BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

Bartalipi, বার্তালিপি, মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

                      Il১২ll
 

উত্তর ভারতে রামানন্দের দ্বারা প্রচারিত রামভক্তি নির্গুণ এবং সগুণ ভক্তিধারা নাম নিয়ে দুটো প্রধান শাখায় পরিণত হয়।এই নির্গুণ ভক্তিধারার একজন ভক্ত ছিলেন  কবীরদাস। কবীর দাস সন্ত কাব্য পরম্পরার শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে জানা যায়। একদিকে শঙ্করদেব অন্যদিকে কবীরদাস যথাক্রমে অসমিয়া এবং হিন্দি সাহিত্যে বিশেষ উচ্চ আসন লাভ করে। দক্ষিণ ভারতের ভক্তি আন্দোলন ক্রমশ উত্তর-পশ্চিম  এবং শেষে পূর্ব ভারতের জাতীয় জীবনে নবযুগের সূচনা করেছিল। নির্গুণ ভক্তিধারার জ্ঞানাশ্রয়ী শাখার কবীর দাস উত্তর ভারতে ভক্তি আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। রামানন্দ দ্বারা প্রচারিত ভক্তি ধর্মকে পথ হিসেবে বেছে নিয়ে কবীর দাস রাম ভক্তি-ধারা বইয়ে দিয়ে সন্তপ্ত লোকের অন্তর শান্ত করলেন। তাঁর রচনা হিন্দি ভাষা এবং সাহিত্যকে উচ্চ মর্যাদা দান করে। নির্গুণ উপাসক কবীর দাস সত্য,অহিংসা এবং দয়ার উপাসক ও প্রচারক ছিলেন। ধর্ম বিষয়ে হওয়া বিবাদ চিরদিনের জন্য সমাপ্ত করার ইচ্ছায় হিন্দু এবং মুসলমানকে প্রেমের পথ দেখিয়েছিলেন। তার প্রেম এবং ভক্তি গীত সমূহ হিন্দু মুসলমান এবং অন্য সাধারণ ভারতীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির গভীর সুরের ঐকতান ছিল। কবীর দাস  মায়াকে প্রভুর আদ্যাশক্তি আখ্যা দিয়েছেন। যদিও ঈশ্বর মায়ার সৃষ্টি করে তবু কবীর বাঙ্ময় রূপে মায়ার আবরণ শক্তির ওপরে অধিক জোর  দিয়েছেন। তাঁর মতে মায়া রামেরই শক্তি।–

    ‘তু মায়া রঘুনাথ কী খেলন চলী আহেড়ৈ।’

    কবীরের মধ্যে জ্ঞানযোগ এবং প্রেমের অপূর্ব সমন্বয় সাধিত হয়েছে, যদিও তিনি প্রেমকে অধিক গুরুত্ব দান করেছেন। কবীরের  মতে ভগবত প্রেমের মহিমা অপার। কেউ যদি এই প্রেমের মহিমা পান করে থাকে তাহলে তার শরীর আপনা আপনি শুদ্ধ এবং পাপমুক্ত হয়ে যায়। প্রেমের মাধ্যমে অন্তরের সমস্ত বিষয় বাসনার পরিসমাপ্তি ঘটে এবং মনের পবিত্রতা বৃদ্ধি পায়। এই প্রেম মানব মনে প্রভাব বিস্তার করে অহং ভাবের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে প্রেমময় ঈশ্বরের স্বরূপ উপলব্ধিতে সাহায্য করে। নব বৈষ্ণব আন্দোলনের ঢেউয়ে শংকরদেব যেভাবে অসমিয়া সাহিত্যকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে গিয়েছেন সেভাবে উত্তর ভারতে হিন্দি সাহিত্যে কবীর দাস এক নতুন যুগের সূচনা করেন। অসমের জনগণের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর লোকদের একত্রিত করে অসমের স্থানীয় সংস্কৃতিকে নবরুপ প্রদান করার ক্ষেত্রে  শঙ্করদেব যেমন এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।  এই দুই মহাপুরুষের  মধ্যে তুলনা করলে দেখা যায় যে দুজনের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে মিল এবং কিছু ক্ষেত্রে অমিল রয়েছে। দুজনেই জাতিভেদ, বর্ণ বৈষম্য দূর করে একটি সাম্যবাদী সমাজ গড়ায় মনোনিবেশ করেছিলেন। তৎকালীন সমাজের ধর্মীয়, বহু দেবতার পূজা, যজ্ঞানুষ্ঠানের বিরোধিতা করে একেশ্বরবাদ প্রবর্তনে দুজনকেই সক্রিয় দেখা যায়। সমাজের সমস্ত শ্রেনীর লোকের উন্নতির জন্য জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য ভক্তির দরজা মুক্ত করে দিয়ে নিজের, জনগণের আধ্যাত্মিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে উভয়কেই গুরুত্ব আরোপ করতে দেখা যায়। দুজনেই সমাজ থেকে বর্ণভেদ দূর করে সত্যবাদিতা, প্রেম, দয়া, ক্ষমা, ত্যাগ ইত্যাদি মানবীয় গুণের বিকাশ সাধনে গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। কবীরের রচনায় সুফি প্রেমের সহজ সাধনা, দেহতত্ত্ব এবং যোগসাধনার বিস্তৃত পরিচয় পাওয়া যায়। শংকরদেবের রচনার মধ্যেও  বিশেষভাবে অনাদি পাতনে তন্ত্র শাস্ত্রের সঙ্গে দেহতত্ত্বের পরিচয় পাওয়া যায়।–

