BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

Bartalipi, বার্তালিপি, মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

                      II১৪ll

মহাপুরুষ শঙ্করদেবের অসাধারণ সৃষ্টিশীল প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করা বৃন্দাবনী বস্ত্র মধ্যযুগের অসমের অতুলনীয় অবদান। ‘বৃন্দাবন, বারেবন, গোকুল মথুরা, দ্বারকা, গোবর্ধন,যমুনাহ্রদ,দশবাস্য  অবতার,গোপ, গোপী, ধেনু বৎসশিশু দেখি চাই রাজা আশ্চর্য অদ্ভুত’(কথাগুরু চরিত,উপেন লেখারু সম্পাদনা)এই বস্ত্রটি মধ্যযুগীয় অসমের উন্নত বয়ন শিল্পের সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ। এই ধরনের মূল্যবান জাতীয় সম্পদের উপযুক্ত অনুসন্ধান, সংরক্ষণ এবং বিজ্ঞানসম্মত গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।     কোচ রাজা নর নারায়ণের রাজসভায় সম্মানীয় আসন গ্রহণ করে শাস্ত্রালাপ করার সময় একদিন রাজা শংকরদেবের সামনেই পণ্ডিতদের অনুরোধ জানায়-

    ভাগবত শাস্ত্রর সমস্ত কথা সার।

    সংক্ষেপ করিয়া পুথি লেখা আরোবার।।

                               (গুরুচরিত,রামচরণ)

    রাজার এই অনুরোধ রক্ষা করার জন্য অন্য পণ্ডিতরা অসমর্থ হলেন যদিও শঙ্করদেব রাজ আজ্ঞা শিরোধার্য করে এক রাতের মধ্যে গুণমালা পুথি লিখে লিখে ‘হাতী মারি ভুরুকাত ভরাই’পরের দিনই রাজার হাতে অর্পণ করলেন। শংকরদেবের মুখে গুনমালার পাঠ শুনে রাজা নরনারায়ন ভীষণ আনন্দিত হন। এইবার শ্রীকৃষ্ণের লীলামায়া অঙ্কিত করে একটি সুশোভিত বস্ত্র তৈরি করার জন্য রাজা শংকরদেবের কাছে অনুরোধ জানান।চিলারায় দেওয়ানও  শঙ্করদেবকে অনুরূপ অনুরোধ করেন-‘বাপ,তেনে যকগৈ,আমি ততে বারেও মরলক সুতা গতাই দিওঁ,করক যাই।’একথা বলে নৌকা এবং মাঝি দিলেন।গুরুজন, মাধবদে্‌ নারায়ন  দাস ঠাকুর আতার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে তাঁতীকুচির গোপাল তাঁতীর (মথুরাদাস বুঢ়া আতা)সঙ্গে বৃন্দাবনী বস্ত্রের বয়ন সম্পর্কে নানা ধরনের পরিকল্পনা করেন।শঙ্করদেব নিজে শিষ্যদের নিয়ে তাঁতীকুচির কেন্দুগুরি কারখানায় নৌকা দিয়ে আসাযাওয়া করতেন।

    বৃন্দাবনী বস্ত্র দিনে এক বিঘা করে বয়ন করা হয়েছিল। এই বিষয়ে শঙ্করদেব সমস্ত কাজের তদারক করা ছাড়াও চিত্রের পট পর্যন্ত নিজে এঁকে দিয়েছিলেন।

    বৃন্দাবন মথুরার যতমানে লীলা।

    করিলন্ত পট তাত চিত্রক তুলিলা।।

    কৃষ্ণর জন্মর হন্তে কংস বধ মানে।

    না রাখিলা বাকী একো তুলিলা সঘনে।।

    দীর্ঘে ছয় কুরি হস্ত প্রস্থে কুরি তিনি।

    এহি পরিমাণে বস্ত্র বুয়াইলা আপুনি।।

    যত পট আছে মানে নিজেই তুলিলা।

    এবেগেত পরিমাণে নিজেই বুয়ালা।।

                        (গুরুচরিত,রামচরণ)

    ছয়কুরি হাত দৈর্ঘ্যের এবং তিনকুরি হাত প্রস্তের এই কাপড় বারোজন সুদক্ষ তাঁতী বয়ন করেছিলেন। কাজ চলা অবস্থায় একদিন মাধবদেবের কারখানায় যাবার পালা পড়ল।মাধবদেব সেদিন এক বিঘা চার আঙুল বয়ন করলেন।অর্থাৎ অন্যদিনের চেয়ে চার আঙ্গুল বেশি।এই কাজে শ্রীশঙ্করদেব মাধবদেবের ওপর অত্যন্ত খুশি হয়ে মাধবদেবকে সেদিন থেকে ‘বঢ়ার-পো’বলে সম্বোধন করতে শুরু করেন।

