BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Monday, 01 Mar 2021  সোমবার, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

আজ মিডিয়া ফাইনাল ! ক্রিকেট যেমন দেয়, তেমনি কেড়েও নেয়!

Bartalipi, বার্তালিপি, আজ মিডিয়া ফাইনাল ! ক্রিকেট যেমন দেয়, তেমনি কেড়েও নেয়!

বাক্‌সের নবম মিডিয়া ক্রিকেট ফেস্ট এখন শেষ পৰ্যায়ে৷ শুধু বাকি খেতাবি লড়াই৷ তবে, যুক্ত মিডিয়া ক্রিকেটের এই নবম সংস্করণে যে এত রোমাঞ্চ থাকবে, কে তা জানতো? আক্ষরিক অৰ্থেই নতুন নজির সৃষ্টি করল এবারকার আসর৷ কারণ, সবক’টি শিলচরিয়ান টিমকে ছিটকে দিয়ে রবিবারের মেগা ফাইনালে প্ৰথমবারের মুখোমুখি হচ্ছে হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জের মিডিয়া দল৷ এদিন খেলা হবে। খেলা হবে সকাল ১০টা থেকে। তবে এর আগে শনিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে করিমগঞ্জ জেতে সুপার থ্ৰিলার৷ সুপার ওভারে তারা নিশ্চিত করে নিজেদের জয়৷ দু-দু’টি সেমিফাইনালে কীভাবে কী ঘটল, এ নিয়েই লিখছেন সায়ন বিশ্বাস

 ট্ৰ্যাজিক হিরো। অনিরুদ্ধ লস্কর আউট হওয়ার পর তিনি শুরু থেকে শেষপৰ্যন্ত দলটাকে টানলেন; হাফসেঞ্চুরি করে টিমের স্কোর পার করালেন একশ’র গণ্ডি! বোলিং ইনিংসের ডেথ-এ যখন ম্যাচটা ফসকে যাচ্ছে; তখনই রূপকথার মিডাস হয়ে পরপর দু’বলে দু’জনকে ফিরিয়ে দিয়ে ঠুঁসে দিলেন চরম থ্ৰিলার৷ ম্যাচটি সুপারওভার পৰ্যন্ত গড়ানোর পেছনে মূল কারিগরও তিনিই৷ অথচ সেই তিনি, অৰ্থাৎ অনিৰ্বাণ রায়চৌধুরী সুপার থ্ৰিলারে গিয়ে ১৮টি রান দিলেন৷ যা আর তাড়া করতে পারেনি তাঁর দল নেতাজি ছাত্ৰযুব সংস্থা প্ৰেস ফাইটাৰ্স৷ ছয় বলের লড়াইয়ে অনিদ্ধ-অনিৰ্বাণ, দুই তাবড় স্ট্ৰোকমেকার চেষ্টা করেও ব্যৰ্থ হন৷ ছয় রান পিছিয়ে থেকে শেষ হয়ে যায় তাদের অভিযান৷ নেতাজির জন্মদিনে আসর থেকে ছিটকে যায় নেতাজি ছাত্ৰযুব সংস্থার মিডিয়া স্কোয়াড৷ আর, প্ৰথমবারের মতো ফাইনালের টিকিট আদায় করে নেয় অতিথি দল প্ৰেস ক্লাব করিমগঞ্জ স্ট্ৰাইকাৰ্স৷

রবিবার হাইভোজে ফাইনালে শিলচরিয়ান কোনও দল নেই৷ মিডিয়া ক্রিকেটের ন’বছরে এটা বেনজির৷ আর, এই বেনজির ঘটনার সূচনা হয় প্ৰথম সেমিফাইনাল ম্যাচে হাইলাকান্দি প্ৰেস ক্লাবের দুরন্ত জয়ে৷ ভ্যালি স্ট্ৰং নিউজ রকাৰ্স সত্যিকার অৰ্থেই আসরের একটা ‘ভেরি স্ট্ৰং’ টিম ছিল৷ তাদের সব তাবড় ক্রিকেটারেরা ফৰ্মে ছিলেন৷ সুব্ৰত দাস, সঞ্জীব সিং, শ্যাম সিংহ৷ ব্যাটিংয়ে রোজ স্ট্ৰোকের তুবড়ি ছুটছিল৷ বাহারি ছক্কা, চার৷ কখনও সোজা ব্যাটে, কখনও লেগসাইডে৷ কখনও বা দুরন্ত স্ট্ৰেট ব্যাট কিংবা দ্ৰাবিড়োচিত কভার ড্ৰাইভে৷ সেমিফাইনালেও ছোটে তাদের বাহারি স্ট্ৰোকের ফুলঝুরি৷ অথচ এমনই একটা দলকে হারিয়ে হাইলাকান্দি বুঝিয়ে দিয়েছিল, এবার অন্য কিছুই রয়েছে মিডিয়া ফাইনালের গৰ্ভে৷ হাইলাকান্দির নিৰ্মল সিনহার দুৰ্ধৰ্ষ ব্যাটিং সঞ্জীব-সুব্ৰতদের স্ট্ৰোকপ্লে-কে শুধু ভুলিয়ে দেয়নি, মুছিয়েও দিয়েছে। অন্তত এই মরশুমের জন্য তো বটেই!

