BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর
Wednesday, 21 Apr 2021  বুধবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

Bartalipi, বার্তালিপি, মহাপুরুষ শ্রী শ্রী শঙ্করদেব

                    (৮)

    ‘গুণমালা’ শংকরদেবের কাব্য প্রতিভার একটি সার্থক প্রকাশ। বেদান্ত তত্ত্বসার মহাভাগবত শাস্ত্রের  সার সম্বলিত গুণমালা গ্রন্থ রচনার ইতিহাস সংক্রান্ত বিভিন্ন মত পাওয়া যায়। রামচরণ  ঠাকুর রচিত ‘গুরু চরিত’এর বর্ণনা মতে একদিন কোচ রাজা নরনারায়ণ পণ্ডিতদের সঙ্গে শংকরদেব কে উদ্দেশ্য করে বললেন-

‘ভাগবত শাস্ত্রের সমস্ত কথা সার।

 সংক্ষেপ করিয়া পুথি  লেখি আরোবার।।

 একদিন মধ্যে কোনে শুনাইবা কথাক।

 কহিয়ো পন্ডিতসবে এতিক্ষনে মোক।।

    শংকরদেব ছাড়া অন্যান্য পণ্ডিতরা রাজা নরনারায়ণের এই কথার উত্তরে বললেন-

‘অসাধ্য কথা রাজা আমাক বুলিলা।।

 হাতিমারি ভুরুকাত ভরাব না পারি। 

ভাগবতগ্রন্থ তেনে করিব নোৱারি।।

     মহা মহা পন্ডিত, শাস্ত্রবিশারদ সবাই এভাবে নিজেদের অসমর্থতা প্রকাশ করায় ‘শংকরে বুলিলা   লাগে রাজাজ্ঞা পালিতে। চাম মই যত শীঘ্রে পারো আনি দিতে।‘ বলে  রাজাকে আশ্বস্ত করলেন এবং সেদিন রাতে শংকরদেব ‘গুণমালা’ পুথি রচনা করে পরের দিন রাজার হাতে সমর্পণ করলেন।–

    শ্রীশঙ্করে রাত্রিভাগে শাস্রক লিখিলা।

    গুণমালা নাম দিয়া ভুরুকাত ভরালা।।

    প্রভাত উঠি গুরু নিত্যকর্ম করি।

    রাজার সভাত যায় উঠে দরাদরি।।

    রাজা দেখি রংগমনে বসাইলা সাদরি।

    শঙ্করে ভুরুকা নিয়া দিলা আগবাঢ়ি।।

    দেখিলন্ত রাজা তাত আছে ভূর্জপত্র।

    তাহাত দেখিলা রাজা আছে ভাগবত।।

    আনন্দিত মনে রাজা ঠগা এক আনি।

    রাখিলা তাহাত নিয়া শাস্ত্রখানি।।

          *     *     *   *    

    রাজা বোলে তুমি বাপ ঈশ্বর সাক্ষাত।

    মহাপুরুষ শংকরদেবের গুণমালা গ্রন্থটি কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও গুণ এবং বৈশিষ্ট্যের পরিমাপে অত্যন্ত উচ্চ মানের। ভাগবত শাস্ত্রের বারোটা স্কন্ধে বিবৃত  ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলাখেলা, অপ্রাকৃত কার্যকলাপের ত্রুটি-বিচ্যুতিহীন বর্ণনা অত্যন্ত কম পরিসরে আলোচিত হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের গুণ গরিমা অত্যন্ত উচ্চমান বিশিষ্ট শব্দরাজিতে রচিত বলে গ্রন্থটির নাম রাখা হয়েছে গুণমালা। সুতো দিয়ে পুষ্পমালা গ্রথিত করার  মতো শ্রবণ কীর্তনের মাধ্যমে ভক্তের হৃদয় স্পর্শ করার জন্য গুণমালাৰ  প্রতিটি অধ্যায় আরম্ভ হয়েছে একটি ঘোষার মাধ্যমে। রাম নিরঞ্জন পাতক ভঞ্জন।’ এটি হল গ্রন্থের প্রথম ঘোষা।

