BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

Bartalipi, বার্তালিপি, মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

                  ।।১৬।।

    শেষ বয়সে রচিত খণ্ড সমূহের মধ্যে জরাসন্ধের যুদ্ধ,কালযবন বধ,মুচুকুন্দ-স্তুতি,স্যমন্তক হরণ,নারদের কৃষ্ণ দর্শন,বিপ্রপুত্র আনয়ন,দামোদর বিপ্রাখ্যান,দৈবকীর পুত্র আনয়ন,বেদস্তুতি,কৃষ্ণ-লীলা-মালা,রুক্মিণীর প্রেম কলহ এবং ভৃগু পরীক্ষা,শ্রীকৃষ্ণের বৈকুণ্ঠ প্রয়াণ,চতুর্বিংশতি –অবতার বর্ণনা। 

    ‘জরাসন্ধের যুদ্ধ’খণ্ডটি দুই কুড়ি সাতটা পদের সমষ্টি এবং এই পদ্গুলি তিনটি কীর্তনে বিভক্ত।বৈষ্ণব দ্রোহী,কৃষ্ণ বিদ্বেষী মগধরাজ জরাসন্ধ বাণ আদি নৃপতির সাহায্য নিয়ে অসংখ্য সৈন্যসহ জামাতা হন্তা শ্রীহরির ওপরে নির্মম প্রতিশোধ নেবার জন্য সতেরো বার মথুরা আক্রমণ করে কীভাবে বারবার পরাজিত হয়ে অশেষ দুঃখযন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছিল তার প্রাঞ্জল বর্ণনা এই খণ্ডে পরিবেশন করা হয়েছে। 

    ‘কালযবন বধ’ অনুখণ্ডটিতে এক কুড়ি একটি পদ রয়েছে। এবং পদ্গুলি দুটি কীর্তনে বিভক্ত। শঙ্করদেব পরিবেশিত শ্রীকৃষ্ণের রূপ বর্ণনা অংশ গতানুগতিক হলেও তার মধ্য দিয়েই কবির কবিত্বশক্তি পরিচয় পাওয়া যায়।দুষ্টের শাস্তিবিধায়ক রূপে শ্রীকৃষ্ণের ভূমিকা গ্রহণ এই অনুখণ্ডটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    কীর্তন ঘোষার অন্তর্গত ‘মুচুকুন্দ স্তুতি’শীর্ষক অনুখণ্ডটি দুই কুড়ি এগারোটি পদের সমষ্টি এবং এতে চারটি কীর্তন আছে।

    স্যমন্তক হরণ খণ্ডটি তিনকুড়ি উনিশটি পদের সমষ্টি আর এই পদ্গুলি নয়টি কীর্তনে বিভক্ত।স্যমন্তক-হরণ কলঙ্ক থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য কৃষ্ণ মণির সন্ধানে ব্রতী হয়ে কীভাবে ভক্ত জাম্ববন্তের সঙ্গে আঠাশ দিন ধরে যুদ্ধ করতে হয়েছিল অবশেষে জগতের স্বামী কৃষ্ণকে চিনতে সক্ষম হয়ে জাম্ববন্ত নিজের কন্যা জাম্ববতীকে ভগবান দামোদরের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে যৌতুক স্বরূপ স্যমন্তক মণি অর্পণ করেছিল তার মধুর বর্ণনায় এই খণ্ডটি পরিপূর্ণ।

    ‘নারদের কৃষ্ণ দর্শন’ খণ্ডে দুই কুড়ি এগারোটা পদের মাধ্যমে দেবর্ষি নারদের দ্বারা ভগবন্ত কৃষ্ণের অদ্ভুত বিভূতি দর্শনের তত্ত্বমূলক বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এই খণ্ডের অন্যতম লক্ষ্য পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণের গার্হস্থ্য-লীলার বিষ্ময়াবহ চিত্র পরিস্ফুট করা।

    ‘বিপ্রপুত্র আনয়ন’ দুই কুড়ি বারোটা পদে পরিপূর্ণ।এই পদ্গুলি চারটি কীর্তনে বিভক্ত। ‘ভাগবত পুরাণ’এর দশম স্কন্দের ৮৯শ অধ্যায়ে বর্ণিত বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত রূপ এটি।দামোদর বিপ্রাখ্যান এই খণ্ডটি ৩৫টি পদের সমষ্টি এবং চারটি কীর্তনে বিভক্ত।‘ভাগবত পুরাণ’এর দশম স্কন্দের অন্তর্গত ৮০শ এবং ৮১শ অধ্যায়ের কথাবস্তু নিয়ে এই খণ্ড গড়ে উঠেছে। দরিদ্র বস্ত্রহীন বিপ্রদামোদরের কৃষ্ণের প্রতি থাকা অচলা ভক্তির কথা এখানে বলা হয়েছে।মূল কাহিনি অনেকটাই দীর্ঘ,তবে শ্রীশঙ্করদেব কাহিনিকে সংক্ষেপ করে নিয়েছেন। 

    ‘দৈবকীর পুত্র আনয়ন’ এক কুড়ি পনেরোটা পদে রচিত।এতে তিনটি কীর্তন রয়েছে।‘ভাগবত পুরাণ’এর দশম স্কন্দের অন্তর্গত ৮৫শ অধ্যায়ের কাহিনি নিয়ে এই খণ্ড গড়ে উঠেছে।দৈবকীর মাতৃত্ব,বলির ভক্তির কথা অঙ্কণে শঙ্করদেবের যথেষ্ট কৃ্তিত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

