উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা এই অন্ধকারে আমাদের পথ দেখাক

উজ্জ্বল-আলোকবর্তিকা-এই-অন্ধকারে-আমাদের-পথ-দেখাক
দেওয়ালে ঝুলানো ক্যালেন্ডারের ৩৬৫ দিনের কোন একটি দিন আমাদের প্রত্যেকের মৃত্যু দিন হবে, কিন্তু কোনদিন

দেওয়ালে ঝুলানো ক্যালেন্ডারের ৩৬৫ দিনের কোন একটি দিন আমাদের প্রত্যেকের মৃত্যু দিন হবে, কিন্তু কোনদিন কার জীবন প্রদীপ নিবে যাবে আমরা কেউ জানি না । জন্মদিন উদযাপনের শব্দের কোলাহলে অনাগত মৃত্যু দিনের দীর্ঘশ্বাস যেমন  শোনা যায় না তেমন  ঝলমলে আলোর প্রান্তসীমায় মৃত্যুর আবছায়া অন্ধকারও দেখা যায় না। তবুও কোন এক দিন সেই নিঠুর সত্য এসে সামনে দাঁড়ায়, যেমন দাঁড়িয়েছিল প্রদীপ কুমার দেব যার অন্য নাম দীপক দেব বা দীপুর জীবনে। জীবন রসিক দীপুদা জীবনের স্রোতে ভেসে থাকার চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখেননি কিন্তু ৬ আগস্ট রাত দশটায় মৃত্যুর বাস্তবতার কাছে জীবনের স্রোত স্তব্ধ হয়ে গেল । অথচ গত ৩৭ বছরের পরিচয়ের সৌজন্যে এমন কোন ৬ই আগস্ট দেখিনি যেদিন দীপুদা মিটিং, মিছিলে ব্যস্ত থেকে হিরোসীমা দিবস পালনের সুযোগে ফ্যাসিবাদ, সামাজ্রবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান বা বক্তব্য রাখেননি।  ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর সকাল থেকেই চলছিল দুশ্চিন্তার প্রহর গোনা, কখন হবে যবনিকা পতন , থেমে যাবে মহাকাব্যিক জীবন রথ। 

