BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

Bartalipi, বার্তালিপি, মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

                      (১০)

এবার আমরা শঙ্করদেবের রচনায় নারীর স্থান কোথায় তা দেখাতে চেষ্টা করব। ধর্মগুরুরা চিরকাল কামিনী কাঞ্চন থেকে সর্বসাধারণকে যথাসম্ভব দূরে থাকতে উপদেশ দিয়েছেন। কারণ তাদের মতে এই দুটি ষড়রিপুকে উত্তেজিত করে জীবকে পথভ্রষ্ট করে,ফলে মুক্তির পথ খুঁজে না পেয়ে সংসার চক্রে আবর্তিত হয়। এই বিষয়ে অসমের বৈষ্ণব ধর্মগুরুরাও একই কথা বলেছেন। মহাপুরুষ শঙ্করদেবের কীর্তন পুঁথিতে দেখি –

            ঘোষ নারীমায়া সর্বমায়াতে কুৎসিত।

            মহাসিদ্ধ মুনিরো কটাক্ষে মোহে চিত্ত।।

             দরশনে করে তপ জপ যোগ ভংগ।

             জানি জ্ঞানীগণে কামিনীর এনে সঙ্গ।।

‘ভক্তি রত্নাকর’ এ আমরা দেখি –

       পরম অনর্থকারী নারী সমস্তয়।

       নারী সঙ্গে বহু দুখ পুরুষে লভয়।।

    নিষ্কাম ভক্ত মহাপুরুষ শঙ্করদেবের রচনায় এই ধরনের উক্তি সর্ব্বভরতীয় বৈষ্ণব মতাদর্শেরই প্রতিধ্বনি। সাহিত্যকর্ম যখন উদ্দেশ্যধর্মী হয় তখন লেখকের সমস্ত চিন্তাভাবনা,ধ্যান ধারণা,ভাব-অনুভূতি সেই একই উদ্দেশ্যে ধাবিত হয়। ফলে সেই সমস্ত রচনায় লেখকের প্রতিভার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে না।অসমে ভাগবতী বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে শঙ্করদেব নাট,গীত,পদ,ভটিমা ইত্যাদি সৃষ্টি করেন। ভাগবতই ছিল অসমের বৈষ্ণব গুরুদের সাহিত্য সৃষ্টির মূল আধার। উপরোক্ত নারী সম্পর্কীয় উক্তিসমূহ অথবা ‘স্ত্রী শূদ্র অন্ত্য জাতি অধম চণ্ডাল’বলে করা মন্তব্য শঙ্করদেবের নিজস্ব নয়। এসব কথা ভাগবতের।বাস্তব ক্ষেত্রে নারী সম্পর্কে শঙ্করদেবের ধারণা এই ধরনের ছিল বলে মনে হয় না। কারণ তিনি নিজে আদর্শ গৃহী ছিলেন এবং তাঁর প্রিয় শিষ্য মাধবদেবকে ও ‘গড় বান্ধি যুঁজিলে সজ,প্রাণর সংশয় নাই’বলে বিয়ে করে সংসারী হতে উপদেশ দিয়েছিলেন।নারীমনের স্বাভাবিক ভাব অনুভূতি,প্রেম-প্রীতির প্রকাশ শঙ্করদেবের রচনায় খুব একটা দেখা যায় না।উদাহরণস্বরূপ ‘পত্নীপ্রসাদ’ নাটকের ব্রাহ্মণ পত্নীরা,’কেলিগোপাল’এবং কালিদমন’নাটকের ব্রজনারীরা এবং ‘রামবিজয়’নাটকের সীতা চরিত্রের পরিচয় কেবল ভগবানের পায়ে নিবেদিত ভক্ত হিসেবে,তাদের নারী সত্তার কোনো পরিচয় সেখানে ফুটে উঠে নি। ‘কেলিগোপাল’নাটকে আমরা রাধা নামে একজন গোপীর দেখা পাই। কিন্তু এই রাধা কবি জয়দেবের‘গীতগোবিন্দ’এর বা ‘মৈথিলী কোকিল বিদ্যাপতির দুরন্ত প্রেমিকা রাধা নয়।‘কেলিগোপাল’নাটকে রাধা নামে গোপীর উল্লেখ করা হয়েছে কেবলমাত্র এটা দেখানোর জন্য যে অহং ভাবের বিলোপ সাধন না হলে ভগবানকে লাভ করা যায় না। ‘ রুক্মিণী হরণ’নাটকের ভীষ্মকের পত্নী শশীপ্রভা,সুমালিনী ধাই এবং দৈবকীর চরিত্র চিত্রনে শঙ্করদেবের মৌলিকতা লক্ষ্য করা যায়। এসবই পার্শ্বচরিত্র।কিছুক্ষণের জন্য কাব্যে আবির্ভুত হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেই মাতৃ এবং ধাতৃ রূপের সুন্দর প্রকাশ ঘটেছে।বিবাহযোগ্যা রূপবতী কন্যা ঘরে থাকলে সব মায়েরই দুশ্চিন্তা হয়। উপযুক্ত ছেলে দেখে কন্যার বিয়ে দিতে পারলে মাতা পিতা দায়মুক্ত হন। তাই আর দশজন মায়ের মতোই শশীপ্রভা ও রাজা ভীষ্মককে  বলেন—