তবে এদিন পড়ন্ত বিকেলের এসএম দেব স্টেডিয়াম যে দুৰ্ধষ রোমাঞ্চের সাক্ষী থাকল, তা ক্রিকেটে রোজ রোজ ঘটে না৷ ঘটে না বলেই তো মাঠে তুমুল ভিড় জমে৷ দৰ্শকরা চেঁচাতে থাকেন ; বলতে থাকেন; হবে, খেলা হবে!

স্কোরবোৰ্ড তো আস্তো গাধা৷ তাই হাইলাকান্দি বনাম নেতাজি ছাত্ৰযুব সংস্থার ম্যাচটির উত্তাপ স্কোরবোৰ্ড দেখে বোঝার সুযোগ নেই৷ যারা ম্যাচে ছিলেন, যারা দৰ্শক ছিলেন, তারাই বোঝেন স্নায়ুর চাপ কী, কাহাকে বলে, কতপ্ৰকার এবং কী কী!
এই যেমন অরূপ রায়ের কথাই ধরুন৷ সিনিয়র সাংবাদিক অরূপবাবু করিমগঞ্জ দলের ম্যানেজার৷ তাঁর টিম একটা সময় রান তাড়া করতে গিয়ে ভাল অবস্থানে ছিল৷ অনিৰ্বাণ যখন দু’উইকেট নিয়ে ম্যাচটা ছোট করে দিলেন, সম্ভাবনাও কমে এল করিমগঞ্জের৷ এমন সময় অরূপ বাউন্ডারির বাইরে মুখ উল্টে শুয়ে পড়লেন৷ ডাকাডাকি সত্ত্বেও পাত্তা দেননি কিছুই৷ জানালেন, তাঁর শরীরটা কেমন কেমন করছে৷ একটা সময় তো রীতিমতো অজ্ঞান হওয়ার জোগাড়৷ তাকে জল-টলও দেওয়া হল। একটা সময়, মুখ থুবড়ে এক নাগাড়ে ঈশ্বর ডাকতে শুরু করলেন অরূপ৷ ঈশ্বর বোধহয় তাঁর কথাই শুনলেন শেষপৰ্যন্ত!

শেষ জুটিতে ম্যাচ টাই করার আগে অভিজিৎ পাল ও খয়রুল আলম চৌধুরী যে রুদ্ধশ্বাস লড়াই উপহার দিয়েছেন, ক্রিকেটের চিত্ৰনাট্যে এমন থ্ৰিলার ঠুঁসে দেওয়া কোনও দুৰ্ধৰ্ষ স্ক্ৰিপ্ট রাইটারের কম্মো নয়! দুই আনকোরা ব্যাটসম্যান, যাদের স্টান্স অবধি ক্রিকেটসুলভ নয়, তারাই কিনা শেষ দিকে ১৩ বলে ৮ রানের জুটি গড়ে টাই পৰ্যন্ত টেনে নিলেন ম্যাচ৷ খয়রুল-সাহেব শেষ বলে ক্যাচ তুলে না দিলে খেলাটা সুপার ওভার পৰ্যন্ত গড়াতোই না৷

এটাই নিয়তি! খেলা সুপার ওভারে গড়ালো, হয়তো দিনের নায়ককে ট্ৰ্যাজিক হিরোতে পরিণত করার জন্যই গড়ালো৷ পিচ কামড়ে যে অনিৰ্বাণ দলকে জয়ের চৌকাঠে পৌঁছে দিয়েছিলেন, প্ৰতিটি ম্যাচেই যিনি ব্যাটে-বলে ‘কন্ট্ৰি’ করে যাচ্ছিলেন৷ সেই অনিৰ্বাণকে সুপার ওভারে পিটিয়ে ছাতু বানালেন করিমগঞ্জের রাহুল দাস৷ রাহুল শুরু থেকে এতটা উজ্জ্বল না হলেও দিনের শেষ তিনিই সুপারহিরো৷ আর, এই ক’দিন ধরেই যিনি ‘হিরো’র স্ট্যাটাস নিয়ে মিডিয়া ক্রিকেটে দাপট দেখাচ্ছিলেন৷ দিনের শেষে তিনি হিরো বটেই, তবে ট্ৰ্যাজিক হিরো৷

আসলে এটাই ক্রিকেট৷ এই ক্রিকেট দেয়, আবার এই ক্রিকেট ছিনিয়েও নেয়!