মহাকালের নিয়মে প্রত্যেকের জীবন রথ থেমে যাবে একদিন , সব মৃত্যুতে অশ্রুর স্রোত আত্মীয় স্বজনদের গণ্ডি অতিক্রম করে সমাজকে বানভাসি করে না , কিন্তু দীপুদার মৃত্যুতে সমাজ ভানবাসি হল। ২০২১ সালের ৭ আগস্ট  শিলচরের নাগরিক সমাজের সম্মিলিত দীর্ঘশ্বাসে ঢেউ উঠেছিল । অতিমারী কোভিডকে তুচ্ছ জ্ঞান করে শতাধিক লোক ফুলে ফুলে ঢেকে দিয়েছিল প্রিয় মানুষটিকে আর তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা পথকে। ভিন্ন মাত্রিক শেষ বিদায় তাঁর আমৃত্যু বিশ্বাসকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিল। অখণ্ড মন্ডলীর চরিত্র গঠন আন্দোলনের মাধ্যমে দীপুদা’র  যে যাত্রা সূচিত হয়েছিল সেটি ছিল  আবেগ সর্বস্য ভাববাদের কুসুমাস্তীর্ণ পথ কিন্তু পরে যুক্তিবাদী আন্দোলনের আলোকজ্বল পথের সন্ধান পেয়ে সেই পথেই হাঁটা শুরু করলেন দীপুদা , যেমন অনেকেই করে থাকেন প্রাক যৌবনের রোমান্টিক দিনে কিন্তু অনেকেই এই পথে কিছুটা হেঁটে ক্লান্ত হয়ে আবার ভাববাদের কুসুমাস্তীর্ণ পথে ফিরে আসেন।  খুব কম জন থেকে যান যুক্তিবাদের কন্টাকীর্ণ পথে। দীপুদা থেকে গিয়েছিলেন সেই কন্টাকীর্ণ বন্ধুর পথে, আমৃত্যু সেই পথে পথ হেঁটেছেন নিজের বিশ্বাসে স্থির থেকে। জন্মদাত্রী অসুস্থ মা’কে এতটাই  আন্তরিক সেবা করেছেন যে অন্য ছেলেদের থেকে দীপুদার কাছেই থাকতে স্বস্তি বোধ করতেন কিন্তু এই মায়ের মৃত্যর পর যখন অন্য সব সন্তান মস্তক মুণ্ডন করে আত্মার শ্রাদ্ধ শান্তি করলেন তখন দীপুদা নিজেকে সব কিছু থেকে দূরে রেখে  মা’র জন্য অশ্রু বিসর্জন করেছিলেন  । ত্রিপুরার খোয়াই থেকে উঠে আসা দীপুদার পরিবার শিলচর শহরের প্রান্ত সীমা রামনগরে বসতি স্থাপন করে। এই রামনগরের বাড়িতেই বাবার মৃত্যু। গ্রাম্য পরিবেশের সমাজ নামক প্রতিষ্ঠানের মাতব্বরদের হুমকি অগ্রাহ্য করে বাবার সময় যেমন মুখাগ্নি করা এবং  শাস্ত্রীয় লোকাচার থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন  মা’র সময়েও দূরেই ছিলেন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান থেকে  । নিজেদের মার্ক্সবাদী পরিচয় দিয়ে যখন বেশির ভাগ তথাকথিত ‘কমরেড’রা অবলীলায় মন্দিরে মসজিদে আদিভৌতিক ঈশ্বরকে উপাসনা  করেন দীপুদা তখন অন্য পথের পথিক। নিজের একমাত্র মেয়ের বিয়েতেও শাস্ত্রীয় আচার অনুষ্ঠান থেকে নিজেকে মুক্ত রেখেছিলেন। ধর্ম যখন রাজনীতির সাহচর্যে সমাজে নিয়মের রাজত্ব কায়েম করে সভ্যতা এবং বিজ্ঞানকে পেছনে ঠেলে  দীপুদা তখন সব নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোন যুক্তিহীন সংস্কারকে  তোয়াক্কা না করে নিজের বিশ্বাসে অটল থেকে এক নির্ভিক উদাহরণ হয়ে উঠেন।  আইনি বিয়ে করে নিজের প্রিয়তমাসুকে নিয়ে সংসার করেন । শেষ যাত্রায় ছেলে, মেয়ে এবং  স্ত্রী,  দীপুদার এই সংগ্রামকে মান্যতা দিয়ে কোন শাস্ত্রীয়  মন্ত্র পাঠে না গিয়ে স্লোগানে এবং আন্তর্জাতিকতাবাদী গানে দীপুদা’কে শেষ বিদায় জানায়।

দীপুদা’র প্রাক বিবাহ প্রেম ও পরে দাম্পত্যের মাধুর্য মনে করিয়ে দিত কোন রোমান্টিক উপন্যাসের নায়ক-নায়িকাকে। আত্মকেন্দ্রিকতার ক্ষুদ্র সীমা অতিক্রম করে এক বৃহত্তর পরিবার চালানোর ক্ষেত্রে এই দম্পতি এক উজ্বল নজির সৃষ্টি করেছিলেন  । বড় ভাইয়ের ছেলে মেয়েকে পড়ানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে যেমন তুলে নিয়েছিলেন অন্যদিকে যে কোন গরীব ছেলে মেয়ের পড়াশোনা বা চিকিৎসার জন্য খরচে ও  ছিলেন ক্লান্তিহীন। নিজের স্ত্রী আর সন্তান, সন্ততিতেই পরিপূর্ণ  নয় দীপুদার সংসার  অনেক, অনেক বড়।  মনের মিলে অনেক দাম্পত্য সুমধুর হয় কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রে  এতটা মতের মিল দেখা যায়।  রোজগেরে স্বামী- স্ত্রী’র সংসারে প্রথম দিকে আসবাব প্রায় কিছুই ছিল না, ছিল না টিভি এবং ফ্রিজ তবে ছিল  দুই-জনের দুইটি প্রশস্ত হৃদয়। যে হৃদয়ের উত্তাপ ভালোবাসায় এবং স্নেহে ধরা দিত গ্রামাঞ্চলের  কমরেড ছাত্র-ছাত্রী ও যুবক-যুবতীরা যারা শহরে  এসে নানাবিধ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সামিল হতেন। এই  শিক্ষক আর শিক্ষয়িত্রীর সংসারে অন্য কোন রোজগারের পথ ছিল না, সরকার প্রদত্ত মাসিক বেতনে নিজেদের অনারম্ভর সংসারে উপচে পড়া সুখে এই দম্পতিকে ভাসতে দেখেছি নাটকে, সিনেমায়, মিটিং, মিছিলে । শহরের প্রান্ত সীমায় সিঙ্গারী নামক অঞ্চলের নেহেরু মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক দীপুদা  কোনদিন প্রাইভেট টিউশনি করতে দেখিনি, যদিও সংসারে তেমন কোন আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না থাকার কথাও নয় । অঞ্চলের অত্যন্ত জনপ্রিয় শিক্ষক প্রদীপ কুমার দেব যে প্রদীপ স্যার হিসাবে এতটাই  জনপ্রিয় ছিলেন , তিনি যদি প্রাইভেট টিউশনে মন দিতেন তবে অনেক কিছুই  করতে পারতেন। 