রুক্মিণী জীয়াইর আমি ভৈল বোধমান।

যুড়িয়োক বর রাজা করা কন্যাদান।।

সাত পোঞ্চ নাহিকে জীয়াই এক গুটি।

কোনমতে আসে প্রভু নিশ্চিন্ত ঘুমটি।।

কন্যাকে সুপাত্রে অর্পণ করার জন্য মায়ের উদ্বিগ্নতা যেমন চিরন্তন ,বিয়ের কন্যাকে বিদায় দেবার বেদনাও গর্ভধারিণীর কাছে তেমনই শাশ্বত। আদরে প্রতিপালিত কন্যাকে যেন শাশুড়ি সমস্ত দোষ ক্ষমা করে নিজের মেয়ের মতো পালন করেন এটাই সমস্ত মায়ের কামনা। শশীপ্রভা ও তাই দৈবকীর হাত ধরে অনুরোধ করেন –

পাঞ্চ পুত্র মাজে                 জীউ একখানি

         সম্যকে মোহোর জীউ

কাবৌ করো হেরা               পালিবা বিহানী

        তোমারসে ভৈল জীউ।।

তখন একজন সন্তান বৎসলা  মায়ের করুণ আকুতির চিরন্তন ছবিটিই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে।বৈষ্ণব সাহিত্যের সীমা লঙ্ঘন না করে  মহাপুরুষ শঙ্করদেব যে কয়েকটি নারী চরিত্র কাব্য এবং নাটকে সৃষ্টি করেছেন সেগুলি তাঁর সৃষ্টিশীল প্রতিভা এবং চরিত্রাঙ্কন ক্ষমতার পরিচয় দান করে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে ‘কীর্ত্তন পুঁথি’র ঘোর নারীমায়া সর্বমায়াতে কুৎসিত’ অথবা ‘ভক্তিরত্নাকর’এর পরম অনর্থকারী নারী সমস্তয়’আদি কথার প্রমাণস্বরূপ মহাপুরুষের রচনায় একটি ও অসৎ বা অনিষ্টকারী মোহিনী রূপের নারী চরিত্র নেই। পত্নী,প্রিয়া,মাতৃ,সখী এবং ধাতৃ প্রায় প্রতিটি চরিত্রই স্নেহ-মমতা,বিশ্বাস,পরোপকার এবং বিশুদ্ধ প্রেম-ভক্তির প্রতিভূস্বরূপ।’

