BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Monday, 01 Mar 2021  সোমবার, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

শিলচর সিভিল হাসপাতালের গোড়াপত্তনের কথা

Bartalipi, বার্তালিপি, শিলচর সিভিল হাসপাতালের গোড়াপত্তনের কথা

সম্প্রতি শিলচর সিভিল হাসপাতালের যাত্রার কথা (স্থাপনের শতবার্ষিকী) নিয়ে কিছু সংবাদ শিরোনামে এসেছে।  এদিকে জন্মসূত্রে শিলচরের আদি বাসিন্দা তথা প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ দেবব্রত দত্ত সংকলিত 'শিলচর পুরসভার ইতিহাস' থেকে জানা যায় ১৮৬৪ সালে যে দাতব্য হাসপাতালটি শিলচরে স্থাপিত হয়েছিল - সেটাই আজকের সিভিল হাসপাতাল।  হাসপাতালটি কে বা কারা চালু করেছিল তা জানা না থাকা সত্ত্বেও মূলত ১৮৫৬ সালে কাছাড়ে চা শিল্প স্থাপিত হওয়ার পর বহিরাগত শ্রমিকদের ও এই অঞ্চলের গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসা পরিষেবা দানের জন্য হাসপাতাল গড়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।  তাছাড়া ১৮৫৭ সালের ডিসেম্বরে সিপাহী বিদ্রোহের ঢেউ এই অঞ্চলে এসে পড়ায় তার মোকাবিলায় গঠিত সিপাই-ফৌজদের ও তাদের পরিজনদেরও এই পরিষেবা দানের ভাবনাকে হাসপাতাল গোড়ার উদ্দেশ্য হিসাবে অনুমান করা যেতে পারে। চা বাগানের সাহেবরা, বহিরাগত শ্রমিক সরবরাহকারী অধিকারীরা এই হাসপাতালের অর্থের যোগান দিতেন।  সেই সঙ্গে সরকার পক্ষ থেকেও আর্থিক অনুদান সহ বিদেশী ঔষধাদি সরবরাহ করা হত।  তৎকালীন সিভিল সার্জনের আওতাধীন এই হাসপাতালে প্রথমদিকে পাস করা ডাক্তাররা না থাকলেও বাইরের ডাক্তারদের কাছে হাতে কলমে শেখা কম্পউন্ডাররাই হাসপাতাল চালাত। প্রথমদিকে শহরের অধিবাসীরা বেশি হাসপাতালমুখী হতেন না। ১৮৮২ সালে তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার জে হোয়াইট নক্স কে প্রধাধিকার বলে সভাপতি, সিভিল সার্জন ডা: মনটিথ কে এক্স অফিসিও সদস্য ও কয়েকজন নেটিভদের নিয়ে যে শিলচর স্টেশন কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিটি প্রতি বছর হাসপাতালটিতে আর্থিক অনুদান দিত।  ১৮৮২-৮৩ সালের ওই কমিটির আর্থিক বাজেটের কার্য বিবরণীতেও এই অনুদানের উল্লেখ রয়েছে।  ১৮৮৫ সালের ২২শে জুলাই এর কার্য বিবরণীতে এই হাসপাতালটির জন্য একজন উপযুক্ত সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন আনার প্রস্তাবও গৃহীত হয়।  তাছাড়া ১৮৮৮ সালে স্টেশন কমিটি হাসপাতাল সম্মুখস্থ রাস্তাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাস্তাটিকে মেটেলিং করার প্রস্তাব গ্রহণ করে।  অবশ্য কমিটির আর্থিক দুর্বলতার জন্য ১৮৯৮ সালেই হাসপাতাল রোড শিলচরের প্রথম মেটেলিং রোড হিসাবে নির্মিত হয়। ১৮৯৬ সালে হংকং প্লেগ বা ১৯১৮ সালের সংক্রামিত ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারি মোকাবিলায় এই হাসপাতাল সহ পুরনিগমের একটা কার্যকরী ভূমিকা ছিল।  পরবর্তীতে হাসপাতালটিতে প্রথম ফিমেল ওয়ার্ড গোড়ার প্রয়োজনীয়তা হলে পুরসভা এক বড় আর্থিক অনুদানের হাত বাড়ায়। 