সর্বহারার আন্দোলনে যুক্ত হওয়া তো এক অর্থে সন্ন্যাস নেওয়ার নামান্তর । ডি-ক্লাসড করার মধ্যদিয়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মূল্যবোধ এবং সংস্কারকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হয়। এই ক্ষেত্রে যে যত বেশি সফল সে তত বড় কমিউনিস্ট। সার্বিক চেতনার স্তরে সর্বহারা সংস্কৃতি কতটা প্রতিফলিত হয় সেটা দিয়ে কমিউনিস্ট চরিত্রকে পরিমাপ করা হয় । এটা একটা ধারাবাহিক সংগ্রাম । অনেক দল এই সব সংগ্রামের কঠিন পথে না গিয়ে মন ভুলানো কথা দিয়ে মানুষের মন জয় করে ক্ষমতার অলিন্দে থাকতে ভালোবাসে। নামে বামপন্থী হলেও দক্ষিণপন্থী চিন্তা ভাবনার শিকার হয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের সব স্বাদ চেটেপুটে নিতে পারেন। দীপুদা এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম । দীপুদা এস ইউ সি আই ( কমিউনিস্ট) দলের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন আশির দশকের শুরুতে । নকশাল বাদের শ্রেণি শত্রু খতমের অমানবিক ঘৃণ্য পথ কিংবা জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের ভুল পথে না গিয়ে সমাজবাদী বিপ্লবের মাধ্যমে পুঁজিবাদকে  উৎখাত করার মন্ত্র নিয়ে তিনি আমৃত্যু পথ হেঁটেছেন । এস ইউ সি আই দলের সাধারণ সদস্যের পদ থেকে কাছাড়-হাইলাকান্দি জেলার সম্পাদকের দায়িত্ব পাবার স্তরে নিজেকে উন্নীত করেন। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা কমরেড শিবদাস ঘোষের চিন্তার আলোতে প্রকৃতি এবং সমাজ বিজ্ঞানের সব ঘটনার কার্য-কারণ বিচার করতেন। এই প্রক্রিয়ায় তিনি  যুক্তিবাদী মনের অধিকারী হয়েছিলেন।  এস ইউ সি আই দলের প্রতিষ্ঠাতা শিবদাস ঘোষ উনবিংশ শতকের রেনেসাঁস আন্দোলনে দুইটি সমান্তরাল ধারাকে দেখিয়েছিলেন এবং এই দুই প্রবহমান ধারা স্বাধীনতা আন্দোলনকে দুইটি ধারায় বিভক্ত করে দেশকে তথাকথিত অর্থে স্বাধীন করেছে , স্বাধীনতার নামে ক্ষমতার হস্তান্তরের নামান্তর মাত্র । বিজিত  ধারায় পার্থিব মানবতাবাদের কথা বলা হয়েছিল , বলা হয়েছিল অখণ্ড মানবসত্তার কথা সেই ধারাকে আমৃত্যু টেনে নিয়ে গেছেন দীপুদা শিবদাস ঘোষের চিন্তার আলোতে।