    ‘পারিজাত হরণ’ নাটকের লক্ষ্মী চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্র হল কৃষ্ণের অন্য এক পত্নী সত্যভামা। শঙ্করদেব ‘ভাগবত’ এবং ‘হরিবংশ’এর  কাহিনির কথাবস্তু মিলিয়ে ‘পারিজাত হরণ’ নাটক রচনা করেছেন। কিন্তু সত্যভামার চরিত্র সৃষ্টিতে নাট্যকার কিছু স্বাধীনতা নিয়েছেন। সেই জন্য শঙ্করদেবের  চরিত্রটি শংকরদেবের সৃষ্ট সমস্ত নারী চরিত্রের মধ্যে আকর্ষণীয় এবং বাস্তব হয়ে উঠেছে। সত্যভামা  চরিত্রের মূল দিক হল সপত্নীর প্রতি তাঁর ঈর্ষাভাব। এটিকে কেন্দ্র করেই তার চরিত্রের অন্যান্য দিক গুলি প্রস্ফুটিত হয়েছে। নারদ স্বর্গ থেকে পারিজাত ফুল এনে শ্রীকৃষ্ণের হাতে দেয়।  নারদের মুখে  ফুলের বিস্তৃত বর্ণনা শুনে স্বাভাবিকভাবেই কৃষ্ণের প্রথমা পত্নী  রুক্মিণী  সবিনয়ে ফুলটি  প্রার্থনা করে।  কৃষ্ণও রুক্মিণীর খোঁপায় আদরের সঙ্গে ফুলটি পরিয়ে দেয়।  সত্যভামার সপত্নী বিদ্বেষের কথা জেনেই নারদ  এই ব্যাপারটাকে নানা ভাবে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে এমনভাবে সত্যভামাকে জানায় যে রুক্মিণীর  প্রতি সত্যভামার ঈর্ষা আগুনের মতো দাউদাউ করে জ্বলে উঠে। নারদ ভাবা মতোই প্রতিক্রিয়া হল।‘নারদ মুখে  সতিনিক মহোদয়  শুনি কহুঁ/কোপে অপমানে আন্ধারি দেখিব/দেবী সত্যভামা মূর্ছিত হুয়া পড়ল।’ স্বামী কৃষ্ণ তার চেয়ে অন্য কাউকে বেশি ভালোবাসে সেটা সত্যভামা সহ্য করতে পারে না।  অন্যান্য পত্নীদের চেয়ে কৃষ্ণ তার প্রতি বেশিঅনুরক্ত, সুন্দরী সত্যভামার এটাই ধারণা।  নারদ মোক্ষম স্থানে আঘাত করায় নিজের জীবন যৌবনকে মাটিতে গড়াগড়ি সত্যভামা বিলাপ করতে থাকে। নারদের মুখে সত্যভামার রোষ অভিমানের কথা শুনে কৃষ্ণ সত্যভামার কাছে দৌড়ে আসে। কিন্তু কৃষ্ণের চাটুকারী  কথায় ভুলে যাবার মত নারী নয় সত্যভামা। অভিমানীনী কৃষ্ণের দিকে পিঠ দিয়ে বসে চোখের জল ফেলতে আরম্ভ করে।স্তিনীর অধীন হওয়ার চেয়ে প্রাণত্যাগ শ্রেয়।কৃষ্ণ তখন বাধ্য হয়ে সত্যভামার কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় –‘পারিজাত তরু সমূলি উপাড়ি/রোপন করব আনি তুয়ী বাড়ি ।’তখন গিয়ে সত্যভামা শান্ত হয়। কিন্তু স্বামী কৃষ্ণের উপরে তার সম্পূর্ণ বিশ্বাস নেই। নরকাসুর বধ করে বাইরে বাইরে স্বর্গে যাবার জন্য প্রস্তুত কৃষ্ণের সঙ্গে সত্যভামা যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। কারণ এবার পারিজাত এনে কৃষ্ণ কোন সতীনকে দেয় তার ঠিক কী?  বিমানের উপর থেকে দেখা গাছটিকে পারিজাত ফুলের গাছ বলে জানার সঙ্গে সঙ্গে  সত্যভামা উৎফুল্ল হয়ে উঠল। পারিজাত ফুল পরিধান করে নিজের সৌভাগ্য জাহির করাটাই সত্যভামার প্রধান উদ্দেশ্য। পারিজাতের জন্য কৃষ্ণ এবং ইন্দ্রের যুদ্ধ হল। কারণ ইন্দ্রানী সত্যভামা কে পারিজাত দেবে না বলে সদর্পে নারীদের সামনে বলে পাঠায়। দেবরাজ ইন্দ্রের পত্নী শচী সত্যভামার সমধর্মী চরিত্র। শচীর উত্তর শুনে সত্যভামা ক্রোধে জ্বলে ওঠে। শচী অমরাবতীর অধিকারিণী বলে মানবী সত্যভামাকেতুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে।সত্যভামা ক্রোধের বশবর্তী হয়ে শচীকে ‘দানবক বেটি’ বলে উল্লেখ করে। লক্ষ করা যেতে পারে  ইন্দ্র শ্রীকৃষ্ণের যুদ্ধের চেয়ে সত্যভামা-শচীর বাকযুদ্ধ বেশি উপভোগ্য হয়ে পড়েছে। এখানেই নারী চরিত্র সৃষ্টিতে  মহাপুরুষ শংকরদেবের কৃ্তিত্ব। নিজ নিজ পদমর্যাদা এবং স্বামীকে নিয়ে দুজনেই সমান গর্বিতা।

