BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

Bartalipi, বার্তালিপি, মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

                      ।।১৫।।

    শ্রীকৃষ্ণের জাগতিক এবং ঐশ্বরিক মহিমা ও কর্মকাণ্ডকে সাধারণের বোধগম্য ভাষায় শংকরদেব তার ‘কীর্তনঘোষা’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ভক্তি প্রচারের জন্য লেখা, কৃষ্ণের মহিমা নিজের ভাষায় বুঝতে পেরে সবাই যেন তা গাইতে পারে। শঙ্করদেবের ধর্মপ্রচার প্রাণহীন আবেগহীন ধর্মের কচ-কচানি ছিল না।  ভক্তির অন্তর্নিহিত রস, নান্দনিকতা ও আবেগের নির্যাস নিয়ে মানুষের মনকে সম্মোহিত করতে পারার মতো সুধা রস সৃষ্টি করেছিলেন। শঙ্করদেব নববিধা ভক্তির মধ্যে শ্রবণ-কীর্তনের ওপরে  তুলনামূলকভাবে অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন।

    যদ্যপি ভকতি নববিধ মাধবর।

    শ্রবণ কীর্তন তাতো মহা শ্রেষ্ঠতর।।

    জগদিশ মিশ্রের ভাগবত ব্যাখ্যার দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং উদ্দীপ্ত হয়ে শঙ্করদেব ‘ভাগবত পুরাণ’এর কাহিনির মাধ্যমে হরি-ভক্তি প্রচারের উদ্দেশ্যে ‘কীর্তন ঘোষা’ পুঁথি রচনার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হন। দৈত্যারি ঠাকুরের ভাষায়-

    হরিত ভকতি আবে করিবে প্রবন্ধ।

    প্রথমতে করিলন্ত কীর্তনর ছন্দ।।

    অনন্তরে কিছুলোকে ভকতি ধরিল।

    তেবে আনো নানাবিধ ছন্দ নিরূপিল।।

    কতো গীত পদ কতো ভট্টিমা চপয়।

    কথা শ্লোক আদি করিলন্ত মহাশয়।।

    নিজ কৃপা গুণে লোক তারিবাক মনে।

    প্রচারিলা ভক্তি ধর্ম তারিবাক মনে।।

    বরদোয়ায় থাকার সময়ে শঙ্করদেব  কীর্তন ঘোষার অন্তর্গত ‘উরেষা-বর্ণন’,’অজামিল উপাখ্যান’, ‘প্রহ্লাদ চরিত্র’, ‘হর-মোহন’, ‘বলিছলন’, ‘গজেন্দ্রোপাখ‍্যান’, ‘চতুর্বিংশতি অবতার বর্ণন’ এবং ‘ধ্যান বর্ণন’ খন্ড রচনা করেন। এর থেকে দেখা যায় যে বরদোয়া তে থাকার সময়ই শঙ্করদেব  ‘কীর্তন-ঘোষার’ একটি বৃহৎ অংশ রচনা করেন। কীর্তন-ঘোষার বিভিন্ন খন্ড গুলি রামচরণ ঠাকুর যথাযোগ্যভাবে ক্রম অনুসারে সংকলন করেছিলেন। মাধবদেব খন্ড গুলির যথোপযুক্তভাবে সংস্থাপন লক্ষ্য করে অনুমোদন জানান। রামচরণ ঠাকুরের প্রশংসনীয় কাজে সন্তুষ্ট মাধবদেব কীর্তন ঘোষা বিভিন্ন খন্ড গুলি চার ভাগ করে চারজনকে নকল করতে দেন। আট দিনের মধ্যে নকল করা কাজ সম্পন্ন হয়ে ওঠে। ‘কীর্তন-ঘোষা’র  শুরুতে উপস্থাপন করা ‘কৃষ্ণায় বাসুদেবায় দেবকী নন্দনায় চ’ এবং  মুকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম’ শীর্ষক মঙ্গলশ্লোক দুটি উপস্থাপন করা হয়। শংকরদেব নিজের হাতে রচিত কীর্তন ঘোষায় শ্লোক দুটি  ছিল না। সম্ভবত মাধব দেবের নির্দেশে এই মঙ্গল শ্লোক দুটির সংযোজন করা হয়। যেহেতু পরম্পরাগত বিশ্বাসানুসরি মঙ্গল শ্লোক বা  মঙ্গলাচরণ ছাড়া কোনো সাহিত্যকর্ম পরিপূর্ণ হতে পারে না। শঙ্করদেব রচিত কীর্তন ঘোষার বিভিন্ন খন্ড গুলির রচনা অনুসারে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে (ক) প্রথম বয়সে রচনা করা খন্ড সমূহ (খ) মধ্যবয়সে রচিত খন্ড গুলি (গ)শেষ বয়সে রচিত খন্ড গুলি। প্রথম বয়সে রচিত খন্ড গুলির মধ্যে রয়েছে উরেষা বর্ণন, অজামিল উপাখ্যান, প্রহ্লাদ চরিত্র, হর-মোহন, বলিছলন, গজেন্দ্রোপাখ‍্যান। 

