BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Sunday, 28 Feb 2021  রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

Bartalipi, বার্তালিপি, মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

      (২১)

 লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়ার সাহিত্যকর্মের অনেকখানি জুড়ে রয়েছে অসমের বৈষ্ণব পরম্পরা, সংস্কৃতি বিষয়ক রচনা এবং তার সঙ্গে জড়িত ঐতিহ্যানুরাগ। বৈষ্ণব  সাহিত্য চর্চার মধ্য দিয়েই বেজবরুয়া অসমিয়া সাহিত্য সমালোচনা সাহিত্যের ধারাটির সূচনা করেন।তিনি গভীরভাবে উপলদ্ধি করেছিলেন,শঙ্করদেব মাধবদেবের  বৈষ্ণ্ব সাহিত্যই হল অসমিয়া সংস্কৃতির মূল ভিত্তি এবং এই ভিত্তিকে অধিক শক্তিশালী করতে না পারলে অন্যের ভয়ঙ্কর সাংস্কৃতিক গ্রাস থেকে এই দেশকে কোনোমতেই উদ্ধার করা যাবে না। কারণ লাচিত,জয়মতী ইত্যাদির মাধ্যমে প্রবাহিত জাতীয় ঐতিহ্যের গৌ্রবের চেয়েও শঙ্কর মাধবদেবের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রভাব জাতীয় জীবনে গভীর।

  বেজবরুয়ার শঙ্করদেব চর্চাকে আলোচনার সুবিধার জন্য আমরা নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে পারি-

১) মহাপুরুষের জীবনী রচনা ২)সাহিত্যের তত্ত্ব-দর্শন ইতিহাসের বিশ্লেষণ ৩) চৈতন্যপন্থী তথা বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ৪)সত্রের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পরম্পরাটির ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা ৫) অন্যান্য রচনার  মধ্যে গৌণরূপে  বৈষ্ণব ভাব-ভাষা প্রসঙ্গের উপস্থাপন ৬) সাংবাদিক এবং সামাজিক সংগঠন রূপে। ১৯১১ সনে প্রকাশিত 'শ্রী শ্রী শঙ্করদেব' গ্রন্থের ভূমিকায় গ্রন্থটি রচনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বেজবরুয়া বলেছেন -' শংকরদেবের জীবনের কিছু কথা আলোচনার মাধ্যমে মুক্ত করার চেষ্টা করা এবং তার অমূল্য গ্রন্থগুলিতে থাকা রচনার সৌন্দর্য, উন্নত জ্ঞানোপদেশ এবং শিক্ষা ইত্যাদির দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে সম্ভব হলে সেগুলির প্রতি লোকের মনোযোগ আকর্ষণ করা।' অলৌকিকতার আবরণ সরিয়ে মানবীয় দৃষ্টিতে বৈষ্ণব সন্তদের জীবন এবং কর্মের মূল্যায়নের চেষ্টা বেজবরুয়ার হাতে শুরু হয়।.১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয় ‘মহাপুরুষ শংকরদেব এবং শ্রী মাধব দেব’ এই গ্রন্থের অনেক কথাই পূর্বের ‘শ্রী শ্রী শঙ্করদেব’ গ্রন্থের চেয়ে নতুন এবং পৃথক । এর কারণ এই গ্রন্থে বেজবরুয়া বিভিন্ন চরিত পুথি মুখ পরম্পরা, ইতিহাস ইত্যাদির আধারে আধুনিক পদ্ধতিতে ইতিহাস অধ্যয়ন করেছেন। এই দুটি গ্রন্থ ছাড়াও ‘জোনাকী’,’’বাঁহী, ‘ঊষা’ইত্যাদি পত্রিকায় বেজবরুয়ার শংকরদেব, মাধবদেব তথা অসমের বৈষ্ণব ধর্ম ও সংস্কৃতির তত্ত্ব দর্শন সাহিত্যগুণ ইত্যাদি বিশ্লেষণমূলক বেশকিছু প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। বেজবরুয়া ধর্মতত্ত্ব মূলক রচনা গুলির ভাষা নীরস নয় বরং প্রাঞ্জল মনোগ্রাহী। শংকরদেবের রচনার মধ্যে দার্শনিক রূপটি জনমানসে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা বেজবরুয়ার অন্য এক মহত্বপূর্ণ দিক। ‘বাঁহী’ আলোচনা পত্রিকা অনেকেই ধর্ম আলোচনা হল বলে আক্ষেপ করেছিলেন। বেজবরুয়া কিন্তু বুঝতে পেরেছিলেন শংকরদেব চর্চা কেবল ধর্ম চর্চা নয়, যদি তা হয় তাহলে এই ধর্মচর্চা অসমের জন্য অতি প্রয়োজন। সেই জন্য হাজার প্রতিকুলতাকে অগ্রাহ্য করে বেজবরুয়া ‘বাঁহী’ পত্রিকা ১৯০৯ সন থেকে ১৯৩০ সন পর্যন্ত চালিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।১৯৩০ সনে শ্রীমন্ত শঙ্করদেব সংঘ (সেই সময়ে শংকর সংঘ) জন্মের পটভূমিতে বেজবরুয়ার শংকরদেব চর্চা যে গভীর অনুপ্রেরণা এবং সাহস জুগিয়েছিল তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। সংঘের মুখপত্র ‘নাম ধর্ম’এর নামকরণ বেজবরুয়ার পরামর্শ মতেই হয়েছিল।১৯৩৩ সনে শ্রীমন্ত শঙ্করদেব সংঘের দ্বিতীয় প্রাদেশিক অধিবেশন বসেছিল নগাঁও শহরের শ্রী শ্রী শঙ্করদেব মন্দিরে। সভাপতি ছিলেন পন্ডিত গোপিবল্লভ গোস্বামী। অধিবেশনের আগেই সংঘ ‘যুগধর্ম’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতে চেয়ে বেজবরুয়ার অভিমত চেয়ে পাঠিয়ে ছিলেন। একটি চিঠিতে আশীর্বাদ জানিয়ে বেজবরুয়া পরামর্শ দিয়েছিলেন যে যুব ধর্মের পরিবর্তে পত্রিকার নামটা ‘নামধর্ম’ করলে  ভালো হয়। চিঠিটি উক্ত অধিবেশনের সভায় পাঠ করে নামটি সাদরে গ্রহণ করা হয়েছিল।

