Tuesday, 11 May 2021  মঙ্গলবার, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮
Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর

BARTALIPI, বার্তালিপি , Bengali News, Latest Bengali News, Bangla Khabar, Bengali News Headlines, বাংলা খবর

বাংলা খবর

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা নিউজ পোর্টাল

Bartalipi, বার্তালিপি, প্রতিশ্রুতি ও প্রশ্ন

প্রতিশ্রুতি ও প্রশ্ন

নির্বাচনীয় প্রতিশ্রুতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই আগ্রহ থাকে ।
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, ক্ষমতায় ফিরলেই দিলীপ পালকে জেরা : আমিনুল

ক্ষমতায় ফিরলেই দিলীপ পালকে জেরা : আমিনুল

এবার যে আপনি ভোট চাইতে মানুষের কাছে যাচ্ছেন, মূল এজেন্ডা টা কি? সোনাইয়ের মানুষ কেন ভোট দেবে আপনাকে?
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, বরাকে ইস্যু নয় মোগল আক্রমণ

বরাকে ইস্যু নয় মোগল আক্রমণ

ভোট তো এসে গেল৷ গত পাঁচ বছরে আপনাদের দলের সরকারের কোন কাজগুলোকে সামনে রেখে এবার মানুষের কাছে ভোট চাইতে যাবেন
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, বদরপুরে খতমে বোখারির ইতিকথা

বদরপুরে খতমে বোখারির ইতিকথা

উপমহাদেশের যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা মশাহিদ সাহেব বায়মপুরি (রহঃ) ১৯৪৭ সালে বদরপুর টাইটাল মাদ্রাসার 'দরছে হাদিস' বিভাগের দায়িত্ব হযরত শ্বায়খ
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, পেট্রোপণ্যের আকাশছোঁয়া মূল্য ও সরকারি শুল্কনীতি

পেট্রোপণ্যের আকাশছোঁয়া মূল্য ও সরকারি শুল্কনীতি

শিলচর পেট্রোল পাম্পের মিটারে লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম ‘নার্ভাস ৯০’ স্পর্শ করার পথে ।
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, নেতাজির গণতান্ত্রিক চিন্তার অপপ্রচার ও কিছু কথা

নেতাজির গণতান্ত্রিক চিন্তার অপপ্রচার ও কিছু কথা

আজ চিরতরুণ নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মতিথি। আধুনিক ভারত তথা এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো ব্যক্তিত্ব আর দ্বিতীয়টি
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, ভারতের ৪০ কোটি ইউজারের ধাক্কা সামলাতে পারবে তো হোয়াটসঅ্যাপ?

ভারতের ৪০ কোটি ইউজারের ধাক্কা সামলাতে পারবে তো হোয়াটসঅ্যাপ?

হোয়াটসঅ্যাপ। এই মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন যে মানুষের কাছে চাহিদার শীর্ষে, তা আলাদা করে বলার নেই।
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ২০২১ কেন সেরা হতে চলেছে?

প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ২০২১ কেন সেরা হতে চলেছে?

একুশ-এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেক আশা-প্রত্যাশা। নতুন বছরকে অন্য চোখে দেখছে গোটা বিশ্ব।
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, বিষের বিশ কাটছে? বিদায় নিচ্ছে বিভীষিকার একটি বছর

বিষের বিশ কাটছে? বিদায় নিচ্ছে বিভীষিকার একটি বছর

ব্যাটসম্যানের ছক্কা গিয়ে পড়ল গ্যালারিতে৷ এত বছর আমরা দেখেছি, সেই বলটি লুফে নেওয়ার জন্য দৰ্শকদের কাড়াকাড়ি৷
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, মাদ্ৰাসা শিক্ষা সম্পৰ্কে যে দু-চার কথা আমি জানি

