BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Sunday, 28 Feb 2021  রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

আপনার হোয়াটস্যাপ নম্বরটা দিন! ফেসবুকে হানি ট্ৰ্যাপের নয়া ফৰ্মুলা

Bartalipi, বার্তালিপি, আপনার হোয়াটস্যাপ নম্বরটা দিন! ফেসবুকে হানি ট্ৰ্যাপের নয়া ফৰ্মুলা

টুং করে একটা ফেসবুক ফ্ৰেন্ড রিকোয়েস্ট-এর নোটিফিকেশন ঢুকল বিবেকানন্দ রোডের অমরেশ দাসের (চরিত্ৰের নাম, পদবী, পেশা ও ঠিকানা পালটে দেওয়া হল) মোবাইলে৷ কোনও এক হিন্দিওয়ালা যুবতীর নামে প্ৰোফাইল৷ অমরেশ দেখলেন দু’তিনজন মিউচুয়াল ফ্ৰেন্ড আছে সেই যুবতীর প্ৰোফাইলে৷ ফলে সেই ফ্ৰেন্ড রিকোয়েস্ট কনফাৰ্মও করে দিলেন মুহূৰ্তে৷

অমরেশ ও অবন্তিকা (এটাও সেই প্রোফাইলের ছদ্মনাম) তখন ফেসবুক বন্ধু৷

দুপুরের ফ্ৰেন্ড রিকোয়েস্ট, এরপর থেকে আর কোনও আলাপ নেই৷ বিকেল গড়িয়ে রাত৷ পেশায় সরকারী চাকুরে অমরেশবাবু দুই সন্তানের বাবা, সুন্দরী স্ত্ৰী তার৷ রাতে স্টাডি রুমে ঢুকে বই পড়ার দীৰ্ঘ অভ্যেস৷ আর পাঁচ দিনের মতোই অমরেশ কফি কাপ নিয়ে ঢুকে পড়লেন স্টাডি রুমে৷

পেয়ালায় চুমুক তুলে ফেসবুকটা ঘাটতে শুরু করলেন৷ নতুন বন্ধুর প্ৰোফাইল ছবিগুলি একে-একে স্ক্ৰল করে দেখছেন৷ ঠিক এমন সময় টুং করে একটা মেসেজ নোটিফিকেশন৷

অবন্তিকা মেসেজ করল-
-হাই...৷
-হ্যালো...৷
-(চোস্ত হিন্দিতে) আপনি কোন ডিপাৰ্টমেন্টে আছেন?
-ব্যাঙ্কে৷
-বাহ৷ আচ্ছা, আপনি আমার বন্ধু৷ আপনি যখন ব্যাঙ্কে আছেন৷ আপনার থেকে একটা সাহায্য নেওয়া যেতেই পারে৷ দীৰ্ঘদিন ধরে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত একটা সমস্যায় আছি জানেন৷ প্লিজ, যদি একটু হেপ্ল করতে পারেন...৷
-অবশ্যই৷ সে তো আমার কাজের একটা অংশ৷ বলুন কী সমস্যা!

এভাবে আলাপ বাড়তে লাগল৷ সুন্দরী ফেসবুক বন্ধুর মন গলানো কথাবাৰ্তায় মায়াবি রাতে রোমাঞ্চিত হতে শুরু করলেন অমরেশ৷ হঠাৎ বন্ধু বললেন ফেসবুকের মতো ওপেন প্ল্যাটফৰ্মে কথা বলছি৷ হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটা পাওয়া যেতে পারে কি... সমস্যাটা না-হয় ওখানে বললাম৷

অবন্তিকা যেন অমরেশের মুখের কথাটা ছিনিয়ে নিয়েছিল৷ অমরেশ ঝটফট নম্বরটা দিলেন ৭০০৫৩.....৷

এবার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ- -হাই! অবন্তিকা আগরওয়াল হিয়ার৷
-ইয়েস ক্যারি-অন...৷
ব্যাঙ্কের কথাবাৰ্তা আর এগলো না৷ এগলো যেটা, সেটা রোমান্টিক আলোচনা৷ অমরেশ সহজে গলে যেতে লাগলেন৷ এরপর দুম করেই অবন্তিকার আব্দার- ভিডিও কল হতে পারে? অমরেশ সায় দিলেন- নিশ্চয়ই পারে৷