    দেহর মহিমা আবে শুনিও বেকতে 

    ব্রহ্মাণ্ডর গুণমান আছে শরীরতে।।

    কবীর পরমেশ্বরকে বোঝানোর জন্য ‘রাম’ শব্দটির প্রয়োগ করেছেন। তাঁর রাম সর্বব্যাপী অসীম অনন্ত এবং বিশ্বাতীত। সমস্ত রূপের আধার হিসেবেও তিনি রামগোবিন্দ,কেশব, হরি ইত্যাদি প্রচলিত শব্দ ব্যাপক অর্থে প্রয়োগ করেছেন। দেখা যায় কবীর এবং শঙ্করদেব দুজনেই রাম এবং কৃষ্ণ ভক্তির মাধ্যমে ভারতীয় জনগণকে মুক্তির পথ প্রদর্শন করেছিলেন।

    উইলিয়াম হান্টার কবীরকে পঞ্চদশ শতকের ভারতীয় লুথার বলেছেন। নানকের আদিগ্রন্থে কবীরের জীবনী,চরিত্র এবং শিক্ষা সম্পর্কে অনেক নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়।১৪৯৫  সালে কবীরের সঙ্গে নানকের সাক্ষাৎ হয়। আর সেই বছরই দিল্লির সম্রাট সেকান্দার লোদী যৌনপুর পরিদর্শন করার সময় মুসলমান ধর্মের কুযশ বলে কবীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনে কবীরের প্রাণদণ্ডের আদেশ দান করে। শঙ্করদেব কবিরের সমসাময়িক ছিলেন(১৪৪০-১৫১৮)। কবীর ধর্ম সমালোচক ছিলেন। শংকরদেবের মত ধর্ম প্রবর্তক ছিলেন না। শংকরদেবের বারো বছরের ভারত ভ্রমণ কালে কবীর নিশ্চয় জীবিত ছিলেন । কবীর কেবল সাধক, শংকরদেব কেবল সাধকই নন, পন্ডিতও। শংকরদেবের মতো কবীরের শাস্ত্র চর্চা ছিল না, স্বাভাবিক অনুভবের দ্বারা সত্য উপলব্ধি করে কবীর  তাকে প্রকাশ করেছিলেন।

     দৈবিক শক্তি বা স্বভাবের গুনে কবীরের অনুভব শক্তি যেমন তীক্ষ্ণ ছিল, তার প্রকাশিকা শক্তি বিশ্বাস ও সেরকম তীব্র এবং গভীর ছিল। কবীরের দোহা গুলির জনপ্রিয়তা বিস্তারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু অন্য কিছু কথা তার সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে গিয়েছিল। রামানন্দকে কবীরের শিষ‍্য বলা হয় যদিও রামানন্দের কাছ থেকে কবীর প্রত‍্যক্ষ শিক্ষা লাভ করেন নি। তাই কবীরের রামানন্দের শিষ্যত্ব একলব‍্যের  দ্রোণের শিষ্যত্বের মতোই বলা যেতে পারে‌। কবীরের ধর্মোপদেশগুলি পন্ডিত সমাজের চেয়ে সাধারণ জনগণের জন্য অধিক উপযোগী। কিন্তু তাঁর ধর্ম নিষ্ঠা এবং অন্তর্দৃষ্টি প্রশংসার যোগ্য। অনুভবের তীব্রতা ছাড়া তার দোহায় শব্দের ব্যঞ্জনা অসাধারণ। 'মালা-গুটি ঘোরাতে ঘোরাতে জীবনের অন্ত হয় এবং মনের কথা মনেই থেকে যায়। হাতের মালা ছুঁড়ে ফেল,মনের মালা জপতে  শুরু কর।’