মাদ্ৰাসা শিক্ষা সম্পৰ্কে যে দু-চার কথা আমি জানি

সম্প্ৰতি অসমের প্ৰভাবশালী মন্ত্ৰী ড. হিমন্ত বিশ্বশৰ্মা অসমের মাদ্ৰাসা ও সংস্কৃত টোলগুলি বন্ধের কথা ঘোষণা করেছেন৷
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, শিলচর সিভিল হাসপাতালের গোড়াপত্তনের কথা

শিলচর সিভিল হাসপাতালের গোড়াপত্তনের কথা

সম্প্রতি শিলচর সিভিল হাসপাতালের যাত্রার কথা (স্থাপনের শতবার্ষিকী) নিয়ে কিছু সংবাদ শিরোনামে এসেছে। এদিকে জন্মসূত্রে শিলচরের আদি বাসিন্দা তথা
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, পত্রযুদ্ধের আবহে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের পরিকাঠামো বিদীর্ণ

পত্রযুদ্ধের আবহে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের পরিকাঠামো বিদীর্ণ

মাননীয় রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রীর পত্রমিতালির সুমিষ্ট দ্বিরালাপে নয় পত্রযুদ্ধের দ্বৈরথেই মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো সজোরে কেঁপে উঠল। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, ভুখ রোটি কী, ক্ষেত ঠাকুর কা

ভুখ রোটি কী, ক্ষেত ঠাকুর কা

অন্ত্যজ শ্রেণির মুখ, কবি ওমপ্রকাশ বাল্মিকীর লেখা এই ছোট্ট কবিতাটি কিছু না বলেই বলে গেল বহু কিছু। বিগত দু\
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, অন্তর্ঘাত, আত্মহনন আর আঁতলামির আবর্তে

অন্তর্ঘাত, আত্মহনন আর আঁতলামির আবর্তে

আজকাল তথাকথিত বুদ্ধিজীবী বা ধর্মনিরপেক্ষ ধার্মিকেরা প্রায়ই বুক চাপড়ে বিলাপ করেন।
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, শিক্ষানীতি : বাস্তব বনাম  প্রত্যাশা

শিক্ষানীতি : বাস্তব বনাম প্রত্যাশা

সংবিধান আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে রাষ্ট্রের নীতি নিয়ে নির্ভয়ে মত প্রকাশের অধিকার সবার আছে।
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, বিভাজনের কূটকৌশলে বিভ্রান্ত আত্মঘাতী বাঙালি: বিপন্ন বাংলা ভাষা সংস্কৃতি

বিভাজনের কূটকৌশলে বিভ্রান্ত আত্মঘাতী বাঙালি: বিপন্ন বাংলা ভাষা সংস্কৃতি

আশির দশকে বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি জেলায় অসম সাহিত্য সভার অধিবেশনে আলগাপুর থেকে নির্বাচিত অসম বিধানসভার সদস্য
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, হিটলার, কানু হারামজাদা ও দেশদ্রোহী

হিটলার, কানু হারামজাদা ও দেশদ্রোহী

১৯০৮ সালে একজন কপর্দক-শূন্য বাউন্ডুলে, একটা ব্যাগ কাঁধে ভিয়েনা শহরে উপস্থিত হয়েছিল। উদ্দেশ্য ভিয়েনার বিখ্যাত একাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এ ভর্তি
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, ঘন ঘন মৃদু কম্পন কি বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত?

ঘন ঘন মৃদু কম্পন কি বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত?