    সুবৃহৎ বৃন্দাবনী বস্ত্রটি তোলা,মেলা এবং গুটিয়ে রাখার জন্য তিনকুড়ি মানুষের আবশ্যক হত।কথাগুরু চরিতের মতে বস্ত্রটির বয়ন সম্পন্ন করতে এক বছর সময় লেগেছিল।বর্তমান বরপেটা কীর্তন ঘরের কোনো এক স্থানে বৃন্দাবনী বস্ত্রের একটি বৃহৎ তাঁতশাল তৈরি করা হয়েছিল। বরপেটা কীর্তন ঘরের দৈর্ঘ্য প্রস্থ দেখে কথাটা সম্ভব বলে মনে হয়।তাছাড়া বস্ত্রটি প্রস্তুত করা গোপালকে মাধবদেব বরপেটা সত্রের সত্রাধিকার করেছিলেন। বস্ত্রটিতে প্রথমে কৃষ্ণ জন্ম হওয়া সূতিকা গৃহের ছবি ছিল।তারপরে একাদিক্রমে বাসুদেবের যমুনা অতিক্রম করা,পুতনার স্তন্য পান,চক্রবাত অসুরের বধ,মাটি খাওয়া,অর্জুন ভঞ্জন,বকাসুর বধ ইত্যাদি সহ কংস বধ পর্যন্ত ‘ভাগবত পুরাণ’এ বর্ণিত কৃষ্ণের লীলাসমূহ এই বস্ত্রে অঙ্কন করা হয়েছিল।  

    শঙ্কর-মাধব গুরু শিষ্য দুজনেই তাদের লেখার নানা স্থানে পৃথিবীর সর্বোত্তম পুণ্যভূমি হিসেবে ভারতবর্ষের কথা উল্লেখ করেছেন।দুজনেই দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে ‘ভারতবরিষ,কলিযুগ,ইটো হরিনাম নরকায়। চারির সংযোগে ,মহাভাগ্য ভৈল ,আউর আছা বাট চাই।’পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিখণ্ডের মধ্যে ভারতভূমিকে শ্রেষ্ঠ বলার কারণ হল এই যে ভারতবর্ষের মতো আধ্যাত্মিক ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধশালী আর কোনো ভূখণ্ড নেই।এই ভূমিখণ্ডে যুগে যুগে ভগবান অবতার রূপে আবির্ভূত হয়েছেন পতিত,নিষ্পেষিতদের পরিত্রাণের জন্য। অনেক ঋষিমুনি ভারতবর্ষে জন্মগ্রহণ করে যুগে যুগে জ্ঞানের পরম জ্যোতিতে বিশ্বকে আলোকিত করে গেছেন।এই ভারতে বেদ-বেদান্ত,রামায়ণ,পুরাণ,মহাভারত,ভাগবত আদির মতো মহান গ্রন্থসমূহের সৃষ্টি হয়েছিল এবং তার চর্চা যুগযুগ ধরে চলে আসছে।

    ভারতে মনুষ্য জন্ম দেবতারও দুর্লভ।ব্রহ্মা আদি দেবতারাও ভারতে মনুষ্য জন্ম পাওয়ার জন্য সদায় কামনা করেন।কেননা ভারতবর্ষে নরতনু লাভ্য করে হরিনাম কীর্তন করে দেবলোক অতিক্রম করে বৈকুণ্ঠ লাভ করা যায়।মহাপুরুষ শঙ্করদেব ‘ভক্তি-রত্নাকর’গ্রন্থে ‘জম্বুদ্বীপ-মধ্যত ভারত শ্রেষ্ঠতর’বলে উল্লেখ করেছেন। 

    কীর্তন ঘোষার অজামিল উপাখ্যান খণ্ডে মহাপুরুষ শঙ্করদেব লিখেছেন –

    ‘কোনদিন ইটো,শরীর পরয় ,কেতিক্ষণে নেয় যম।

    আউর কি সেন্থরে ,ভারত ভূমিত হৈবাহা মনুষ্য জন্ম।।

    কোটি কোটি জন্ম,অন্তরে যাহার,আছে মহাপুণ্য রাশি।

    সি কি কদাচিৎ,মনুষ্য হোয়য়,ভারত-বরিষে আসি।

    দেবরো দুর্লভ ,ইহেন জন্মক ব্যর্থ করা কোন কাজে।

    গৃহতে থাকিয়া ,হরিক স্মরিয়া মোক্ষ সাধা হরিনামে।।

    ভাগবতের কয়েকটি জায়গায় পুণ্যভূমি ভারতবর্ষকে শঙ্করদেব প্রশংসা করেছেন।–

    কৃষ্ণর কিঙ্করে ভণে             শুনিয়োক সর্বজনে  

                    ভাগবত শাস্ত্রর সম্মত।

    কত কোটি পুণ্যরাশি            ইটো জীবে সঞ্চি আসি 

                         নর দেহ লভৈ ভারতত।।

    অর্থাৎ ,কৃষ্ণের কিঙ্কর শঙ্কর বলছেন-কোটি কোটি জন্মের পুণ্যের ফলে জীব ভারতবর্ষে মনুষ্য হয়ে জন্মলাভ করে।এটা ভাগবত শাস্ত্রসম্মত কথা।