    ‘বেদস্তুতি’ এক কুড়ি ছয়টি পদের সমষ্টি এবং পদ্গুলি তিনটি কীর্তনে বিভক্ত।জগত সংহারের শেষে নিজের দেহ থেকে নির্গত জলের ওপরে অনন্ত শয্যায় শুয়ে থাকা নারায়ণের প্রথম নিঃশ্বাসে জন্ম লাভ করা বেদ্গুলি স্তুতি করে কীভাবে নারায়ণকে নিদ্রা থেকে জাগিয়েছিল তারই দার্শনিক বর্ণনা করা হয়েছে আলোচ্য খণ্ডে।

    ‘কৃষ্ণ-লীলা মালা’ খণ্ডটি ১০৯ টি পদের সমষ্টি এবং এতে সাতটি কীর্তন রয়েছে।শঙ্করদেবও এই খণ্ডকে ‘দশম স্কন্দের কৃষ্ণলীলা আখ্যা দিয়েছেন।

    ‘রুক্মিণীর প্রেম কলহ  এবং ভৃগু পরীক্ষা’-কীর্তন ঘোষার বেশিরভাগ পুঁথিতেই এই খণ্ড দুটি পাওয়া না গেলেও দুই একটি পুথিতে অবশ্য এই খণ্ড দুটি পাওয়া যায়। এই খণ্ডটি দুই কুড়ি তিনটি পদে রচিত।

    শ্রীকৃষ্ণের ‘বৈকুণ্ঠ প্রয়াণ খণ্ডটি ২৩৫টি পদের সমষ্টি এবং পদ্গুলি উনিশটা কীর্তনে বিভক্ত।এই খণ্ডের বিষয়বস্তুকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে-১)যদুকূল ধ্বংশ এবং শ্রীকৃষ্ণের বৈকুণ্ঠ প্রয়াণ ২)অর্জুন-যুধিষ্টির সংবাদ এবং যুধিষ্টির ব্যতিরেক পাণ্ডব এবং দ্রৌপদীর মৃত্যু ৩)উদ্ধবের বিলাপ।

    ‘চতুর্বিংশতি-অবতার বর্ণনা’র বিষয়বস্তু ‘ভাগবত পুরাণ’এর প্রথম স্কন্দের তৃতীয় অধ্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

    ‘কীর্তন-ঘোষায়’ভজনীয় ঈশ্বরের স্বরূপ নির্ণীত হয়েছে।ভজনীয় ঈশ্বর হলেন ব্রহ্মরূপী সনাতনী নারায়ণ,যিনি সর্ব অবতারের কারণ।বহুধা প্রকট হলেও সনাতন ব্রহ্মরূপে পরমেশ্বর একজনই এবং এই পরমেশ্বরই মুখ্যতঃ ভজনীয় বা উপাস্য দেবতা। শ্রীকৃষ্ণ সেই সনাতন নারায়ণের সঙ্গে অভেদ।

    ‘কীর্তন-ঘোষা’য় শ্রবণ এবং কীর্তন ভক্তির ওপরে বিশেষভাবে গুরুত্ব আরপো করা হলেও নববিধা ভক্তির অন্যান্য সাত ধরনের ভক্তির সাধানায় ও প্রায় সমান গুরুত্ব দিতে দেখা যায়। শ্রবণ,কীর্তন,স্মরণ,পাদসেবন,অর্চন,বন্দন,দাস্য,সখা এবং আত্মনিবেদন –এই নয় প্রকার ভক্তিকেই নববিধা ভক্তি বলে।  

    নান্দনিক দিক থেকেও ‘কীর্তন-ঘোষার’মহত্ত্ব অস্বীকার করা যায় না।কাহিনি বা কথাবস্তু উপস্থাপনের বৈচিত্র্য,চরিত্র সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য ,অবস্থা বা পরিবেশ বর্ণনার দিক থেকেও ‘কীর্তন-ঘোষা’র সার্থকতা স্বীকার করতেই হবে।সুরূপার বর্ণনা দেওয়ায় কবি যেভাবে সিদ্ধহস্ত,কুরূপার বর্ণনা উপস্থাপনার ক্ষেত্রেও তিনি সমান সিদ্ধহস্ত।এতে সাঙ্গীতিক বৈশিষ্ট্যও বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। বিশেষ করে সুর দিয়ে গাওয়ার জন্যই এই গ্রন্থের বিভিন্ন খণ্ডগুলি রচিত হয়েছিল।

    ‘কীর্তন-ঘোষা’শঙ্করদেবের কালজয়ী রচনা।এর জনপ্রিয়তা কেবলমাত্র ধর্মগ্রন্থ রূপেই সীমাবদ্ধ নয়,বিশুদ্ধ সাহিত্য হিসেবেও এর ভূমিকা অপ্রিসীম।তুলসীদাসের ‘রামচরিত মানস’এর লোকপ্রিয়তার সঙ্গে ‘কীর্তন ঘোষা’র জনপ্রিয়তা অনায়াসে তুলনীয় হতে পারে।