BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

Bartalipi, বার্তালিপি, মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

                        (১৩)

পরিবেশের সঙ্গে মানব এবং জীবজন্তুর সম্পর্ক অতীত থেকে চলে আসছে। বেদ, উপনিষদ, পুরাণ বিভিন্ন শাস্ত্রেও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। ভারতীয় মহান মনীষীদের অমর সাহিত্যে প্রকৃতি এবং মানুষের আত্মিক সম্পর্কের কথা ছন্দোময় রূপে প্রতিভাত হয়েছে। শংকরদেবের কালজয়ী সাহিত্যেও অসমের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাবলীল চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। শারীরিক এবং মানসিক সুস্বাস্থ্যের অন্তরালে প্রাকৃতিক পরিবেশ এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে একথা মহাপুরুষ শংকরদেব হৃদয়ঙ্গম করতে পেরেছিলেন। দীর্ঘ দিনের  ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পুষ্ট শংকরদেব ভারতের সামাজিক জীবনে পরিবেশ অধ্যয়ন এবং বিশ্লেষণ করে সাহিত্যের মধ্যে তার সুন্দর প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন। বর্তমানে গোলকীয় উষ্ণতা সমগ্র পৃথিবীর জীবকুলের জন্য ভয়ঙ্কর বিপদ সংকেত বহন করে আনছে। মহাপুরুষ শংকরদেব সেই সময়ে এই কথাটা হয়তো বুঝতে পেরেছিলন। তাই মহাপুরুষ শঙ্করদেব বিচক্ষণ বুদ্ধিমত্তা, বাস্তবানুগ চিন্তাভাবনা, আধ্যাত্মিক ধ্যান-ধারনা, এবং সুদুরপ্রসারী লক্ষ্য সামনে রেখে পরিবেশ অনুকূল রচনার মধ্য দিয়ে একটি সবুজ পৃথিবীর কল্পনা করেছিলেন। সে দিক থেকে আমরা  শঙ্করদেবকে যথার্থই একজন প্রথম সারির পরিবেশ বিজ্ঞানী বলতে পারি। তার বহু লেখায় পরিবেশ অনুকূল চিন্তাভাবনা ছড়িয়ে রয়েছে। প্রথমতঃ শংকরদেব রচিত বরগীত গুলিতে ভক্ত হৃদয়ের আকূতির সঙ্গে বৃন্দাবন এবং অসমের প্রকৃতি জগতের সজল সজীব মনোমুগ্ধকর রূপ  শোভা অনিবর্চনীয় রূপে প্রতিফলিত হয়েছে। এবং তার মধ্য দিয়ে মহাপুরুষ শংকরদেব ভবিষ্যতের এক উজ্জ্বল সবুজ পৃথিবী সম্পর্কে প্রতিটি মানুষকে সচেতন করে তুলেছেন বলা যেতে পারে। শংকরদেবের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসাবে ‘কীর্তন’এর জনপ্রিয়তা অপরিসীম। ‘কীর্তন’ এর ‘হরমোহন’ এর সঙ্গে  কয়েকটি অধ্যায় অসমের ভৌগোলিক, প্রাকৃতিক এবং জৈব বৈচিত্রে পরিপূর্ণ নান্দনিক মনোহারিণী প্রাকৃতিক পরিবেশে পরমপুরুষ পরমব্রহ্ম নারায়নের সৎ-চিত-আনন্দময় রূপ ব্যক্ত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলতে পারি-