অমরেশ কেন, কথাবাৰ্তার জোরে যে কোনও মানুষ অপরপ্ৰান্তের মানুষটিকে বিশ্বাস করবে৷ সেই বিশ্বাসের জোরেই ভিডিও-কলিংয়ে সায় দিয়েছিলেন অমরেশ৷ ভিডিও-কলও হল৷ এক ঝটকায় অপরপ্ৰান্তে নজরে এল, সে এক পরম সুন্দরী৷ বড় গলার একটা স্লিভলেস পরে আছে সে৷ লাস্যময়ী। মায়াবি। নানা অঙ্গিভঙ্গি করছে৷ তবে কোনও সাড়াশব্দ আসছে না৷ কাৰ্যত মিউট৷ উৎফুল্লিত অমরেশ বলতে লাগলেন, তোমাকে দেখতে তো পাচ্ছি, কিন্তু আওয়াজ যে পাচ্ছি না! দুম করেই কল কেটে গেল৷

এরপর অবন্তিকার টেক্সট- আমি তো তোমাকে এক ঝলক দেখলাম৷ এরপরই সবকিছু অন্ধকার৷ তোমার নেটওয়ার্ক সমস্যা কি? তবে তুমি দেখতে ভারি হ্যান্ডসাম৷ লুকিং সেক্সি৷

অমরেশ আপ্লুত৷ বার বার কল করতে বলছেন বন্ধুকে৷ বন্ধুও কল করছেন৷ কিন্তু অবন্তিকা আগরওয়ালকে আর দেখা যাচ্ছে না৷ পুরোটা মোবাইল স্ক্ৰিন কুচকুচে কালো৷ বার কয়েক চেষ্টা করে বিফল অমরেশ আবার টেক্সট করলেন- কী যে হল, কিছুই তো বুঝতে পারছি না! অবন্তিকা বলল -লেটস মেক দ্য নাইট স্পেশ্যাল৷

স্পেশ্যাল!

হুঁশ ফিরল অমরেশের৷ এসব হচ্ছেটা কী! কে এই মেয়ে? কী-ই বা চাইছে সে? কেনই বা তাকে এক ঝলক দেখা গেল, কিন্তু কথা শোনা গেল না? কেনই বারবার কলিং করলে অবন্তিকা অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে?

এসব প্ৰশ্ন মনের মধ্যে উঁকি মারতেই অমরেশ নিজেকে বলে উঠলেন, ঢের হয়েছে৷ আর না৷ হোক সে যে-ই, কোনও কল, কোনও টেক্সট করব না৷

কফি কাপের কফি ঠাণ্ডা হয়ে বরফ্‌ হওয়ার জোগাড়৷ মায়াবি বন্ধুর ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে তখনও বইটা পৰ্যন্ত খোলেননি অমরেশ৷ নিজের ওপর রাগ হচ্ছিল তাঁর৷ কী সব করছিলেন, সেটা ভেবে-ভেবে টেবিলে রাখা বইয়ের পাতাটা উল্টাতেই হোয়াটসঅ্যাপ কলিং৷ না, এবার ভিডিও কল নয়৷ অডিও কলিং৷ সেই অবন্তিকা৷
অমরেশ ফোন ধরলেন৷ অপরপ্ৰান্তে চোস্ত হিন্দিতে একটা মেয়ে নয়, এবার ছেলের আওয়াজ 'সালে, বেহেন ... (গালি দিয়ে)৷ প্যায়ার করেগা লরকি সে? লে অব তু ভাইরাল৷' বলেই ফোনটা কেটে দিল লোকটা৷