বিপ্লবী মনীষী কমলাকান্ত ভট্টাচার্য বেজবরুয়ার সমসাময়িক কবি এবং চিন্তাবিদ। অসম, অসমিয়া জাতি এবং অসমিয়া ভাষা সাহিত্যপ্রেমী কমলাকান্তের চিন্তাধারা  ছিল  কিছুটা বৈপ্লবিক ধরনের। সমগ্র জীবন দেশ এবং জাতির চিন্তা করে করে কমলাকান্ত ব্যাকুল হয়ে পড়েছিলেন। অসমকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, কীভাবে একটি সংহতিপূর্ণ অসমিয়া সমাজের ভিত নির্মাণ করা যায় তিনি প্রতিমুহূর্ত  সেই চিন্তা করতেন। একাধিক রচনায় কমলাকান্ত শঙ্করদেবের বিষয়ে উচ্চ মত পোষণ করে বক্তব্য রেখেছেন। মহর্ষি কমলাকান্ত আক্ষেপ করে বলেছিলেন-’ আজ প্রায় পাঁচশো বছর হল অসম শংকরদেব কে চিনতে পারল না।’ কমলাকান্ত ভট্টাচার্যের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে বিভিন্ন বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন না হতে হলে অসমের পর্বত এবং সমতলের সমস্ত সম্প্রদায়কে শঙ্করদেব নিশ্চয়ই ঐক্যবদ্ধ করে রেখে যেতেন।

বেজবরুয়ার সমসাময়িক অসমিয়া সাহিত্যে শঙ্করদেব প্রসঙ্গ কম বেশি পরিমাণে সমস্ত সাহিত্যিকের রচনাকে স্পর্শ করেছিল।

 ‘জোনাকী’ যুগের ত্রিমূর্তির অন্যতম সুপন্ডিত হেমচন্দ্র গোস্বামী বিভিন্ন রচনায় শঙ্করদেব এবং শংকরী সাহিত্য সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করে গেছেন।