BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Tuesday, 11 May 2021  মঙ্গলবার, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

বাইরের ট্রেন এলেই বোঝা যাবে করোনা-চিত্র : ড. বেজবরুয়া

Bartalipi, বার্তালিপি, বাইরের ট্রেন এলেই বোঝা যাবে করোনা-চিত্র : ড. বেজবরুয়া

গত কয়েকদিন ধরে করোনা পজিটিভের হার কমেছে ঠিকই, তবে এখনও পরিবেশ যে আদৌ পজিটিভ বা অনুকূল নয়, এরকমই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা: বাবুলকুমার বেজবরুয়া। তিনি বলেছেন, রেল পরিষেবা স্বাভাবিক বা নিয়মিত হবার পর যখন বাইরে থেকে যাত্রী আসা শুরু হবে তখনই বোঝা যাবে করোনা সঠিক অর্থে বিদায় নিয়েছে কি না।

গোটা রাজ্যের সঙ্গে করোনা সংক্রমণের মাত্রা ক্রমশ কমছে বরাক উপত্যকার প্রধান শহর শিলচরেও। কমেছে করিমগঞ্জ হাইলাকান্দিতেও। করোনা অতিমারির প্রকোপ এই অঞ্চলে যখন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় তখন দৈনিক সংক্রমণ তিন সংখ্যার কোঠায় পৌঁছে গিয়েছিল। যা এখন বলতে গেলে প্রকোপ বৃদ্ধির চার মাস পর ফের নেমে এসেছে একটি সংখ্যার কোঠায়। অর্থাৎ জুলাই আগস্ট মাসে কাছাড় জেলায় দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা যেখানে ১০০ ছাড়িয়েছিল, সেখানে দুর্গা পুজোকে ঘিরে উৎসব মরশুম শুরুর ১৫ দিন পর এখন সংক্রমণ নেমে এসেছে ৮, ৯ এমন সংখ্যায়।

তাহলে উৎসব মরশুমের ভিড়ভাট্টা ও বড়সড় জমায়েতের পরও বর্তমান সময়ে সংক্রমণ কমতে থাকাটা আসলে কীসের ইঙ্গিত? করোনা পরিস্থিতিতে তাহলে কি আমাদের এ অঞ্চলেও এখন একটু একটু করে তৈরি হচ্ছে 'হার্ড ইমিউনিটি' ? আস্তে আস্তে আমরাও কি এগোচ্ছি করোনামুক্ত জীবনের দিকে? এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা: বাবুলকুমার বেজবরুয়া বলেছেন,
না, হার্ড ইমিউনিটি এখনও তৈরি হয়নি। কিংবা হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হচ্ছে এমন কথা বলার মতো জায়গায় এখনও আমরা পৌঁছাইনি। এখনও করোনা ভীতি নিয়েই যাবতীয় সর্তকতা অবলম্বন করে চলতে হবে আমাদের। কিন্তু পরিস্থিতি অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল ২৩ অক্টোবর থেকে। ওই দিনই ছিল মহাসপ্তমী। কাছাড় জেলার করোনা গ্রাফের দিকে চোখ রাখলে দেখা যায় ২৩ অক্টোবর মহা সপ্তমীর দিন জেলায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন ২০ জন । এরমধ্যে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ১৬ জনের। আরটিপিসিআর টেস্টে আক্রান্ত হয়েছিলেন আরও ৪ জন। এরপর ২৫ ও ২৬ অক্টোবর মহানবমী ও বিজয়া দশমীর দিন জেলার গ্রাম শহরে বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে শহর শিলচরে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছিল পূজামণ্ডপগুলোতে। কোনও নিয়ম কানুনের ধার না ধেরে মানুষ দলে দলে মণ্ডপমুখো হয়েছিলেন। রাস্তায় রাস্তায় মানুষের ব্যাপক ভিড় দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়েছিলেন। অনেকেই আশঙ্কা ব্যক্ত করেছিলেন পুজোর পরই ফের হু হু করে বাড়তে পারে করোনা সংক্রমণ। অথচ সেই আশঙ্কা কার্যত বাস্তবায়িত হয়নি। বাস্তবে ধরা পড়েছে অন্য ছবি।