    ‘হরি হরি রাম   হরি হরি রাম’ ঘোষার দ্বারা  দ্বিতীয় অধ্যায়ের কথা ভাগ আরম্ভ হয়েছে। এই অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণের পার্থিব লীলাখেলা অতি সুন্দর রুপে অংকিত হয়েছে। কৃষ্ণের জন্মস্থান, কা্‌ পরিবেশ তার বর্ণময় রুপ, শিশুসুলভ ধামালি ইত্যাদি প্রতিটি দিক এই প্রাণময় চিত্র শংকরদেব অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চিত্রিত করেছেন। শিশুকালের সমস্ত উল্লেখযোগ্য ঘটনা এই অধ্যায়ে স্থান লাভ করেছে। বসুদেব যমুনা নদী পার হয়ে শিশু কৃষ্ণকে গোকুলে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে গোপিনীর বস্ত্রহরণ, পত্নীপ্রসাদ পর্যন্ত কৃষ্ণলীলা বিশেষ দশম স্কন্ধ ভাগবতের কথাকে মূল হিসেবে নিয়ে সামগ্রিক বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে।

    ‘ কহ হরি রাম নকরা বিরাম’ এই ঘোষার দ্বারা আরম্ভ করা তৃতীয় অধ্যায়ে ইন্দ্রের দর্প চূর্ণ থেকে শুরু করে চানুর মুষ্টিক বধ পর্যন্ত ভাগবত আধারিত কৃষ্ণলীলার সংক্ষিপ্ত ঘটনাবলী বর্ণিত হয়েছে। গোপিনীদের সঙ্গে কৃষ্ণের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের সজীব চিত্র, শঙ্খচূড় বধ, কুঁজির প্রতি সদয় ভাব প্রকাশ,  পিতা  নন্দকে বরুণের কিঙ্করের হাত থেকে উদ্ধার করে এনে ব্রজবাসীকে আনন্দ প্রদান ইত্যাদি মনোহর রূপের বর্ণনা এই অধ্যায়টিকে সমৃদ্ধ করেছে। রুক্মিণী হরণ, স্যামন্তক মনি উদ্ধার, ইত্যাদি বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা সম্বলিত চতুর্থ অধ্যায়ের মধ্যে কৃষ্ণের বীরত্ব নানাভাবে চিত্রিত হয়েছে।

    ‘নমো কৃষ্ণ রাম তুমি পূর্ণ কাম’ এটি পঞ্চম অধ্যায়ের শুরুতে রয়েছে। বিপ্রদামোদর, সুভদ্রা হরণ,  দৈবকীর পুত্র আনয়ন,বল্কল অসুর বধ, ইত্যাদি অনেকগুলি ঘটনার সমাবেশ ঘটেছে এই অধ্যায়ে।

    ভক্ত উদ্ধবের সামনে কৃষ্ণের দ্বারা ভক্তিতত্ত্ব ব্যাখ্যা,কৃষ্ণের ইচ্ছেতেই যদুকূল ধ্বংসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং ব্যাধের হাতে কৃষ্ণের বৈকুণ্ঠ গমন-এগুলিই  শেষ অধ্যায়ের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

    একশরণ ধর্মের ভক্ত সমাজে এই পুথির আদর ভাগবতের মতোই।ভক্ত একে কণ্ঠের ভূষণ করে রাখতে পারে ,যে কোনো সময়ে গাইতে পারে।ভাগবতের সারকথা থাকা এই গ্রন্থ আজও অসমিয়া সমাজে যথেষ্ট জনপ্রিয়।