    মহাপুরুষ শঙ্করদেবের বহুমুখী প্রতিভার একটি বিশেষ দিক হল ‘ভাওনার’ সৃষ্টি। শঙ্করদেবের রচিত প্রথম নাটক ‘চিহ্ন যাত্রা’। নাটকটি মঞ্চস্থ করার সময় খোল, তাল ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র কারিকর  দিয়ে তৈরি করিয়ে নিয়েছিলেন। নাটকের চরিত্রগুলি মূল চরিত্র অনুযায়ী রূপদান করার জন্য বিভিন্ন বেশভূষার সঙ্গে  মুখোশ ব্যবহার ব্যবহার করা হত। মুখোশ গুলি তৈরি হত শোলা দিয়ে। বিভিন্ন রকম প্রসাধনের সঙ্গে অভ্র ব্যবহার করা হত।  ভাওনার মূল উদ্দেশ্য হল ধর্মের জয় ও অধর্মের পরাজয় দেখানো। ভাবনার অপরিহার্য অঙ্গ হল ‘ছৌঘর’ অর্থাৎ ‘সাজঘর’। এর বিষয়বস্তু রামায়ণ, মহাভারত, হরিবংশ, ভাগবত পুরাণ ও ‘ বিষ্ণুপুরাণ’ এর অন্তর্গত। ভাওনার বিশেষ বৈশিষ্ট্য গুলি হল ১)সূত্রধারে ভূমিকা ২)চরিত্র ৩)গীত-বাদ্য ৪)সংলাপ ৫) হাস্যকৌতুক। ভাওনায় সূত্রধার এক বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। সূত্রধার মঞ্চস্থ করা নাটকটির সঙ্গে দর্শকের এক যোগসূত্র তৈরি করে এবং নাটকের নাম ঘোষণা করে। সূত্রধর সংস্কৃত শ্লোক দ্বারা ভাওনার বিষয় বস্তু বুঝিয়ে দেয়। অসমের প্রাচীন সংস্কৃতি ওজাপালির সুত্রধার চরিত্রের মতো ভাওনার সূত্রধার চরিত্রটি পোশাক পরিধান করে। বিশেষ ধরনের টুপি মাথায় দেয়। নাটকের আরম্ভ থেকে শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার সূত্রধার চরিত্রটিকে মঞ্চে দেখা যায়। ভাওনার চরিত্রগুলোতে সাধারণত রূপ দান করে পুরুষ মানুষ। তবে বিষয়বস্তু অনুসারে কোনো নারী চরিত্রের ভূমিকা থাকলে, পুরুষ চরিত্ররাই  নারী সেজে অভিনয় করে।নাটকীয় চরিত্র গুলি ফুটিয়ে তুলতে শিল্পীরা মূল চরিত্রের সঙ্গে সঙ্গতি বা সাদৃশ্য রেখেই পোশাক পরিধান করে, প্রসাধনীয় দ্রব্য দিয়ে মুখমণ্ডল সজ্জিত করে এবং মুখোশের ব্যবহার করে।

    নাটকের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভাওনায় রাগবদ্ধ গীত ও তাল ব্যবহার করা হয়। গীতের মধ্যে বিলাপ- -পয়ার মধ্যাবলী- মুক্তাবলী ইত্যাদি শ্রুতিমধুর গীত ব্যবহার করা হয়। নাটকীয় কাহিনির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গীতের কথা রচনা করা হয়। শংকরদেব সৃষ্ট ভটিমার প্রয়োগ করা হয় ভাওনায়। নাটকের শুরুতে মুক্তি-মংগল ভটিমা গাওয়া হয়, কখনও নান্দী গাওয়া হয়। তালের মধ্যে ভোর তাল (বড়তাল) ও খুঁটি তাল(ছোটতাল) ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মৃদঙ্গ ও খোল ব্যবহৃত হয়। নান্দীগান বলতে বাধা বিপত্তি-নাশক শ্লোকযুক্ত গান অভিনয়ের পূর্বে গাওয়া হয়। ভাওনায় কাহিনির সংলাপ ব্রজবুলি ভাষায় রচিত হয়। ব্রজবুলি ভাষা হল মধ্যযুগের কবিদের সৃষ্ট একটি কৃত্রিম ভাষা। শংকরদেব এবং মাধবদেব তাঁদের নাটকে বরগীতে এই ব্রজবুলি ভাষা ব্যবহার করেছেন।

    ভাওনায় হাস্যকৌতুক, ঠাট্টা-তামাশার প্রয়োগ দেখা যায়। এই ঠাট্টা-তামাশা তিন ধরনের। অসমিয়া ভাষায় এই ঠাট্টা-তামাশাকে বলা হয় ধেমালি। এই তিন ধরনের ধেমালি হল ছোট ধেমালি , বড় ধেমালি এবং মধ্যম ধেমালি। ভাওনায় সপ্তসুরের বদ্ধ বাজনার সঙ্গে সূত্রধারের লয়-লাস্য  নৃত্য ভঙ্গী প্রদর্শিত হয়।