অমরেশ ভাবছেন, কী ভাইরাল, কীভাবে ভাইরাল! ভাবতে না ভাবতেই টুং করে আরও একটা মেসেজ নোটিফিকেশন৷ কয়েক সেকেন্ডের একটা ভিডিও ঢুকল অমরেশের হোয়াটসঅ্যাপে৷ যেখানে পরিষ্কার অমরেশেরই মুখটা দেখা যাচ্ছে৷ অপরপ্ৰান্তের লোকটাকে যে ছোট্ট বক্সে দেখা যায় ভিডিও কলিংয়ের সময়, সেটা ডাৰ্ক৷ ভিডিও জুড়ে শুধুই অমরেশের মুখ৷ সে অঙ্গিভঙ্গি করছে৷ তবে, ভিডিওর শেষ মুহূর্তের কয়েক সেকেন্ড দেখে অমরেশের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাওয়ার জোগাড়৷ ভিডিওটি একটু সময়ের মধ্যে এমনভাবে এডিট করা হয়েছে যে, মনে হচ্ছে, প্ৰথমে কথাবাৰ্তা বলার পর অমরেশ ভাচুৰ্য়াল যৌন মিলনের চেষ্টা করছেন৷ গোপনাঙ্গ দেখাচ্ছেন ইত্যাদি ইত্যাদি৷ এখানেই শেষ নয়, ভিডিওর ওপর অমরেশের নাম লেখা, ঠিকানা লেখা, ফোন নম্বরও আছে... বাদ নেই কিছুই৷ হার্ডকোর ব্ল্যাকমেল ট্র‍্যাপ!

ব্যাপারগুলো কীভাবে ঘটল, সেটা বুঝে ওঠার আগেই আবার অডিও কল৷ অপরপ্ৰান্ত থেকে, 'সালে, তু বাতা, ইয়ে ভিডিও ভাইরাল করদু, ইয়া ডিলিট করদু। অগর ডিলিট চাহতা হ্যায় তো...'।

ভয়ে অমরেশ কেটে দিলেন ফোনটা৷ বার কয়েক আরও ফোন এল৷ কেটে দিলেন৷ কী করবেন বুঝতে পারছেন না৷ শীতের রাতে ঘেমে-নেয়ে একশা অমরেশ৷ কী করবেন? ওয়াটসঅ্যাপ নম্বরটা ব্লক করে দিলেন৷ পুরোটা রাত আর ঘুম হয়নি তাঁর৷ যদি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়, তার মান -সম্মানের কী হবে! তার দুই সন্তান আছে, স্ত্ৰী আছে৷ সমাজে একটা পরিচিতি আছে৷ এসব ভেবে-ভেবেই অমরেশ এক বিপি হাই করা বিনিদ্ৰ রাত কাটান সেই স্টাডি রুমেই৷

তবে এই প্ৰতিবেদন লেখা পৰ্যন্ত আর কোনও ফোন আসেনি অমরেশের কাছে৷ কারো কাছে ওই ভিডিও গেছে কিনা, সেরকম খবরও পাননি অমরেশ৷ তবে প্ৰতিটি মুহূৰ্ত প্ৰবল আতঙ্কে কাটাচ্ছেন তিনি৷

গত রাতের এই গল্পটা লুকিয়ে না রেখে তিনি জানালেন এই প্ৰতিবেদককে৷ মদত চাইলেন। পুলিশ ও সাইবারক্রাইম সূত্ৰে বাৰ্তালিপি খবর নিয়ে দেখল, অমরেশের ঘটনা নতুন কিছু নয়৷ এটা নতুন কায়দার হানি ট্ৰ্যাপ৷ শুধু এই শিলচর নয়, বরাক উপত্যকার বিভিন্নস্তরের স্বনামধন্য মানুষকে এই ট্ৰ্যাপে ফেলা হয়েছে, হচ্ছেও। রোজ রোজ নতুন ক্লায়েন্ট খুঁজে বেড়ায় ওই গ্যাং৷ এরই মধ্যে শিলচরের বেশ কিছু পরিচিত মুখ কম-বেশি এই ট্ৰ্যাপিংয়ে পড়ে গেছেন৷ মূলত এরা বিহার, উত্তরপ্ৰদেশ, হরিয়ানা এসব জায়গা থেকেই জালটা বেছায়। যে জালে করিমগঞ্জেরও ক'জন পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেল।

পাঠকদের মনে এখন প্ৰশ্ন জাগছে, ফোন নম্বরই যখন ওই গ্যাংটি পেয়ে গেল, তবে ব্ল্যাকমেলিংয়ের জন্য কেন শুধু হোয়াটসঅ্যাপ কলিং করে ওরা? সরাসরি ফোনই তো করতে পারে!

