BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Tuesday, 11 May 2021  মঙ্গলবার, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

সিএএ নিয়ে অসম-বাংলার দোটানায় বিজেপি!

Bartalipi, বার্তালিপি, সিএএ নিয়ে অসম-বাংলার দোটানায় বিজেপি!

আগামী ১৯ জানুয়ারি ফের পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে মতুয়া হার্টল্যান্ড ঠাকুর নগরে জনসভা করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ওই জনসভাতেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন রূপায়ণ নিয়ে যাবতীয় সংশয় দূর করবেন তিনি।
বুধবার এ কথা জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ তথা বাংলার মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম মুখ শান্তনু ঠাকুর। তাঁর দাবি, এই আইন (সিএএ)-র প্রয়োগ নিয়ে মতুয়াদের মনে যে প্রশ্ন আছে তা দূর হয়ে যাবে ওই দিন। প্রায় একবছর আগে সংসদে সিএএ পাস হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও আইন প্রয়োগের রূপরেখা রচনায় কেন্দ্রের দীর্ঘসূত্রিতায় ক্ষোভ জমেছে মতুয়াদের মনে। 

বাংলার অন্তত তিন-চারটি জেলায় নির্বাচনে মতুয়ারা এক বড় ফ্যাক্টর। দিন দশেক আগে বোলপুরে এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে অমিত শাহ বলেছিলেন, করোনা পরিস্থিতির জন্যই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন রূপায়ণের রূপরেখা রচনার কাজ আটকে আছে। ভ্যাকসিন প্রক্রিয়া শুরু হলেই এই কাজে হাত দেওয়া হবে। কিন্তু শাহর সেই আশ্বাস মতুয়াদের সংশয় ও ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারেনি। এ নিয়ে অস্বস্তিতে আছে বিজেপি। 

শান্তনু ঠাকুরের কথা অনুযায়ী নতুন বছরের ১৯ জানুয়ারি শাহ সেই ক্ষোভ প্রশমনে কী আশ্বাস দেন, সেদিকেই তাকিয়ে এখন মতুয়া সমাজ। ওই দিনটির দিকে নজর থাকবে পর্যবেক্ষক মহলেরও। কেননা, সিএএ-র ঘোর বিরোধী অসমের ভূমিপুত্ররা। সংসদে এই আইন পাসের সময় ক্ষোভ ও প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছিল অসম, মেঘালয় ও অরুণাচলের মতো রাজ্যগুলো। ফলে এখন এই ইস্যুতে খুব সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। একুশে শুধু বাংলায় নয়, বিধানসভা ভোট আসন্ন অসমেও। তাই সেদিকেও সতর্ক নজর রেখে চলতে হবে গেরুয়া শিবিরকে।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে মতুয়াদের নাগরিকত্ব সমস্যা সমাধানের  প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। যার জেরে গত লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ এবং রানাঘাটের দু'টি আসন তৃণমূলের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। উত্তর চব্বিশ পরগনা, নদিয়া এবং উত্তর দিনাজপুরে বড় সংখ্যায় মতুয়াদের বাস। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ গত দশ বছর ধরে তৃণমূলকে ভোট দিয়ে আসলেও সেই ভোটব্যাঙ্কে চির ধরিয়েছে বিজেপি। কিন্তু আইন প্রয়োগে বিলম্বে মতুয়াদের মধ্যে ক্ষোভের আঁচ ধরা দেয় শান্তনু ঠাকুরের গলায়। এ নিয়ে নিজের ক্ষোভের কথা প্রকাশ্যেই বলতে শুরু করেন শান্তনু। তিনি এমন কথাও বলেন যে মতুয়া সংঘের নির্দেশিত পথেই তিনি চলবেন। সুযোগ বুঝে তলে তলে শান্তনুর সঙ্গে তৃণমূলের তরফ থেকে যোগাযোগ করা হয় বলেও সূত্রের খবর। ফলে প্রমাদ গোনে বিজেপি। কিন্তু এদিন দলীয় কার্যালয়ের সাংবাদিক বৈঠকে মুকুল রায়ের পাশে বসে শান্তনু জানিয়ে দেন, তাঁর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ তৃণমূল সিএএ সমর্থন করে না।

এখন সিএএ নিয়ে অমিত শাহর মুখে শেষ কথাটি শোনার আশায় শান্তনু ও তাঁর মতুয়া সমাজ। বঙ্গ বিজেপিও তাকিয়ে ১৯ শের দিকে। কারণ তাঁরা জানেন, সিএএ নিয়ে মতুয়াদের ক্ষোভ দূর না হলে আগামী বিধানসভা ভোটে বড় খেসারত দিতে হতে পারে দলকে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য সিএএ-কে 'বিজেপির নাটক' আখ্যা দিয়ে বলেছেন, 'মতুয়ারা তো দেশেরই নাগরিক। তাঁর জন্য নতুন আইনের আবার কী দরকার!'