BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Sunday, 28 Feb 2021  রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

আত্মহত্যার জন্য ঝুলেছিলেন সিলিং ফ্যানে, সেখান থেকেই পাল্টে গেল রাকেশের জীবন

Bartalipi, বার্তালিপি, আত্মহত্যার জন্য ঝুলেছিলেন সিলিং ফ্যানে, সেখান থেকেই  পাল্টে গেল রাকেশের জীবন

তাজ উদ্দিন

বাইকের প্ৰতি ছিল তাঁর প্ৰচণ্ড আসক্তি৷ ঘরে মা-বাবার সঙ্গে এ নিয়ে কত ঝগড়াঝাঁটি, কত অশান্তি৷ আর, সেই বাইক-ই তাঁর একটি পা কেড়ে নিল৷ তখন জীবন মানে যন্ত্ৰণা, কীভাবে জীবন থেকে মুক্তি পাওয়া যায় সেটাই ভাবছিলেন রাকেশ বণিক৷ ড্ৰাগস আর নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতেন৷ এর মধ্যে একদিন নিয়ে ফেললেন চরম সিদ্ধান্ত!

‘পা হারিয়ে অচল হয়ে পড়েছিলাম৷ আত্মীয় স্বজনরা এলে দূর থেকে তাচ্ছিল্যের চোখে দেখত৷ পরিবারকে আর কত কষ্ট দেবো৷ ভাবলাম, বেঁচে থেকে আর লাভ নেই৷ কোনওক্রমে সিলিং ফ্যানে ঝুলে পড়লাম’ বলছিলেন রাকেশ৷ না, গলায় দড়ি দিয়ে ফ্যানে ঝুলে পড়লেও তাঁর জীবনের গল্প শেষ হয়ে যায়নি৷ বরং, সেখান থেকেই শুরু৷ নতুন একটি উজ্জ্বল অধ্যায়৷ শোনা যাক সেটা রাকেশবাবুর মুখ থেকেই
‘আমাকে নিয়েই ছাদ থেকে ফ্যানটা ধপাস করে ফ্লোরে পড়ল৷ আরেক দফা চোট পেলেও আমার প্ৰাণটা বেঁচে যায়৷ বুঝলাম, এত সহজে মৃত্যু আমার জন্য লেখা হয়নি৷ আমাকে নিয়ে নিশ্চয়ই ঈশ্বরের কোনও ইচ্ছা রয়েছে৷ নতুনভাবে বাঁচার তাগিদ অনুভব করলাম৷’ সেই থেকে মানসিকভাবে নিজেকে শক্তিশালী করতে লাগলেন রাকেশ৷ ক্র্যাচে ভর দিয়ে হাঁটা থেকে শু করে পরবৰ্তীতে নকল পা নিয়ে অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলেন৷ লেগে পড়লেন সমাজের কাজে৷
নগাঁওয়ের রাকেশ বৰ্তমানে একজন প্যারা অ্যাথলিট৷ ওই ব্যৰ্থ আত্মহত্যার চেষ্টার পর তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে পরিবৰ্তনের চেষ্টায় নেমে পড়েন৷ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় অ্যাথলেটিক্সের বিভিন্ন ইভেন্ট শুরু করেন৷ নেট ঘেঁটে বিভিন্ন প্ৰতিবন্ধী ক্রীড়াবিদের জীবন অধ্যয়ন করতে লাগলেন৷ এভাবে সাইক্লিংয়েও এসে পড়লেন৷ যদিও সাইক্লিংয়ে প্ৰতিযোগিতার চেয়ে বরং বিভিন্ন র্যালি, সচেতনতা অভিযান ইত্যাদি নিয়েই কাজ করছেন তিনি৷ ‘সেভ দ্য রাইনো’ প্ৰজেক্ট নিয়ে থাইল্যান্ডের দশটি শহর ঘুরে মায়ানমার হয়ে অসম পৰ্যন্ত ৩২০০ কিলোমিটার সাইকেল যাত্ৰা করেছেন৷ এছাড়া গত বছরের শেষদিকে তিনি ‘সজাগতার প্ৰয়াসে প্ৰত্যয়ের যাত্ৰা’ শীৰ্ষক পঞ্চায়েত বিষয়ক সচেতনতামূলক সাইকেল অভিযান চালিয়েছেন৷ গত রবিবার শিলচরে এনআরএলের সক্ষম সাইক্লাথনেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন৷ এটা ছিল নিঃশেষযোগ্য সম্পদের সীমিত ব্যবহারের ওপর গুত্ব দিয়ে সাইক্লিং সজাগতা অভিযান৷
প্যারা অ্যাথলিট রাকেশ বণিক এখনও জাতীয় স্তরের প্যারা স্পোৰ্টসে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি৷ মূলত করোনার জন্য গত বছর আসর আয়োজিত হয়নি৷ তবে এজন্য নিজেকে তৈরি করছেন৷ কারণ, সাইক্লিং তাঁর শখ৷কিন্তু লক্ষ্য হল ভাল অ্যাথলিট হওয়া৷ আর, সেইসঙ্গে অ্যাথলিট তৈরি করা৷ এ প্ৰসঙ্গে রাকেশ বলেন, ‘আমার অসহায় অবস্থা দেখে অনেকে বলাবলি করছিলেনএবার একটা ব্যবস্থা হয়ে গেল৷ কোনও পরিশ্ৰম করতে হবে না৷ ভিক্ষা টিক্ষা করে চলে যাবে৷ আর, অনেকেই দেখেছি এরকম অ্যাক্সিডেন্টের পর রাস্তার ধারে ভিক্ষাপাত্ৰতেই নিজের জীবন ভেবে নেয়৷ এর পেছনে দায়ী মানসিক দুৰ্বলতা৷ জীবনে দুৰ্ঘটনা কখন ঘটবে কে জানে৷ তবে এতে হতাশ না হয়ে নিজেকে সংগ্ৰামের জন্য তৈরি করতে হবে৷ আমি তো প্ৰথমে নিজেকেই রোলমডেল করে এগিয়েছি৷ পরে অস্ট্ৰেলিয়ার নিক ভুজিসিচকে আদৰ্শ করে অনুপ্ৰেরণা নিয়েছি৷ দু হাত নেই, দু পা নেই৷ তবুও জীবন সংগ্ৰামে সফল নিক৷ তাঁকে প্ৰতিদিনই সেলাম ঠুকি আমি৷’