BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Friday, 26 Feb 2021  শুক্রবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

ভারতের ৪০ কোটি ইউজারের ধাক্কা সামলাতে পারবে তো হোয়াটসঅ্যাপ?

Bartalipi, বার্তালিপি, ভারতের ৪০ কোটি ইউজারের ধাক্কা সামলাতে পারবে তো হোয়াটসঅ্যাপ?

হোয়াটসঅ্যাপ। এই মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন যে মানুষের কাছে চাহিদার শীর্ষে, তা আলাদা করে বলার নেই। কিন্তু ইদানীং মানুষকে বেশ চিন্তায় ফেলেছে এই অ্যাপ। বরাক সহ দেশের বাকি অংশের লোকজন চমকে গেছেন এই হোয়াটসঅ্যাপ সংক্রান্ত একটি বার্তা পেয়ে। অ্যাপ্লিকেশনটি যাঁদের নিত্য সঙ্গী জানুয়ারির প্রথমদিকে একটি এসএমএস আসে তাঁদের কাছে। যেখানে উল্লেখ ছিল 'নতুন টার্মস অ্যান্ড সার্ভিস (টিওএস) গ্রহণ না করলে ৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে বন্ধ হয়ে যাবে তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপ পরিষেবা। এককথায় শর্ত না মানলে মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারবেন না কেউ। অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, স্ট্রং ইউজার প্রটেকশন-এর ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ ইতিমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বাজারে এসেছে ভরসার বার্তা দিয়ে। এই জায়গায় ফের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হল কেন, এর কারণই বা কি।

এবারে একটু অতীতের দিকে ঢুঁ মারি। সাল ২০০৯। প্রথম 'হোয়াটসঅ্যাপ'নামের মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন হাতে আসে মানুষের। প্রায় একযুগ আগে ব্রায়ান অ্যাকটন জন কৌম এই অ্যাপ্লিকেশনের প্রথম ভার্সন টেকনো দুনিয়ার সামনে এনেছিলেন। অ্যাপটির এমন আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা হয়তো তখন তাঁরা কল্পনাও করতে পারেন নি। বলতে দ্বিধা নেই, প্রথমদিকে কিছুটা তথ্য গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশেষ করে অ্যাপ ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের ক্ষেত্রে এমন খামতি ধরা পড়েছে। তবে, ২০১৪ সালে নতুন মাইলস্টোন পেয়ে যায় হোয়াটসঅ্যাপ। কারণ ওই বছর ফেসবুক অধিগ্রহণ করে হোয়াটসঅ্যাপ'কে। এককথায়, ফেসবুকের নজরদারিতে এসে যায় এটি। আওতায় আসে সিঙ্গল প্রটোকলেরও। ফলে 'এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন' নিয়ে সুরক্ষার জায়গা আরও পাকাপোক্ত হয়ে যায়। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। দেখতে দেখতে আইপি মেসেজিং ও টেলিফোনি-র দিক থেকে বিশ্বের জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশন হয়ে যায় হোয়াটসঅ্যাপ। পৌঁছে যায় ২০০ কোটি মানুষের কাছে।শুধুমাত্র ভারতেই ইউজারের সংখ্যা ৪০ কোটি, যা কোনও দেশের তুলনায় পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

অবাক হওয়ার কথা হল, এমন উচ্চতায় পৌঁছানোর পর এবার শর্ত চাপিয়ে দিয়ে ইউজারদের অসুরক্ষার পথে ঠেলে দিচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। যে অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারীদের তথ্য গোপন রাখার কথা বলেছিল।তাঁদের ডাটা বহাল তবিয়তে রাখার বার্তা দিয়েছিল। এসব প্রতিশ্রুতি বজায়ের জন্যই যার তথ্য-প্রযুক্তি জগতে জনপ্রিয়তা, হঠাৎ করে কীভাবে মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসকে ভাঙার কারণ হতে চলেছে সেই অ্যাপ্লিকেশন। নতুন 'টিওএস' মতে ফেসবুকে তথ্য ভাগ করে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে ইউজারদের। আরও বিস্ময়ের ব্যাপার হল একজন ইউজারের তথ্যের আদান-প্রদান, ব্যবসা সংক্রান্ত কথা-বার্তা, মোবাইল ডিভাইস ইনফরমেশন, আইপি অ্যাড্রেস সহ অন্যান্য ডাটা হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম সহ ফেসবুক কোম্পানির বাকি গ্রুপেও শেয়ার করার অনুমতি দিতে হবে ইউজারদের। অন্যথায় হোয়াটসঅ্যাপ নিয়মিত থাকবে না। বন্ধ হয়ে যাবে অ্যাপ সার্ভিস।

