BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Friday, 26 Feb 2021  শুক্রবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

বাংলাভাষী উন্নয়ন পরিষদের সভা ভণ্ডুল! থানায় গেলেন সেনশর্মা

Bartalipi, বার্তালিপি, বাংলাভাষী উন্নয়ন পরিষদের সভা ভণ্ডুল! থানায় গেলেন সেনশর্মা

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা ‘কা’ অসমে উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালির নাগরিকত্ব কতটুকু সুনিশ্চিত করবে, তা ভবিষ্যতে বোঝা যাবে। তবে বর্তমানে বাঙালি হিন্দু যে এই আইনের জেরে নানা ধরনের নির্যাতনের মুখে পড়ছে, তা রবিবার মরানে আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। এ দিন বাংলাভাষী উন্নয়ন পরিষদের একটি সভা ভণ্ডুল করে দিয়েছে উজান অসমের কয়েকটি সংগঠন। শুধু তাই নয়, পরিষদের রাজ্য আহ্বায়ক প্রদীপ সেনশর্মাকে কার্যত হেনস্থা করেছে ওই সংগঠনগুলির মারমুখি সদস্যরা। রবিবার এ ব্যাপারে মরান থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেছেন সেনশর্মা। প্রসঙ্গত, বাংলাভাষী উন্নয়ন পরিষদ রাজ্য সরকারেরই অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি সংস্থা।

 

রবিবার মরানে বাংলাভাষী উন্নয়ন পরিষদের একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন সেখানে চড়াও হয় আহোম যুব পরিষদ, আহোম গণমঞ্চ, চুতিয়া জাতি ছাত্র সংস্থার মত কয়েকটি সংগঠন। তাদের অভিযোগ, মরান এলাকার অন্য কোনও জাতি-জনগোষ্ঠীকে না জানিয়ে কেন বাংলাভাষীদের এই পরিষদ এখানে সভা করছে। অকন ভুঁইয়ার নেতৃত্বে পঞ্চাশ-ষাট জনের একটি দল রীতিমত গায়ের জোরে সভা ভণ্ডুল করে দেয়। রাজ্য সরকারের গড়ে দেওয়া এই পরিষদের আহ্বায়ক প্রদীপ সেনশর্মাকে ঘেরাও করে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। মরান থানায় প্রদীপবাবু যে এফআইআর দিয়েছেন, সেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন অকন ভুঁইয়ার নেতৃত্বে যে দলটি সেখানে চড়াও হয়েছিল তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। সভায় উপস্থিত সদস্যদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন বলে প্রদীপবাবু উল্লেখ করেছেন। তিনি নিজেও প্রাণসংশয় রয়েছে বুঝতে পেরে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হন। ভারতীয় দণ্ডবিধির বেশ কয়েকটি ধারার উল্লেখ টেনে তিনি অকন ভুঁইয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। প্রদীপবাবু বলেছেন যে কোনও মুহূর্তে তিনি আক্রান্ত হতে পারেন।

 

প্রদীপ সেনশর্মা বঙ্গভাষী অসমিয়া সমাজ নামে উজান অসমের একটি সংগঠনের সভাপতি। শুধু তাই নয়, আলফার চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়া, অনুপ চেতিয়া, প্রদীপ গগৈ, মৃণাল হাজারিকার মত মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ‘সম্প্রীতি অসম’ নামের একটি সংগঠনও গড়ে তোলেন। ‘কা’ নিয়ে রাজ্য জুড়ে তুমুল প্রতিবাদ চলার সময়ই উজান অসমের ধলায় পাঁচজন বাংলাভাষী মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপরই প্রদীপবাবুর উদ্যোগে ‘সম্প্রীতি অসম’ গঠন করা হয় যেখানে আলফার প্রথম সারির নেতারাও সামিল হয়েছিলেন। এর পাশাপাশি চাওলাং চুকাফার বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের জনৈক গর্গ চ্যাটার্জি আপত্তিজনক মন্তব্য করার পর এই প্রদীপবাবুই গর্গর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। সেনশর্মা পরিবার ১৯২৩ সাল থেকে মরানের বাসিন্দা, অসম সাহিত্য সভারও তিনি অন্যতম সক্রিয় সদস্য। এককথায় অসমের বিভিন্ন প্রান্তে যুগযুগ ধরে যেসব বাংলাভাষী মানুষ রয়েছেন, প্রদীপ সেনশর্মা তাঁদেরই অন্যতম। কিন্তু ষাটোর্ধ্ব এই প্রবীণ মানুষটিকেও শুধু বাংলাভাষী হওয়ার জন্য এভাবে হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে কেন্দ্র সরকার জোড়া নোটিফিকেশন এনে উদ্বাস্তুদের নিরাপত্তার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বাঙালি হিন্দুদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সংসদে ‘কা’ পাশ হয়ে যাওয়ার পর এই নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়েছে। এদিকে বাঙালি হিন্দুরা এবার রাজনৈতিক দল গঠন করে নিজেদের অধিকার সাব্যস্ত করার প্রয়াস নিয়েছেন। এটাও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় ভাল চোখে দেখা হচ্ছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বাঙালির বাড়বাড়ন্ত’ নিয়ে নানা ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্যও করা হচ্ছে।