    মহাপুরুষ শংকরদেবের অনুবাদ মূলক রচনা গুলি হল  ভাগবত পুরাণের প্রথম, দ্বিতীয়,ষষ্ঠ, অষ্টম, দশম, একাদশ,  দ্বাদশ খন্ড  কীর্তন ঘোষা  এবং উত্তরাকাণ্ড রামায়ণ। সেই সময় অসমিয়া ভাষায় ভক্তি ধর্ম প্রচারের জন্য কোনো ভক্তি ধর্ম বিষয়ক গ্রন্থ ছিল না। সেই জন্য যে সমস্ত সংস্কৃত গ্রন্থে ভক্তি তত্ত্ববিষয়ক উপাদান ছিল সেই গ্রন্থসমূহ সাধারণ মানুষের বোঝার মত করে শংকরদেব পদ বন্ধে অসমিয়া ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন। শংকরদেবের সমস্ত সাহিত্য কর্মের মধ্যে ‘দশম’ এর অনুবাদ এক সফল কীর্তিস্তম্ভ ।এই অনুবাদের মধ্য দিয়ে মূল বিষয়বস্তু থেকে সরে না এসে শংকরদেব মৌলিক সৌন্দর্য এবং মাধুর্য সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। বৈষ্ণব  ধর্মের প্রধান ‘চারি  পুথি’র অন্যতম প্রধান পুঁথি দশম একটি অনুবাদগ্রন্থ। অসমিয়া নব বৈষ্ণব ধর্ম প্রধানত ‘শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ’এর উপর প্রতিষ্ঠিত। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত বৎসল ঐশ্বরিক চরিত্র, সংস্কৃত ভাষা অনভিজ্ঞ লোক-জীবনে প্রচার করার মনোবৃত্তি নিয়ে শংকরদেব দশম অনুবাদ করেন। পুরান শ্রেষ্ঠ ভাগবত অন্যান্য পুরাণের মধ্যে জটিল।অন্যদিকে দেবভাষা সংস্কৃতে রচিত ‘ভাগবত পুরাণ’ প্রান্তীয় ভাষায় দক্ষতার সঙ্গে সেই সময় অনুবাদ করাটা বড় সহজ কাজ ছিল না। দ্বিতীয়ত, এই ক্ষেত্রে মাধব কন্দলী ছাড়া অন্য কোনো প্রথিতযশা কবি বা সাহিত্যিক কে আদর্শ স্বরূপ পাওয়ার মতো কোনো সুযোগ ছিল না। মাধব কন্দলী বাল্মিকী রামায়ণ অসমিয়া ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন যদিও সেই সময় পর্যন্ত অন্য কেউ ভাগবত পুরাণ অনুবাদ করেন নি। এই প্রসঙ্গে শংকর দেব যে একক এবং অদ্বিতীয় ছিলেন সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ‘ভাগবত পুরান’ অনুবাদের ক্ষেত্রে শংকরদেব বিশেষভাবে শ্রীধরস্বামীর’ভাগবত-ভাবার্থ- দীপিকার সাহায্য গ্রহণ করেছিলেন। ‘ভাগবত পুরাণ’ যে সমাজের জন্য রচিত হয়েছিল,সেই সমাজ ছিল উচ্চ রুচিসম্পন্ন, আভিজাত্যাভিমানী এবং বিদ্যাভিমানী। সেই জন্য শংকরদেব দশম অনুবাদের প্রসঙ্গে মূল কাহিনী ভাগের রূপরেখা অব্যাহত রেখে গ্রহণ এবং বর্জন রীতির সাহায্য গ্রহণ করেছিলেন।সমাজ সচেতন কবি শংকরদেব সেই সময়ের অধ্যয়নশীল সমাজের ওপরে সতত দৃষ্টি রেখে সর্বসাধারণের মনোবিনোদনের জন্য আবশ্যকীয় উপাদানসমূহ উপস্থাপন করতে কার্পণ্য করেননি। এই বর্ণনা গুলির সমান্তরালভাবে ভক্তিরস প্রকাশক বর্ণনা পরিবেশন করতেও মহাপুরুষ যত্নের ত্রুটি করেননি।