যদিও হোয়াটসঅ্যাপ অন্যভাবে স্পষ্টীকরণ দিতে চাইছে। বলা হচ্ছে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের এই শর্তে কিছু যাবে-আসবে না। আগের মতোই থাকবে সবকিছু। কোনও পরিবর্তন হবে না। শুধুমাত্র ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ই শেয়ার হবে। যদি দেখা যায় যে ব্যবসার জন্য ফেসবুক'কে ব্যবহার করা হচ্ছে, তখন আগাম জানিয়ে দেওয়া হবে ইউজারকে। আর এইক্ষেত্রে নতুন প্রাইভেসি পলিসি মতো চলবে হোয়াটসঅ্যাপ। চাইলে একজন ইউজার তাঁর বিজনেস অ্যাকাউন্ট বন্ধও করতে পারেন। সেই বিকল্প থাকবে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ-এর এই যুক্তি তার জায়গায় ঠিক থাকলেও, জানার জায়গা আরও রয়ে গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে সব যখন ঠিকই আছে, তাহলে কেন নিজের ব্যক্তিগত তথ্য ভাগ না করার বিকল্পে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

আমি যদি ফেসবুক-এর কথা বলি, শুরুতেই আজকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার তারকা হয়ে ওঠেনি এটি। ভুয়ো প্রচারও কম হয় নি ফেসবুকের মধ্য দিয়ে। ২০১৬-র ইউএস নির্বাচন ছিল তার মধ্যে অন্যতম। ২০১৮ সালে একটি ইউএস ভিত্তিক সংবাদ সংস্থার তদন্তমূলক সমীক্ষায় উঠে আসে বহু তথ্য। দেখা গেছে স্পটিফাই,অ্যামাজন, অ্যাপেল ইত্যাদি টেকনো ফার্মে তথ্য পাচার হচ্ছে ফেসবুক থেকে। তার মানে লকেশন থেকে শুরু করে ইউপিআই, ট্রানজ্যাকশন সংক্রান্ত যেসব তথ্য আমরা ফেসবুকে শেয়ার করছি, তা অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখার প্রয়োজন।

আর হোয়াটসঅ্যাপ-এর নতুন শর্তের ব্যাপারে যদি বলি, তাহলে এই টিওএস ডাটা প্রটেকশন বিল-২০১৮ মানছেই না। কারণ, ওই বিলের ভিত্তিতে তৈরি আইন বলছে, প্রত্যেক ইউজারের তথ্য সুরক্ষিত রাখতেই হবে। অনুমতি ছাড়া তথ্য বিনিময় করা যাবে না না।এমন-কি ইউজার যদি প্রাপ্ত বয়স্ক না হয়, সেক্ষেত্রে অভিবাবকের অনুমতি লাগবে। কিন্তু এখানে ডাটা প্রটেকশন আইন যেহেতু ধোপে টিকছে না, লাগাম ধরতে হবে কম্পিটিশন কমিশন অব ইন্ডিয়া'কে। কারণ, এভাবে কোনও অর্গানাইজেশন বা ব্যবসায়ী সংস্থা আমজনতার স্বার্থে আঘাত করে একচেটিয়া বাজার চালাতে পারে না। কোনও ভাবেই অসুরক্ষার দিকে ঠেলে দিতে পারে না কোটি কোটি মানুষকে।

'পেগাসাস' হ্যাকিং এর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ'কে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু এখনকার প্রসঙ্গ আরও শঙ্কার। তাই সরকারের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।কড়া পদক্ষেপ জরুরি।কারণ,হোয়াটসঅ্যাপ-এর নতুন টার্মস অ্যান্ড সার্ভিস ৪০০ মিলিয়ন ভারতবাসীকে বিপদে ফেলবে। প্রশ্নের মুখে থাকবে তাঁদের তথ্যগত সুরক্ষা ও গোপনীয়তা। হ্যাঁ, এখানে আরেকটা শর্তও তো হতে পারে, 'হোয়াটসঅ্যাপ যদি তাদের কোনও সমস্যার দরুন এই নতুন টিওএস প্রত্যাহার করতে না পারে, তাহলে নতুন আরেকটা ভার্সন আনুক। যেখানে তথ্য শেয়ার করতে হবে না ইউজারদের। বহাল তবিয়তে থাকবে তাঁদের আইটি সিকিউরিটি।

শেষ পাওয়া খবরে অবশ্য জানা গেছে, তাঁদের প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো ১৫ মে পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে হোয়াটসঅ্যাপ। কেন্দ্র সরকার একটি নোটিফিকেশন পাঠিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ-এর কাছে স্পষ্টীকরণ চেয়েছিল। তারপরই টিওএস-এর পরিবর্তনগুলো সাময়িক স্থগিত রেখেছে হোয়াটসঅ্যাপ। ফলে, ইউজারদের কাছে কিছুটা হলেও এই খবর স্বস্তির।