উন্নত সাংস্কৃতিক আন্দোলন উন্নততর রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্ম দেয় এই বোধ থেকে রাজনৈতিক আন্দোলনের অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণে দীপুদা একটার পর একটা সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক কর্মসূচীতে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন। জ্যোতিপ্রসাদ- নজরুল জন্মদিন পালনের কর্মসূচীকে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়িত করে ১৯৮৪ সালে যে সমন্বয়ের বার্তাকে তুলে ধরা হয়েছিল সেখানে দীপুদার অগ্রণী ভুমিকাকে শিলচরের সাংস্কৃতিক মহল কোনদিন ভুলবে না । তারপর একে অনেকগুলো ক্লাব সংগঠনের জন্ম দিয়েছিলেন যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘আনন্দম’ এবং ‘অরণি’। প্রথমটি শিলচর অম্বিকাপট্টি এবং পরেরটি তারাপুর অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে। 

১৯৮৬ সালের ভাষা আন্দোলনে দীপুদা বলিষ্ঠ ভুমিকা নিয়েছিলেন  । তখন দীপুদা অরুণ কুমার চন্দ আইন কলেজের মজলিশে সাংস্কৃতিক সম্পাদক । একদিকে মিছিল মিটিং অন্যদিকে সাংস্কৃতিক আন্দোলন। ১৯৮৯ সালে আইনে স্নাতক হয়ে ভেবেছিল আইন ব্যবসায় যোগ দিবেন কিন্তু পারিবারিক অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতার এবং অনিশ্চয়তার  জন্য এই পথে পা বাড়াতে সাহস করেননি , থেকে গেলেন শিক্ষকতার চাকরিতেই। 

ক্ষুদিরামের জন্ম শতবর্ষে সিদ্ধান্ত হয় ক্ষুদিরামের একটি ব্রোঞ্জের স্ট্যাচু  শিলচরের কেন্দ্রস্থলে স্থাপন করা হবে । গঠিত হয় ‘ক্ষুদিরাম মূর্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি’ যে কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব বর্তায় দীপুদার উপর। এত নিষ্ঠা আন্তরিকতা এবং অমানুষিক পরিশ্রম করে স্কুল কলেজে কুপন দিয়ে অর্থ সংগ্রহ এবং পাড়ায়,  পাড়ায় দোকানে –বাজারে চাঁদা তুলে ক্ষুদিরামের মূর্তি প্রতিষ্ঠার অসাধ্য কাজ করলেন কোন নেতা মন্ত্রীর থেকে দাক্ষিণ্য না নিয়ে। 

নেতাজীর জন্ম শতবর্ষে ছাত্র সংগঠন ডি এস ও’র কমরেডদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদেরকে নির্দেশ দেওয়া থেকে শুরু করে প্রাশাসনিক স্তরের আনুষ্ঠানিকতার কাজ দীপুদা নিজে দেখেছিলেন । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই অনুষ্ঠানে একদল সাইকেল আরোহীকে মণিপুরের মৈরাং শহরে  পাঠানো হয় নেতাজীর বার্তা প্রচারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য  নেতাজীর আজাদ হিন্দ ফৌজ যুদ্ধ করতে করতে মণিপুর পর্যন্ত এসেছিল। শিলচর তারাপুরের পাইওনিয়ার ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব সামলে শরৎচন্দ্র, নেতাজী, বিদ্যাসাগরের জন্মদিন পালনে দীপুদা  উদ্যোগী ভুমিকা নিয়েছিলেন । তারাপুর অঞ্চলে নেতাজীর জন্মদিনে কিংবা ১৯শে মে তারিখে লাল পতাকা হাতে নিয়ে তিনি  ছাত্র ছাত্রীদের মিছিল করতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন । সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে সুকোমল মানসিকতার জন্ম দিয়ে সেই মনে তিনি পাকাপোক্ত ভাবে বিরাজ করতেন, যার প্রমাণ পাওয়া গেছে শেষ যাত্রায়।  

শিলচরে ব্রডগেজ সম্প্রসারণের দাবীতে সংগঠিত  আন্দোলনে তিনি ব্রডগেজ রূপায়ন কমিটির একজন দায়িত্বশীল  কার্য নির্বাহী সদস্য হিসাবে  বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যে সরকার বা রাজনৈতিক দল এই ব্রডগেজ বাস্তবায়নের অসাড় দাবী করুক না কেন ব্রডগেজের টালবাহানার বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলনের ইতিহাস লেখা হলে দীপুদার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা হবে । বারবার ছুটে গিয়েছেন হাফলং, মাইবং সহ  পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্গম স্থানে সমস্যাকে বুঝতে ও সমাধানের উদ্দেশ্যে।