    দশম অনুবাদের রীতিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে ১)ব্যাখ্যামূলক ২)সংক্ষেপ মুলক ৩)নীতি প্রধান ৪)পরিপূরক এবং ৫)হুবহু অনুবাদক। অনেকক্ষেত্রে শঙ্করদেব মূল দশমের বিষয়বস্তু বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যাকে আমরা ব্যাখ্যামূলক অনুবাদ বলতে পারি। দশম অনুবাদ করার সময় মহাপুরুষ শংকরদেব অনেক ক্ষেত্রেই মূলের শ্লোকগুলি হুবহু অনুবাদ করেছেন। শংকরদেবের ‘আদি দশম’ অনুবাদগ্রন্থ হলেও এতে পরিবেশিত বিভিন্ন অবস্থাদি প্রকাশক বর্ণনাসমূহের দ্বারা গ্রন্থটি বিশুদ্ধ মৌলিক সাহিত্যে রূপান্তরিত হয়েছে। শংকরদেবের দিগন্তপ্রসারী কবি প্রতিভা এবং বর্ণনা চাতুর্যের দ্বারা মূলের শ্লোক গুলি এতটাই রসোত্তীর্ণ ভাবে অনুবাদ করেছেন যে সেগুলি শংকরদেবের স্বকীয় সৃষ্টি বলে মনে হয়। আদি দশমে চিত্রিত গ্রীষ্ম, বর্ষা, এবং শরৎ কালের বর্ণনা মূলানুগ হলেও তার মধ্য দিয়েই কবির রচনা চাতুর্য  এবং বর্ণনার সৌষ্ঠব ব্যঞ্জিত হয়ে উঠেছে। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দেওয়ার ক্ষেত্রে শংকরদেবের দিগন্তপ্রসারী কল্পনার নিদর্শন পাওয়া যায়। যুদ্ধের বর্ণনাতেও  শংকরদেবের পাণ্ডিত্য এবং কবি প্রতিভা  প্রকাশ পেয়েছে। এই ক্ষেত্রে মাধব কন্দলীর সঙ্গে শংকরদেবের রচনার সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। দেবরাজ ইন্দ্রের দ্বারা বৃন্দাবনে ঘোরতর বর্ষণ বর্ণনায় কবি ঝুমুর ছন্দের প্রয়োগ করেছেন। করুণ রসের বর্ণনাতেও  মহাপুরুষের মনোরম কল্পনা, উচ্চস্তরের কবি প্রতিভা এবং পাণ্ডিত্যের পরিচয় পাওয়া যায়। যশোদার পুত্রস্নেহ, কৃষ্ণের বিদায়ে নন্দ-যশোদার সন্তাপ এবং কারুণ্যপ্রকাশে শংকরদেবের দক্ষতা প্রকাশ পেয়েছে। কৃষ্ণের বিরহ ব্যথিতা গোপীরা উদ্ভককে কৃষ্ণের বিষয়ে জিজ্ঞেস করার বর্ণনা আসলে একটি মধুর গীতিকবিতা। এই বর্ণনাটি অনুবাদ মূলক হলেও তারমধ্যে শংকরদেবের সৃজনশীল প্রতিভার পরিচয় ফুটে উঠেছে। আমরা আগেই বলেছি শংকরদেবের আদি দশম অসমিয়া সমাজে বিশেষভাবে সমাদৃত। সমগ্র ভারতবর্ষে গীতা ভাগবত যেভাবে সম্মানের স্থান লাভ করেছে সেই স্থান দশম এবং কীর্তনও সমগ্র অসমে লাভ করেছে। অসমে এরকম একজন ব্যক্তি ও নেই যিনি বিপদে-আপদে কীর্তনের পদ আবৃত্তি করেন না। অসমিয়া মানুষ সংস্কৃত দশম পড়ার চেয়ে শংকরদেবের দশম পড়তে বেশি ভালোবাসে। দশম একটি বিশুদ্ধ ধর্মের পুথি। দশমে নব বৈষ্ণব ধর্মের উপাস্য দেবতা ভগবান কৃষ্ণের লীলাখেলা ঐশ্বর্য বিভূতি এবং মাহাত্ম্য  সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয়েছে। তাই ধর্মপ্রাণ লোকের দ্বারা দশম বিশেষভাবে সমাদৃত। এর ভাষা এর জনপ্রিয়তার আরেকটি প্রধান কারণ। কীর্তন পুথির সঙ্গে এর ভাষার মিল নেই।  কীর্তন পুথির ভাষা সার্বজনীন। এই পুথি যদি নাগেরী লিপিতে লেখা হয় তাহলে উত্তর ভারতের মানুষের এর বিষয়বস্তু বুঝতে কোনো অসুবিধা হবে না। দশম এর ক্ষেত্রে কিন্তু এর ব্যতিক্রম লক্ষনীয়। এখানে প্রচুর পরিমাণে প্রবাদ প্রয়োগ করেছেন। অনুবাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শংকরদেব দশমের ভাষায় মৌলিক গ্রন্থের মতোই ভাষার পবিত্রতা, মৌলিকতা এবং প্রবাদ বাক্য প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে। কীর্তন ঘোষা এবং নাম ঘোষায় প্রচুর পরিমাণে তৎসম শব্দের প্রয়োগ দেখা যায় কিন্তু দশমে শঙ্করদেব অসমিয়া ভাষার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সম্বলিত শব্দের ব্যবহার করেছেন। দশমের শব্দচয়নের ঔচিত্য লক্ষনীয়। আদি দশম পড়ার সময় কোথাও অনুবাদের ক্লিষ্টতা অনুভূত হয় না। শব্দ দূষণ এবং বাক্য সংযোজন রীতি যথোপযুক্ত হওয়ার জন্য মৌলিক গ্রন্থ বলে মনে হয়। মৌলিক রচনার সরসতা, প্রাঞ্জলতা এবং সজীবতা বিদ্যমান।

    শ্রীমন্ত শংকরদেবের অনূদিত সাহিত্যের দিকে লক্ষ্য রাখলে  আমরা দেখতে পাই যে তিনি অনুবাদের ক্ষেত্রে সর্বত্র একটি রীতি অনুসরণ করেননি। তাঁর রচনাবলীতে ভাবানুবাদ, ব্যাখ্যানুবাদ, সারানুবাদ, পুনঃসৃজন ইত্যাদি অনুবাদ রীতি লক্ষ‍্য করা যায়।ভাষার ক্ষেত্রে ছন্দ ,অলংকার, প্রবাদ বাক্য নিঁখুত ভাবে ব‍্যবহার করেছেন।করুণ,বীর,শৃঙ্গার রসে ভক্তিরসের প্রলেপ মেখে অনুবাদ কার্যকে পাঠক শ্রোতার মনোগ্ৰাহী করে তুলেছেন।