গত আড়াই মাসে (জুন ১ - আগস্ট ১৫) রিখটারস্কেলে ২.৫-৬.১ তীব্রতার প্রায় ১২০ ভুমিকম্প রেকর্ড হয়েছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত, যেমন
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, সার্ক সম্মেলনের পুনরুজ্জীবন - সময়ের দাবি

সার্ক সম্মেলনের পুনরুজ্জীবন - সময়ের দাবি

জন্মলগ্ন থেকেই ভারত-পাকিস্তানের দ্বৈরথ যতই দুর্ভাগ্যের হোকনা কেন গা সওয়া হয়ে গিয়েছে। এমনকি বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান হত্যার পর থেকে বাংলাদেশের
পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, ভিত্তিবর্ষ বিতর্ক ও আসামের সমাজ-রাজনীতি

ভিত্তিবর্ষ বিতর্ক ও আসামের সমাজ-রাজনীতি

অরূপ বৈশ্য


আসু আন্দোলন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ভারতীয় রাজনীতিতে আরএসএস তথা সঙ্ঘ পরিবার ও কম্যুনিস্টদের রাষ্ট্র ও সমাজ নিয়ে এক সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন রয়েছে। ব্রিটিশ উপনিবেশিক প্রত্যক্ষ শাসন থেকে মুক্ত হওয়া স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে কংগ্রেস দলের এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল। কংগ্রেসের সেরকম কোনো সচেতন ধারণা পরবর্তীতে পর্যবসিত হয় ক্ষমতায় টিঁকে থাকার আশু গেমপ্ল্যানে। আসাম প্রদেশটি আরএসএস তথা সঙ্ঘ পরিবারের সুদূরপ্রসারী গেমপ্ল্যানের অঙ্গ হয়ে যায় বহু আগে, বিশেষকরে আসু আন্দোলন বা আসাম আন্দোলনের অস্থির পরিস্থিতিতে। অস্থির পরিস্থিতি হচ্ছে এমন এক পরিস্থিতি যখন জনগণ একটি নতুন পথ খুঁজতে অস্থির হয়ে উঠেছে। সঙ্ঘ পরিবার তাদের দীর্ঘকালের সামাজিক কাজ ও ধর্মরাষ্ট্র প্রচারের কাজের এক রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশের এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেনি। আসাম আন্দোলনে আরএসএসের ভূমিকা আগে ছিল এক ধারণার স্তরে, এখন তা ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে ও অনুসন্ধানমূলক রচনা হিসাবে দুই মলাটের মধ্যে বন্দী হয়ে আমাদের কাছে সহজলব্ধ। 

আসামের দীর্ঘ সামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাসে শাসক শ্রেণির দু’টি হাতিয়ার উগ্রজাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবা্দের এক জটিল রসায়ন এক সুষ্পষ্ট শিবির বিভাজনের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা। তার কারণ অসমিয়া উগ্রজাতীয়তাবাদ যখন ভাষাভিত্তিক অপর তৈরি করে তখন আপাতদৃষ্টিতে সেই অপর হচ্ছে পরিচিতির দিক দিয়ে বাঙালি হিন্দু, যখন সাম্প্রদায়িকতা অপর তৈরি করে তখন সেই অপর হয়ে পড়ে বাঙালি মুসলিম। অপর তৈরির এই বিচিত্র রূপটি নিহিত রয়েছে বাস্তব আর্থ-সামাজিক কাঠামোয় ও আসামের নির্দ্দিষ্ট জনবিন্যাসে। এই দ্বিবিধ বিভাজন আসামের সামাজিক – রাজনীতিতে কে কার শত্রু বা মিত্র এই প্রশ্নকে ধোঁয়াটে করে রাখে। আসামের সামাজিক রাজনীতি সবসময়ই এই ধোঁয়াসার প্রতিফলন। সঙ্ঘ পরিবারের রাষ্ট্র ভাবনার সাথে আসামের সমাজ-রাজনীতিতে এই দুই শাসকীয় রাজনীতিকে মিলিয়ে একটি নতুন অবয়ব তৈরির প্রয়াস তাদের নিরন্তর কাজের অন্তর্ভুক্ত এবং সেজন্যই তারা আসাম আন্দোলনের ডামাডোলের পরিস্থতিকে এক সুবর্ণ সুযোগ হিসাবে দেখে। 