    পাচে ত্রিনয়ন দিব্য উপবন দেখিলন্ত বিদ্যমান।

    ফলফুল ধরি ঝকমক করি আচৈ জত বৃক্ষমান।।

    ‘দশম’ এর অন্তর্গত  শ্রীকৃষ্ণের জন্ম, শ্রীকৃষ্ণের  বনভোজে গমন, ব্রহ্মার মোহ,বর্ষা বর্ণনা, শরৎ বর্ণনা ইত্যাদি অধ্যায় অসমের ভৌগোলিক জৈব বৈচিত্রতায় ভরপুর প্রাকৃতিক পরিবেশের জীবন্ত এবং সজীব চিত্র মহাপুরুষ শংকরদেবের পরিবেশ সচেতনতার স্বাক্ষর বহন করে। শংকরদেব ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে নামঘর-সত্র স্থাপন করার জন্য পরিবেশ অনুকূল বাতাবরণ থাকা জায়গা নির্বাচন করেছিলেন। সাধারণত নদ-নদী, ঝর্ণা,থাকা  মুক্ত বিশাল খোলা জায়গায় ধর্মীয় পীঠস্থান গুলি স্থাপন করেছিলেন যাতে ভক্তরা এক সুস্থ প্রাকৃতিক পরিবেশে মুক্তমনে ধর্ম চর্চা করতে পারে। স্নিগ্ধ শীতল নির্মল জলের পান, বিশুদ্ধ বায়ু সেবন শরীর এবং মন সতেজ সজীব করে রাখে। দূষণমুক্ত পারিপার্শ্বিকতা ভক্তদের শারীরিক এবং মানসিকভাবে আধ্যাত্মিক সাধনায়  সাহায্য করবে বলেই সত্রের চারপাশে বিভিন্ন প্রজাতির সুগন্ধি ফুল বিবিধ ফলের গাছ রোপন করার সঙ্গে ঔষধি যুক্ত গাছপালা রোপন করে  পরিবেশ অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখায় গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। একশরণ নাম ধর্ম প্রচার এবং প্রসারের জন্য শংকরদেব যাত্রা পালা,ভাওনা ইত্যাদি অভিনয় প্রাকৃতিক পরিবেশে করিয়েছিলেন। প্রাকৃতিক পরিবেশ যাতে বিনষ্ট না হয় সেই জন্য নাট-ভাওনা ইত্যাদি সমারোহে আলোর ব্যবস্থা করার জন্য এড়ার গুটি,কোরাচ ইত্যাদি ব্যবহার করেছিলেন। প্রকৃ্তির বিভিন্ন রূপ,বৈচিত্র্য এবং উপযোগিতা শঙ্করদেবকে এতটাই আকৃষ্ট করেছিল যে ধর্মের তাত্ত্বিক দিক সম্পর্কে বোঝানোর জন্য শঙ্করদেব প্রকৃতির উপাদান সমূহকে উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।পৃ্থিবীর জীবসমূহের নশ্বরতা সম্পর্কে বোঝানোর জন্য শঙ্করদেব লিখেছেন-

    বিজুলি চমক যেন জীবন অথির

    পদ্মার প্ত্রর যেন জল নুহি থির।। (গজেন্দ্র উপাখ্যান,কীর্তন ঘোষা)

একইভাবে হরিনামের মহিমা বোঝানোর জন্য মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শংকরদেব তরু-তৃণ থেকে উৎপাদিত ঔষধের প্রসঙ্গ উপস্থাপন করেছেন-‘প্রমাদত থাকি/যিটো হরি বোলে/সিও সব দুখ তরে।/যেন মহৌষধি/নাজানি ভুঞ্জিলে/তারো গর্ভরোগ হরে।। 

    শ্রীশঙ্করদেব গাছপালাকে কতটা গুরুত্ব দিতেন তার প্রমাণ নিম্নোক্ত পদেই পাওয়া যায়।–

    ইটো বৃন্দাবনে আছে যত তরুগণ/দেখা দেখা যেন মহা সাধুর লক্ষ্ণণ/করি পর উপকার কিনো কৃপাময়/পররেশে অর্থে জীবই ইটো বৃক্ষচয়(ভাগবত,দশম)।অনুপম প্রকৃতির সমস্ত উপাদানের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য শঙ্করদেব উপাদান সমূহে ঈশ্বরত্ব আরোপ করেছিলেন। পৃথিবীর জৈব উপাদান,অর্থাৎ প্রাণী এবং গাছ পালাকে ঈশ্বরের অংশস্বরূপ বলে শঙ্করদেব বলেছেন-‘তুমি পশু পক্ষী সুরাসুর তরু তৃণ।/অজ্ঞানত মূঢ়জনে দেখে ভিন ভিন।। (হরমোহন,কীর্তন ঘোষা)।