BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Friday, 26 Feb 2021  শুক্রবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ২০২১ কেন সেরা হতে চলেছে?

Bartalipi, বার্তালিপি, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ২০২১ কেন সেরা হতে চলেছে?

একুশ-এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেক আশা-প্রত্যাশা। নতুন বছরকে অন্য চোখে দেখছে গোটা বিশ্ব। বিশের করোনা-বিষ ভুলে সুস্থ ও সুরক্ষিত জীবন চাইছেন সবাই। কোভিড মহামারি, লকডাউন যে আর্থিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে, কার্যত বছরের শুরু থেকেই জোর প্রয়াস চলছে তা কাটিয়ে ওঠার।  তবে আমি কিন্তু ২০২১-কে আরেকটু আলাদাভাবে দেখছি। এই বছরের গুরুত্বকে উপলব্ধি করতে পারছি। যার রেশটা এসেছে কিন্তু করোনাকাল থেকেই। কারণ, ২০২০-এ বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস থাবা বসানোয়  বন্ধ ছিল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে হাট-বাজার। ফলে, অনলাইন পড়াশোনা ও ঘরে বসে কাজ বাধ্যতামূলক হয়ে গিয়েছিল। এমন-কি অনলাইন শপিং-এর দিকেও ঝোঁক বেড়েছে মানুষের। ভারতের অবস্থাও সেই একই। অন্যদিকে, সময়ের দাবি মেনে তথ্য-প্রযুক্তিও আমজনতার চাহিদার খেয়াল রেখে গেছে। নিত্য-নতুন অ্যাপ্লিকেশন পৌঁছে দিয়েছে হাতের কাছে। তাই ইন্টারনেট ও ডিজিটাল  সমাজজীবনকে আঁকড়ে ধরা বা এই দিকটাতে বাড়তি প্রবণতার জায়গা যে তৈরি হয়েছে তা বলতেই হয়। আগামীদিনে ইন্টারনেটমুখো হওয়ার কিছু সঙ্গত কারণ আমার মতো করে বলছি, যেটা আমার মনে হয়েছে।

প্রথমত, পর্যাপ্ত অনলাইন পরিষেবা। প্রায় সর্বত্রই রয়েছে এর প্রভাব।  লেনদেন, কেনাকাটা, বিমান-রেল-বাস  বা যে কোনও টিকিট, পেশাদার কাজকর্ম, পড়াশোনা ইত্যাদি সবকিছুর ক্ষেত্রেই  সশরীরের উপস্থিতি থেকে অনলাইন ফরম্যাট'কে এখন সাধারণ মানুষ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কেন্দ্র সরকারের ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচি ও ভারতনেট নেটওয়ার্ক-এর উদ্যোগে দেশের বেশিরভাগ জায়গায় গুণগত মানের নেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আগামীদিনে এই পরিষেবা আরও বিশ্বাস ও ভরসা অর্জন করবে। ফোর-জি নেটওয়ার্ক  পৌঁছে যাবে বাকি অঞ্চলগুলোতে।  মসৃণ পরিষেবা পাবেন মানুষ। এখনই কিছু মানুষ তাঁদের পেনশনের লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিচ্ছেন অনলাইনে। সামনের দিনগুলোতে এই সংখ্যা বাড়বে। ডিজিলকার-ভরসার জায়গা হবে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রাখার। এককথায় অনলাইন-ফরম্যাটকে  সবক্ষেত্রেই একটি বিশ্বস্ত মাধ্যম হিসেবে মান্যতা দেবেন জনসাধারণ। যার ফলে সম্ভাবনা বাড়বে সাইবার জমানায় অবাধ বিচরণের। 

দ্বিতীয়ত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির গাণিতিক পরিভাষার একটা বড়সড় প্রভাব থাকবে। বিশ্বের একাধিক ক্ষেত্রে একজনকে পরিচয় করিয়ে দিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারে এই বুদ্ধিমত্তা-প্রযুক্তি জুটি। আজকের দিনে  নেটওয়ার্ক, ক্যামেরা, ফেশিয়াল রিকগনিশন ইত্যাদি অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে  ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ চলে। এসবের ব্যবহার ও সুরক্ষা নিয়ে অনেক প্রশ্ন থেকে যায়। কিন্তু আগামীদিনে এই ব্যবস্থাও আরও শক্তপোক্ত করা হবে। ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার করা এত সহজসাধ্য হবে না। ওই সময় ভয়েজ কমান্ড ও গেসচারস-এর ওপরেই বেশি প্রধান্যতা থাকবে।

