BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

'বিষ' অতীত ! স্কুটির চাবি হাতে পেয়ে উৎফুল্ল জামাল-কন্যা

Bartalipi, বার্তালিপি, 'বিষ' অতীত ! স্কুটির চাবি হাতে পেয়ে উৎফুল্ল জামাল-কন্যা

২০২০ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় করিমগঞ্জ জেলার কৃতি দশজন ছাত্রীর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিল আমাতুর রহমান। এই আমাতুর আর কেউ নয়, অসমের প্রথম করোনা আক্রান্ত শ্রীগৌরীর মুফতি জামাল উদ্দিনের মেয়ে। স্থানীয় খয়রুন্নেছা বেগম উইমেন্স কলেজ থেকে ৮৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে সে। তবে পরীক্ষা এবং ফল ঘোষণার মাঝে দিনগুলি চরম উৎকণ্ঠায় আর অস্থিরতায় কেটেছে আমাতুর সহ গোটা পরিবারের। অন্য মেয়েরা যখন এই সময়টাতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়, সেখানে সপরিবারে ১৮ দিন গিরিশগঞ্জের কোয়ারান্টাইন সেন্টারে কেটেছে আমাতুরের। আর, তার বাবা মুফতি জামাল তো শিলচর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ঝড়ঝাপটা সামলে একটু ধাতস্থ হতেই সুখবরটা পেলেন আমাতুর। উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল বেরোলো। তিনি জানান, পরীক্ষা দেওয়ার পর‌ই ভাল স্কোর করার আত্মবিশ্বাস ছিল তার। বর্তমানে এক‌ই কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন আমাতুর।
যারা বলছেন, তবলিগিরা সমাজকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং তারা আধুনিকতা বিবর্জিত তাদের জন্য মুফতি জামালের মেয়ে আসল বার্তাটি দেখিয়ে দিল। শনিবার মন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য এবং অন্য অতিথিদের কাছ থেকে স্কুটি সমঝে নিয়ে আমাতুর জানালেন, কিছুদিনের মধ্যে তিনি সেটা চালানো শিখে নেবেন। তার দাদা দাউদ জামালের বাইক আছে। তাই শেখানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হবে না।
যে দশজন ছাত্রী মঞ্চ থেকে স্কুটি রেপ্লিকা চাবি গ্রহণ করলেন, সবাই অত্যন্ত উৎফুল্ল ছিলেন। মেয়েরাও যে পড়াশোনার জন্য প্রচুর পরিশ্রম করতে পারে, তারাই এর দৃষ্টান্ত। জেলার মধ্যে সেরা হওয়া কাবেরী সিংহ মূলত ধর্মনগরের বাসিন্দা। বাবা কর্মজিত সিংহ ধর্মনগরে শিক্ষকতা করেন। কাবেরী পড়াশোনা করেছেন করিমগঞ্জের তারাভূষণ পাল জুনিয়র কলেজে। এবছর শিলচর গুরুচরণ কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান স্নাতক কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। জানালেন, মাত্র ছয় নম্বরের জন্য তিনি প্রথম দশে ঢুকতে পারেননি। এবার স্নাতক কোর্সে সেই দুঃখ ঘুচাতে চান।
করিমগঞ্জের রমণী রোডের দেবিকা নাথ করিমগঞ্জ জুনিয়র কলেজ থেকে ৮৯ শতাংশ নম্বর পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন। নিয়মিত সাইকেল চালান দেবিকা। এবার থেকে স্কুটি চালাবেন বলে দারুণ খুশি এই কলেজ ছাত্রীটি।
কিশোর বিকাশ এইচ এস স্কুল থেকে ৮৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বর্তমানে রবীন্দ্র সদন কলেজে ভর্তি হয়েছেন সুহানা পারভিন। সমান নম্বর তারাভূষণের প্রাক্তন ছাত্রী অনিন্দিতা মজুমদার ও রবীন্দ্র সদনের নিকিতা ঘোষের। সবার এমন খুশি খুশি ভাব যে আসল চাবিটি হাতে পেলেই হয়।
নবীনচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মুর্তাজা হুসেন যখন ছাত্রীদের পক্ষ থেকে কাউকে বলার জন্য ডাকলেন, সুহানা আসল কথাটাই বললেন। তিনি বলেন, 'ছোট বোনরা যদি চেষ্টা করো এবং মনযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারো, তাহলে আমাদের চেয়েও ভাল ফল করে দেখাবে তোমরা।' অনেক জুনিয়র ছাত্রী এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল।