BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

Bartalipi, বার্তালিপি, মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

    (২০)

    মহাপুরুষ শঙ্করদেবের জীবন বৃত্তান্ত এবং কালজয়ী সৃষ্টিশীল কর্মরাজি বিগত কয়েক শতক  জুড়ে অসমের জনজীবনকে বিপুলভাবে আলোড়িত করে চলেছে।শঙ্করদেবের এই মহাজীবন অসমিয়া মনের সৃষ্টিশীলতা এবং অন্তহীন কর্মপ্রেরণার প্রাণকেন্দ্র।স্বনামধন্য কবি সমালোচক এবং নব-বৈষ্ণব সাহিত্য সংস্কৃতির প্রবক্তা ডিম্বেশ্বর নেওগ বলেছিলেন-‘সত্যিই অসমিয়া জাতির বহুমুখী জীবনের কার্য-শক্তির একটিই কম্পনকেন্দ্র-শঙ্করদেব।’ শঙ্করদেবের জীবনকে কেন্দ্র করে উপন্যাস রচনা করা আধুনিক অসমিয়া সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক সৈয়দ আব্দুল মালিক মহাপুরুষ শঙ্করদেবের জীবনকে কেন্দ্র করে একটি উপন্যাস লেখেন ‘ধন্য নরতনু ভাল’।উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৭ সনের এপ্রিল মাসে।রচনাকাল ১৯৮৬ সনের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর।চার খণ্ডের বিশাল উপন্যাসটিতে সৈয়দ আব্দুল মালিক চরিত পুথির অলৌকিক উপাদান বর্জন করে পরিপূর্ণ মানব শঙ্করদেবের চরিত্র রূপায়ণ করার চেষ্টা করেছেন।

    শঙ্করদেবের স্বপ্ন ছিল,সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করার জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন।সর্বসাধারণ মানুষের জন্য শঙ্করদেবের নিরন্তর দায়িত্ববোধ লেখক উপন্যাসে এভাবে বর্ণনা করেছেন।–‘জনগণই দেশ,জনগণই গীত,জনগণই সুর-জনগণই সুরের জন্মদাতা। জনগণই রাগ,জনগণই সর,জনগণই সৃষ্টির ছন্দময় নৃ্ত্য।’

    রাজশক্তি এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির দ্বারা শঙ্করদেব বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছিলেন।কিন্তু ‘ধন্য নরতনু ভাল’উপন্যাসের নায়ক শঙ্করদেব অলৌলিক শক্তির দ্বারা নয়,নিজের অর্জিত মহত্ত্ব,প্রতিভা এবং জনগণের প্রতি থাকা পরম দায়িত্ববোধের দ্বারা কৃতকার্যতার পথে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাই এই উপন্যাসে আমরা পূর্ণ মানব শঙ্করদেবের মানবীয় এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে দেখতে পাই,অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন কোনো দেবতাকে নয়।

    অসমিয়া সাহিত্যের একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ঔপন্যাসিক ডঃ লক্ষ্ণীনন্দন বরার শঙ্করদেবের  জীবন ভিত্তিক উপন্যাস ‘যাকেরে নাহিকে উপাম’এক অসামান্য সৃষ্টি।উপন্যাসটির প্রাক কথনে লেখক নিখেছেন-‘শ্রীমন্ত শঙ্করদেব আমার মনে শৈশব থেকেই যুগ নায়ক হয়ে থাকার জন্য এবং আমি শৈশব থেকেই সত্রীয়া সংস্কৃতির পটভূমিতে লালিত পালিত হওয়ার জন্য ও এই মহাপুরুষকে উপন্যাসে রূপদানের জন্য আমি যত্নের কোনোরকম ত্রুটি করিনি এবং প্রচুর পরিশ্রমও করেছিলাম।...লিখে শেষ করার পরে আমার এরকম মনে হচ্ছিল যেন আমার জীবনে আর কিছু করার নেই এবং ঔপন্যাসিক হিসেবেও বলার কিছু নেই।আমি শঙ্করদেবের মধ্যে নিজের ব্যক্তিত্ব লীন করে দিয়েছি।’