তৃতীয়ত, পরিসর বাড়বে ক্লাউড কম্পিউটিং-এর। ক্লাউড কম্পিউটিং-এর ব্যাপ্তি হলে ব্যক্তিগত সার্ভারে ডাটা সংরক্ষণ করতে  হবে না। ক্লাউড সিস্টেমেই পর্যাপ্ত ডাটা রাখা যাবে। কোভিড-কালের লকডাউনে এই ক্লাউড সিস্টেমের ক্ষমতা দেখেছে নেট দুনিয়া। বলতে পারি ক্লাউড কম্পিউটিং-এর প্রদর্শনী ছিল ওই পরিস্থিতিতে। এই ক্লাউডের দৌলতেই কোনওরকম  বাধার সম্মুখীন না হয়েই প্রতিষ্ঠান-সংস্থাগুলো যে যার কাজকর্ম বিকল্প নেটওয়ার্কে করতে পেরেছেন। সামনের বছরগুলোতে ব্যবসাক্ষেত্রে সুরক্ষযুক্ত পরিষেবার মাধ্যম হতে পারে এই ক্লাউড। তাছাড়া, 'মেশিন লার্নিং প্রোগ্রাম' এর মতো গুচ্ছ অ্যাপ্লিকেশন পরিচালনা করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে ক্লাউডের মধ্য দিয়ে। গেল বছর আমরা দেখেছি 'এজ কম্পিউটিং' এ বহু ডাটার বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে। কিন্তু ২০২১-এ এই ডাটা ম্যানেজজমেন্ট থাকবে না। নতুন ধারাবাহিকতা দেখতে পাব আমরা।


চতুর্থত, প্রযুক্তি বিরোধী চক্র। ভারতীয়দের কথা বললে, তাঁরা কিন্তু গুগল, অ্যাপেল, ফেসবুক, অ্যামাজন (জিএএফএ)- কে বেশি অনুসরণ করে। এখানেই বিরোধী শত্রুপক্ষের নজর। এই বিরোধী শিবির বিভিন্ন সরকারের হয়ে কাজ করে। এদের দুরভিসন্ধি রুখতে   নতুন পলিসির উদ্ভাবন দেখা যাবে এই ২০২১-এর বছরেই।


এবারে আসি পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক সিস্টেমের প্রসঙ্গে। ফোর-জি'র পর এখন ফাইভ-জি'র অপেক্ষায় মানুষ। ব্রডব্যান্ড সেলুলার নেটওয়ার্ক  নিয়ে উৎসাহ বাড়ছে মানুষের। রিলায়েন্স জিও জানিয়ে দিয়েছে আগামী বছরের শেষের দিকে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক এর কাজ শেষ করে  নিতে পারবে। এই নেটওয়ার্ক-এর অন্তর্গত ডাউনলোড স্পিড সেকেন্ড প্রতি দশ জি বাইটস-এর কাছাকাছি থাকবে। আমরা বলতে পারি এই সিস্টেম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে নেট দুনিয়ায় সূচনা হবে এক নতুন যুগের। আর একুশ সাল যে গোটা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, তাতে সন্দেহের জায়গা নেই। 

সাইবার ক্রাইম নিয়ে যদি বলি, তাহলে সবকিছুর পরও গুরুত্বপূর্ণ দিক এটি। বিশেষ করে নেট দুনিয়ায় সাইবার সিকিউরিটির প্রাসঙ্গিকতা প্রতি মুহূর্তে জরুরি। ও অন্যান্য বছরের তুলনায় কোভিড-বর্ষে সাইবার অপরাধ  বেড়েছে। তার কারণ 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম'। বহু কোম্পানি, সংস্থা করোনা সতর্কতায় এই সিস্টেমেই কাজ সঙ্কুলান করেছে। এতে নিজের কাজ উদ্ধার হলেও এর বাইরে গিয়ে ডাটা অ্যাকসেস  হয়েছে সামাজিক মাধ্যম ও বিনোদনে ঝোঁক থাকার দরুন। দফতরে বসে কাজ করলে অবশ্য এই সমস্যার জায়গা ছিল না। আর সম্ভাবনা থাকলেও খুবই কম। এই অ্যাকসেস-এর ফলে অর্থকড়ি সংক্রান্ত তথ্যও ফাঁস হয়েছে সাইবার স্পেস-এ। অনেক মানুষ সাইবার হানার শিকার হয়েছেন। ব্যাংক খাতা থেকে টাকা উড়িয়ে নিয়ে গেছে হ্যাকাররা। তবে ২০২১ এবিষয়ে সতর্ক থাকবে। নজরদারি বাড়বে। এই বছর ভারত সহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো মিলে সাইবার ক্রাইমের যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই,  ভাল খবর তো এটাও।

সবমিলিয়ে  বলতে পারি নতুন বছর প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সেরা হিসেবেই সামনে আসবে আমাদের।  পরবর্তী প্রজন্মের নেটওয়ার্ক পাব আমরা, এটাও তো অনেক বড় ব্যাপার। বলতে দ্বিধা নেই যে আরও বেশি  করে ডিজিটাল জমানায় ঘোরাফেরা থাকবে সবার। দেশের সঙ্গে নেট বিশ্বে সমানতালে চলবে উত্তর-পূর্বও।