তিনি মূলত রাজনৈতিক ব্যক্তি, সংস্কৃতি চর্চাতেই নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি , ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন গড়ে তুলতে সব বামপন্থীদের সম্মিলিত প্রয়াসে তিনি থাকতেন প্রথম সারিতে। ধর্মঘট, মিছিল, হরতাল, বনধ সর্বত্র দীপুদা। কতবার পুলিশের হাতে  গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে  গ্রেফতার হয়েছিলেন তার কোন সীমা সংখ্যা নেই। আইন অমান্য আন্দোলনে উপায়ুক্তের কার্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে খণ্ড যুদ্ধে নিজে আহত হয়েছেন,গ্রেফতার হয়েছেন । দলীয় আদর্শকে প্রচার এবং প্রসার করতে নিশ্চিত হার জেনেও অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে নির্বাচনে লড়েছেন। 

এন আর সি’র নামে অমানবিক হয়রানি এবং কথায় কথায় ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে দীপুদা আবার প্রথম সারিতে। প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য , শ্রমিক আন্দোলনের নেতা কিশোর ভট্টাচার্য, ‘আমরা বাঙালি’ নেতা সাধন পুরকায়স্থ সহ অনেকের সঙ্গে মিলে নাগরিকত্বের দাবীতে আন্দোলনে ছুটে গেছেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে । এই আন্দোলনের সময়েই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন জানা যায় কালব্যাধি কর্কট দেহে বাসা বেধেছে । ছুটে যান শিলং শহরের নিগ্রিমস হাসপাতাল,পরে  কলকাতার কর্কট রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে অবশেষে  দক্ষিণ ভারতের ভেলোর হাসপাতালেও যান সুচিকিৎসার প্রয়োজনে  । কিছুটা সুস্থ হয়ে শিলচর ফিরে এসে  হরিদাস দত্ত মহাশয়ের নেতৃত্বে নাগরিক স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের একজন দায়িত্বশীল  কার্যনির্বাহী সদস্যের দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা দেখিয়ে শিলচর পুরসভায় ধর্ণায় বসেন। 

২০২০ সালে তিনি কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন । মৃত্যুর এক মাস আগে তিনি চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির দাবীতে প্লেকার্ড বুকে ঝুলিয়ে আবার  আন্দোলনে সামিল হন। 

গত ২২শে জুলাই হঠাৎ করে আবার অসুস্থ হন, নিয়ে যাওয়া হয় শিলচর মেডিকেল কলেজে, অসুস্থতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ায় গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয় সেখানেই চলে পক্ষকাল চিকিৎসা , অবশেষে সব চেষ্টার অবসান ঘটিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । কাঁপা হাতে লিখে যান ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কোন ক্ষোভ নেই , ডাক্তাররা যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন । 

আন্দোলনের এক উজ্বল আলোক বর্তিকা প্রদীপ কুমার দেবের জীবনাবসানে নিভে গেল, এই নিভন্ত আলোয় আবছা অন্ধকারে তাঁর উজ্বল স্মৃতি যেন আমাদের পথ দেখায়, যেন এই পথে হেঁটে আরও অনেক প্রদীপ জ্বলে উঠে।




About us

প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার যুগে খবরের সত্যতাটির পক্ষপাতদামুক্ত উদ্যোগ / দীক্ষা প্রয়োজন। ক্লান্তিকর সংবাদগুলি আর সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে না। অভ্যন্তরীণ খবরে বৈশ্বিক কোণ থেকে বর্ণিত করার লক্ষ্যে, "বার্তালাপি ডিজিটাল" ডিজিটাল সাংবাদিকতার মাঠে প্রবেশ করেছে। শিরোনামের মিশ্রণটি তার লক্ষ্য এবং লক্ষ্যটির স্ব-ব্যাখ্যামূলক। বৈশিষ্ট্যগুলি, নিউজফ্ল্যাশগুলি এর মাধ্যমে একটি প্ল্যাটফর্মে সমস্ত সিঙ্ক করা হয়, এটি বারাকের নেটিজেনদের একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আভা দেয়। বার্তালাপি ডিজিটাল তাই ডিজিটাল ভারসাম্য পূরণের প্রতিশ্রুতি দেয় যা এটি ডিজিটাল বিবর্তনের যুগে একটি সংবাদ সংস্থা হিসাবে চিহ্নিত করবে




Follow Us