আসামের ইতিহাস ও ইতিহাস চর্চা

আসামের ইতিহাস চর্চা মূলত কেন্দ্রীভূত থাকে ১৮২৬-এর ইয়ান্দাবু সন্ধির মধ্যে, তার পেছনে সে খুব বেশি এগোতে পারে না। যারা তার পেছনে দেখেন তারাও চর্যাপদকে অসমিয়া বা বাঙালি হিসাবে আত্মস্থ করার জন্য মতাদর্শগতভাবে উজ্জিবীত হয়ে উঠেন, তারা অবজ্ঞা করেন জাতি-গঠন প্রক্রিয়ার বা ভাষিক জাতি হিসাবে বিকাশের প্রক্রিয়ার ইতিহাসকে। তাই এই ইতিহাস চর্চায় দ্বন্দ্ব দেখা দেয় চর্যাপদকে কে আত্মস্থ করবে তা নিয়ে। ইতিহাস বলছে, চর্যাপদের সময় ঢাকা-ফরিদপুর অঞ্চলে সীমাবদ্ধ এক অপরিপক্ক বাঙালি জাতীয় চেতনা গড়ে উঠেছে, অসমিয়া জাতীয় চেতনার কোনো অস্তিত্বই তখন নেই। ইতিহাস চর্চা ইতিহাসবিদদের কাজ, ইতিহাস রচনার দক্ষতা নিয়ে তারা ইতিহাস রচনা করেন এবং শিক্ষিত মধ্যবিত্ত তা পাঠ করে যুক্তি ও প্রতি-যুক্তির বৌদ্ধিক চর্চায় লিপ্ত হয়। ইতিহাসবিদের ইতিহাস রচনা ও শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের ইতিহাস চর্চার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। মধ্যবিত্তসুলভ আধিপত্যবাদী মানসিকতা ইতিহাসকে ঘটনাপ্রবাহ হিসাবে দেখে এবং সেই ঘটনাগুলিকে নিজেদের আধিপত্যবাদী মানসিকতার অনুকূলে সাজিয়ে নেয়। আসাম অসমিয়ার, বাংলা বাঙালির এই মধ্যবিত্তসুলভ ধারণার মধ্যেই এই আধিপত্য লুকিয়ে থাকে। কিন্তু সাধারণ মানুষকে ইতিহাস শিখতে হয় বাস্তব পরিস্থিতিতে এবং বাস্তব পরিস্থিতির সাথে আন্তঃক্রিয়ার মধ্য দিয়ে, কারণ মানুষের সমগ্র অতীত ইতিহাস নিহিত রয়েছে বাস্তবের গর্ভে। 

মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের হাতে প্রতিবেদন তুলে দিচ্ছেন বি কে শর্মা কমিটি। ফাইল ছবি।

এই যে ‘আসাম অসমিয়ার’ ধারণা এবং সেই ধারণা থেকে উৎসারিত ‘খিলঞ্জিয়ার’ মতো আধিপত্যবাদী ও উগ্রজাতীয়তাবাদী ধারণা তার সাথে আসামের সামাজিক-রাজনীতিতে অন্তরঙ্গ গাঁটছাড়া বেঁধেছে সাম্প্রদায়িকতা। এই গাঁটছড়ার এক সম্পূর্ণ অবয়ব তৈরি হয়েছে সঙ্ঘ পরিবারের দীর্ঘকালের সামাজিক কাজ ও প্রচার এবং বিজেপির রাজনৈতিক রণকৌশলের মধ্য দিয়ে। আসুর আসাম আন্দোলনের সময় সাম্প্রদায়িকতা যেভাবে উগ্রজাতীয়তাবাদের সাথে যুক্ত হয়ে যায়, সেই সাম্প্রদায়িক গ্রন্থনা আজ নিয়ন্ত্রণের জায়গায় চলে এসেছে, এই রূপান্তর হয়েছে ক্ষমতাকেন্দ্রের চরিত্রের রূপান্তরের মাধ্যমে ও ক্ষমতায় একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরির মাধ্যমে। বাস্তব চর্চা থেকে আমরা আসামের চলমান ইতিহাসে উঁকি মারতে পারি যেখানে সেই আধিপত্যবাদ জন্ম নিয়েছে ও আজকের অবস্থানে এসেছে। কিন্তু তা এই নিবন্ধের বিস্তৃত আলোচনার বিষয় নয়। 