    কবীরের অনেক দোহার সঙ্গে শংকরদেবের নামের মিল দেখতে পাওয়া যায়।– ‘নাম রত্ন সাঁচা,ই কেতিয়াও নে হেরায়,বতাহে উরাই নিনিয়ে,চোরে চুর নকরে।’ তুলনীয়- ‘অ হরি, হরি, নাম ললে নেহেরায়‌।ডকাইতে নিনিয়ে পাই,চোরেও নিনিয়ে চুর করি।ভাই বটা নাবাটে,অগ্নিয়ে নোপোড়ে,রজাই নিনিয়ে দঁড় করি।। কবীরকে সাধারণত সুফী কবিদের মতো রহস্যবাদী বলে মনে করা হয়।

    এবার আমরা বিষ্ণুরাভার জীবনে শংকরদেবের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করব। শংকরদেবের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বিষ্ণুরাভার এক আশ্চর্য মিল লক্ষ্য করা যায়। শংকরদেবের জন্মের  ৪৬০ বছর পরে  বিষ্ণুরাভার জন্ম হয়েছিল(১৯০৯-১৪৪৯)।  সেই সময়  অসমের বিচিত্রতার মধ্যে শংকরদেব বৈষ্ণব ধর্ম  এবং সংস্কৃতির প্রচারের জন্য  বিভিন্ন সম্প্রদায়ের  লোককে একই মঞ্চে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন।  গারোপাহাড়ের গোবিন্দ,  মিরির (মিছিং)  পরমানন্দ, নাগার নরোত্তম, কছারির রমাই, কৈবর্তর পূর্ণানন্দ,মুসলমানের(যবন)চান্দ সাই এবং জয়হরি,ভোটের দামোদর এবং জয়ানন্দ,আহোমের নরহরি,ব্রাহ্মণের ভট্টদেব আদিকে বৈষ্ণব ধর্মে শরণ দিয়ে যে উদারতার নিদর্শন তুলে ধরেছিলেন  তারমধ্যে শংকরদেবের দূরদর্শিতার  যেমন প্রমাণ পাওয়া যায় তেমনি ঐক্য এবং সংহতির পথেও অনেকটা পথ  এগিয়ে গিয়েছিলেন বলা যেতে পারে। এহেন শঙ্করদেবকে বিষ্ণুরাভা কেবলমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে  দেখেননি,  তিনি শংকরদেবকে বিচার করেছিলেন সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে । বিষ্ণুরাভার মনে শ্রীকৃষ্ণ যেভাবে সৌন্দর্য এবং বীরত্বের প্রতীক,  মহাত্মা গান্ধী যেভাবে শান্তির প্রতীক,  কার্ল মার্ক্সস, লেনিন চে গুয়েভারা  যেভাবে মুক্তি এবং সংগ্রামের প্রতীক  ঠিক তেমনি শ্রীমন্ত শংকরদেব হলেন মহান কলাকার এবং সংহতি-সমন্বয়ের প্রতীক।

    শংকরদেব সম্পর্কে রাভার শ্রদ্ধার মনোভাব ১৯৪৫ সনে রাভা রচিত একটি কবিতায় পাওয়া যায়।–

    ‘শুনা শুনা শুনা 

    শুনা হেরা ভাই

        মহান কলাকার শঙ্কর আমার 

        হওক আমার আর্হি বিপ্লবর।’