জনমুখী পদক্ষেপ হিসাবে শহরবাসীকে বেশি করে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার আওতায় আনার জন্য এবং এর ইউরোপিয়ান সাহেবদের চিকিৎসা পরিষেবায় সাচ্ছন্দ আনার লক্ষ্যে হাসপাতালটির পরিকাঠামোগত উন্নতির উদ্দশ্যে ওয়ার্ড, কেবিন ইত্যাদি গড়ার ভাবনা সরকারি চিন্তাভাবনায় চলে আসে।  এর ফলস্বরূপ সরকার থেকে শিলচর পুরসভার কাছেও অনুদান বৃদ্ধির অনুরোধ করা হতে থাকে।  তৎকালীন পুরোপতি কামিনী কুমার চন্দ প্রাথমিক ভাবে অনুদান বৃদ্ধিতে সম্মত ছিলেন না কারণ শহরবাসী এই পরিষেবা ততটা নিত না।  যাইহোক ১৯২০ সালের ২রা নভেম্বর হাসপাতালটির উন্নতিকল্পে তৎকালীন ভাইসরয় চেমসফোর্ড এই হাসপাতালের একটি ওয়ার্ড সহ কেবিনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এখানে মনে রাখতে হবে যে ১৮৩২ সালে কাছাড়ে ব্রিটিশ শাসন চালু হয়। শুরু থেকেই এতদঞ্চলের ব্রিটিশ শাসকরা - চেরাপুঞ্জি, ঢাকা, সিলেট ও ফোর্ট উইলিয়াম - এক প্রশাসনিক বৃত্ত রেখে প্রদেশ শাসন করতেন। ফলে এই অঞ্চলের একটা গুরুত্ব উপরমহলে ছিল। তাছাড়া ১৮৮১ সালে চা শিল্পের পরিচালক মহল সংগঠিত হয়ে এতদুপলক্ষে পরোক্ষভাবে ব্রিটিশ প্রশাসকদের সাহায্য করতে থাকে। তখন এই অঞ্চলে রবার্ট স্টুয়ার্ট-এর মতো ডাকসাইটে ব্রিটিশ প্রশাসনিক কর্তাদের শাসন কাল ছিল- ১৮৪৭-১৮৬৭ সাল। ভাইসরয় চেমসফোর্ড-এর আগমনের কর্মসূচি আগে থেকেই সূচিত হওয়ায় পুরসভা তাঁকে অভ্যর্থনা দানের প্রস্তাব গ্রহণ করে আগস্ট মাসের এক সভায়। দেবব্রত দত্ত-এর বিবরণ অনুযায়ী জানা যায় যে ভাইসরয় চেমসফোর্ড-এর সঙ্গে পুরপতি কামিনী কুমার চন্দের এক বেক্তিগত হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।  কিন্তু কোনও কারণে ভাইসরয় চেমসফোর্ড-এর আগমনের পূর্বে তৎকালীন ডিভিশন্যাল কমিশনারের সঙ্গে কামিনী কুমার চন্দের মতবিরোধ হয় এবং পূর্ব সিদ্ধান্তগুলি কার্যকর হয়নি। এদিকে ২রা নভেম্বরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য কামিনী কুমার চন্দকে আমন্ত্রণও জানানো হয়নি ডিভিশন্যাল কমিশনারের পক্ষ থেকে।  অবশ্য কামিনী কুমার চন্দ রেলস্টেশনে বেক্তিগত উপস্থিত থেকে ভাইসরয় চেমসফোর্ড-কে আগাম সংবর্ধনা জানিয়ে এসেছিলেন।  পরবর্তীতে এই ঘটনার কথা ভাইসরয় চেমসফোর্ড-এর গোচরীভূত হলে ওই ডিভিশন্যাল কমিশনারের পদানবতি ঘটে। 

সিভিল হাসপাতালের গোড়ার কথা পর্যালোচনা করতে হলে 'শিলচর পুরসভার ইতিহাস' এর নথিবদ্ধ ঘটনাগুলি যথেষ্ট অর্থবহ কেননা এটা সংকলিত হয়েছে পুরসভার কার্য্য বিবরণী ইত্যাদিকে ভিত্তি করে। তাছাড়া ১৯৮২ সালে প্রকাশিত এই ইতিহাস যার হাত ধরে লেখা হয়েছে তার রচনাকালে দেবব্রত দত্তের বয়স ছিল প্রায় ৬৫ বছর অর্থাৎ ইতিহাসবিদ আজ আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকলে নিজেও শতায়ুর উর্ধে থাকতেন। এই প্রেক্ষিতে শিলচর সিভিল হাসপাতালের ইতিহাস নিয়ে নাড়া চাড়া করতে হলে এই ঘটনাগুলি ও শিলচর পুরসভার ইতিহাসের প্রাসঙ্গিকতা ও সংকলনের সারবক্তা নিয়ে নি:সন্দেহে ভাবতে হবে বৈকি।  তাছাড়া সমসাময়িককালে যেখানে সাহেব ও নেটিভদের যৌথ প্রচেষ্টায় শিলচরে কাছাড় হাই গ্রামার স্কুল (১৮৬৩), বিশ্বের প্রথম পোলো  খেলা (১৮৫০) বা প্রথম পোলো ক্লাব (১৮৫৯) ইত্যাদি তৈরী করা হয়েছিল যেখানে সেই সময় স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে শিলচরে কোনও ভাবনা বা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেব না - ভাবা কষ্টকর।