ভিত্তিবর্ষ ও নাগরিকত্ব

নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য ভিত্তিবর্ষ নিয়ে যে বিতর্ক তা আসামের বাস্তবতার এক বিমূর্ত রূপ। নাগরিকত্ব নির্ধারণে ভিত্তিবর্ষ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নিহিত রয়েছে একদল লোকের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার বাসনা। সেই একদল লোক পরিচিতির দিক দিয়ে বাঙালি হিন্দু ও মুসলমান, কারণ সেই পরিচিতিকে টার্গেট করা না গেলে উগ্রজাতীয়বাদ ও সাম্প্রদায়িকতার জোটের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়। তাই চালু থাকে পরিচিতিকে টার্গেট করে অপর তৈরির নিরন্তর প্রয়াস।


সেই প্রয়াসের অঙ্গ হিসাবেই আইনি বিধান তৈরি হয়। অসম চুক্তি যখন হয়েছিলো তখন সবাই চুক্তির ধারার সাথে একমত না হয়েও আসামের সমাজ জীবনে আপাত শান্তি প্রতিষ্ঠার আশায় তা মেনে নিয়েছিলেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যুক্তি ছিলো যে নাগরিকত্ব নির্ধারণে ভিত্তিবর্ষ হিসাবে আসুর দাবি ছিলো ১৯৫১, এই চুক্তির মাধ্যমে ১৯৭১ সালকে ভিত্তিবর্ষ করা গেছে। এই চুক্তির পরপরই যদি নাগরিকত্ব নির্ধারণ হয়ে যেতো তাহলে আজকের মতো জটিল পরিস্থিতি হয়তো দেখা দিত না। কিন্তু আসল রণনীতি হচ্ছে জটিল পরিস্থিতি জিইয়ে রাখা যাতে পরিচিতিকে টার্গেট করে উগ্রজাতীয়তাবাদী ও সাম্প্রদায়িক মোক্ষম আঘাতটি করা যায়।


বি কে শর্মা কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে আসু নেতৃত্ব। ফাইল ছবি।


মোক্ষম আঘাত ও বাস্তবতা

এই মোক্ষম আঘাতের জন্য রচিত হয় ২০০৩ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন যা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এবং একইসাথে জারি হয় এনআরসি তৈরির ১৪ নম্বর ধারা। জাতীয় আধিপত্যবাদী জনমানস ও ‘আসাম অসমিয়ার’ এই ধারণা ২০০৩-সালে রচিত আই্নি বিধানকে সভ্যতার উপর আঘাত হিসাবে দেখতে অপারগ হয়। সভ্যতা ও সমগ্র অসমবাসীকে বাঁচানোর জন্য যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, ২০১৯ বা কা’র বিরোধিতা করা জরুরি, সেই একই বোধ থেকে ২০০৩ সালের সংশোধনী আইনকে বিরোধিতা করা জরুরি ছিল। কিন্তু বোধের ঘরেই যে রয়েছে বিষাক্ত কালো সাপের বাস, বোধ যে বিকৃত হয়ে আছে “আমাদের রাজত্ব চলবে, তোমরা অপর” এই ধারণার মধ্যে। এই একই ধারণা থেকে এবার এসেছে ১৯৫১ সালকে ভিত্তিবর্ষ করে বাকী সবাইকে অ-নাগরিক করে সমস্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদন। এই দলিল যে শাসকের দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনার অঙ্গ তা বলাই বাহুল্য।