    উরেষা বর্ণনে জগন্নাথের মহিমা কীর্তন করা হয়েছে। পঞ্চতীর্থ শিব মন্ত্র শিব মহিমা দৌলত দ্বাদশাক্ষর মন্ত্র, কাত্যায়নী স্তুতি, সূর্য বর্ণনা ইত্যাদির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে দেখা যায়। অজামিল উপাখ্যান চারটি কীর্তনের সমষ্টি। এতে সর্বমোট ৪২ টি পদ রয়েছে। ভাগবত পুরাণের ষষ্ঠ স্কন্দের  প্রথম তিনটি অধ্যায়ের বিষয় বস্তুর আধারে খণ্ডটি প্রতিষ্ঠিত। মহাপাপী অজামিল হরিনাম বা বিষ্ণু নামের মহিমা কীভাবে পাপ তাপ থেকে উদ্ধার লাভ করল তারই সার্থক বর্ণনা এই খন্ডে পাওয়া যায়। প্রহ্লাদ চরিত্রের বিষয়বস্তু ভাগবত পুরাণের তৃতীয় স্কন্দ এবং সপ্তম স্কন্দের আধারে প্রতিষ্ঠিত। ভগবান বিষ্ণু নরসিংহ অবতার গ্রহণ করে হিরণ্যকশিপুকে বধ করে পরম ভক্ত প্রহ্লাদের গৌরব কীভাবে বাড়িয়েছিল তার বর্ণনায় ঋদ্ধ এই খণ্ডটি শঙ্করদেব বরদোয়ায় থাকতে রচনা করেছিলেন। হর-মোহন কীর্তন ঘোষার অন্তর্গত হর-মোহন  খণ্ডটির বিষয় বস্তু ভাগবত পুরাণের অষ্টম স্কন্ধের দ্বাদশ অধ্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই খণ্ডটি দশটি কীর্তনের সমষ্টি এবং এতে মোট ৯৮ টি পদ সন্নিবেশিত হয়েছে। বলিছলন ৩৩ টি পদের সমষ্টি এবং এই পদগুলিকে পাঁচটি কীর্তনে ভাগ করা হয়েছে। এর বিষয়বস্তু ভাগবত পুরাণ এবং বামণ-পুরাণের বিষয়বস্তুর সংমিশ্রণ মাত্র। অবশ্য কীর্তন ঘোষার অন্তর্গত বলিছলন খণ্ডটি ভাগবত পুরাণ থেকে  গৃহীত বলা হয়েছে। 

    কৃষ্ণর কিঙ্করে/ভণিল শঙ্করে/ভাগবত পদচয় 

    বলিছলন এর মাধ্যমে হরিভক্তির মহিমা কীর্তন করা হয়েছে।গজেন্দ্রোপাখ্যান ৩১ টি পদের সমষ্টি এবং এই পদগুলিকে তিনটি কীর্তনে বিভক্ত করা হয়েছে। এটি ভাগবত পুরাণের অষ্টম স্কন্দের দ্বিতীয় তৃতীয় এবং চতুর্থ অধ্যায়ের বিষয়বস্তু সংক্ষিপ্ত রূপ মাত্র। উপাখ্যানের মাধ্যমে শ্রীহরির শরণ্যগুণের ওপরে গুরুত্ব আরোপ  করতে দেখা যায়।

    মধ্যবয়সে রচিত খণ্ডগুলির মধ্যে রয়েছে (ক)পাষণ্ড মর্দন,(খ)নামাপরাধ,(গ)শিশুলীলা,(ঘ)রাসক্রীড়া,(ঙ)কংসবধ,(চ)গোপী উদ্ধব সংবাদ,(ছ)কুঁজির বাঞ্ছা পূরণ