BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

দেড়শ’ বছর পরও বদরপুরে একই আমেজ, বড়দিনের ক্যারলে মজলেন পৰ্তুগিজরা

Bartalipi, বার্তালিপি, দেড়শ’ বছর পরও বদরপুরে একই আমেজ, বড়দিনের ক্যারলে মজলেন পৰ্তুগিজরা

করোনা আনন্দ কেড়ে নিয়েছে৷ কিন্তু ভক্তি সে তো প্ৰাণের, কোনও ভাইরাসের কি সাধ্য আছে, তা কেড়ে নেওয়ার! বদরপুরে বরাকের দক্ষিণ পারে আজ রাত  ক্যারল সঙ্গীত আর চল্লিশটি খ্ৰিস্টান পরিবারের বাড়িতে খুশির আমেজ আরও একবার এটাই প্ৰমাণ করে দিল৷

বদরপুরে বুন্দাশিল ও দিঘিরপার গ্ৰাম মিলিয়ে রয়েছে খ্ৰিস্টানবস্তি৷ অন্তত ৪০টি পরিবারের তিনশর মতো লোক রয়েছেন৷ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই এলাকায় শান্তিপূৰ্ণ সহাবস্থান করছেন তাঁরা৷ প্ৰায় দেড়শো বছর হয়ে গেল এই খ্ৰিস্টান বসতির৷ যাদের প্ৰায় সবাই পৰ্তুগিজ বংশোদ্ভূত৷ এখানকার সেন্ট জোসেফ চাৰ্চটি ১৮৮৪ সালে প্ৰতিষ্ঠিত হয়৷ বরাক নদীর তীর ঘেঁষে গিৰ্জা নিৰ্মাণ করার খেসারতও কিন্তু দিতে হয়েছে তাদের৷ একবার নয়, দু-দু’বার নদীগৰ্ভে তলিয়ে গেলে ধৰ্মস্থান৷ তৃতীয় দফায় নিৰ্মাণ করা হয়েছে বৰ্তমানের চাৰ্চটি৷

কোভিড-কালে তেমন সাজগোজ নেই চাৰ্চে৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গিয়ে দেখা গেল, কয়েকটি ঝাড়বাতি আর টুনিসেট লাগিয়ে আলোকসজ্জা করা হয়েছে৷ মধ্যরাতের প্ৰাৰ্থনা সংক্ষেপেই সেরে নেওয়া হবে৷ কারণ অবশ্যই কোভিড৷ ঈশ্বরের কাছে প্ৰাৰ্থনা করা হবে যাতে এই সংসারে শান্তি আসে, মহামারী ও হিংসা বিদ্বেষ দূরে সরে যায়৷ গত ৩০ বছর ধরে এখানকার প্ৰধান যাজক ফাদার যশোরাজ৷ তিনি জানালেন, চাৰ্চে এবার তেমন ভিড় করতে দেওয়া হচ্ছে না৷ তবে বাড়ি বাড়িতে উৎসব চলবে৷ প্ৰতিবারের মতো কেক কাটা তো হবেই, থাকবে মিষ্টান্নের আয়োজন৷ জ্বলবে প্ৰদীপ৷ হবে শুভেচ্ছা বিনিময়৷ তবে অতিথিদের নিমন্ত্ৰণ পৰ্ব এবার সীমিত৷

কথা হচ্ছিল এই বস্তির প্ৰবীণ নাগরিক যোশেফ অ্যান্টনির সঙ্গে৷ ৭৯ বছর বয়স্ক এই প্ৰবীণ ব্যক্তিত্ব এলাকার একজন মুরব্বি৷ কোনও সমস্যা হলে সমাধানের জন্য তাঁর ডাক পড়ে৷ আগে সেই ভূমিকায় ছিলেন ফিলিপ ফাৰ্নান্ডেজ৷ নব্বই পেরিয়ে এখন তিনি বয়সের ভারে ন্যূব্জ৷ গোড়া রোমান ক্যাথলিক হওয়ায় এক সময় স্বগোত্ৰীয় পাত্ৰ কিংবা পাত্ৰীর অভাবে এখানকার প্ৰবীণদের অনেকেই বিয়ে-থা করেননি৷ বৰ্তমানে পরিস্থিতি পাছে৷ তাই, এ প্ৰজন্মের যুবারা সেই বেষ্টনি পেরিয়ে ভিনগোত্ৰেও বিয়ে করে সংসার পাতছে৷ এখানে যারা আছে তাদের উপাধি ডি’কোস্টা, অ্যান্টনি, ডি’সিলভা, পিনারিও, গনসালভেজ, ডায়াস কিংবা মাৰ্টিন৷

 বদরপুরের খ্ৰিস্টানদের অনেকেই কাজের সন্ধানে অন্যত্ৰ গিয়ে আর ফেরেননি৷ সুবিধেমতো জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাসও করছেন অনেকে৷ শিলং, গুয়াহাটি, দেরাদুন, পটনা, কালাইন বুঙ্গা, পাঁচগ্ৰাম, আলেখারগুল ও পাঁচগ্ৰামে রয়েছে বেশ কয়েকটি পরিবার৷ কিন্তু পৰ্তুগালের সঙ্গে যোগাযোগ বলতে কিছুই নেই৷ যদিও পৰ্তুগিজ মূলের খ্ৰিস্টানরাই বদরপুরে বসতি গড়েছিলেন, কিন্তু তাদের আগমন গোয়া থেকে৷ এক সময় মোঘল নবাবদের সৈন্যদলে কিছু পৰ্তুগিজ ছিল৷ তারাই কীভাবে বদরপুরে পা রাখল এবং এই মাটিকে আপন করে নিল, সেটা আজও অজানা গল্প৷ শোনা যায়, এখানে বিয়ে-শাদি করে তারা প্ৰথমে বসতি গড়ে ফেলেন৷ এভাবেই একটা ছোট্ট পৰ্তুগাল হয়ে যায় শহর বদরপুরের এক কোণে৷ আজ পৰ্তুগালের গল্পও নেই, নেই পৰ্তুগিজ ভাষার চৰ্চা৷ জিসি ফ্ৰাঙ্ক, হিউবাৰ্ট ডায়াস, পিটার অ্যান্টনিরা এখন বদরপুরের বাঙালি৷ বলতে গেলে তাঁরা এখন  একেবারে খাঁটি সিলেটি৷