BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Sunday, 28 Feb 2021  রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

বিষের বিশ কাটছে? বিদায় নিচ্ছে বিভীষিকার একটি বছর

Bartalipi, বার্তালিপি, বিষের বিশ কাটছে? বিদায় নিচ্ছে বিভীষিকার একটি বছর

ব্যাটসম্যানের ছক্কা গিয়ে পড়ল গ্যালারিতে৷  

এত বছর আমরা দেখেছি, সেই বলটি লুফে নেওয়ার জন্য দৰ্শকদের কাড়াকাড়ি৷ কেউ ক্যাচ নিতে পারলে কী খুশি৷ না পারলে একবার বলটা ছুঁয়ে দেখতে পারলেই যেন জীবনটা ধন্য৷ 

এতদিন এটা ছিল পরিচিত দৃশ্য৷

কিন্তু ১৩ মাৰ্চ ২০২০৷ অন্য ছবি দেখল ক্রিকেট বিশ্ব৷ সিডনিতে অস্ট্ৰেলিয়া বনাম নিউজিল্যান্ডের প্ৰথম ওয়ানডে ম্যাচে খেলা শুরু হল ক্লোজডোরে৷ ১৯তম ওভারে স্পিনার ঈশ সোধির বলে মিড উইকেটের উপর দিয়ে সোজা গ্যালারিতে বল পাঠালেন অস্ট্ৰেলিয়া অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ৷ চেয়ারের সারির নিচে বলটা লুকিয়ে পড়ল৷ ইউরেকা! লুকি ফাৰ্গুসন বলটা যখন উদ্ধার করলেন সেটা যেন আৰ্কিমিডিসের আবিষ্কারের চেয়ে কম ছিল না৷ অবশ্য ফিঞ্চের এই ঠ্যাঙানির বদলাটা নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের জিমি নিশাম৷ তিনি স্টিভ স্মিথের একটা বলকে গ্যালারিতে পাঠান৷ অস্ট্ৰেলিয়ার পরিবৰ্ত ফিল্ডার অ্যাস্টন অ্যাগর এই চেয়ার থেকে ওই চেয়ারে ক্যাঙারু লাফ দিতে দিতে শেষ পৰ্যন্ত বলটা পেয়েছিলেন৷ 

ওই ম্যাচেই টেলিভিশন দৰ্শকরা দেখলেন, খেলোয়াড়রা হ্যান্ডশেক করছেন না৷ এমনকি সবাই মিলে গোল হাডলও উধাও৷ পরিচিত ছবির পাল্টে যাওয়া শুরু।

হ্যাঁ, কোভিড১৯ যখন অতিমারী হিসেবে ঘোষিত হল, এরপর ক্রীড়া জগৎ দীৰ্ঘদিন স্তব্ধ হয়ে পড়ে৷ ক্রিকেটে যেমনটা হয়েছিল ১৩ মাৰ্চের ওই ম্যাচের পর৷ মাঝে কাটল দীর্ঘ ১১৬ দিন। লম্বা বিরতির পর আন্তৰ্জাতিক ক্রিকেট ফিরল ‘নিউ নৰ্মাল’ নিয়ে৷ ৮ জুলাই সাউদাম্পটনে শুরু হল ইংল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্ৰথম টেস্ট ম্যাচ৷

 ২০২০ সালে এই ‘নিউ নৰ্মালটাই’ যেন স্বাভাবিক ব্যাপার৷ 

হ্যাঁ, ঘরোয়া খেলাধুলার চেয়ে আন্তৰ্জাতিক সাৰ্কিটেই ক্রিকেট ফিরেছে আগে৷ তবে ফুটবলের ক্ষেত্ৰে ইউরোপের বড় লিগগুলি করোনা-কালেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে৷ ১৩ মাৰ্চ স্থগিত হয়েছিল জাৰ্মান বুন্দেশলিগা৷ সাহস করে নিউ নৰ্মাল অনুসরণ করে জাৰ্মান ফুটবল কৰ্তৃপক্ষ (ডিএফএল) ১৬ মে থেকে ক্লোজডোরে পুনরায় খেলা আরম্ভ করে৷ ধীরে ধীরে অন্য ক্রীড়া আসরগুলিও নিউ নৰ্মালকে আপন করে নেয়৷

ভারতে আই-লিগে মোহনবাগানকে বিজয়ী ঘোষণা করে অবশিষ্ট খেলাগুলি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে৷ ঠিক এমনটাই করেছে ফরাসি ফুটবল৷ তারা ফ্ৰেঞ্চ লিগ ওয়ানে পিএসজি-কে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে মরশুমে দাঁড়ি টেনে দেয়৷ এই আই-লিগ কিংবা ফরাসি লিগের মতো বিশ্বের মোট ৫৯টি লিগ অসময়ে শেষ হয়েছে৷ সেগুলি বিভিন্ন দেশের প্ৰথম কিংবা দ্বিতীয় ডিভিশনের জাতীয় লিগ৷ আর, ৫৩টি লিগ স্থগিত রাখা হয়। পরে খালি গ্যালারি কিংবা সীমিত দর্শকের উপস্থিতিতে পরবৰ্তীতে খেলা মাঠে গড়িয়েছে৷ বুন্দেশলিগা, ইংলিশ প্ৰিমিয়ার লিগ, স্প্যানিশ লা লিগা, সিরি এ, জে লিগ, কে লিগ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ এই তালিকায় রয়েছে৷ আমাদের এক নম্বর লিগ অৰ্থাৎ আইএসএলের ফাইনাল অবশ্য করোনার থাবা ভাল করে বসার আগেই ফাঁকা স্টেডিয়ামে আয়োজন করে ফেলা হয়৷ এতে চ্যাম্পিয়ন হয় এটিকে৷