আসলে এখানেই লুকিয়ে আসল ফান্ডা৷ কেউ যদি পুলিশের দ্বারস্থ হয়, মোবাইল নম্বর ট্ৰ্যাক করে কোথা থেকে এই কাৰ্যকলাপ হচ্ছে, সেটা ধরে ফেলা সম্ভব৷ কিংবা অন্তত কল-রেকৰ্ডিংয়ের সুবিধে সাধারণ কলিংয়ে তো থাকছেই৷ আর, সাউন্ড রেকৰ্ডিং হলে ব্ল্যাকমেলিং বিষয়টা ফাঁস হয়ে যাবে৷ তাই হোয়াটসঅ্যাপই তাদের মূল অস্ত্ৰ৷ হোয়াটসঅ্যাপে কল করলে ক্লায়েন্ট কিছুই করতে পারবে না৷ না করা যাবে লোকেশন ট্ৰেসিং৷ না হবে অডিও রেকর্ডিং।

আর ভিডিও কলিংয়ের ব্যাপারটা হল, ক্লায়েন্টের মুখটা ভিডিও কলিংয়ে এলে, সেটাকে কোনও অ্যানড্রোয়েড অ্যাপ দিয়ে রেকৰ্ড করে নেয় ওরা৷ এর সঙ্গে অন্য ভিডিও ফুটেজ অ্যাটাচ করে এমনভাবে এডিট করা হয়, যাতে মক্কেলকে ফ্যাঁসাদে ফেলা সহজ হয়ে যায়৷ আর, কোনও মক্কেলের চরিত্ৰ যদি পুরোপুরি ঢিলে হয়, তবে তো কেল্লা ফতে! সেই বান্দা নিজেই ফেঁসে যাবেন এই জালে৷

আর যে মেয়েটিকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য দেখা যায়, সেটা কোনও পৰ্নোগ্ৰাফিক ওয়েবসাইটের কয়েক সেকেন্ডের ক্লিপিং, ইম্পোজ করে অপরপ্ৰান্তের মানুষটিকে মানে ক্লায়েন্টকে দেখানো হয়৷ তাই হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলিংয়ের সময় ইচ্ছে করেই মিউট রেখে কোনও আওয়াজ শোনানো হয় না৷ এরপর ভিডিও কেটে দেওয়া হয়৷

পুলিশ সূত্ৰে জানা গেল, এ ধরনের ইস্যু নিয়ে সরাসরি অভিযোগ জমা পড়ে না৷ অন্তত শিলচর সদর থানায় তো পড়েনি। অথচ ট্ৰ্যাপিংয়ে পড়ে অনেকেই অনেক অৰ্থ খুঁইয়ে যাচ্ছেন৷ ব্ল্যাকমেলারের অ্যাকাউন্ট-এ টাকা পাঠাতে হচ্ছে। অথচ লোকলজ্জার ভয়ে তারা সামনে আসেন না৷ এটাই ওই গ্যাং-এর ফায়দার জায়গা৷

আর, এসব গ্যাং সচরাচর কোনও ভিডিও ভাইরালও করে না৷ মূলত ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করাটাই তাদের কাজ৷ ভিডিও যদি ভাইরাল হয়ে যায়, অন্যরাও সতৰ্ক হয়ে যাবে৷ তখন ব্যবসা নষ্ট হবে গ্যাংয়েরই৷ তাই ভয় দেখিয়ে পয়সা আদায় করার দিকেই মনযোগ থাকে গ্যাংয়ের৷ আর কোনও ক্লায়েন্ট যদি ভয় না পেয়ে তাদের উল্টো ব্লক করে দেয়, তবে তাদের পেছনে বেশি সময় নষ্ট করে না ওই গ্যাং৷ কারণ, অন্য ক্লায়েন্টদেরও তো সময় দিতে হবে!

তাই ফেসবুকে অজানা কেউ ফ্ৰেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে মিষ্টি-মিষ্টি গল্প ফাঁদলে, সাবধান৷ আর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চাইলে তো...৷