BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Friday, 26 Feb 2021  শুক্রবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

করিমগঞ্জে জোটে জট

Bartalipi, বার্তালিপি, করিমগঞ্জে জোটে জট

গত মঙ্গলবার করিমগঞ্জে দল বেঁধে এসেছিলেন প্ৰদেশ কংগ্ৰেসের নেতারা৷ একটি দলীয় সভাও করলেন আর বিদায় বেলায় কর্মীদের আশ্বস্ত করে গেলেন এবারের ভোটে দিসপুরের ক্ষমতায় বসছে কংগ্ৰেসই৷ জাতীয়তাবাদী অসমিয়া আর মুসলিম ভোটের জোরে নাকি তাঁরা এবার বিজেপিকে পরাস্ত করবেনই৷ এরকমই একটি ধারণা তাঁরা দিয়ে গেছেন৷ কিন্তু কীভাবে ক্ষমতা দখল হবে এ বিষয়টি আর খোলসা করেননি৷ সবচেয়ে বড় কথা বহু চৰ্চিত কংগ্ৰেস-এআইইউডিএফ জোট নিয়ে কংগ্ৰেস নেতারা স্পষ্ট কিছু বলেন নি৷ জোট আদৌ হবে কিনা, হলে কীভাবে হবে, কোন কোন আসন কংগ্ৰেস ও এআইউডিএফ-এর মধ্যে ভাগাভাগি হবে, এ ব্যাপারটিও  প্ৰদেশ কংগ্ৰেস নেতারা পরিস্কার করেন নি৷ বরং তাঁরা এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কংগ্ৰেস ও এআইইউডিএফ-এর মধ্যে প্ৰকাশ্যে জোট হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যা হবে সব গোপনেই হবে৷ এই অবস্থায় করিমগঞ্জে কী হবে এ নিয়ে এখন বিভ্ৰান্তি দেখা দিয়েছে৷ প্ৰকাশ্যেই হোক অথবা গোপনে, জোটের লাভ লোকসান নিয়ে হিসেব-নিকেশ চলছে৷ করিমগঞ্জে এমন অনেকেই আছেন যাঁরা মোটেই জোট চাইছেন না৷ এঁদের মধ্যে যাঁরা কংগ্ৰেসের মনোনয়ন প্ৰত্যাশী, তাঁরা কোনও জোটেই যেতে চাইছেন না৷ আরেক দল আছেন যাঁরা নীতিগতভাবে এআইইউডিএফ-এর সঙ্গে জোটে যেতে চাইছেন না৷ তাঁরা মনে করেন জোট হলে লাভ হবে এআইইউডিএফ-এরই৷

অন্যদিকে, করিমগঞ্জের রাজনৈতিক প্ৰেক্ষাপটেও কংগ্ৰেস-এআইইউডিএফ জোট নিয়ে দুই দলেই সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে৷ অত্যুৎসাহীরা ছাড়া উভয় দলের কর্মী ও নেতাদের একটি বড় অংশ মনে করেন করিমগঞ্জে জোট হলে তাঁদের দলে ক্ষতি হবে৷ যেমন বদরপুর আসন বৰ্তমানে কংগ্ৰেসের বিধায়ক জামালউদ্দিন আহমদের দখলে রয়েছে৷ কংগ্ৰেস কর্মীরা তো বটেই রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞ মহলও মনে করেন এই আসনে এবারও জামালউদ্দিন প্রার্থী হলে জয় নিশ্চিত৷ কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় বাধা শারীরিক অসুস্থতা৷ সেক্ষেত্ৰে অনেকেই তাঁর ছেলেকে প্রার্থী করার পরামৰ্শ দিয়েছেন৷ ছেলে প্রার্থী হলে লড়াই একটু কঠিন হবে ঠিকই, তবে শেষ পৰ্যন্ত জয় তাঁরই হবে, এমন ধারণা রয়েছে কংগ্ৰেস কর্মী ও তথ্যভিজ্ঞ মহলে৷ কারণ করিমগঞ্জে কংগ্ৰেস নেতাদের মধ্যে একমাত্ৰ জামালউদ্দিনেরই হিন্দু ভোট ব্যাংক রয়েছে৷ গত কয়েকবছর ধরে এঁরাই তাঁকে জিতিয়ে আসছেন৷ জামালউদ্দিন প্রার্থী না হলে এই ভোট হাতছাড়া হবে৷ আর জেতা আসন অন্য দলকে ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা৷ তা ছাড়া কংগ্ৰেস সূত্ৰে এও জানা গেছে, কংগ্ৰেস থেকে টিকিট না পেলে জামালউদ্দিন বা তাঁর ছেলে নিৰ্দল প্রার্থী হবেন৷ তিনি নাকি দলীয় নেতাদের এরকম হুমকি দিয়ে রেখেছেন৷ এ কথার মানে এই দাঁড়ায় যে জোট হোক বা না হোক জামালউদ্দিন বা তাঁর পরিবারের কোনও এক সদস্য বদরপুরে প্রার্থী হচ্ছেনই৷ আসলে জামালউদ্দিন ভাল করেই জানেন বদরপুরে তাঁর জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি, জোট হোক বা না হোক, দলের টিকিট পান বা না পান, কেনও ফারাক পড়বেনা, তিনি এখানে ভোটে লড়েন নিজের ইমেজের জোরে৷ এই যদি পরিস্থিতি দাঁড়ায় তা হলে জোট হলে বদরপুরে কংগ্ৰেসের কোনও লাভ হবেনা৷ বরং দলের ভোট হাতছাড়া হবে৷

একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণ করিমগঞ্জেও৷ বৰ্তমানে আসনটি এআইইউডিএফ বিধায়ক আজিজ আহমদ খানের দখলে৷ জোট হলে আসনটি কগ্ৰেসের ভাগে পড়বে এবং প্রার্থী হবেন প্ৰাক্তন মন্ত্ৰী সিদ্দেক আহমদ৷ কিন্তু এখানেও জেতা আসন কংগ্ৰেসকে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে নন এআইইউডিএফ  কর্মীদের একটি বড় অংশ৷ যদিও আজিজ খানকে দ্বিতীয়বার টিকিট দেওয়া নিয়ে অনেকের আপত্তি আছে, কিন্তু আসনটি কংগ্ৰেসকে ছেড়ে দিতে তাঁরা রাজি নন৷ এজন্য তাঁরা বিকপ্ল প্রার্থী হিসেবে জেলা সভাপতি আজিজুর রহমান তালুকদারের নাম প্ৰস্তাব দিয়েছেন, দলীয় নেতৃত্ব এ ব্যাপারে এখনও মুখ খোলেননি৷ তবে অধিকাংশ দলীয় কর্মী মনে করেন তালুকদার প্ৰাৰ্থী হলে এবারও জয় নিশ্চিত৷ অন্যদিকে, আজিজ খানও হাল ছাড়ার পক্ষে নন৷ তিনি দ্বিতীয়বার বিধায়ক হওয়ার জন্য অগপ দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে৷ তা ছাড়া বিজেপি নেতাদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পৰ্ক যথেষ্ট ভাল, বিশেষ করে হিমন্তবিশ্ব শার্মার সঙ্গে৷ কিন্তু তথ্যভিজ্ঞ মহলের ধারণা আজিজ এআইইউডিফ-এর টিকিট না পেলে অগপর হয়েই  লড়বেন, এটা নিশ্চিত৷ এও জানা গেছে, বিজেপি-অগপ আসন সমঝোতার সময় অগপ নেতারা বরাক উপত্যকায় একটি আসনই দাবি করবেন, সেটা দক্ষিণ করিমগঞ্জ৷ বিজেপি নেতৃত্ব রাজি হলে আজিজের অগপ প্রার্থী হওয়া নিশ্চিত, আর যদি জোট নাও হয়, তা হলেও নাকি তিনি এখানে প্রার্থী হচ্ছেনই, এমন খবর তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে পাওয়া যাচ্ছে৷ আজিজের একটাই অঙ্ক এবারও হিন্দু-মুসলিম ভোটের জোরে নির্বাচিত হওয়া৷ সিদ্দেক হিন্দু ভোট পাবেন না, একথা নিশ্চিত করে বলা যায়৷ বিজেপির ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা যত বাড়তে থাকবে, ততই দক্ষিণ করিমগঞ্জে অগপর পক্ষে হাওয়া উঠতে থাকবে৷ এরকম ধারণা তৈরি হয়েছে আজিজ সমৰ্থকদের মধ্যে৷ এদিকে, কংগ্ৰেস সূত্ৰে জানা গেছে, সিদ্দেকও প্ৰচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রেখেছেন দক্ষিণ করিমগঞ্জ আসন এআইইউডিএফ-কে ছেড়ে দেওয়া হলে তিনিও নিৰ্দল প্রার্থী হয়ে লড়বেন৷ অর্থাৎ সিদ্দেক কংগ্ৰেসের টিকিট পান বা না পান তিনি এখানে প্রার্থী হচ্ছেনই৷ এই যদি হয়, তাহলে দক্ষিণ করিমগঞ্জে রাজনীতি অনেকটাই জটিল হবে৷ লড়াইটা অনেক কঠিন হবে৷ এক্ষেত্ৰে জোট বেঁধে কী লাভ হবে, এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দলগুলির কর্মীদের মধ্যে৷ তাঁদের ধারণা জোট হলে ভোট ব্যাংক হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকবেই৷ করিমগঞ্জের অন্য তিনটি আসনেও দু’দলের মনোয়ন প্ৰত্যাশীরা জোটের পক্ষে নন৷ জোট হলে তাঁরাও নিৰ্দল প্রার্থী হয়ে লড়বেন, এমন সম্ভাবনা রয়েছে৷ এজন্যই জোট গঠন নিয়ে করিমগঞ্জে জটিলতা দেখা দিয়েছে৷