    শঙ্করদেবের সময়ে অসমে বিকাশ লাভ করা সাহিত্য,সংস্কৃতি, শিল্প, সঙ্গীত, নৃত্য আদির উল্লেখ করে ১৯৪৫ সনে কনিহাতে অনুষ্ঠিত বিহু উৎসবের কৃষ্টি শাখার সভাপতি রূপে বিষ্ণুপ্রসাদ রাভা প্রদত্ত ‘অসমিয়া কৃষ্টির সংক্ষিপ্ত আভাস’ শীর্ষক ঐতিহাসিক ভাষণে বিষ্ণু রাভা বলেছিলেন –‘শংকরদেবের যুগে হয়েছিল অসমিয়া শিল্পের চরম বিকাশ। এই পৃথিবীতে যে সমস্ত মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করেছিলেন তার মধ্যে তিনজন মহাপুরুষ ছিলেন কৃষ্টির আকর। একজন স্বয়ং  শ্রীকৃষ্ণ।‘কৃষ’ধাতু লগ্ন কৃষ্টির আকর বলে তাকে কৃষ্ণ বলা হয়।  তিনি স্বয়ং ছিলেন সর্বগুণ নিধি। গীত, বাদ্য, নৃত্য, রাজনীতি, ধনুর্বিদ্যা ইত্যাদি সবকিছুতেই পারদর্শী ছিলেন। আরেকজন ছিলেন ইটালির লিওনার্ডো দ্য ভিঞ্চি। তিনি একইসঙ্গে বৈজ্ঞানিক, চিত্রকর এবং রাজনীতিজ্ঞ পুরুষ ছিলেন।তৃতীয়জন  হলেন আমাদের মহাপুরুষ শংকরদেব, যাকে আজও অসমে গুরু বলে পূজা করা হয়ে থাকে। সত্যিই আজ শংকরদেবের যেকোনো কৃষ্টি বা সাহিত্য বাদ দিলে অসমিয়ার মৃত্যু হবে।শঙ্করদেব না থাকলে অসমের আর কিছুই থাকে না। এহেন যে শঙ্করদেব তিনি কী না জান্তেন,কী না দিয়েছিলেন আর কী না লিখেছিলেন। অসমিয়াকে তিনি সমস্ত কিছু দিয়ে গিয়েছিলেন। অসমিয়ার গীত, বাদ্য,নৃ্ত্য,সুর, মঞ্চ, রাগ, সাহিত্য, ভাওনা, নাম কীর্তন, ঘোষা, বরগীত,অঙ্ক, নাট,নামঘর,খোল,মৃদঙ্গ, তাল, দোলযাত্রা, সমাজ, ধর্ম, বিচার, নীতি,আইন, নৈতিক আন্দোলন, অহিংসা,ত্যাগ,ভোগ,বৈরাগ্য,সমাধি সমস্তকিছুই শংকরদেব অসমিয়াকে দিয়ে গিয়েছেন।কেবল অসমিয়ারা সেইগুলি ভালোভাবে আয়ত্ত করে নিতে পারেনি। এই শঙ্করদেবের আমলে অঙ্কীয়া নাট পাই,ভাওনা পাই,পদ্ধতিতে রচিত বরগীত,রাগ,সুরমঞ্চ ইত্যাদি পাই।’

    শ্রীমন্ত শংকরদেবের বিশালতাকে কেবল বিষ্ণুরাভাই যে ব্যাখ্যা করেছিলেন তা নয়,সতেরো  শতকের অসমে আজান ফকিরের মতো সুফি সাধকরাও শঙ্করদেবের সৃষ্টিকর্মের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ‘জিকির’ গীত সমূহে শঙ্করদেবের নাম উল্লেখ করেছিলেন। এমনকি ‘ভকত’, ‘সন্ত’, ‘মহন্ত’ ইত্যাদি শব্দ গুলি শঙ্করী পরম্পরা থেকে আহরণ করে আজান ফকির জিকির গীত গুলিতে স্থান দিয়েছিলেন।

    বিষ্ণুরাভাও শংকরদেবকে আজান ফকিরের মতোই একজন আদর্শ পুরুষ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। রাজনৈতিক অখণ্ডতার প্রতীকরূপেও রাভা শঙ্করদেবকে কল্পনা করেছিলেন। যে সময়ে  বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বিচ্ছিন্নতাকে উৎসাহ যুগিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বার্থসিদ্ধি করেছিল সেই সময়ে শঙ্করদেব পার্বত্য জন-জাতির কথা উল্লেখ করে রাভা আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন-‘আজ সরকার পার্বত্য জাতির সঙ্গে অসমিয়া জাতির সম্পর্ক ছিন্ন করার পক্ষে আগ্রহান্বিত- সেই সময়ে সেই পার্বত্য জাতির মধ্যে তেল নেই, ছাপাখানা নেই অথচ-শ্রীমন্ত শঙ্করদেব অসমিয়া জাতির সম্বন্ধ রক্ষা করেছিলেন।’ 

    শঙ্করদেব একজন ব্যক্তি মাত্র বা বৈষ্ণব পন্ডিত ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন পূর্ণ মানব। বিষ্ণুরাভা তার গানে লিখেছেন-

    ‘অ’অসমিয়া ডেকাদল!

            আজি তোর তেজাল বদন 

            মলিন কিয় হল?

        দুর্গম-নদ-পাহাড়ে গিরি 

        লঙ্ঘিছিলে ডেকা গিরি 

            সুন্দর শঙ্করে লরি 

            করিছিলে তল,

                দেখুয়াইছিল জগত জুরি 

                      অসীম বাহুর বল।’

    একান্ত বিনয়ের সঙ্গে বিষ্ণুরাভা শঙ্করদেবের মতো একজন মহাপুরুষকে স্মরণ করে বলেছেন যে,শঙ্করদেব হলেন জাতি,গোষ্ঠী,বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত জনগোষ্ঠীর অসমিয়াদের আদর্শ স্বরূপ। বিষ্ণুরাভার মতে,শঙ্করদেবের কীর্তন-দশম-নামঘোষা অসমিয়ার শৌর্য।