টেনিসে উইম্বলডন বাতিল করা হয়। ফ্রেঞ্চ ওপেন তারিখ পরিবর্তন করে বছরের শেষ গ্র্যান্ডস্লাম হিসেবে আয়োজিত হল।

তবে টোকিও অলিম্পিক, ইউরো কাপ ফুটবল, কোপা আমেরিকা কাপ,  অনূৰ্ধ্ব১৭ এবং অনূৰ্ধ্ব২০ মহিলা বিশ্বকাপ ফুটবল সহ, ক্রিকেটের এশিয়া কাপ এবং টি২০ বিশ্বকাপে ভালভাবেই করোনা এফেক্ট লেগেছে৷ কিছু আসর স্থগিত রেখে পরে বাতিল করা হয়েছে৷ কিছু পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ 

মোটর রেসের ফৰ্মুলা ওয়ানে কিছু আসর স্থগিত বা বাতিলের পাশাপাশি বছরের শেষদিকে এসে নতুন কিছু সাৰ্কিটকে গাড়ি ছোটানোর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে৷ এর পেছনে তিনটি উদ্দেশ্য--- ঝুটঝামেলা থেকে মুক্তি, আৰ্থিক ক্ষতির পরিমাণ কমানো কিংবা করোনা শৃঙ্খল আটকানো৷  


আন্তৰ্জাতিক ক্রিকেট কিংবা বড় বড় ফুটবল লিগগুলি শুরু করার পেছনে মূল কারণ কিন্তু আৰ্থিক৷ খেলা বাতিল হলে লক্ষ লক্ষ ডলারের আৰ্থিক ক্ষতি, বরং খেলা করাতে পারলে সেই ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে৷ এমনকি লাভের মুখ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে৷ ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার লোভেই টি২০ বিশ্বকাপ বাতিলের অপেক্ষায় যেন বসেই ছিলেন ক্রিকেট অস্ট্ৰেলিয়ার কৰ্তারা৷ নইলে তাদের আৰ্থিক পরিকাঠামো একেবারে ভেঙে পড়ত৷ 


দৰ্শকরা মাঠে এলে টিকিট মানি বাবদ মোটা অঙ্কের পয়সা আসে ঠিকই, কিন্তু আজকাল টেলিভিশন রেভিনিউ থেকে পাওয়া অৰ্থের পরিমাণ কোনওভাবে উপেক্ষা করা যায় না৷ সেটা মাথায় রেখেই খেলা মাঠে গড়িয়েছে৷ সবাই যখন লকডাউনে ঘরবন্দি সেই সময়ে টেলিভিশনে পুরনো খেলার রেকৰ্ডিং দেখতে দেখতে ক্লান্তিটা বেড়েই যাচ্ছিল৷ বুন্দেশলিগা সেখানে যেন একবিন্দু জল এনে দিল৷ সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেল বিজ্ঞাপনের অৰ্থ দিয়ে তাদের ভাঁড়ারও ভরে নিল৷


এই বাণিজ্যিক চেইন বড় খেলাকে আগে ফিরিয়ে এনেছে৷ ফুটবল আসরগুলি সহ ক্রিকেটের আইপিএল, পিএসএল কিংবা ক্যারিবিয়ান প্ৰিমিয়ার লিগই হোক, সব খেলাতেই আৰ্থিক সমস্যা সমাধানের একটা বিকল্প ধরে নিয়েই মাঠে ফেরানো হয়েছে৷ এরপর ধীরে ধীরে স্থানীয় পৰ্যায়ের খেলাও শুরু হচ্ছে৷ আমাদের গুয়াহাটি, শিলচরেও হচ্ছে খেলা৷ দেশের মধ্যে গুয়াহাটিতে প্রথম অ্যাথলেটিক্স টুর্নামেন্ট হয়েছিল গুয়াহাটিতে, গত ২ অক্টোবর।


করোনা কমেনি ঠিক, কিন্তু বিষাক্ত ‘দুই হাজার বিশ’ বিদায় নিচ্ছে৷  ক্যালেন্ডারের নতুন তারিখ পাবে ঠিক, কিন্তু মানুষ কতটা স্বাভাবিক হতে পারবে? কারণ, করোনা তো অদৃশ্য শত্ৰু৷ তার জন্য খেলোয়াড়-দৰ্শকদের নিশ্ছিদ্ৰ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেও আশঙ্কা থেকে মুক্তি ঘটছে না৷ কারণ, কোনও নিরাপত্তাই এতটা নিশ্ছিদ্ৰ হতে পারে না যে এর মধ্য দিয়ে ভাইরাস ঢুকবে না৷ এমন নিশ্ছিদ্র করলে মানুষই তো বেঁচে থাকবে না৷

হাজারো আশঙ্কার মধ্য দিয়ে আমরা ঢুকছি ২০২১-এ৷ কিন্তু ২০-এর বিভীষিকা থেকে কি মুক্তি মিলবে? সেই প্ৰশ্ন কিন্তু ভবিষ্যতের গৰ্ভে৷