি করেছিলেন তাদের অনেকেই এখন অন্য শিবিরে নাম লিখিয়েছেন৷ মুখ্যমন্ত্ৰী প্ৰয়াত দুলালবাবুর পুত্ৰদের লিখিত আশ্বাসও দিয়েছিলেন যে, এই ঘটনার বিচার করে রাজ্য সরকার প্ৰয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে৷ কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি৷ দুলালবাবুর মৃত্যুর কিছুদিন পরই তাঁর পত্নী বেলুরানির নামও কৰ্তন করে দেওয়ার নিৰ্দেশ দেন নিৰ্বাচনী দফতর৷
কেন, কী কারণ এ সম্পৰ্কে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি সরকারি তরফে৷ তাঁর পুত্ৰ অশোক পাল জানিয়েছেন, তিনি যথারীতি ওই অঞ্চলের বিএলও-র কাছে মায়ের ফোটোও জমা দিয়েছিলেন৷ কিন্তু নিৰ্বাচনী দফতর থেকে তাঁকে জানানো হয়, বিএলও কোনও ফোটো ইলেকশন অফিসে জমা দেননি৷ তাই ফোটো না থাকার জন্যই তাঁর নামের ওপর ডিলিট লিখে দেওয়া হয়৷ নিৰ্বাচনী দফতরের এইসব তুঘলকি কাজকৰ্মের দায় কি রাজ্য সরকারের ওপর বৰ্তায় না?
বিজেপি দলই বা কী বলেন, আর মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সোনোয়ালও লিখিত আশ্বাস দেওয়ার পরও কেন দুলাল পালের মৃত্যুর বিচার হয় না, এর জবাব কি দিতে পারবে বিজেপি দল? বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অসমের বাঙালিদের দ্বিতীয় শ্ৰেণির নাগরিকে পরিণত করার যে ষড়যন্ত্ৰ চলছে বলে অভিযোগ তুলছেন তা কি তা হলে বাস্তবের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে? তার জবাব দেওয়ার দায়ও বিজেপির ওপরই পড়ে৷ এটা ঠিক যে, কংগ্ৰেস আমলেও প্ৰয়াত মুখ্যমন্ত্ৰী তণ গগৈ বাঙালি হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, মন্ত্ৰিসভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও তা আর বাস্তবে কাৰ্যকর হয়নি৷ এখনও প্ৰচুর বাঙালি লোক অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পে দিনের পর দিন মৃত্যুযন্ত্ৰণা ভোগ করছেন৷
কংগ্ৰেস নেতারা এখন নাগরিকত্বের প্ৰ েবিজেপি-র উো শিবিরে বসে ভোটের ময়দানে ফায়দা নেওয়ার জন্য নানা ধ্বনের কৌশল করছেন৷ কিন্তু মুশকিল হল, এই রাজনৈতিক গুটি হয়ে বাঙালিদের কি এভাবেই দিনের পর দিন ‘ডি’ ভোটার, ডিটেনশন ক্যাম্পের মৃত্যুমুখে পড়তে হবে? এই জবাবটাই এখন খুঁজছেন রাজ্যের অসংখ্য বাঙালি৷ অথচ ৬৫ সালের সাৰ্টিফাইড দলিলে দেখা যায়, প্ৰয়াত দুলাল পালের কাকার নাম হরেন্দ্ৰ পালের নামে আলিসিঙ্গায় জমি রয়েছে৷ তাঁরা একইসঙ্গে সেখানে বাস করতেন বলে দাবি করেছেন পাল পরিবার৷
অসম চুক্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ৬৬ সাল থেকে ৭১ সালের মধ্যে যাঁরা এসেছেন তাঁদের দশ বছর ভোটাধিকার কৰ্তন করে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে৷ কিন্তু দুলাল পালের পরিবার অসম চুক্তি অনুযায়ী, এই তালিকায়ও পড়েন না৷ কারণ তাঁদের হাতে ৬৫ সালের জমির দলিল রয়েছে৷ এরপরও শুধু বাঙালি হওয়ার কারণেই যে বার বার নাগরিকত্বের প্ৰমাণ দিতে হয় তার কী জবাব দেবেন রঞ্জিত দাস, সৰ্বানন্দরা৷


মিনি সচিবালয়ের ভাৰ্চুয়ালি উদ্বোধন সৰ্বার
বাৰ্তালিপি প্ৰতিবেদন, শিলচর, ২৬ ফেব্ৰুয়ারি : প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদি অসম সফরে এসে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, মাৰ্চের প্ৰথম সপ্তাহে নিৰ্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে৷ কিন্তু নিৰ্বাচন কমিশন আচমকাই পাঁচ রাজ্যের দিনক্ষণ ঘোষণা করার প্ৰাক্কালে শুক্রবার তড়িঘড়ি করে রাজ্যের বেশ কিছু উন্নয়নমূলক প্ৰকপ্লের ভাৰ্চুয়ালি উদ্বোধন অনুষ্ঠান সেরে নেন মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সোনোয়াল৷ কারণ নিৰ্বাচনী আচরণবিধি লাগু হয়ে গেলে সরকারি আর কোনও উদ্বোধন অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হবে না৷
এ দিন গুয়াহাটির শ্ৰীমন্ত শংকরদেব কলাক্ষেত্ৰে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মিনি সচিবালয়ের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্ৰী বলেন, এর ফলে বরাক উপত্যকার জনগণের গণদাবি মিনি সচিবালয় বাস্তবে রূপ পেতে চলেছে৷ শুধু তা-ই নয়, এই উদ্বোধনের সঙ্গে পাশাপাশি বরাকের তিন জেলার আরও ২০টি উন্নয়নমূলক প্ৰকপ্লের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস দুটোই সেরে নেন সৰ্বানন্দ৷ মিনি সচিবালয় বরাক উপত্যকার জনগণকে উৎসৰ্গ করে সৰ্বানন্দ বলেন, প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদির সবকা সাথ সবকা বিকাশ সবকা বিশ্বাস শ্লোগান আসলে পুরো রাজ্যেরই সমবিকাশের প্ৰতীক৷ এরই অঙ্গ হিসেবে প্যাটেলনগর বিদ্যুৎ সাব স্টেশন সহ আরও কিছু প্ৰকপ্লের শিলান্যাস করেন তিনি৷ গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত এই ভাৰ্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্যের বন এবং পরিবেশ মন্ত্ৰী পরিমল শুক্লবৈদ্য, মুখ্যমন্ত্ৰীর মিডিয়া উপদেষ্টা ঋষিকেশ গোস্বামী, আইনি উপদেষ্টা শান্তনু ভরালি সহ বিদ্যুৎ বিভাগের শীৰ্ষ অফিসাররা হাজির ছিলেন৷
অতিরিক্ত জেলাশাসক রাজীব রায় জানিয়েছেন, আপাতত ছয়টি দফতর নিয়ে মিনি সচিবালয় শু হচ্ছে৷ এই বিভাগগুলো হল ভেটেরিনারি, কৃষি, রাজস্ব, মীন, পাৰ্সোনাল এবং জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্ৰেশন৷ এ দিকে, এনএইচ-এর এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মধুমিতা দে জানিয়েছেন, মিনি সচিবালয় তৈরিতে ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে৷ তবে চিফ ইঞ্জিনিয়ার কাৰ্যালয় গুয়াহাটিতে তার টেন্ডার প্ৰক্রিয়া শু করেছে৷ ফলে কত তল ভবন বা সঠিকভাবে কত ব্যয় হবে তা এখনই পরিস্কার করে বলা সম্ভব নয়৷