পুজো মণ্ডপে ভিড়ভাট্টা, বিজয়া দশমীতে করোনা বিধির তোয়াক্কা না করে দেদার শোভাযাত্রা আয়োজন, এতসব কিছু হওয়ার পরও সংক্রমণ কিন্তু এখনও উর্ধ্বমুখী হয়নি। দুর্গাপুজোর দিন দশেক কেটে যাবার পর করোনা তথ্যে চোখ রাখলে দেখা যায় ৬ নভেম্বর কাছাড়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে মাত্র ১১ জনের। এরমধ্যে ১১ জনই আক্রান্ত হয়েছেন র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে। ওইদিন আরটিপিসিআর টেস্টে কারোরই সংক্রমণ ধরা পড়েনি কাছাড়ে। শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ওইদিন আরটিপিসিআর টেস্ট হয়েছে ২৪৪টি। এতে ১৩ টি নমুনা পজিটিভ পাওয়া গেলেও এরমধ্যে কাছাড় জেলার একটি নমুনাও ছিলনা।

পাশাপাশি সংক্রমণের হিসেবের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ৬ নভেম্বর কাছাড়ে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়েছিল ১৫৪৯ টি। এরমধ্যে ১১ জন পজিটিভ হওয়ায় র‍্যাপিডে সংক্রমণের হার ওইদিন দাঁড়িয়েছিল ০.৭১ শতাংশ। ঠিক এভাবেই ৭ নভেম্বর ২১ জন পজিটিভ হয়েছেন। র‍্যাপিডে ১৪ এবং আরটিপিসিআর টেস্টে ৭ জন। ৮ নভেম্বর ১২, ৯ নভেম্বর ৩২, ১০ নভেম্বর ২০, ১১ নভেম্বর ৮ এবং ১২ নভেম্বর সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১৫ জনের। র‍্যাপিডে ১১ জন, আরটিপিসিআর টেস্টে ৪ জন। ওইদিনও জেলায় র‍্যাপিড টেস্ট হয়েছে ১৪২৯ টি। এতে ১১ জন আক্রান্ত হওয়ায় র‍্যাপিডে সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে ০.৭৬ শতাংশ। এই তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে পুজোর ভিড়ের দশ দিন পরেও বাড়েনি সংক্রমণ।

তবে এটা সংক্রমণ পুরোপুরি কমে যাওয়ার ইঙ্গিত নয় বলেই উল্লেখ করেছেন মেডিক্যাল এর অধ্যক্ষ ডা: বাবুলকুমার বেজবরুয়া। তাঁর কথায়, বাইরে থেকে আমাদের জেলায় বা উপত্যকায় মানুষ এখন খুব একটা আসছেন না। খুব সীমিত সংখ্যায় যে কজন আসছেন বিমানে, তাঁদের বিমানবন্দরের টেস্ট করানো হচ্ছে। তাই রেল পরিষেবা পুরোপুরি চালু হয়ে যখন বাইরে থেকে মানুষ আসা নিয়মিতভাবে শুরু হবে, তখনও যদি দেখা যায় দিনে ৫,৭ জন সংক্রমিত হচ্ছেন তখন নিশ্চিত ভাবে বলা যাবে সংক্রমণ কমে এসেছে। দিন কয়েকের মধ্যেই নির্মূল হয়ে যাবে শূন্যের কোঠায় গিয়ে। ফলে এখনও সেই পরিস্থিতি আসেনি।

ডাক্তার বেজবরুয়া আরও বলেন, ইদানীং সব জায়গাতেই সীমিত পরিমাণে টেস্ট হচ্ছে, তাই হয়তো পজিটিভ-এর সংখ্যাটাও কম। সরকার টেস্টের সংখ্যা বাড়িয়ে যদি পরিস্থিতি যাচাই করে তাহলে সংক্রমণ কমবেশি হওয়ার চিত্রটা আরও স্পষ্ট হবে। তিনি বলেছেন, ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে র‍্যাপিড টেস্ট হয়েছে ১৪৪ টি। এরমধ্যে ১ জনকে পজিটিভ পাওয়া গেছে। যদি টেস্ট আরও বেশি হতো তাহলে বাড়ত পজিটিভ সংখ্যাও। ফলে এখনও সময় হয়নি নিশ্চিত ভাবে কিছু বলার। অধ্যক্ষ এ দিন বলেন, দেখুন আস্তে আস্তে ঠাণ্ডা পড়া শুরু হচ্ছে। এই সময়টা শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য বড় কঠিন সময়। যাদের ' মোঙ্কাল অ্যজমার সমস্যা রয়েছে তাদের শরীরে করোনা থাবা বসাতে পারে শীতের মরশুমে। অবশ্য তিনি বলেছেন, আপাতত পরিস্থিতি অনুযায়ী সংক্রমণের নিম্নমুখী যে ধারা দেখা যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ডিসেম্বর মাসের শেষে হয়তো ছবিটা আরেকটু বদলাবে।