কিন্তু যে বাস্তবে নিহিত থাকে অতীত সমগ্র ইতিহাস, সেই বাস্তবেরই গর্ভে লুকিয়ে রয়েছে ভবিষ্যতের রহস্য। বাস্তব স্থানু নয়, তাকে সামগ্রিকরূপে আলাদা করে ধরা যায় না, সে এক চলমান ও নিয়ত পরিবর্তনশীল হয়ে উঠা সামগ্রিকতার অংশ মাত্র। কভিড বিপর্যয়ের আগে যে এনআরসি ছিলো অ-নাগরিক সস্তা মজুর বাহিনী তৈরির রাজনৈতিক চক্রান্ত, কভিড বিপর্যয়ের পর সেটাই এখন আর্থিক বিপর্যয় থেকে বেড়িয়ে আসার অন্যতম বাধা। কভিড বিপর্যয়ে দেশব্যাপী তৈরি হয়েছে বিশাল বেকার বাহিনী, কোয়ালিটি কর্মসংস্থানের হার দ্রুত নিম্নমুখী। স্বাস্থ্য বিপর্যয়, আর্থিক বিপর্যয়, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জেরবার আসামবাসী শাসক দল ও তাদের পোঁ ধরা একাংশ শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির এই আধিপত্যবাদী রাজনীতিকে কতটা মেনে নেবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। আসামে নির্বাচন আসন্ন তাই আবারও সাম্প্রদায়িক উগ্রজাতীয়তাবাদী তাসগুলি সামাজিক সংঘাতের জন্য ফেলা হচ্ছে, যদিও শাসক দল জানে যে অনাগরিক সস্তা শ্রমবাহিনী তৈরি করে বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে বাঁচানো ও মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে তাদের মদতদাতা বৃহৎ বুর্জোয়ার একাংশও মনে করে না। কা’র রুলস এখনও তৈরি হয়নি, এসে গেছে নতুন করে ভিত্তিবর্ষের বিতর্কের প্রস্তাব। নির্বাচনী প্রচারে এই দু’টিই শাসকদলের বাঙালি হিন্দু ও অসমিয়া হিন্দু ভোট আদায়ের হাতিয়ার।


নির্বাচনী রণকৌশল ও বিকল্প

শাসক দলের এই রণকৌশলকে পরাজিত করতে প্রয়োজন আসামের অতীত ও বর্তমান বৈচিত্র্যকে মেনে নেওয়া এবং বৈচিত্র্যকে তার নিজস্ব সামাজিক আন্তঃক্রিয়ায় বিকশিত হতে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা এবং স্বাস্থ্য – আর্থিক ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত আসামবাসীর বিকল্প ঐক্যবদ্ধ গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা। জাতিগত ও সম্প্রদায়গত বিভাজনের যে কোনো সামাজিক চর্চা শাসক দলের নির্বাচনী লক্ষ্যে সহায়ক হবে। মনে রাখা উচিত, অসমিয়া ভাষিক উগ্র্রজাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতাবাদকে উস্কে দেওয়া এনআরসি, ভিত্তিবর্ষ নিয়ে প্রতিবেদনের টোপের পেছন পেছন আসছে এনভায়রনমেন্ট ইম্প্যাক্ট এসেসম্যান্ট, ২০২০-এর মতো রুলসও যা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আসামের বিপর্যস্ত জনজীবনকে করে তুলবে আরও বিপন্ন, আসামের সমস্ত সম্পদ লুট হয়ে চলে যাবে আসামের বাইরে। অসমবাসীর অভ্যন্তরিণ জাতি-জনগোষ্ঠীগত সংঘাতকে যে কোনো মূল্যে আঁটকে দেওয়া হবে আসামের সকল গণতান্ত্রিক, বিশেষ করে অসমিয়া গণতান্ত্রিক মানুষের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য।

পুরোটা পড়ুন...

Bartalipi, বার্তালিপি, Bengali News Portal, বাংলা খবর