    শঙ্করদেবের জীবন চরিতের যে সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে তার প্রায় সমস্ত কিছুই শ্রী বরার আলোচ্য উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে।উপন্যাসের মধ্যে শঙ্করদেবের জীবনের সমস্ত উপাদান পাঠক খুঁজে পাবেন।শঙ্করদেবের শৈশব থেকে দেহাবসান পর্যন্ত বিস্তৃত এবং ঘটনাবহুল জীবন কাহিনি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। শঙ্করের শৈশবের পৃথিবী ,তাকে কেন্দ্র করে কলরব করতে থাকা অসংখ্য শিশু,তাদের খেলাধুলো,আনন্দ স্ফুর্তি বর্ণনায় লেখক গোকুল বৃন্দাবনের পরিবেশ ফুটিয়ে তুলেছেন।শঙ্করদেবের জীবন নানা সংঘাতে পরিপূর্ণ।শিরোমণি ভূঞার পদত্যাগ,রাজশক্তিগুলির সঙ্গে সংঘাত,তীর্থযাত্রা,বরদোয়া থেকে কোচবিহার পর্যন্ত স্থান থেকে স্থানান্তরে যাত্রা।ধুয়াহাটে মাধবদেবের সঙ্গে মিলন,দামোদর দেবের সঙ্গে সংযোগ,গীত-নাট্য-কাব্য আদির রচনা,প্রতিক্রিয়াশীল চক্রগুলির ষড়যন্ত্র,সাংসারিক জীবনের দুঃখ বেদনা ,ভক্তদের সান্নিধ্য,মাধবদেবকে পন্থের ভার অর্পণ,নরনারায়ণ এবং চিলা রায়ের সঙ্গে সংযোগ,নরনারায়ণের শরণের অনুরোধ,দেহাবসান-এই সুদীর্ঘ,বৈচিত্র্যময় ঘটনারাশি কেবল শঙ্করদেবের মতো একজন মহাপুরুষের জীবনেই সম্ভব।এই সমস্ত বিষয়গুলি আলোচ্য ‘যাকেরি নাহিকে উপাম’উপন্যাসে ডঃলক্ষ্ণীনন্দন বরা আকর্ষণীয় রূপে উপস্থাপিত করে সার্থক জীবনী উপন্যাসের এক উল্লেখযোগ্য নিদর্শন স্থাপন করেছেন। 

    আধুনিক অসমে মহাপুরুষ শঙ্করদেবের জীবন চরিত,নব-বৈষ্ণব ধর্ম,সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার নতুন অধ্যয়নের পথ উন্মোচন করেন সাহিত্যরথী লক্ষ্ণীনাথ বেজবরুয়া।তাঁর শক্তিশালী লেখনী ছাড়া আজকের অসমে এত ব্যাপক এবং গুরুত্বপূর্ণভাবে শঙ্করদেব চর্চা হত কিনা সে সম্পর্কে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।

    আধুনিক অসমের প্রগতিশীল আদর্শের প্রতিভূ জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা শঙ্করদেব সম্পর্কে অত্যন্ত উচ্চ ধারণা পোষণ করতেন। তাঁর বিভিন্ন রচনায় এই বিষয়ে তিনি নতুন আলোকপাত করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।

    জ্যোতিপ্রসাদ ইউরোপ থেকে ফিরে এসে বরদোয়া সত্র দর্শন করতে গিয়ে সেখানে নামঘরের কাঠের খুঁটিতে কেটে রাখা পুরোনো দিনের স্থাপত্যের নিদর্শন দেখে অভিভূত হয়েছিলেন।সেই অভিজ্ঞতার কথা তিনি বিমুগ্ধ চিত্তে লিখেছিলেন-‘পশ্চিমী শিক্ষা পেয়ে অহঙ্কারে অন্ধ হয়ে ঘরের মহা প্রতিভাকে চিনতে না পেরে ঘুরে বেড়ানো আমার মনের সমস্ত অহঙ্কার সেদিন একেবারে ধূলির সঙ্গে মিশে গেল।’

    জ্যোতিপ্রসাদ শঙ্করদেবের বিশিষ্ট অবদান নামঘরের বিষয়ে সপ্রশংস মন্তব্য করেছিলেন।নামঘরের স্থাপত্যের সরলতা এবং তার মধ্যে জ্বলজ্বল করতে থাকা সৌন্দর্যের বিষয়েও তিনি উচ্চ ধারণা পোষণ করতেন।একথা উল্লেখ করা যেতে পারে যে জ্যোতিপ্রসাদই সর্ব প্রথম শঙ্করদেবের প্রগতিশীল বিশিষ্টতার সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন।তিনি বলেছেন যে অসমিয়া জাতিকে প্রগতিশীলরূপে গড়ে তুলেছেন মহাপুরুষ শঙ্করদেব।বিপ্লবী জ্যোতিপ্রসাদ মহাপুরুষ শঙ্করদেবের বৈপ্লবিক সত্তার গুরুত্বকে মর্মে মর্মে উপলদ্ধি করেছিলেন। জ্যোতিপ্রসাদের মতে শঙ্করদেব নতুন এক সংস্কৃতি গড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমন্বয়ের বুনিয়াদও রচনা করেন। তাছাড়া শঙ্করদেব ‘উচ্চ সংস্কৃতিকে জনতামুখী’করে তোলেন।জ্যোতিপ্রসাদ শঙ্করদেবের সমন্বয় নীতির কথা বলার সময় এমন কি গীত-পদে ব্রজাবলী শব্দমালাকে অসমিয়া ভাষার অন্তর্ভুক্ত করার কথাও উল্লেখ করেছেন।অসমের স্থানীয় সম্পদকে অন্য প্রদেশের অর্থাৎ সর্ব্বভারতীয় সম্পদের সঙ্গে সমন্বিত করাটাও তিনি লক্ষ্য করেন।